Enlighten Me

Enlighten Me "source of knowledge and inspiration"

06/06/2026

জীবন আসলে এক অদ্ভুত যাত্রা। এখানে সবাই নিজের মতো লড়াই করে, নিজের মতো স্বপ্ন দেখে। কেউ জিতে, কেউ হারে—কিন্তু অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

02/06/2026

ব্রেকিং নিউজ

আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।

01/06/2026

📅 আজকের ইতিহাস: ১ জুন

ইতিহাসের এই দিনে পৃথিবী দেখেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জন্ম নিয়েছেন অনেক মহান ব্যক্তি, আবার হারিয়েছি কিছু স্মরণীয় মানুষকেও।

🔰 📌 উল্লেখযোগ্য ঘটনা: • ১৭৯২ সালে কেন্টাকি যুক্তরাষ্ট্রের ১৫তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
• ১৯৬৭ সালে বিটলস ব্যান্ড তাদের বিখ্যাত অ্যালবাম Sgt. Pepper's Lonely Hearts Club Band প্রকাশ করে, যা সঙ্গীত জগতে নতুন যুগের সূচনা করে।
• ১৯৮০ সালে বিশ্বে প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল CNN সম্প্রচার শুরু করে।

🎂 🎉 জন্মদিন: • ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ম্যারিলিন মনরো।
• ১৯৩৭ সালে জন্ম নেন বিশিষ্ট অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যান, যিনি তাঁর গভীর কণ্ঠস্বর ও অসাধারণ অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

🕊️ 💔 মৃত্যুবার্ষিকী: • ১৮৬৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জেমস বুকানান।
• ২০০৮ সালে প্রয়াত হন ফ্যাশন জগতের আইকন ইভ সাঁ লরাঁ।
✨ ইতিহাস আমাদের শেখায়, প্রতিটি দিনই বিশেষ—কারণ প্রতিটি দিনেই লুকিয়ে থাকে নতুন গল্প ও অনুপ্রেরণা।

#আজকের_ইতিহাস ুন

31/05/2026
30/05/2026

একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু: জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম

আজ ৩০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত, প্রভাবশালী এবং সংঘাতময় অধ্যায়ের নায়ক, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আশির দশকের বাংলাদেশের রাজনীতি— সর্বত্রই তার পদচারণা ছিল অত্যন্ত গভীর। একজন সাধারণ সামরিক কর্মকর্তা থেকে কীভাবে তিনি একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে উঠলেন, কেমন ছিল তার সেই রাজনৈতিক যাত্রা? আজকের ব্লগে আমরা ফিরে তাকাবো এই ব্যক্তিত্বের জীবন ও কর্মের দিকে।

শৈশব ও সামরিক জীবনের সূচনা:

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার শৈশব কেটেছে গ্রামে এবং কলকাতায়। দেশভাগের পর বাবার বদলির সূত্রে তারা করাচিতে চলে যান।

ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলিত জীবনের প্রতি অনুরাগী জিয়া ১৯৫৩ সালে কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা সামরিক বাহিনীতে তাকে বেশ প্রশংসিত করে। ১৯৭০ সালে তিনি নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে চট্টগ্রামে বদলি হন।

১৯৭১: কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও বীর উত্তম জিয়া:

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের নাম চিরতরে জড়িয়ে যায় ১৯৭১ সালের মার্চে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী যখন ঢাকাসহ দেশজুড়ে গণহত্যা শুরু করে, তখন চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন মেজর জিয়া।

২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তৎকালীন সময়ে দিকভ্রান্ত ও স্তব্ধ বাঙালি জাতির কাছে এই ঘোষণা ছিল এক প্রচণ্ড মানসিক শক্তি।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রথমে ১ নম্বর ও পরে ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তার নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে গঠিত হয় প্রথম নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড "জেড ফোর্স" (Z Force)। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে "বীর উত্তম" খেতাবে ভূষিত করে।

ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন

স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট চিফ অফ আর্মি স্টাফ (সেনাপ্রধান) নিযুক্ত হন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা জিয়ার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান গৃহবন্দী হন। কিন্তু মাত্র চার দিন পর, ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার এক ঐতিহাসিক পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি মুক্ত হন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। প্রথমে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রনায়ক জিয়া: সংস্কার ও উন্নয়ন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন:

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বিএনপি গঠন: একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) থেকে দেশকে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল' (BNP)।

১৯ দফা ও সবুজ বিপ্লব: দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি '১৯ দফা কর্মসূচি' ঘোষণা করেন। কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে দেশজুড়ে তার "খাল খনন কর্মসূচি" ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সার্ক (SAARC) গঠন: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'সার্ক' গঠনের মূল উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি।

বিতর্ক ও সমালোচনা
ইতিহাসের প্রতিটি বড় চরিত্রের মতোই জিয়াউর রহমানের শাসনকালও বিতর্কহীন ছিল না। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান সমালোচনাগুলো হলো:

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে প্রণীত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, যা আজও একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

