14/08/2026
ভালোবেসে বিয়ে করেছি,বিয়ের বয়স ৩ হলো।একটা বাচ্চা আছে ২বছর হলো।চাকরি করি ব্যাংকে।স্বামী সরকারি চাকরি করেন।সারাজীবন শহরে থেকেছি,শ্বশুরবাড়ি গ্রামে হওয়াই পোস্টিং গ্রামেই নিয়েছি।আমার বাবার পরিবার শহরেই থাকে।আমি অস্বচ্ছল পরিবারেই বড় হয়েছি।
৮ম শ্রেণী থাকাকালীন সময় থেকেই টিউশন পড়িয়ে নিজের খরচ নিজে চালিয়ে নিয়েছি।কখনো টাকা নিই নাই,বাবা মা কে দুঃখ করে কোনকিছুর কথা বলিনি।সবসময় তাদেরকে আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছি টিউশন করিয়ে।নিজের শখ আহলাদ পূরণ করিনি। ভালো জামা কখনো নিই নাই।সবসময় ঈদে সবার জন্য কাপড় নিতাম।দাদার বাড়ি,নানার বাড়ি সহ।তাদের মনে হয়েছে,এগুলো বুঝি খুব সহজে হয়ে যায়। তখন আমার ইনকাম ১৫_২০ ছিলো,সব টাকা তাদের পিছনে খরচ করতাম।
আমার মায়ের চাহিদা বেশি।সবসময় নিত্য নতুন জিনিসের আবদার করতো।কিস্তি নিয়ে ফ্রিজ নিয়ে দিছিলাম স্টুডেন্ট থাকাকালে।আম্মু স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে ছিলো।নানা সরকারি চাকরি করতেন।তাদের সবার অকাল বিয়োগে নানার বাড়ি থেকে সাপোর্ট পাই নি খুব বেশি সময়। আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি বাবা কাজ করতে ইচ্ছুক না।তাও আমার ছোট বোনের জন্য কোনরকম একটা সিকিউরিটির চাকরি করেন।ইতিহাস বললে শেষ হবে না।এগুলো কাউকে বলিনা,কারণ এতে ছোট হতে হবে,সম্মান কমবে।
আজকে বেনামী শেয়ার করছি,জমতে জমতে পাহাড় হয়ে গেছে। স্বামী কে সব কথা বললে,একদিন গায়ে এসে পড়তে পারে। বিয়ের আগে আমার স্বামী (বয়ফ্রেন্ড) আমার বাবাকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে চাইলেও উনি রাজি হননি,কারণ ব্যবসা করা কষ্টকর,উনি কোনরকম ছোটখাট চাকরি করবেন,দোকান করতে পারবেন না।কারণ এতে নাকি টেনশন বাড়ে।বলে রাখা ভালো,আমরা তিনবোন,ছোটজন অবিবাহিত। পড়াশোনা করে।ছেলে নেই।
আমার স্বামী চেয়েছিলো,বিয়ের পর যাতে আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে টেনশন করতে না হয়,তাদের উপার্জনে যেন তারা চলতে পারে।কিন্তু উনি রাজী হননি।আমার স্বামী অত্যন্ত স্বজ্জন এবং বিবেকবান পুরুষ।কোনদিন কারো প্রতি অন্যায় করেন না।কিন্তু,কেউ করলে সেটাও মেনে নেন না। আমি বিয়ের আগে পুরো টাকা ওদের পিছনে খরচ করতাম(১৫-২০) কিন্তু এখন ৫০ পাই,তাও কেন সিংহভাগ ওদের পিছনে খরচ করিনা,এটাই তাদের অসন্তোষের কারণ সম্ভবত। বলে রাখা ভালো, আমার বেতনের টাকা থেকে তাদের ঘরভাড়া দিই,আমার স্বামী ঔষধ দেয় , বিপদে আপদে সমস্ত সহযোগিতা করে, ঈদে সবাইকে টাকা পয়সা দেয়। স্বামী না জানে মতন আমার আরো হেল্প তো আছেই প্রতি মাসে।
ছোট বোনের পড়ার খরচ আমার বড় বোন,বাবা,আমি মিলে দিই।রেশনের সমস্ত কিছু দিয়ে দিতো আগে যখন পোস্টিং কাছে ছিলো,এখন দূরে হবার করণে দিতে পারছে না। তাও তারা চরম লেভেলে অসন্তোষ। কোনদিন নিজ থেকে আমাদের ফোন করে না।আমার মেয়ে রেখে চাকরি করি,শাশুড়ী অসুস্থ, তাও মেয়ে কে কষ্ট করে রাখে,বাপের বাসার দূরত্ব আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ ঘন্টার পথ।তাও কোনদিন সঙ্গ দিতে আসে নি,এক মিনিটের জন্য
