21/07/2025
ফ্যাক্টচেক: শিশু লা*শ, গোপন সংখ্যা ও ফায়ার সার্ভিস, মোহিউদ্দিন মোহাম্মদ বানালেন গল্প, ছড়ালেন গুজব!
মোহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামের যিনি নিজেকে লেখক দাবি করেন, তিনি আজকের মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডি নিয়ে একের পর এক আবেগভরা অথচ যাচাইবিহীন পোস্ট করে চলেছেন। একবার বলছেন ১০টি শিশুর লা*শ দেখা গেছে, আরেকবার বলছেন বিমানবাহিনী লা*শ গোপন করছে, আবার কখনো দাবি করছেন ফায়ার সার্ভিসের চোখের সামনেই ছিন্ন*মস্তক দে*হ পড়ে ছিল তবুও কেউ কাউকে জানায়নি! যেন উনি ছিলেন ঘটনাস্থলে, আর বাকিরা সবাই অন্ধ!
আসলে মোহিউদ্দিন মোহাম্মদের পোস্ট বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তার লেখার উদ্দেশ্য ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে আবেগ নয়, বরং পরিকল্পিত উত্তেজনা তৈরি। আজকের দুর্ঘটনায় একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এটি সত্য। কেউ আহত হয়েছেন সেটিও সরকার স্বীকার করেছে। কিন্তু ১০টি শিশুর লা*শ গুম হয়ে গেছে, তা পশ্চিমা মিডিয়া দেখে ফেলেছে অথচ আমরা দেখিনি এমন গল্প তিনি ছাড়া কেউই বলছেন না। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো।এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সংবাদমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক এজেন্সি ওই ধরনের কোনো প্রতিবেদন করেনি। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই তথাকথিত পশ্চিমা মিডিয়া কে? নাম কী? প্রমাণ কী?
মোহিউদ্দিন মোহাম্মদের পোস্টগুলো পড়ে মনে হয়, তিনি গণমাধ্যমের কাজের চেয়েও বড় দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসে গুজবের অলৌকিক জগৎ তৈরি করছেন। ঘটনাস্থলে যাননি, কারো সাক্ষাৎকার নেননি, সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রকে উদ্ধৃত করেননি। শুধু নিজের চোখের জলে ভেজা কিছু শব্দে এমন এক মিথ্যা নির্মাণ করছেন যার ফলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারগুলো আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে তিনি শুধু সরকার নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী, গণমাধ্যম ও জনগণ সবকিছুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। একটা স্পষ্ট উদ্দেশ্য এখানে কাজ করছে ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে একটা ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তৈরি করা, যাতে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়, বিভ্রান্ত হয়, এবং সরকার কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি বিদ্বেষ জন্মায়।
শিশু*মৃ*ত্যু নিয়ে কেউ যদি সত্যিকারের কষ্ট পান, তিনি আবেগে কিছু বলতে পারেন সেটি মানবিক। কিন্তু সেই আবেগ যখন ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় তখন সেটি আর মানবিকতা নয়, সেটি হয়ে দাঁড়ায় নির্মম বিভ্রান্তি। তিনি একাধিকবার ‘লা*শ দেখেছেন’ বলছেন কিন্তু কোথায় সেই ছবি? কোথায় সেই নাম? কোথায় সেই পরিবারের বক্তব্য?
সত্যিকারের সাহস থাকলে তিনি প্রমাণ নিয়ে আসুন, লাশের ছবি দিন, অভিভাবকের নাম দিন, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য দিন। তা না করে শুধু পোস্ট আর পোস্ট দিয়ে জনমনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া এটা সাংবাদিকতা নয়, লেখকসুলভ দায়িত্বও নয়, এটি হলো উস্কানিমূলক অপপ্রচার।
মোহিউদ্দিন মোহাম্মদের এই পোস্টগুলো এখন শুধু ‘ভিউ’ নেওয়ার চেষ্টা নয়, এটি একটি ঘৃণ্য অপচেষ্টা ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক পুঁজি বানানো। রাষ্ট্রের উচিত এই ধরনের ব্যক্তিদের পোস্ট নজরে এনে প্রয়োজনীয় তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া।
Highlight Clips