সামরিক আদালতে বিচার: তার শাসনকালে সেনাবাহিনীতে বেশ কয়েকটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয় এবং তা দমনের নামে বহু সামরিক কর্মকর্তাকে দ্রুত ও গোপন ট্রায়ালের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া হয়।

সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ: সংবিধানের মূল চার নীতির অন্যতম 'ধর্মনিরপেক্ষতা' পরিবর্তন করে "আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস" প্রতিস্থাপন করার কারণে তিনি প্রগতিশীল রাজনৈতিক মহলে সমালোচিত হন।

শেষ অধ্যায়: ৩০ মে, ১৯৮১
১৯৮১ সালের মে মাসের শেষের দিকে রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে যান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তার আকস্মিক হামলায় তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। ঢাকার # শেরেবাংলা নগরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়।

শেষ কথা
জিয়াউর রহমান এমন এক ঐতিহাসিক চরিত্র, যাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম ও শুরুর দিকের বিবর্তন আলোচনা করা অসম্ভব। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে কেউ তাকে দেখেন "বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি" হিসেবে, আবার কেউ দেখেন "ইনডেমনিটির প্রবর্তক ও সামরিক শাসক" হিসেবে। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে, একাত্তরের সেই সংকটময় মুহূর্তে তার বজ্রকণ্ঠ এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

আপনার কাছে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের কোন দিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়? কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

🎯 🌍 ৩০ মে: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন👉 বিস্তারিত জানতে পোস্টটি পড়ুন 👇📅 ৩০ মে—বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে ঘ...
30/05/2026

🎯 🌍 ৩০ মে: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

👉 বিস্তারিত জানতে পোস্টটি পড়ুন 👇

📅 ৩০ মে—বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে ঘটেছে বহু স্মরণীয় ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যু, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সাহস, সংগ্রাম এবং পরিবর্তনের গল্প।

📜 🔥 উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা

🔸 ১৪৩১ সালে, ফ্রান্সের বীর নারী Joan of Arc-কে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার আত্মত্যাগ আজও ইতিহাসে অমর।
🔸 ১৫৩৯ সালে, অভিযাত্রী Hernando de Soto প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে মিসিসিপি নদী অতিক্রম করেন।
🔸 ১৮১৪ সালে, Treaty of Paris 1814 স্বাক্ষরের মাধ্যমে নেপোলিয়নিক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
🔸 ১৯১১ সালে, বিশ্বখ্যাত রেস Indianapolis 500 প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়।
🔸 ১৯৬৭ সালে, বিয়াফ্রার স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় Nigerian Civil War।

🇧🇩 ⚠️ বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ দিন
🔴 ১৯৮১ সালের এই দিনে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman চট্টগ্রামে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।
👉 এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।

29/05/2026

শুধু স্বপ্ন দেখো না, তা বাস্তবায়নও কর।
যদি পারো,তাহলে তুমি সফল 👍👍

আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর ( কোরবানির পশুর) গোশত এবং রক্ত, বরং তার কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া( আল্লাহরভীতি বা একন...
27/05/2026

আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর ( কোরবানির পশুর) গোশত এবং রক্ত, বরং তার কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া( আল্লাহরভীতি বা একনিষ্ঠতা) ।
সূরা: আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৭

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তার জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজনআজ ২৫ মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ)...
25/05/2026

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তার জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন

আজ ২৫ মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ)। ঠিক আজকের এই দিনেই কবি নজরুল ইসলামের জন্ম হয়েছিল। বাংলা সাহিত্যের এই মহান পুরুষ, যিনি একহাতে বাঁশরী আর অন্যহাতে রণতূর্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ জীবনী নিচে তুলে ধরা হলো।

# # প্রারম্ভিক জীবন (১৮৯৯–১৯১৭)
জন্ম: কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র মুসলিম কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশবের ধাক্কা: তাঁর বাবার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মা জাহেদা খাতুন। ১৯০৮ সালে পিতার অকাল মৃত্যুর পর মাত্র ৯ বছর বয়সে নজরুলকে সংসারের হাল ধরতে হয়। মক্তবের পাঠ শেষ করে তিনি সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন এবং মসজিদের মুয়াজ্জিন ও মাজারের খাদেমের কাজ নেন। শৈশবের এই চরম দারিদ্র্য ও কষ্টের কারণে তাঁর ডাকনাম রাখা হয়েছিল "দুখু মিয়া"।

লেটো দলের কবি: কিশোর বয়সে তিনি লোকনাট্য দল 'লেটো'-তে যোগ দেন। সেখানে গান ও নাটক রচনার মাধ্যমে তাঁর অসাধারণ কবিপ্রতিভার প্রথম প্রকাশ ঘটে।

রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহ: পরে তিনি কবিয়াল বাসুদেবের কবি দলে এবং আসানসোলের একটি রুটির দোকানে কাজ নেন। সেখানে তাঁর প্রতিভা দেখে আসানসোলের পুলিশ ইন্সপেক্টর কাজী রফিজউল্লাহ তাঁকে নিজের গ্রাম ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি করে দেন (১৯১৪)। পরবর্তীতে তিনি আবার চুরুলিয়ায় ফিরে রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

