Manobotar Diary BD

Manobotar Diary BD ভালো কাজ করলে মানুষ আলোচনা করবেই আমি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকতে চাই

৮০ বছর বয়সে এসেও চাচা যেভাবে ডাবল ছক্কা মারলেন, তা দেখে সবার তো চোখ চড়কগাছ! 😲 এই বয়সে এসেও বিয়ের শখ একটুও কমেনি, এটা নাক...
19/05/2026

৮০ বছর বয়সে এসেও চাচা যেভাবে ডাবল ছক্কা মারলেন, তা দেখে সবার তো চোখ চড়কগাছ! 😲 এই বয়সে এসেও বিয়ের শখ একটুও কমেনি, এটা নাকি তার সাত নাম্বার বিয়ে! চারপাশের সবাই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখল আর অবাক হলো। দোয়া রইল এই নবদম্পতির জন্য, তাদের নতুন সংসার যেন অফুরন্ত সুখে শান্তিতে ভরে ওঠে! ❤️✨

রক্ষক যখন ভক্ষক! বরগুনায় নিজের স্ত্রীকে বন্ধুদের হাতে তুলে দিলেন স্বামী​বরগুনায় ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনাটি শুনে স্তব্ধ ...
06/05/2026

রক্ষক যখন ভক্ষক! বরগুনায় নিজের স্ত্রীকে বন্ধুদের হাতে তুলে দিলেন স্বামী
​বরগুনায় ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনাটি শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো দেশ। যে স্বামীর ঘরে স্ত্রী সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই স্বামীই যখন ষড়যন্ত্র করে দুই বন্ধুর হাতে নিজের স্ত্রীকে তুলে দেয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধের দেয়াল কতটা ভেঙে পড়েছে।
​সেই অভিশপ্ত রাতের গল্প:
​বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতা: ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে স্বামী দুই বন্ধুকে নিয়ে বাসায় আসেন। তারা একসাথে রাতের খাবারও খান। কিন্তু রাতের গভীরে শুরু হয় সেই নারকীয় তাণ্ডব।
​পাশবিকতা: স্বামীর সামনেই তার দুই বন্ধু ওই গৃহবধূকে সারারাত নির্যাতন করে। সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, যখন বন্ধুরা এই জঘন্য কাজ করছিল, তখন স্বামী প্রতিবাদ না করে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন!
​ভয় ও প্রলোভন: নির্যাতনের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখতে শারীরিক আঘাত এবং টাকার প্রলোভনও দেখানো হয়। কিন্তু সাহস হারাননি সেই নারী; সুযোগ পেয়েই তিনি প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে গিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করেন।
​এই ঘটনা আমাদের যা শেখায়:
​১. মাদক ও অনৈতিক সঙ্গ: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাদকাসক্তি বা অনৈতিক সঙ্গ মানুষকে পশুর চেয়েও অধম করে তোলে। বরগুনার এই ঘটনায় স্বামীর এমন আচরণ কোনো স্বাভাবিক মানুষের হতে পারে না।
২. নিরাপত্তার সংকট: আমাদের সমাজের নারীরা আজ ঘরের ভেতরেও কতটা অনিরাপদ, এটি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। পরিচিত মানুষ যখন শত্রুর রূপ নেয়, তখন সেই লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. বিচারের দাবি: এই ধরণের ন্যাক্কারজনক অপরাধের সাথে জড়িত স্বামী এবং তার বন্ধুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এমন পৈশাচিকতা থামানো সম্ভব নয়।
​আমাদের আবেদন:
​নারীর প্রতি এই ভয়াবহ সহিংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় কেবল একজন 'অপরাধী'। যারা নিজের ঘরের সম্মান রক্ষা করতে পারে না, তাদের সমাজে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।
​বিশেষ বার্তা: আপনার আশেপাশে এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা নির্যাতনের আভাস পেলে দেরি না করে প্রশাসনকে জানান। নীরবতা অপরাধীকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
​নিজের স্ত্রীকে পণ্য বানিয়ে বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া—এই মানসিকতাকে আপনি কোন শব্দে সংজ্ঞায়িত করবেন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। পোস্টটি শেয়ার করে এই জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন।

কেউই নিজের সাজানো সংসার ভাঙতে চায় না, বিশেষ করে একজন নারী। বিয়ের পর তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে। জনপ্...
06/05/2026

