15/03/2022
আপনি কখনো ভেবেছেন? আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস আপনি অনলাইনে অর্ডার করবেন এবং আপনার জিনিস আপনার বাসায় হাজির হয়ে যাবে। যখন অনলাইন দুনিয়া ছিলনা, তখন আপনি চিন্তাও করতে পারেননি এই ব্যাপারে। কিন্তু আজ সেটিই বাস্তব। এবং এই যে আপনি যে ফেসবুক পেইজ বা ওয়েব সাইটে আপনার কাঙ্খিত পণ্য দেখে অর্ডার করেছেন তা হল এই ডিজিটিাল মার্কেটিং এর বদৌলতে।
মার্কেটিং কথাটার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত। এবং অনেকে এই পেশায় জড়িত ও এ পেশাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এই মার্কেটিং এর ধরণ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বর্তমান এই অনলাইনের যুগে মার্কেটিং এর সংজ্ঞা, কাজের ধরণ, পলিসি অনেকাংশে বদলে গিয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এই পরিবর্তিত ধরণের আধুনিক একটি সংস্করণ। বর্তমানে এই ডিজিটাল মার্কেটিং হল ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় মোটামুটি অল্প সময়ে সফলতা পাওয়ার একটি মাধ্যম। চলুন তাহলে শুরু করা যাক একটি নতুন এবং কার্যকরী ক্ষেত্র ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে।
ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
গুগলের সংজ্ঞা অনুসারে ডিজিটাল মার্কেটিং মানে অনলাইনে পন্য বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন প্রচার করাকেই বুঝায়। এখন সেটা হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, হতে পারে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর মাধ্যমে, হতে পারে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে, আবার হতে পারে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচারণা করা।
বর্তমানে সবকিছু যেহেতু ডিজিটালাইজ হয়ে গেছে এবং বেশিরভাগ কাজ অনলাইন ভিত্তিক হচ্ছে। তাই ডিজিটালি মার্কেটিং করা এখন অত্যাবশক হয়ে পড়েছে। এখন সবার হাতে হাতে স্মার্ট ফোন, এক ক্লিকে সবাই ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রবেশ করতে পারছে। তাই যেকোন কিছু প্রচারের এখন সর্বোত্তম মাধ্যম হলো অনলাইন ডিজিটাল দুনিয়া।
কেন ডিজিটাল মার্কেটিং
বর্তমানে এই অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে যে কোন কোম্পানী বা উদ্যোক্তা তার পণ্য বা সেবা যাই বলেন সেটি তার কাঙ্খিত গ্রাহকের নিকট পৌছানোর সহজ ও কম খরচের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে এটি হল একমাত্র মাধ্যম, যার মাধ্যমে আপনি অল্প সময়ে সঠিকভাবে আপনার পণ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারবেন। বর্তমান দুনিয়ায় সবাই সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। তাই এই সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় খুব সহজেই।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেরা মাধ্যম সমূহ
ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন মাধ্যম বা প্রকার রয়েছে। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেরা কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হল।
১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
২. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
৩. কনটেন্ট মার্কেটিং
৪. সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং
৫. এফিলিয়েট মার্কেটিং
৬. ই-মেইল মার্কেটিং
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বুঝায় যার মাধ্যমে কোন ওয়েব সাইটের কিওয়ার্ডকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম দিকে দেখানো হয়। সহজ করে বললে উদাহরণ বলতে হয়। যেমনঃ আমরা যদি গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে যে কোন বিষয় বা ধরি ডিজিটাল মার্কেটিং এই কথাটা লিখে সার্চ দিই। তাহলে আমরা অনেকগুলো লিংক পাব যা প্রায় কয়েক পেজ ধরে দেওয়া থাকে। আমরা সাধারণত কি করি, প্রথম পেজে যে ওয়েবসাইটগুলোর লিংক দেওয়া হয়। আমরা ঐগুলোতে ক্লিক করে ঐ পেজগুলোতে ভিজিট করি। এখন ঐ পেজগুলো কেন গুগলের প্রথম পেজে আসল। অন্যগুলো কেন আসল না। যে পেজগুলো প্রথমে আসল তার কারণ হল এই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। ঐ পেজগুলোকে ভালোভাবে এসইও করার কারণে সেগুলো রেঙ্ক করে প্রথম পেজে অবস্থান নিয়েছে। ফলে কি হবে, সকল কাষ্টমার ঐ পেজগুলোতে ভিজিট করবে এবং ঐ পেজের ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) দুই ধরনের হতে পারে। অন পেইজ এসইও এবং অফ পেইজ এসইও। পরবর্তীতে এসইও নিয়ে বিস্তারিত লিখব আশা করি পেইজে চোখ রাখবেন।
সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM) হল একটি মার্কেটিং কৌশল যা একটি ব্যবসায় বিভিন্ন রকম টার্গেটেড নিয়ে আসে। একে পেইড সার্চ মার্কেটিও বলা হয়ে থাকে। গুগলে সার্চ করলে প্রায় সময় দেখা যায় প্রথম পেইজে এডস নামে একটা বা দুইটা সাইট থাকে। এগুলো সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM) এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM) সাধারণত বিভিন্ন প্লার্টফর্মে হয়ে থাকে, যেমনঃ গুগল এডস, গুগল নেটওয়ার্ক, ইয়াহু বিং নেটওয়ার্ক ইত্যাদি। সার্চ পেজে নিজের সাইট টাকা দিয়ে অ্যাডের সাহায্যে দেখানো ই হচ্ছে এসইএম এর কাজ। এক্ষেত্রে পিপিসি, সিপিসি ইত্যাদি মডেল নির্বাচন করা হয়।
কনটেন্ট মার্কেটিং
কনটেন্ট মার্কেটিং হল এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য বা সেবা সমূহকে আকর্ষনীয় ও দৃষ্টিনন্দনভাবে অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করা। কনটেন্ট মার্কেটিং টেক্সট, ওয়েবপেইজ, ভিডিও, পডকাস্ট ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।
সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে সোশাল মিডিয়া। বর্তমান দুনিয়ায় বিশাল একটা অংশের মানুষ সোশাল মিডিয়ার সাথে জড়িত। যে কারণে অনেক টার্গেটেড কাষ্টমারের কাছে পৌছানো খুবই সহজ হয়ে যায়। সারা পৃথিবীতে অনেকগুলো সোশাল মিডিয়া রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হল- ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইউটিউব, পিন্টারেষ্ট, হোয়াটসএ্যাপ ইত্যাদি। এসব সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে মার্কেটিং করাকেই সোশাল মিডিয়া মার্কেংটিং বলা হয়ে থাকে। আশা করি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর বলার প্রয়োজন নেই।
এফিলিয়েট মার্কেটিং
এক কথায় সহজভাবে বলতে গেলে এফিলিয়েট মার্কেটিং হল অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে প্রচার করা। আপনি যে কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে আপনার নিজের ব্লগ, পেজ, বা ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার করবেন। বিনিময়ে আপনি তাদের কাছ থেকে আপনার মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন প্রদান করবে। আপনি যেকোন একটি অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট হতে এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে রেজিষ্টার করে নিবেন। তারা আপনাকে একটি এফিলিয়েট বা রেফারেল লিংক দিবে, যেটি আপনি আপনার ব্লগ, পেজ বা চ্যানেলে আকর্ষনীয় উপায়ে শেয়ার করবেন। যেখানে আপনাকে দেওয়া লিংকটা থাকবে। এবং এই লিংকে ক্লিক করে কেউ যখনই ঐ পণ্যটি বা বা সেবাটি গ্রহন করবে তখনই আপনি আপনার নির্দিষ্ট কমিশন পেয়ে যাবেন।
ই-মেইল মার্কেটিং
ই-মেইল মার্কেটিং হল হাজার হাজার মানুষের নিকট ই-মেইলের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবার প্রচার করা। আমরা যেভাবে টিভি বা খবরের কাগজে পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দেই ঠিক তেমনি ই-মেইলের মাধ্যমেও পণ, সেবা অথবা অফারের প্রচার বা মাকেটিং প্রক্রিয়াকে ই-মেইল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। ই-মেইল মার্কেটিং দুই ধরনের হয়ে থাকে, ফ্রি ই-মেইল মার্কেটিং ও পেইড ই-মেইল মার্কেটিং। এই ব্যাপারে বিস্তারিত আমার আগের লেখাতে রয়েছে। আমার আইডি বা আমার পেইজ Smart Marketing Hub এ গেলে দেখতে পাবেন।
ধন্যবাদ