বেড়াতে আসলেও রাতে থাকে না।গ্রামে নাকি ভালো লাগে না।আমার শাশুড়ী উনাদেরকে পছন্দ করে না।কারণ উনারা আন্তরিক না।আলগা টাইপের।ঈদের সময় শ্বশুর শাশুড়ী ফোন করে দাওয়াত দিছে,তাও আসে নাই নাতনিকে দেখতে একবারের জন্যও, অথচ উনারা ইয়াং অপেক্ষাকৃত এবং সুস্থ আলহামদুলিল্লাহ। আমি জোর করে টাকা পাঠিয়ে,খরচ দিয়ে আনি তাও রাতে থাকে না।শুধু স্বামীর মন যদি উঠে যায় একেবারে সেজন্য।
প্রতিবার আসলে খরচ আগে পাঠিয়ে দিই,এবং যাবার সময় টাকা দিই।তাও আসতে চায় না।খালি আমার বড় বোন আর তাদের বাচ্চা নিয়ে পড়ে থাকে, (রিসেন্টলি ডিভোর্সি আপু) সেও জব করে।বাবা মায়ের সাথে ই থাকে।এখন আমি ৬মাসের প্রেগন্যান্ট, শহরে গেলে প্রায় সময় তাদেরকে দেখে আসি,যেতে না পারলে ভালো মন্দ খাবার দাবার কিনে পাঠিয়ে দিই আসার সময়। মনে হয়,আল্লাহ আমাকেই মনুষ্যত্ববোধ নিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।
শেষবার দেখে আসলাম,১০দিন হলো,একবারও কল পর্যন্ত করেনি।আমি করলেও, বাহানা দেয়।আমি কি করতে পারি? আমি ভীষণ হতাশ এবং অভিমানী। মন চাই,সারাজীবন যোগাযোগ না করি, আবার মন বলে,মা বাবা তো,আল্লাহর কাছে গোনাহগার হবো।মাসের টাকা ১০ তারিখের মধ্যে না দিলে খুঁজতে ভুল করে না।সবসময় দায়িত্ব পালন করতে করতে দায়িত্ব টা কে জীবন ভেবে নিয়েছি, তাই বোধ হয় উনারা ভালোবাসা এবং উনাদেরও দায়িত্ব আছে সেটা ভুলে গেছেন।খালি আমার কাছে পাওয়া টাই দায়িত্ব মনে হয় উনাদের কাছে।উনারা মনে মনে চান,আমি শাশুড়ী থেকে আলাদা হয়ে যায়, বাসা ভাড়া নিয়ে ওনাদের পাশে যাই,আর দেদারসে উনাদের জন্য সমস্ত খরচ করি আর শপিং করি,জীবনের কোন ফিউচার প্ল্যান উনাদের নাই।
কিন্তু আমার স্বামীকে আমি ভালোবাসি প্রচন্ড রকম,আমার পরবর্তী জীবন তার সাথেই,আমাদের মত করে আমরা বাঁচতে চাই এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে চাই। আমার হাজ্যান্ডের মতন সুপুরুষ এবং দায়িত্বশীল মানুষ এখন নেই বললেই চলে।খুবই সাপোর্টিভ।He is even more better than before.I always feel like I love him more than yesterday.
এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি? আমি ৬মাসের প্রেগন্যান্ট, সকাল বেলা সমস্ত কাজ করে অফিস যাই,এসে সমস্ত কাজ করি,বাচ্চা সামলাই এসে,মোবাইল হাতে নেবার সময় টা পর্যন্ত পাই না।১২টায় মোবাইল নিই।
আমার মায়ের কি একটুও কষ্ট লাগে না আমার জন্য? আমার সাথে সময় কাটানোর জন্য? সিজারের সময় হসপিটাল ছিলো ৫দিন,আর আসেনি আমাকে দেখতে,আসতে বললে অজুহাত দিতো।এসে চলে যেতো সন্ধ্যায়,২/ ৩ মাস পরে আসতো তাও।
আচ্ছা আমি কি গুনাহগার হবো?
আমার মন উঠে যাচ্ছে তবে দায়িত্ব পালন করবো ইন শা আল্লাহ।
-- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক