RafsanAh

RafsanAh Assalamualikum.our page provide Islamic video, status video. if you like it,please follow the page.thank you.❤️
(1)

সময় ঘনিয়ে এসেছে! দাজ্জালের আগমন যেকোনও সময় ঘটে যেতে পারে! দাজ্জাল এসেই মৃতকে জীবিত করার অভিনয় করবে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নাম...
10/06/2026

সময় ঘনিয়ে এসেছে! দাজ্জালের আগমন যেকোনও সময় ঘটে যেতে পারে! দাজ্জাল এসেই মৃতকে জীবিত করার অভিনয় করবে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাবে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেবে, আর তখনো অধিকাংশ মানুষ তাকে চিনতে পারবেনা- সে কে? ইসলাম বলে—সে-ই দাজ্জাল!

দাজ্জাল কোনো কল্পকাহিনি নয়, কোনো রূপক চরিত্রও নয়— সে হলো কিয়ামতের আগে মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়ানক পরীক্ষা! সে এমন এক ফিতনা যার তুলনা আর কোনো ফিতনার সাথে হয় না।

নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন—
“আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় ফিতনা আর আসেনি।”
(সহিহ মুসলিম)

🔸দাজ্জালের সংক্ষিপ্ত পরিচয়: ইসলামী আকিদা অনুযায়ী দাজ্জাল দেখতে মানুষ আকৃতির কিন্তু সাধারণ মানুষ নয়।
তার এক চোখ অন্ধ, অপর চোখ হবে ভয়ংকরভাবে বিকৃত। তার কপালে লেখা থাকবে ‘কাফির’ (ك ف ر)—যা শুধু মুমিনরা পড়তে পারবে। সে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে, আর তার সাথে থাকবে এমন সব ক্ষমতা ও ভ্রম, যা দেখে দুর্বল ঈমানের মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। তার সাথে থাকবে— এক মিথ্যা জান্নাত এক মিথ্যা জাহান্নাম
আর ভয়ংকর সত্য হলো— তার জান্নাত আসলে জাহান্নাম, আর জাহান্নামই আসলে জান্নাত।

দাজ্জাল এখন কোথায় এবং কোথা থেকে তার আগমন ঘটবে? - সহিহ মুসলিমে বর্ণিত তামীম দারী (রা.)-এর হাদিসে জানা যায়—দাজ্জাল বর্তমানে আল্লাহর হুকুমে কোথাও বন্দী, শিকলবন্দি অবস্থায়।
নির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হয়নি, তবে হাদিসের ইঙ্গিত অনুযায়ী— তার আগমন ঘটবে পূর্ব দিক থেকে।
নবী ﷺ বলেন—
“দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে।” (তিরমিজি)
অনেক আলেমের মতে, সে প্রথমে মানুষকে তার দলে আহ্বান করবে, তারপর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে—
কিন্তু সে কখনোই মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।

ভিন্ন ধর্মে দাজ্জালের ইঙ্গিত:

✝️ খ্রিস্টধর্মে
দাজ্জালকে বলা হয়েছে Antichrist—
একজন মিথ্যা খ্রিস্ট, যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
শেষ সময়ে যীশু খ্রিস্ট ফিরে এসে তাকে পরাজিত করবেন—এ বিশ্বাস খ্রিস্টানদের মধ্যেও রয়েছে।
✡️ ইহুদি ধর্মে
এখানে দাজ্জালের নাম নেই, তবে আছে False Messiah—
এক ভণ্ড মুক্তিদাতা, যে নিজেকে প্রকৃত মসিহ বলে দাবি করবে।
🕉️ হিন্দু ধর্মে
দাজ্জালের মতো নির্দিষ্ট চরিত্র নেই, তবে কলিযুগে অধর্ম, ভণ্ড গুরু ও মিথ্যার আধিপত্যর কথা বলা হয়েছে,
যার শেষে কল্কি অবতারের আগমন ঘটবে।

দাজ্জালের আগমনের আলামত (লক্ষণসমূহ)
হাদিস অনুযায়ী দাজ্জালের আগমনের আগে—
১/ দীনের জ্ঞান উঠে যাবে।
২/ সত্য আলেম কমে যাবে।
৩/ মিথ্যাবাদী ও ভণ্ডের সংখ্যা বাড়বে।
৪/ হারামকে হালাল বলা হবে।
৫/ ব্যভিচার, সুদ, জুলুম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
৬/ হঠাৎ হঠাৎ হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে।
৭/ সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হবে।
৮/ টানা খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।
৯/ মানুষ চরম হতাশায় পড়বে।
১০/ সবচেয়ে ভয়ংকর আলামত—
মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে ভুলে যাবে। (ইত্যাদি)