কেউই নিজের সাজানো সংসার ভাঙতে চায় না, বিশেষ করে একজন নারী। বিয়ের পর তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সালমার গল্পটাও ছিল ঠিক তেমনই। প্রথম সংসার বাঁচাতে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার স্বামী বিনিময়ে দিয়েছিলেন ৫টি কঠিন শর্ত:🚫 গান গাওয়া ছেড়ে দিতে হবে।📚 পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।👪 নিজের জন্মদাতা মা-বাবার সাথে সব যোগাযোগ ছিন্ন করতে হবে।🤐 স্বামীর সব অন্যায় ও খেয়ালখুশি মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।🏙️ রাজধানী ঢাকায় থাকা যাবে না।সালমা একটি অনুষ্ঠানে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, "আমি বাকি সব মেনে নিলেও মা-বাবাকে ছাড়তে পারিনি। যে বাবা এতো কষ্টে আমাকে বড় করেছেন, গান শিখিয়েছেন, তাকে ত্যাগ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমার কাছে সবার আগে মা-বাবা, তারপর স্বামী।" 🩹দুর্ভাগ্যবশত, এত ত্যাগের মানসিকতা থাকার পরেও তার সেই সংসার টেকেনি। এমনকি সন্তানকেও তার থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময় সবকিছুর বিচার করে। যে স্বামী একসময় প্রভাবশালী এমপি ছিলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে তিনি এখন দেশান্তরী, আর সালমার সন্তান এখন তার কাছেই থাকে। ✨নিয়তি বড়ই বিচিত্র! সালমার দ্বিতীয় সংসারটিও স্থায়ী হয়নি। সেই বিষাদময় অধ্যায় হয়তো অন্য কোনো সময়ের জন্য তোলা থাকলো। 🥀

আপনি  একজন জঘন্য ডাক্তার!বিষয়টি প্রমাণিত  হওয়ার আগেই শুধু মেয়ের কথা শুনে এই হুজুরকে অভিযুক্ত করে কেন আপনি ভিডিও করলেন...
06/05/2026

আপনি একজন জঘন্য ডাক্তার!
বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার আগেই শুধু মেয়ের কথা শুনে এই হুজুরকে অভিযুক্ত করে কেন আপনি ভিডিও করলেন ? অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব কি আপনার? এদেশের আইন আছে, আদালত আছে, তারা বিষয়টা যাচাই করবে, তদন্ত করবে, প্রমাণিত হলে দোষী সাব্যস্ত হবে। এখন অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আপনার বিচার হতে হবে। এ হুজুরের অপমান, গোটা বাংলাদেশের আলেমসমাজের অপমানের দায় আপনাকেই নিতে হবে!

এই ছবিগুলো দেখে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল না? 😭পুরুষের হারানোর কিছু নেই—শুধু আছে সয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা।নিজের সুখ, নিজ...
05/05/2026

এই ছবিগুলো দেখে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল না? 😭
পুরুষের হারানোর কিছু নেই—শুধু আছে সয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা।
নিজের সুখ, নিজের বিছানা, নিজের শহর—সবকিছু বিসর্জন দিয়ে, স্ত্রীর চোখের জল আর সন্তানের হাতের ছোট্ট আঙুলগুলো ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে চলে যাওয়ার নামই তো প্রবাস।
এয়ারপোর্টের এই করিডরগুলো আমাদের অনেকের জীবনের সাক্ষী। কখনো বিদায়ের, কখনো মিলনের। কিন্তু প্রতিবারই একটা অংশ রয়ে যায় পিছনে—সেই ছোট্ট শিশুর হাসি, সেই লাল শাড়ির আঁচল, সেই চোখে চোখ রেখে বলা অসমাপ্ত কথাগুলো।
আমরা প্রবাসীরা আসলে শুধু টাকা পাঠাই না।
আমরা পাঠাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া সময়, আমাদের না-দেখা জন্মদিন, আমাদের না-শোনা প্রথম "বাবা" ডাক, আমাদের স্ত্রীর একাকী রাতগুলো।
দিনশেষে আমরা কেবল একটা জিনিসই চাই—বাড়ির মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে।
ভাই, যারা এখনো প্রবাসে আছো, যারা এই ব্যথাটা প্রতিদিন অনুভব করো—
এই ছবিতে নিজেকে দেখো।
লাইক দাও যদি তোমারও বুকের ভিতরটা হাহাকার করে।
কমেন্টে লেখো—কতদিন পর বাড়ি যাবে? ❤️🥀
#প্রবাসী_জীবন #পরিবার #বিদায়ের_ব্যথা #আমরা_প্রবাসীরা

আসুন আমরা রাস্তায় পরে থাকা পা*/গল গুলো কে"মান*/সিক  হসপিটালে নেয়ার জন্য একসাথে  কাজ করি....    কপি    #ফটোগ্রাফি
05/05/2026

আসুন আমরা রাস্তায় পরে থাকা পা*/গল গুলো কে"
মান*/সিক হসপিটালে নেয়ার জন্য একসাথে কাজ করি.... কপি

