28/03/2026
আজ আমি আলোচনা করবো দম সিনেমাটি নিয়ে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি এবং অভিনয়ে রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো ও পূজা চেরি।
শুরুতেই যদি গল্প নিয়ে বলি, এখানে আফরান নিশো একটি এনজিওতে চাকরি করেন। সেই সূত্রে তাকে আফগানিস্তানে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে তিনি তালেবানদের হাতে আটক হন। এরপর তার জীবন কীভাবে এগোয়, কী কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি কীভাবে মুক্তি পান এই পুরো যাত্রাটা জানতে হলে আপনাদের অবশ্যই হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখতে হবে।
এবার আসি অভিনয়ের কথায়।
প্রথমেই বলবো আফরান নিশোকে নিয়ে। এক কথায় অনবদ্য। তিনি যে কতটা পরিণত এবং ডেডিকেটেড একজন অভিনেতা, সেটা এই সিনেমায় পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। তার ডায়লগ ডেলিভারি, এক্সপ্রেশন, প্রতিটি দৃশ্যে তার উপস্থিতি—সবকিছুতেই ছিল নিখুঁত পরিশ্রমের ছাপ। কোথাও মনে হয়নি তিনি অভিনয় করছেন; বরং মনে হয়েছে ঘটনাগুলো সত্যিই তার জীবনে ঘটছে। আমার মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ এবং এই সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পুরোপুরি যোগ্য।
পূজা চেরির কথা বললে, তিনি তার জায়গা থেকে ভালো চেষ্টা করেছেন। তবে এমন কোনো অসাধারণ ছাপ রাখতে পারেননি, যেটা আলাদা করে অনেক বেশি হাইলাইট করার মতো।
চঞ্চল চৌধুরীর কথা বললে, তিনি সবসময়ই বড় মাপের অভিনেতা। কিন্তু এই সিনেমায় তার চরিত্রটি যেভাবে লেখা হয়েছে, সেখানে তিনি তার পুরো সম্ভাবনাটা দেখানোর সুযোগ পাননি। মনে হয়েছে, এই চরিত্রে অন্য কেউ হলেও হয়তো একইরকম পারফর্ম করতে পারতো। অর্থাৎ চরিত্রের গভীরতা আর বিল্ডআপটা ঠিকভাবে করা হয়নি।
এছাড়াও আবু হায়াত এবং জাহিদ হাসান ছোট ছোট চরিত্রে ছিলেন। স্ক্রিন টাইম কম হলেও তারা নিজেদের জায়গা থেকে ভালো করার চেষ্টা করেছেন।
এবার গান নিয়ে বলি। সিনেমার গানগুলো বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে ইমরানের গানটি খুবই ভালো লেগেছে, যা ডুয়েল সং হিসেবে এসেছে।
ভিজ্যুয়াল, ডিরেকশন এবং সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে যদি বলি এই জায়গাটা একদম ওয়ার্ল্ড ক্লাস। প্রতিটি দৃশ্য, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, ফ্রেমিং সবকিছু এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, এই সিনেমাকে আপনি সহজেই বলিউড বা হলিউডের সিনেমার সাথে তুলনা করতে পারেন। পরিচালক এবং পুরো টিমকে এই জায়গার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়।
তবে কিছু খারাপ দিকও আছে।
সিনেমাটি একটি সারভাইভাল থ্রিলার হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, ইমোশনাল জায়গাগুলো ততটা শক্তভাবে কাজ করেনি। নিশোর অভিনয় অসাধারণ হলেও, দর্শক হিসেবে তার কষ্টটা পুরোপুরি অনুভব করা যায় না। এমন কিছু মুহূর্ত ছিল, যেখানে চোখে পানি চলে আসার কথা কিন্তু সেই ইমপ্যাক্টটা পাওয়া যায়নি।
এছাড়া সিনেমার মাঝখানে কিছুটা স্লো পেস থাকার কারণে এঙ্গেজমেন্ট একটু কমে গেছে। গল্পটা ভালো হলেও, পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেনি।
চঞ্চল চৌধুরীর চরিত্র নিয়েও একটা সমস্যা আছে। তাকে করাপ্টেড বলা হলেও, সিনেমায় সেই দিকটা ঠিকভাবে দেখানো হয়নি। বরং তাকে বেশিরভাগ সময় ভালো মানুষ হিসেবেই দেখা গেছে। এতে চরিত্রটা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। মনে হয়েছে, হয়তো কিছু দৃশ্য কেটে ফেলা হয়েছে বা সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোটা দেখানো যায়নি।
সবকিছু মিলিয়ে, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও দম একটি খুব ভালো এবং ডেডিকেটেডভাবে তৈরি করা সিনেমা। বিশেষ করে যারা বাংলা সিনেমাকে নতুনভাবে এক্সপেরিয়েন্স করতে চান, তাদের জন্য এটি অবশ্যই হলে গিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা।
ওভারঅল রেটিং: ৪/৫ ⭐
ধন্যবাদ সবাইকে ❤️
🎬🔥