Pure Voice

Pure Voice ইসলাম, দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে।
হক ও হক্কানিয়াতের পক্ষে আপোষহীন।

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
23/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

@©Sohel Rana

অনেক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জুলাই আন্দোলনের স্ট্র্যাটেজি বুঝেন নি! তাই তারা মাঠে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন!।কৌশল অবলম্বনে তারা ...
06/08/2026

অনেক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জুলাই আন্দোলনের স্ট্র্যাটেজি বুঝেন নি! তাই তারা মাঠে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন!।
কৌশল অবলম্বনে তারা ব্যর্থ!।

আমাদের আমির সাহেব জুলাই আন্দোলনের স্ট্র্যাটেজি বুঝেই কৌশল অবলম্বন করে আন্দোলনে মাঠে অংশগ্রহণ না করে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে জুলাই আন্দোলনের বিজয় তরান্নিত করেন! ।

একদল মূর্খ রাজনৈতিক কৌশল বুঝে না! শুধু অন্যের পিছনে বে বে করে।

আমীরে বি কে এম জিন্দাবাদ।
নিন্দুকেরা নিপাত যাক!।

@

আপনি কি জানতে চান সেই ইশারা কী?
18/07/2026

আপনি কি জানতে চান সেই ইশারা কী?

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রে-প্তা-র...ইন্টারপোলের মাধ্যমে। সুতরাং যারা লাইভে এসে বেশি লম্প জাম্প করার চেষ্টা করছো সাবধ...
14/06/2026

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রে-প্তা-র...
ইন্টারপোলের মাধ্যমে। সুতরাং যারা লাইভে এসে বেশি লম্প জাম্প করার চেষ্টা করছো সাবধান।

ইউসুফ জুলেখা - Joseph The Prophet  #ইউসুফজুলেখা-josephtheprophetmoment
14/06/2026

ইউসুফ জুলেখা - Joseph The Prophet #ইউসুফজুলেখা-josephtheprophetmoment

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডাক্তার। জোবায়দা রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী হাছিনা আহমদের মাঝখানে বসে সন্তানের কবর জিয়ারত ক...
14/06/2026

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডাক্তার। জোবায়দা রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী হাছিনা আহমদের মাঝখানে বসে সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের মমতাময়ী মা।

প্রধানমন্ত্রীপন্থীর কক্সবাজার সফরের দিনের সেরা দৃশ্য এইটা মনে হল!

Tarique Rahman

12/06/2026
 #জনাব_তারেক_রহমান কি পারবেন মালয়েশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদের মতো ১০ বছরে দেশকে পাল্টে দিতে? প্রথমেই তারেক রহমানকে নিজের দে...
12/06/2026

#জনাব_তারেক_রহমান কি পারবেন মালয়েশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদের মতো ১০ বছরে দেশকে পাল্টে দিতে? প্রথমেই তারেক রহমানকে নিজের দেশের পেশাজীবীদের উপর আস্থা রাখতে হবে।যেমন চিকিৎসা নিতে হবে নিজ দেশে-যেটা মাহাথীর মোহাম্মদ করেছিলেন।আর কঠোর নীতির মাধ্যমে সকল মোসাহেবী সিন্ডিকেট ভেংগে দিতে হবে। সাধারণ ও সহজ সরল হওয়া ভাল কিন্তু সেটা যদি জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে প্রলুব্ধ করে তাহলে এরচেয়ে ইগনোরেন্ট কাজ আর হতে পারে না।

তৎকালীন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথীর বিন মোহাম্মদের (১৯৮১-২০০৩)দূরদর্শী নীতি বিশেষ করে ভিশন ২০২০, লুক ইস্ট পলিসি, ভারী শিল্পায়ন ও রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন মডেল মালয়েশিয়াকে একটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তরিত করেছিল। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই ধরনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে দুই দেশের প্রেক্ষাপটের মৌলিক পার্থক্য, প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় মাহাথীর মডেল পুরোপুরি অনুসরণ করে বাংলাদেশকে সমানভাবে উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়; বরং ধার করা কৌশলগুলোকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উন্নয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রসঙ্গ টেনে বলতে চাই এটা সম্ভব।বাংলাদেশ ২০২৬ সালে একটি জটিল অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পূর্বের ধারণার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং ব্যাংক খাতের মূলধনের পর্যাপ্ততা নেতিবাচক ২.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণ করা—যার জন্য বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে মাহাথীর মোহাম্মদের উন্নয়ন মডেলের প্রাসঙ্গিকতা। মাহাথীর যখন মালয়েশিয়ার দায়িত্ব নেন, তখন দেশটি কৃষিনির্ভর ও পণ্যভিত্তিক অর্থনীতি ছিল; তিনি শিল্পায়ন ও দূরদর্শী কৌশলের মাধ্যমে তিন দশকের মধ্যে দেশটিকে সম্পূর্ণ শিল্পোন্নত জাতিতে পরিণত করার লক্ষ্য স্থির করেন।