আজ যদি আমরা তাকাই— এই আলামতগুলোর প্রায় সবই কি আমাদের চোখের সামনে নয়? - এতেই বুঝা যায় দাজ্জালের আগমন খুব সন্নিকটে।
তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী?
নবী ﷺ আমাদের ভয় দেখাননি, বরং প্রস্তুতির পথ দেখিয়েছেন। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় জানিয়েছেন—
নিয়মিত সূরা কাহফ পড়া, বিশেষ করে সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত,
ঈমান ও আমল মজবুত করা,
গুজব ও অন্ধ অনুসরণ থেকে দূরে থাকা,
সত্য ও সহিহ জ্ঞানের সাথে যুক্ত থাকা,
আল্লাহর কাছে দোয়া করা—
“হে আল্লাহ, আমি দাজ্জালের ফিতনা থেকে তোমার আশ্রয় চাই।” কারণ দাজ্জালকে চিনতে পারবে কেবল শক্ত ঈমান দিয়ে, চোখ দিয়ে নয়— আর টিকে থাকবে কেবল তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর দ্বীনের আলোর সাথে যুক্ত।

শেষ কথা,
দাজ্জাল কবে আসবে সেই দিন, তারিখ, সাল —আমরা জানি না। কিন্তু সে যে আসবে তার আসার সকল আলামত প্রকাশ পেয়ে গেছে—এটা নিশ্চিত। নিজেকে একবার নিজেই প্রশ্ন করুন— সে আসার আগে আমি কতটা প্রস্তুত?
নাকি সে আসার পর তার ফিতনা আর মিথ্যা অলৌকিকতার মোহে পড়ে আপনি/আমি হারিয়ে যাব?

এই দাজ্জাল এসেই শেষ নয়…
কারণ দাজ্জালের পরে আরও বড় বড় ঘটনা অপেক্ষা করছে— যেমন ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ, আর কিয়ামত। এই সব বিষয় আর দাজ্জাল সম্পর্কে আরও যদি জানতে চান— কমেন্ট-এ জানাবেন। কোনও প্রশ্ন থাকলে করুন..

আমি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত দিয়ে দিব আরবি ও বাংলা অনুবাদসহ কমেন্ট বক্সে সবাই শিখে নিবেন।
আর যেসকল ভাই-বোনদের সূরা কাহফ মুখস্থ আছে, তারা কমেন্টে লিখুন "আলহামদুলিল্লাহ"৷

মহান আল্লাহ আমাদের দাজ্জালের ফিতনা ও আক্রমণ থেকে হেফাজত করে ঈমানের সাথে মোকাবেলা করার তৌফিক দান করুন



06/06/2026

পড়া মনে রাখার দোয়া 🤲

❑ খাঁটি তওবা করার নিয়ম—• অনেক বড় গুনাহ করে ফেলেছেন?• আসমান পরিমাণ গোনাহ আল্লাহর রহমতের কাছে কিছুই না।• আসুন তওবা করে আল্...
06/06/2026

❑ খাঁটি তওবা করার নিয়ম—

• অনেক বড় গুনাহ করে ফেলেছেন?
• আসমান পরিমাণ গোনাহ আল্লাহর রহমতের কাছে কিছুই না।
• আসুন তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসি—
——————————————————•

❑ শুরুতে জানি– তওবা কাকে বলে :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
তওবা হলো– সকল পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। এটি হলো অতীতের পাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, ভবিষ্যতে নেক কাজ করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

অর্থাৎ দেহ এবং আত্নার সকল প্রকার গুনাহ থেকে ফিরে থাকার নাম তওবা।

✴️ বান্দার সাথে বান্দার সম্পর্কিত গুনাহের তওবা—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আপনি যদি কোনো মানুষের হক নষ্ট করে থাকেন! তাহলে তার কাছে মাফ না চেয়ে হাজার-কোটি বার তওবা করলেও কাজ হবে না। বরং তার হক আদায় করে বা মাফ চেয়ে দায়মুক্ত হতে হবে। অতঃপর আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও অনুতাপের অশ্রু ফেলে তওবা করতে হবে।

