16/09/2026
পাহাড়ের মানুষের আস্থার ঠিকানা—পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ
কলমে : নিপ্পন চাকমা চিত্তি
কপি পোস্ট
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সমাজ ও মানুষের কল্যাণের সঙ্গে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ-এর অবদান গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা বিস্তারে সহযোগিতা করা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার যে ধারাবাহিকতা তারা গড়ে তুলেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনাথ আশ্রম, স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে এই সংঘ। অসচ্ছল ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা, পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া—এসব উদ্যোগ অনেক পরিবারের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু শিক্ষা নয়, দুর্যোগ ও বিপদের সময়ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, রক্তদানসহ মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।
ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বুদ্ধের শান্তি, মৈত্রী, করুণা ও প্রজ্ঞার বাণী মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার প্রচেষ্টাও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পাহাড়ের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের বিভিন্ন বিষয়ে ভিক্ষু সমাজের কণ্ঠস্বরও বহু সময় মানুষের মনে সাহস ও আস্থার জন্ম দিয়েছে। তাই পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ আজ শুধু একটি ধর্মীয় সংগঠন নয়—অনেক পাহাড়ি মানুষের কাছে এটি আস্থা, মানবতা, শিক্ষা, ধর্ম ও সামাজিক দায়িত্বের একটি পরিচিত নাম।
এই দীর্ঘ পথচলায় যেসব ভিক্ষু, উপাসক-উপাসিকা, দাতা, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষী নিজেদের সময়, শ্রম, অর্থ ও মেধা দিয়ে অবদান রেখেছেন—তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
পাহাড়ের মাটিতে যখন কোনো অসহায় শিশুর হাতে বই ওঠে, কোনো দরিদ্র শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ পায়, দুর্যোগে বিপন্ন মানুষ সহায়তা পায়, কোনো রোগী রক্তের সহযোগিতা পায় কিংবা কোনো জনপদে বুদ্ধের শান্তির বাণী পৌঁছে যায়—তখন মনে হয়, মানবকল্যাণের এই পথচলা সত্যিই আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের।
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতি তাই আমাদের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
মানুষের কল্যাণে তাদের এই মহৎ পথচলা আরও দীর্ঘ হোক—এই প্রত্যাশাই রইল।