Akash Under The Sky

Akash Under The Sky #ঘুরে_দেখি_বাংলাদেশের_৬৪_জেলা 🇧🇩
5⃣4️⃣ 𝑫𝒊𝒔𝒕𝒓𝒊𝒄𝒕𝒔 𝑪𝒐𝒎𝒑𝒍𝒆𝒕𝒆𝒅 ❤️
চলুন বাংলাদেশ ঘুরে দেখি!🇧🇩🇧🇩🇧🇩

বাংলার এই অঞ্চলে এই যে আমরা কত সহজে গরু কুরবানি দিতে পারছি, ব্যাপারটা কিন্তু এতো সিম্পলি আসেনাই!এই যেমন ধরেন, একসময় মুন্...
29/05/2026

বাংলার এই অঞ্চলে এই যে আমরা কত সহজে গরু কুরবানি দিতে পারছি, ব্যাপারটা কিন্তু এতো সিম্পলি আসেনাই!

এই যেমন ধরেন, একসময় মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে এক মুসলমান ব্যক্তি তাঁর সন্তানের জন্ম উপলক্ষে আকিকার আয়োজন করলেন, এই যেমন আমরা করি এখন। তো, আকিকার অংশ হিসেবে তিনি একটি গরু জবেহ করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন এই অঞ্চলের শাসক রাজা বল্লাল সেন ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ মুসলমান ব্যক্তিকে নির্যাতন করেন।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বিক্রমপুর ছেড়ে পবিত্র মক্কা শরীফে চলে যান। মক্কায় অবস্থানকালে তার সাথে দেখা হয় সুফি সাধক হযরত বাবা আদম (রহ.)-এর সঙ্গে। নির্যাতিত সেই ব্যক্তি তাঁর কষ্টের কথা, বিক্রমপুরের অবস্থা এবং ধর্মীয় অধিকার নিয়ে সংঘটিত ঘটনার কথা বাবা আদম (রহ.)-কে খুলে বলেন।

কথিত আছে, সব শুনে হযরত বাবা আদম (রহ.) বিক্রমপুরের উদ্দেশ্যে ৭ হাজার সৈন্য নিয়ে রওয়ানা দেন। বিক্রমপুরে পৌঁছে প্রথমে সেখানে বসতি স্থাপন করেন এবং মসজিদ নির্মাণ করেন।

এরপর একদিন বাবা আদম শহীদ (রহ.) কোরবানি/ফাতেহার আয়োজন করেন। জনশ্রুতি বলে, গরু জবেহের পর একটি পাখি মাংসের একটি টুকরো নিয়ে উড়ে যায় এবং তা রাজা বল্লাল সেনের রাজদরবারের উঠোনে গিয়ে পড়ে। রাজদরবারে গরুর মাংস দেখে রাজা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এর উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারেন, বিক্রমপুরে এক মুসলমান সাধক তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকেই শুরু হয় সংঘাত।

রাজা বল্লাল সেন যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন, এবং যুদ্ধে পরাজয় হলে তাঁর সব রাণী যেন চিতায় আত্মহুতি দেয় সেটার ঘোষণা দেন। এজন্য বেশকিছু কবুতর নিয়ে যান যুদ্ধের ময়দানে। সৈন্যদের বলা হয় আমরা যদি যুদ্ধে পরাজয় বরণ করি এরকম পরিস্থিতি হয় তাহলে কবুতরগুলো যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। কবুতরগুলো রাজ দরবারে পৌঁছে গেলে রাণীরা সবাই মিলে যেন আত্মাহুতি দেয় তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কবুতর ফিরে আসা হল পরাজয়ের চিহ্ন। চিতায় আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয়। অন্যদিকে বাবা আদম (রহ.) ও তাঁর সঙ্গীরা ঈমান, ইবাদত ও ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে অবিচল থাকেন। যুদ্ধ শুরু হলে একে একে বাবা আদম (রহ.)-এর সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করেন। যুদ্ধক্ষেত্র রক্তাক্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু জনশ্রুতি অনুযায়ী বাবা আদম (রহ.)-কে সাধারণ অস্ত্র দিয়ে শহীদ করা যাচ্ছিল না।

যুদ্ধ করতে করতে বাবা আদমের সৈন্যরা একে একে শাহাদাত বরণ করেন৷ রাজা বল্লালের সৈন্যরা একে একে মারা যাচ্ছেন৷ তবে বাবা আদমকে কোনভাবেই শহীদ করা যাচ্ছে না৷ এরকম অবস্থায় বল্লালের এক সৈন্য পরিস্থিতি না বুঝে কবুতরগুলোর বাঁধন খুলে দিলে কবুতরগুলো রাজ দরবারে পৌঁছালে বল্লাল বাহিনী পরাজয় বরণ করেছে মনে করে রাজদরবারের রাণীরা চিতায় গিয়ে আত্মহুতি দেন৷

কথিত আছে, এক পর্যায়ে বাবা আদম (রহ.) নিজেই বলেন, তোমাদের তরবারি দিয়ে আমাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। আমি শাহাদাত চাই। এরপর তিনি নিজের তরবারি রাজা বল্লাল সেনের হাতে তুলে দেন। সেই তরবারির আঘাতেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন।

এরপর, বল্লাল বাবা আদম শহীদের বাহিনীকে পরাজিত করে রাজ দরবারে ফিরে গিয়ে দেখে রাজদরবারের রাণীরা সবাই চিতায় আত্মহুতি দিয়েছেন৷ এই অবস্থায়, রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বল্লালও অবশেষে আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