☞ আর হকদার মারা গেলে, ওয়ারিশদেরকে তার হক আদায় করে দিতে হবে। মনে রাখবেন, বান্দার হকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আল্লাহর হকের ব্যাপারে আল্লাহ চাইলেই যে কোনো ক্ষুদ্র নেক আমলের পরিবর্তে আপনার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু বান্দার হক নষ্ট করে, তা আদায় না করলে- কেয়ামতের দিন দেখা গেল ছোট থেকে ছোট হক নষ্ট করার কারণে, আপনার জীবনে করা সকল সওয়াব তাকে দিয়ে দিতে হচ্ছে।

❑ আমরা যেভাবে মানুষের হক নষ্ট করি—
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
আমরা যুবকরা যে হক প্রায়ই নষ্ট করি, তা হলো—
বাস এবং ট্রেনে উঠে টাকা দেয় না।(মিথ্যা বলা)।

▪️অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে—
•—————————•
১) চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা—অন্য মানুষের সম্পদ জবরদখল বা জোরপূর্বক নেওয়া।
২) ঘুষ বা দুর্নীতি—অসৎ উপায়ে অর্থ বা সুযোগ আদায় করা।
৩) মজুরি না দেওয়া—শ্রমিকের উপযুক্ত মজুরি বা পারিশ্রমিক না দেওয়া।
৪) জমি বা সম্পদ দখল—অন্যের জমি বা সম্পদ অবৈধভাবে দখল করা।

▪️শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি—
•————————————•
১) শারীরিক নির্যাতন—মারধর, আহত করা বা শারীরিক ক্ষতি সাধন।
২) মানসিক নির্যাতন—অপমান, ভয় দেখানো, বা মানসিকভাবে আঘাত দেওয়া।
৩) অপবাদ দেওয়া—মিথ্যা কথা বলে বা গিবত করে কারো সম্মান নষ্ট করা।

▪️সামাজিক ও পারিবারিক অধিকার—
•———————————————•
১) পরিবারের অধিকার অপূর্ণ রাখা—সন্তানের প্রতি দায়িত্ব, পিতামাতার সাথে সদাচরণ না করা।
২) প্রতিবেশীর হক নষ্ট করা—তাদের কষ্ট দেওয়া, প্রয়োজনে সাহায্য না করা।
৩) সম্পর্ক ছিন্ন করা—আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় না রাখা।

▪️কর্মক্ষেত্রে—
•———————•
১) অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।
২) কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ বা তাদের প্রাপ্য সুযোগসুবিধা না দেওয়া।
৩) পদোন্নতি বা সম্মান থেকে বঞ্চিত করা।

▪️শিক্ষা ও জ্ঞানগত ক্ষেত্রে—
•————————————•
১) শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
২) মেধা বা কৃতিত্ব চুরি করা।
৩) জ্ঞান গোপন করা যখন তা অন্যকে সাহায্য করতে পারে।

▪️আইনগত ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত—
•——————————————•
১) মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
২) কাউকে অবৈদ্ধভাবে আটকানো বা শাস্তি দেওয়া।
৩) ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা।

▪️ধর্মীয় ও নৈতিক অধিকার—
•————————————•
১) ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া।
২) অন্যকে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া বা উপহাস করা।

▪️পরিবেশ ও সম্পদ—
•——————————•
১) প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় বা দূষণ যা মানুষের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করে।
২) সাধারণ সম্পদ (পানি, বায়ু) দূষিত করা।

▪️ইসলামী দৃষ্টিকোণ—
•——————————•
☞ ইসলামে প্রতিটি মানুষের হক বা অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন,
وَلا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ
“আর মানুষের জিনিসপত্র কম দিয়ো না।”
— (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৮৫)

☞ রাসূল (সা.) বলেছেন:
“তোমার ভাইয়ের প্রতি যুলুম করো না” এবং “প্রতিটি মুসলিমের জীবন, সম্পদ ও সম্মান অন্যজনের জন্য হারাম।”

বান্দার যখন গোনাহ হয়ে যায়, তখন তার কর্তব্য হলো– আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।