মাহাথীরের উন্নয়ন কৌশলের চারটি স্তম্ভ ছিল-
১) দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ও জাতীয় ঐক্য: ১৯৮১ সালে ঘোষিত ভিশন ২০২০-এর লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক—সব মাত্রায় একটি সম্পূর্ণ উন্নত জাতি গঠন করা। এর সাথে যুক্ত ছিল 'বাংসা মালয়েশিয়া' (একীভূত মালয়েশিয়ান জাতি) ধারণা, যা জাতিগত বিভাজন কাটিয়ে অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ার চেষ্টা ছিল। এছাড়া 'লুক ইস্ট পলিসি'-র মাধ্যমে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পায়ন, কর্মনীতি ও দক্ষতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২) রপ্তানি ও শিল্পে বৈচিত্র্যায়ন: মাহাথীর কৃষি ও টিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারী শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ নেন। তিনি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন অব মালয়েশিয়া (এইচআইসিওএম) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইস্পাত, অটোমোবাইলসহ ভারী খাতে জাপানি কোম্পানির সাথে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলেন, যাতে দেশীয় মালিকানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডোরের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বিনিয়োগ করা হয়। মাহাথীরের মডেলের আরেকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল প্রবল রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, যেখানে পেট্রোনাসের তেল সম্পদ জাতীয় শিল্পায়নের পুঁজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩) মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিল্পায়নের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শৃঙ্খলা ও উৎপাদনশীলতাকে মূল্যায়ন করা হয়।
৪) কৌশলগত কূটনীতি: 'বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে সম্পর্ক' শীর্ষক বিভাগে বর্ণিত হয়েছে। মাহাথীর উন্নয়নকেন্দ্রিক কূটনীতি ও 'ব্রিটেন-সর্বশেষ' নীতির মতো দরকষাকষির কৌশল গ্রহণ করেন। মালয়েশিয়া তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও আসিয়ান সদস্যপদকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও তারেক রহমানের নীতি কাঠামোঃতারেক রহমান সরকারের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি রূপরেখা।বাংলাদেশের অর্থনীতি নিম্ন প্রবৃদ্ধি (৩.৯ শতাংশ), উচ্চ মূল্যস্ফীতি (৯ শতাংশ), ব্যাংক খাতের অস্থিরতা (নেতিবাচক মূলধন) এবং দুর্বল রাজস্ব আহরণে ভুগছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে রাজস্ব আদায়ে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা বিনিয়োগে প্রভাব ফেলছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ (পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমানো), ই-কমার্স হাব ও ডিজিটাল অর্থনীতি স্থাপন।
শিল্প ও প্রযুক্তি কোটি কোটি ডলারের ই-কমার্স জায়ান্টের জন্য 'সুপার সোর্সিং হাব', ৮ লাখ আইটি কর্মসংস্থান।
মানবসম্পদ শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক, শিক্ষানীতি ও ইন্টার্নশিপ।
অবকাঠামো ২০,০০০ কিমি খাল পুনঃখনন, সারা দেশে সকল রকম যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল সংস্কার ও উন্নয়ন।
কূটনীতি 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি, প্রধান শক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, আসিয়ানের প্রতি আগ্রহ।

মালয়েশিয়ার সাফল্যের বাস্তব কারণ ও প্রাসঙ্গিকতাঃ

মাহাথীরের সাফল্যের পেছনের কৌশলগুলো প্রকৃতপক্ষে কী ছিল এবং তা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু প্রাসঙ্গিক হতে পারে তা আলোচনা করলে দেখা যায়ঃ

মালয়েশিয়ার সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তেল ও গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার, যা শিল্পায়নের মূলধন হিসেবে কাজ করেছিল। বাংলাদেশের জন্য সম্পদ হতে পারে দেশের দক্ষ জনশক্তি এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড।পাশাপাশি মাহাথীর শুধু উদারীকরণের ওপর নির্ভর না করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ভারী শিল্প গড়ে তোলেন, নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির ওপর জোর দেন। আরেকটি বড় সাফল্য ছিল একটি শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী ও স্বাধীন আমলাতন্ত্র, যা নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করত। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি ও 'বাংসা মালয়েশিয়া'-র মতো সামাজিক ঐক্যের ভিত্তি সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তারেক রহমানের প্রচারিত পরিকল্পনাগুলোর সাথে মাহাথীরের কৌশলের সাদৃশ্য লক্ষণীয়, তবে পার্থক্যগুলোও গভীর। সাদৃশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

· রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রতিশ্রুতি: উভয় নেতাই কৃষি ও পোশাকের পরিবর্তে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের ওপর জোর দিয়েছেন।
· মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব: উভয়েই শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
· কৌশলগত কূটনীতি: উভয় দেশের স্বার্থকে শীর্ষে রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ওপর জোর আরোপিত হয়েছে।
· বিকেন্দ্রীকরণ: কেবল রাজধানী নয়, জেলাভিত্তিক অর্থনীতি ও গ্রামীণ শিল্পের বিকাশের ওপরও উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৬. কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতার সমালোচনামূলক মূল্যায়ন

বাংলাদেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা ও বাধা, বিশেষ করে রাজনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা এখানে বিবেচনা করা হয়েছে।

তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনা সঠিক বাস্তবায়নের মুখে একাধিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে:

১) প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও শাসন: মালয়েশিয়ার মতো সুসংহত আমলাতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই। 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়তে প্রশাসনের গভীর সংস্কার জরুরি। তাঁর নিজের দল বিএনপির অতীতের অভিজ্ঞতা বিশেষ করে মন্দ দিকগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং কমিপিটেন্ট মানুষ খুঁজে বের করা নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুনাবলী।

২) ভৌগোলিক ও বৈশ্বিক অবস্থান: বাংলাদেশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রিজিওনাল ফোরাম সার্ক নিয়ে গত তিনমাসে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।যাতে এবছর থেকে এই হাসিনা-মোদি কতৃক অচল করে দেওয়া সরকার প্রধানদের সামিট আবার শুরু করা যায়। অন্য গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম আসিয়ানে বাংলাদেশ যোগ দেওয়া দরকার।মালয়েশিয়া আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্গত, তবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় মহাথির বাংলাদেশের পূর্ণ আসিয়ান সদস্যপদ নিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন।

৩) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণ করতে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি দরকার, যা বর্তমান ধারা থেকে অনেক দূরের যাত্রা।

৪) সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন: 'বাংসা মালয়েশিয়া'-র মতো অভিন্ন জাতীয়তাবাদের ধারণা তৈরি করতে পারা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সুশাসন ও সংহতি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

৫) সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ: মালয়েশিয়ার বিপরীতে বাংলাদেশের তেল-গ্যাসের তেমন মজুত নেই। তাই শিল্পায়নের অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও দক্ষ প্রবাসী আয় কাজে লাগাতে হবে।

৬) স্বাস্থ্যসম্মত রাজনৈতিক পটভূমি: তারেক রহমানের অফিসে এবং তার মন্ত্রিসভায় কিছু সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।তারা নিজেদের মতো করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
যদি এসব সত্য হয় তাহলে সরকারের কোন উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন অসম্ভব। ইতোমধ্যে তার কিছু আলামত দেখা গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকার জনপ্রিয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে এই সিন্ডিকেটের এক সদস্যের কারনে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের অতি বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।তাঁর মন্ত্রী সভায় তরুনদের জায়গা দেওয়া হয়েছে সেটা ভাল দিক কিন্তু অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও উইজডমের কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

৭. উপসংহার ও সুপারিশঃ

মাহাথীরের নীতি 'যেমন আছে তেমন' অনুকরণ করলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না, কারণ সময়, প্রেক্ষাপট ও সম্পদ ভিন্ন। তবে অভিযোজিত কৌশল সম্ভাবনাময় হতে পারে, যেমন:

১) প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ: দুর্নীতি দমন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রের সংস্কার অপরিহার্য।

২) শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতায় বিনিয়োগ: কেবল প্রচলিত শিক্ষায় নয়, বরং বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ জরুরি।

৩) শিল্পায়নে ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা: শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রনিক্স, হালকা পণ্য, আইটি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি 'সুপার সোর্সিং হাব' গড়ে তোলার বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি।

৪) টেকসই আন্তর্জাতিক কৌশল: আসিয়ানে যোগদানের চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের সাথে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তবে পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তবসম্মত ও সমঝোতাপূর্ণ অবস্থান নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব যদি সঠিক পথে এগুতে চায় তাহলে প্রথমেই মাহাথীর মোহাম্মদ বা লি কুয়ান ইউর মতো সঠিক টিম বাছাই করতে হবে। যদি পলিসি বাস্তবায়নের পিছনে যথাযথ যোগ্য লোক না থাকে তাহলে সব ভেস্তে যাবে। এই জায়গায় তারেক রহমানের মারাত্মক ঘাটতি আছে বলে গত তিনমাসে প্রতিয়মান হয়েছে।সঠিক বাস্তবায়নের ইচ্ছা থাকলে আশা করি SWAT এনালাইসিস করবেন এবং দেশের স্বার্থে সকল মোসাহেব এবং তেলবাজি করা সিন্ডিকেটের মুলোৎপাটন করতে পারবেন।তাহলে বাংলাদেশ সত্যিকারের টেকসই পার্থিব পথের দিশা পাবে বলে আশা করি।

সংগৃহীত

#বাংলাদেশীজাতীয়তাবাদ #বিএনপিসরকার #ভাইরাল #বাংলাদেশ #বিএনপি

প্রকৃতির আঁকা হাসাইগাড়ি বিলের সৌন্দর্য।
11/05/2026

প্রকৃতির আঁকা হাসাইগাড়ি বিলের সৌন্দর্য।

Address

Chittagong
4212

Telephone

+8801833947755

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pure Voice posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share