#ফটোগ্রাফি

হুজুরের মাইর সহ্য করতে না পেরে ২৭ পাড়া কোরআনের হাফেজ ৩ তলা থেকে...See more
05/05/2026

হুজুরের মাইর সহ্য করতে না পেরে ২৭ পাড়া কোরআনের হাফেজ ৩ তলা থেকে...See more

অবশেষে গ্রেফতার হল। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১১ বছরের শিক্ষার্থী  সাবিনা ইয়াসমিন পাঁচ মাসের অন্ত ..... See more
05/05/2026

অবশেষে গ্রেফতার হল। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১১ বছরের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন পাঁচ মাসের অন্ত ..... See more

যেহেতু পুত্র সন্তান হয়েছে আমাদের ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এই বলে আমাদের থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁ*দা দা/বি করে হি'জড়ারা। আম...
05/05/2026

যেহেতু পুত্র সন্তান হয়েছে আমাদের ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এই বলে আমাদের থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁ*দা দা/বি করে হি'জড়ারা। আমরা ১ হাজার টাকা দিলে তারা শুনেনা, উ'ল্টো আমাদের গা/লাগা/লি করে ভা/ঙ/চু/র করে। বাড়িতে একটা বা'চ্চার ডেলি'ভারি হওয়া মানে পাহা'ড় সমান খরচ। একটা সাধারণ পরিবারের এই খরচ গুলো ব'হন করা কতটা ক/ষ্টের, তা এই হি'জড়া সম্প্রদা'য় গোষ্ঠীর কিছু অস/ভ্য হি'জড়ার কোনো ধা'রণা থাকে? তার উপর তাদের দা/বী থাকে আকাশ ছোঁ'য়া। না দিতে পারলে অক'থ্য ভাষায় চলে গা/লি গা/লা/জ। পরে আমাদের বা'চ্চা নিয়ে যেতে নিলে এলাকার লোকজন ক্ষে/পে গিয়ে তাদের গ/ন/ধো/লায় দেন। পরে তাদের হাসপা'তালে ভ'র্তি করানো হয়।

কি ভয়ানক  প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ,  সিনেমাও হার মানবে,একটু পড়ুনতেহরান। ২০০৪ সাল। এক পড়ন্ত বিকেল। বাস স্টপে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২...
05/05/2026

কি ভয়ানক প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ, সিনেমাও হার মানবে,একটু পড়ুন
তেহরান। ২০০৪ সাল। এক পড়ন্ত বিকেল। বাস স্টপে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৭ বছরের সুন্দরী তরুণী আমেনেহ বেহরামী। ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী, চোখে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু তিনি জানতেন না, তার সেই স্বপ্ন আর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অতিথি। ভিড়ের মধ্যে তার দিকে এগিয়ে আসছিল একটি পরিচিত ছায়া। মাজিদ মোভাহেদি। তার ইউনিভার্সিটি ক্লাসমেট। যে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, আর আমেনেহ ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মাজিদের হাতে ছিল একটি লাল রঙের প্লাস্টিকের বোতল। ভেতরে টলটল করছে তরল মৃত্যু— সালফিউরিক এসিড।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাজিদ সেই বোতলের পুরোটা ছুঁড়ে মারে আমেনেহর মুখে। মুহূর্তের মধ্যে নরক নেমে এল পৃথিবীতে। আমেনেহর মনে হলো তার চামড়ার ওপর কেউ গলন্ত লাভা ঢেলে দিয়েছে। তার আর্তনাদে কেঁপে উঠল তেহরানের আকাশ। চামড়া গলে খসে পড়ছে, চোখের মণি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল তার দৃষ্টি। সেই শেষবার তিনি পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। এরপর শুধুই অন্ধকার।

হাসপাতালের বিছানায় যখন জ্ঞান ফিরল, জীবনটা তখন ধ্বংসস্তূপ। স্পেনের বার্সেলোনায় পাঠানো হলো তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য। একের পর এক সার্জারি। ১৯ বার অস্ত্রোপচার করেও তার দৃষ্টি ফেরানো গেল না। মুখটা হয়ে গেল বিভীষিকাময়। কিন্তু আমেনেহ কাঁদলেন না। তিনি আয়নায় নিজের সেই বিকৃত মুখ স্পর্শ করে শপথ নিলেন— বিচার চাই। এবং সেই বিচার হতে হবে চোখের বদলে চোখ।