তাই আমাদের এই অঞ্চলে কোরবানি শুধু একটি ইবাদত নয়, এর সাথে এই বাংলার মুসলিম মানুষের অধিকারের আদায় আর সংগ্রামের কাহিনি গাঁথা আছে।

আল্লাহ হযরত বাবা আদম শহীদ (রহ.)-এর কোরবানি, আত্মত্যাগ এবং আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন।
আমিন।

📍 বাবা আদম শহীদ মসজিদ, বিক্রমপুর

#কুরবানি #বাবাআদমশহীদ #বিক্রমপুর #মুন্সীগঞ্জ #বাংলারঐতিহ্য #প্রাচীনমসজিদ #ঐতিহাসিকস্থান

24/04/2026

বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ চা-বাগান, সিলেটের এই 'মালনীছড়া চা বাগান'

সিলেটের এয়ারপোর্ট রোড যেতে যেতে সকালের সূর্যের কিরণ যখন চা বাগানের পাতার আলোয় ঝিলিক খেলে, সেই সৌন্দর্য্য মন জুড়ায়, সাথে সিলেটের ঠান্ডা-তো আছেই!

#সিলেট #চাবাগান #চা #মালনীছড়া

অস্তমিত সূর্য থেকে ভোরের আলো: এক বিস্মৃত মহাবীর হাবিলদার রজব আলী খান​বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য যখন অস্তমিত হয়েছিল ১৭...
27/12/2025

অস্তমিত সূর্য থেকে ভোরের আলো: এক বিস্মৃত মহাবীর হাবিলদার রজব আলী খান

​বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য যখন অস্তমিত হয়েছিল ১৭৫৭-এর পলাশীর প্রান্তরে, সেই অন্ধকার ঘোচাতে একশ বছর পর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন চট্টগ্রামের এক দামাল ছেলে। ইতিহাসের ধুলোবালি আজ হয়তো তাঁর নাম কিছুটা ঝাপসা করে দিয়েছে, কিন্তু ১৮৫৭ সালের সেই ১৮ই নভেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী প্যারেড গ্রাউন্ডের মাটি আজও তাঁর বীরত্বের সাক্ষ্য দেয়। তিনি আর কেউ নন—বিদ্রোহী বীর হাবিলদার রজব আলী খান।
​ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত পরহেজগার আর শান্ত স্বভাবের এই মানুষটির ভেতরে যে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এমন তীব্র আগুন ছিল, তা হয়তো সেদিন ব্রিটিশ ক্যাপ্টেনের কল্পনাতেও ছিল না। ৩৪ নম্বর নেটিভ বেঙ্গল পদাতিক বাহিনীর এই সাহসী সিপাহি যখন হুঙ্কার ছাড়লেন, তখন কেঁপে উঠেছিল বন্দরনগরীর ব্রিটিশ ভিত।
​সেই ঐতিহাসিক রাতে রজব আলীর নেতৃত্বে প্রায় চারশ বিদ্রোহী সিপাহি আছড়ে পড়েছিলেন ব্রিটিশদের অস্ত্রাগার আর কোষাগারের ওপর। ব্রিটিশ বেনিয়ারা এতটাই আতঙ্কিত হয়েছিল যে, জান বাঁচাতে তারা লোকালয় ছেড়ে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে জাহাজে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। টানা ৩০ ঘণ্টা এই চট্টগ্রাম ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন! আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে সেই লড়াইয়ে শহীদ হওয়া বীরদের রক্ত আজও মিশে আছে আমাদের অস্তিত্বে।
​রজব আলীর স্বপ্ন ছিল বিশাল—ঢাকার বিপ্লবীদের সাথে মিলে পুরো দেশ থেকে ব্রিটিশদের তাড়ানো। কিন্তু নিয়তি আর বিশ্বাসঘাতকতা ছিল তাঁর পথের কাঁটা। দুর্গম পাহাড়, গভীর জঙ্গল আর ত্রিপুরার রাজার অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বুক সাহস নিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। যখন রসদ ফুরিয়ে আসছিল, যখন সাথীরা একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিলেন, তখনও রজব আলী মাথা নত করেননি।
​ঢাকার লালবাগ কেল্লায় যখন বিপ্লবীদের রক্তে হোলি খেলা হচ্ছিল, আন্টাঘর ময়দানের গাছে যখন ঝোলানো হচ্ছিল দেশপ্রেমিকদের লাশ—রজব আলী তখন গহীন অরণ্যে লড়াই করছেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। ইতিহাসের এক করুণ ট্র্যাজেডি এই যে, যে মানুষটি একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাঁর শেষ পরিণতি কোথায় হয়েছিল, তা আজও অজানা। চট্টগ্রামের এই সূর্যসন্তান কোনো এক পাহাড়ের নিভৃতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, কোনো চিহ্ন না রেখে।
​আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছি, কিন্তু বীর রজব আলী খানেরা রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে। কবির ভাষায়—
​“মুক্তির মন্দির সোপান তলে
কত প্রাণ হল বলিদান
লেখা আছে অশ্রু জলে।”

​রজব আলী খান কোনো সাধারণ সৈনিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের আত্মপরিচয়ের শেকড়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা চিনতে ভুল করি, তবে আগামীর পথ চলা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এই বীর সেনানীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

তথ্যসূত্র:
চট্টগ্রামে সিপাহি বিদ্রোহ — পূর্ণেন্দু দস্তিদার।

চট্টগ্রামের ইতিহাস — আবদুল হক চৌধুরী।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Akash Under The Sky posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category