
21/08/2023
ফ্রিল্যান্সিং এ আসার পূর্ব মানসিক প্রস্তুতি
১।নিজের সম্পর্কে জানা:
আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে মূলত তিন ধরণের মানুষ দেখা যায়। প্রথম প্রকারের মানুষ ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে। এরা মূলত পেশাদার যারা কিনা ডেস্ক জব পছন্দ করেন না। দ্বিতীয় প্রকারের মানুষ পার্টটাইম ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন। এরা নির্দিষ্ট পরিমাণ কিন্তু নিয়মিত কাজ করে থাকেন। আর তৃতীয় প্রকারের মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এনারা চিন্তা করেন কোন ধরনের কাজ করা ঠিক হবে, ফুলটাইম নাকি পার্টটাইম কাজ করবেন, এমনকি আদৌ ফ্রিল্যান্সিং করবেন কিনা এরকম দ্বিধায়ও ভুগে থাকেন। এধরণের মানুষ আসলেই বিপদজনক অবস্থায় আছেন।
আপনাকে উক্ত তৃতীয় প্রকার দল থেকে বের হয়ে আসতে হলে প্রথমে নিজের যোগ্যতা, যে বিষয় আপনার আগ্রহ আছে তা, আপনার দুর্বলতা, আপনার নিজের পারদর্শিতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। মূলত দৃঢ় সংকল্প নিয়ে শুরু করলে বৈধ কোনো পেশাই মানুষের পক্ষে অসম্ভব নয়।
২। অপশন হাতে রাখা
আপনি হয়তো এমন অনেককেই পাবেন যারা একটি মাত্র লক্ষ্যের পিছনে আছেন এবং সেটিকে তারা অর্জন করবেনই বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে এসে আপনি যদি এমন ভেবে থাকেন তবে আপনারও আরও বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ক্যারিয়ার কোন ‘মিশন’ না বরং এটি ‘ভিশন’এর থেকেও বড়। আশা করি ‘মিশন’ ও ‘ভিশন’ এর পার্থক্য আপনি বোঝেন। মিশন হল স্বল্পমেয়াদি আর ভিশন হল মিশন এর থেকে দীর্ঘমেয়াদি। যাইহোক, সবসময়ই ব্যাকআপ অপশন রাখা উচিৎ কেননা যেকোন একটি মার্কেটপ্লেস অথবা একজনমাত্র ক্লায়েন্টের উপর নির্ভর করা উচিৎ নয়। হয়তোবা আপনার বর্তমান ক্লাইন্ট খুব ভাল কিন্তু মনে রাখবেন তিনি চিরদিন থাকবেন না। আমাদের অভিজ্ঞতায় এমন লোকও দেখেছি যিনি কিনা শুধুমাত্র কাজের পারিশ্রমিক বারানোর কারণে তার ক্লাইন্ট হারিয়েছেন।
আসলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ স্থানে রিস্ক ফ্যাক্টর খুব বেশি। এখানে অনেক কিছুই হতে পারে যেমন আপনার প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ, মার্কেটপ্লেস বন্ধ হতে পারে, আপনার একাউন্টে সমস্যা হতে পারে প্রভৃতি। আর এ কারণেই একের অধিক মার্কেটপ্লেস এর সাথে সংযুক্ত থাকুন, ক্লাইন্ট বাড়ান, নেটওয়ার্ক তৈরি করুন, নিজের পোর্টফলিও প্রোফাইল তৈরি করুন।