শুরু হলো এক দীর্ঘ আইনি লড়াই। ইরানের ইসলামিক দণ্ডবিধিতে 'কিসাস' বা তালিওন আইনের বিধান আছে। অর্থাৎ 'চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত'। আমেনেহ আদালতে দাবি করলেন, মাজিদ তার জীবন অন্ধকার করে দিয়েছে, তিনিও মাজিদের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনতে চান। তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জেল চান না, তিনি চান মাজিদের দুই চোখ এসিড দিয়ে অন্ধ করে দিতে।

সারা বিশ্ব তখন এই মামলার দিকে তাকিয়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করছে, কিন্তু ইরানের আদালত আমেনেহর দাবির পক্ষেই রায় দিল। ২০১১ সাল। দীর্ঘ সাত বছর পর সেই মুহূর্তটি এল। তেহরানের বিচারিক হাসপাতাল। অপারেশন থিয়েটারে প্রস্তুত ডাক্তাররা। মাজিদ মোভাহেদিকে নিয়ে আসা হলো। তাকে হাঁটু গেড়ে বসানো হলো। তার হাত-পা বাঁধা। ভয়ে সে থরথর করে কাঁপছে, কাঁদছে, প্রাণভিক্ষা চাইছে।

আমেনেহর হাতে তুলে দেওয়া হলো এসিডের ড্রপার। ডাক্তার বললেন, "তুমি কি প্রস্তুত?" আমেনেহ এগিয়ে গেলেন। সাত বছর ধরে তিনি এই মুহূর্তটির স্বপ্ন দেখেছেন। তার বুকের ভেতর প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। তিনি মাজিদের সামনে দাঁড়ালেন। ড্রপারটা মাজিদের চোখের ওপর ধরলেন। আর মাত্র এক ফোঁটা, তারপরই মাজিদের পৃথিবীও হয়ে যাবে অন্ধকার। ঘরের মধ্যে পিনপতন নীরবতা। সবাই শ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে।

এক... দুই... তিন...

হঠাৎ আমেনেহ হাত নামিয়ে নিলেন। হাসপাতালের নিস্তব্ধতা ভেঙে তার শান্ত গলা শোনা গেল— "আমি মাফ করলাম।"

সবাই স্তম্ভিত। মাজিদ বিশ্বাস করতে পারছে না। সে আমেনেহর পায়ে লুটিয়ে পড়ল। আমেনেহ বললেন, "ওকে অন্ধ করলে কি আমি আমার চোখ ফিরে পাব? আমার মুখ কি আর আগের মতো সুন্দর হবে? প্রতিশোধ নিলে আমি শান্তি পেতাম ঠিকই, কিন্তু ক্ষমা করলে আমি মুক্তি পাব। আমি চাই না আমার মতো ওকেও অন্ধকারের যন্ত্রণা ভোগ করতে হোক।"

সেদিন আমেনেহ প্রমাণ করেছিলেন, শরীরের জোরের চেয়ে মনের জোর অনেক বেশি। তিনি মাজিদকে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু তাকে আইনি শাস্তি থেকে রেহাই দিলেন না। মাজিদের ১১ বছরের জেল হলো। আর আমেনেহ? তিনি ফিরে গেলেন নতুন জীবনে। তিনি তার আত্মজীবনী লিখলেন— 'অগ উম অগ' (চোখের বদলে চোখ)। সেখানে তিনি লিখলেন, "প্রতিশোধ নেওয়া সহজ, কিন্তু ক্ষমা করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমি কঠিন পথটাই বেছে নিয়েছি।"

মাজিদ ২০১৫ সালে জেল থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু আমেনেহ আজ বিশ্বজুড়ে এক আইকন। তিনি স্পেনে নতুন জীবন শুরু করেছেন। তার মুখ হয়তো এসিডে পুড়ে গেছে, কিন্তু তার আত্মা আজও উজ্জ্বল। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হয়, কিন্তু দিনশেষে মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমাদের মানবিকতা।

এসিড আমেনেহর মুখ পোড়াতে পেরেছে, দৃষ্টি কেড়ে নিতে পেরেছে, কিন্তু তার মেরুদণ্ড গলাতে পারেনি। অন্ধকারের অতল গহ্বরে দাঁড়িয়েও তিনি জ্বেলেছেন ক্ষমার আলো। ইরানের সেই হাসপাতালে সেদিন এসিডের ফোঁটা পড়েনি, পড়েছিল মানবতার অশ্রু।

স্যালুট আমেনেহ বেহরামী। আপনি সত্যিকারের হার না মানা যোদ্ধা।

Source & Disclaimer:

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া (Ameneh Bahrami), দ্য গার্ডিয়ান এবং বিবিসি-র আর্কাইভ রিপোর্টস (২০১১)। আমেনেহর লেখা বই 'Eye for an Eye' (জার্মান: Auge um Auge)।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Manobotar Diary BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share