10/02/2026
জুলাই সনদের আর্টিকেল ৮৪ রেফারেন্স দিয়ে অনেকে গনভোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা রীতিমতো হাস্যকর কারণ আর্টিকেল ৮৪ গনভোটে যুক্ত করা হয়নি,
জুলাই সনদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ টি সংস্কার গনভোটে যুক্ত করা হয়েছে যেখানে আর্টিকেল ৮৪ নেই।
এছাড়া জুলাই সনদে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে "ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির" কথা বলা হইছে। শুরুর দিকের প্রস্তাবে "pluralism" বা বহুত্ববাদ ছিল, পরে সেইটা বাদ দেওয়া হইছে। সংস্কার কমিশনের প্রথম প্রস্তাবে যে "বহুত্ববাদ" ছিল, তার মানেও ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সবাই মিলে এক সমাজে এক সাথে বসবাস করা। এর সাথে এলজিবিটিকিউ ইস্যুর কোন দূরতম সম্পর্কও নাই। অনেকে এই শব্দগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে যে, এর মাধ্যমে এলজিবিটিকিউ কে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এইটা পুরোপুরি ভুল কথা। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ যেন একসাথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে, কোন ধরনের হানাহানি যেন না হয়, এইটা বোঝানোর জন্য এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।
একই সাথে, Open Government partnership তথা OPG তে যোগদান করার মানে এই না যে, বাংলাদেশ তার নিজের নীতি বা আইন বদলে ফেলবে। এই দেশের আইন এই দেশের পার্লামেন্টে নির্ধারিত হবে - এইটাই নিয়ম। আর এই রকম বিতর্কিত ইস্যুকে কেউ গোপনে বা কূট-কৌশল করে আইনি বৈধতা দিয়ে ফেলবে - তার দূরতম কোন সম্ভাবনাও নাই। এমনকি OPG কাউকে এনজিবিটিকিউ বৈধ করতে বাধ্য করার অধিকারও রাখেনা।
এই সব ইস্যু তুলে জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা, গনভোটকে বিতর্কিত করা মূলত একটা ষড়যন্ত্র। জুলাই সনদ না হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের। কারণ তারা ৭২ এর সংবিধানের কথা আবার তুলতে পারবে। তারপর লাভ হবে "টু বি ফ্যাসিস্ট" এর অর্থাৎ যাদের মনের মধ্যে আরেকজন হাসিনা হইয়া উঠতে আকুলি-বিকুলি করতেছে। আর জুলাই সনদ "হ্যাঁ" ভোটে পাস করলে লাভ হবে এই দেশের জনগণের। ফ্যাসিবাদ বিরোধী, আধিপত্যবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতার।
তাই, কোন ষড়যন্ত্র তত্ত্বে কান দিবেন না। ১২ তারিখে অবশ্যই ভোট দিবেন, আনন্দের সাথে, উৎসবের সাথে এবং গণভোটে "হ্যাঁ" ভোট দিবেন।