# # সৈনিক জীবন ও সাহিত্যে প্রবেশ (১৯১৭–১৯২০)
১৯১৭ সালের শেষদিকে, দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালীন নজরুল পড়ালেখা ছেড়ে ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। করাচি ব্যারাকে থাকার সময় তাঁর সাহিত্যিক জীবনের আসল ভিত্তি তৈরি হয়।

সৈনিক জীবনে বসেই তিনি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য শেখেন এবং তাঁর প্রথম গল্প "বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী" (১৯১৯) ও প্রথম কবিতা "মুক্তি" প্রকাশ পায়।

# # ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ও "বিদ্রোহী" কবি (১৯২০–১৯২২)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯২০ সালে পল্টন ভেঙে দিলে নজরুল কলকাতায় ফিরে আসেন। এখানে এসে তিনি পুরোপুরি সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগ করেন।

নবযুগ ও ধূমকেতু: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'নবযুগ' পত্রিকায় তিনি যোগ দেন। পরে নিজেই 'ধূমকেতু' নামক একটি বৈপ্লবিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।

বিদ্রোহী কবিতা: ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নজরুল তাঁর অমর কবিতা "বিদ্রোহী" রচনা করেন (যা ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি 'বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়)। এই একটি কবিতা বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী করে দেয় এবং তিনি "বিদ্রোহী কবি" হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

# # ব্রিটিশদের কোপানল ও কারাবাস (১৯২২–১৯২৩)
নজরুলের কলম ছিল ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে এক ধারালো তলোয়ার। তাঁর 'ধূমকেতু' পত্রিকায় "আনন্দময়ীর আগমনে" কবিতা প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাজদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।

রাজবন্দীর জবানবন্দী: আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি যে ঐতিহাসিক জবানবন্দী দিয়েছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য দলিল।

অনশন: হুগলি জেলে বন্দি থাকাকালীন কয়েদিদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেছিলেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন: "Give up hunger strike, our literature claims you."

# # প্রেম, বিয়ে ও পারিবারিক জীবন
১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল নজরুল প্রমীলা দেবীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল তৎকালীন সমাজে একটি অত্যন্ত সাহসী ও অসাম্প্রদায়িক পদক্ষেপ। নজরুল ও প্রমীলা দম্পতির চার সন্তান ছিল: কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ। এর মধ্যে প্রিয় পুত্র বুলবুলের অকাল মৃত্যু কবিকে গভীরভাবে শোকাচ্ছন্ন করেছিল।

# # গীতি-আলেখ্য ও আধ্যাত্মিক সাধনা (১৯২৬–১৯৪২)
বিদ্রোহের পাশাপাশি নজরুল ছিলেন প্রেমের ও আধ্যাত্মিকতার কবি। ১৯৩০-এর দশকে তিনি কলকাতার গ্রামোফোন কোম্পানি, এইচএমভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিওর সাথে যুক্ত হন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ গান রচনা ও সুর করেন, যা আজ "নজরুল গীতি" নামে পরিচিত।

তিনি একাধারে যেমন শ্যামাসংগীত ও কীর্তন লিখেছেন, তেমনি বাংলা ভাষায় ইসলামী গজল ও নাত রচনার অগ্রদূত ছিলেন। তাঁর এই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি বাংলা সঙ্গীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

# # বাকরুদ্ধ হওয়া ও জীবনের ট্র্যাজেডি (১৯৪২–১৯৭৬)
১৯৪২ সালে নজরুল এক গুরুতর দুরারোগ্য ব্যাধিতে (পিকস ডিজিজ) আক্রান্ত হন। এর ফলে তিনি ধীরে ধীরে তাঁর বাকশক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা করিয়েও কবিকে আর সুস্থ করা সম্ভব হয়নি। জীবনের শেষ ৩৪ বছর তিনি সম্পূর্ণ নীরব ও পঙ্গু অবস্থায় কাটান।

# # বাংলাদেশে আগমন ও জাতীয় কবির স্বীকৃতি
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি নজরুলকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁকে "জাতীয় কবি" হিসেবে ঘোষণা করা করা হয়। ১৯৭৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা "একুশে পদক" প্রদান করা হয়।

# # মহাপ্রয়াণ
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ই ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বিএসএমএমইউ) এই মহান কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁরই একটি বিখ্যাত গানের অনুরোধ অনুযায়ী:

"মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই..."

তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

"আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশের, এই সমাজেরই নই, আমি সকল দেশের সকল মানুষের।”আসলে তিনি ছিলেন সকল সমাজের ...
24/05/2026

"আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশের, এই সমাজেরই নই, আমি সকল দেশের সকল মানুষের।”

আসলে তিনি ছিলেন সকল সমাজের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। আজও তাঁর সাহিত্যকর্ম সেই প্রথম দিনের মতোই প্রাণবন্ত। যুগ যুগ ধরে, তার সাহিত্যকর্ম নিপীড়িত মানুষের জন্য এক একটা যুদ্ধ কৌশল। তিনি ছিলেন প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ ও মানবতার কবি।
শুভ জন্ম বার্ষিকী হে মহামানব, হে বিদ্রোহী বীর।

Address

Chittagong
4216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Enlighten Me posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share