✴️ বান্দার সাথে আল্লাহর সম্পর্কিত গুনাহের তওবা—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আল্লাহর হক সম্পর্কিত গুনাহ হলে ৪টি কাজ করতে হবে। তাহলেই তওবা পূর্ণাঙ্গ হবে।
১. গোনাহ ছেড়ে দেওয়া।
২. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া। আল্লাহর কাছে এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী হওয়া এবং কান্নাকাটি করা।
৩. ভবিষ্যতে এই ধরনের গোনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
৪. কোনো ফরয-ওয়াজিব ছুটে গিয়ে থাকলে মাসআলা অনুযায়ী তার কাযা-কাফফারা আদায় করা।

উপরোক্ত চারটি শর্তে তওবা করলে তা কবুল হবেই ইংশাআল্লাহ।

❑ তওবা করার জন্য অযু জরুরী না। তবে অযু করলে মন ফ্রেশ থাকে, হৃদয় শান্তি অনুভব হয়। অতঃপর তওবার নামাজও পড়তে পারেন।

☞ হে ভাই/বোন! তওবা করার সৌভাগ্য সবার কপালে জোটে না। যাবতীয় হারাম সম্পর্ক ত্যাগ করে আমরা আজ, এখনই তওবা করে রবের কাছে ফিরে আসি।

❑ আমরা যেভাবে আল্লাহর হক নষ্ট করি—
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
▪️ইবাদত ও আনুগত্য সংক্রান্ত হক নষ্ট করা—
•——————————————————•
এটি হলো আল্লাহর দেওয়া ফরজ কাজগুলো ঠিকমতো না করা।

১) সালাত তরক করা—ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ না পড়া, সময়মতো না পড়া, বা এর নিয়ম-কানুন ঠিকমতো না মানা।

২)রোজা না রাখা—শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া রমজানের ফরজ রোজা না রাখা।

৩) যাকাত না দেওয়া—যাদের উপর যাকাত ফরজ তারা তা না দেওয়া। এটা গরীবদের হকের পাশাপাশি আল্লাহর হকও বটে।

৪) হজ না করা—সামর্থ্য থাকার পরও জীবনে একবারও ফরজ হজ আদায় না করা।

৫) কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকা—আল্লাহর কালাম পড়া, শেখা ও বোঝা থেকে দূরে থাকা।

৬) দু’আ ও যিকর থেকে গাফেল থাকা—আল্লাহকে স্মরণ না করা এবং তাঁর কাছে কিছু না চাওয়া।

৭) আল্লাহর শুকরিয়া না করা—তিনি যে অগণিত নেয়ামত দিয়েছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞতা না প্রকাশ করা।

▪️নিষিদ্ধ কাজ ও গুনাহ সংক্রান্ত হক নষ্ট করা—
•——————————————————•
এটি হলো আল্লাহ যে কাজগুলো করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন, সেগুলো করা।

১) শিরক করা—আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। এটি সবচেয়ে বড় জুলুম ও আল্লাহর হকের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত।

২) অহঙ্কার করা —নিজেকে বড় মনে করা এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।

৩) আল্লাহর আয়াত ও বিধান নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা।
৪) জাদু বা যাদুবিদ্যা চর্চা করা।
৫) অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।
৬) যিনা-ব্যভিচার করা।
৭) সুদ খাওয়া ও সুদের লেনদেন করা।
৮) অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা (চুরি, ছিনতাই, ঘুষ ইত্যাদি)।
৯) মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া।
১০) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।
১১) মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
১২) অন্যের গিবত (পেছনে সমালোচনা) ও চোগলখুরি করা।
১৩) অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।
১৪) অহংকার করা।
১৫) হিংসা করা।
১৬) অন্তরে অন্তরে শত্রুতা করা।
১৭) লোভ-লালসা করা।
১৮) গুরুর বা ধোঁকার মধ্যে থাকা।
১৯) লোক দেখানো ইবাদত করা।
২০) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া—গুনাহ করেও এটা মনে করা যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না।
২১) আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ বোধ করা—এটা মনে করা যে, আমি যত গুনাহই করি না কেন, আল্লাহ আমাকে শাস্তি দেবেন না।

❑ আল্লাহ গুনাহকারীদের সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন—
•———————————————————•
[إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢
নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [বাকারা-২২২]

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। [সূরা নিসা-১৭-১৮]

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ [٢٠:٨٢]
আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [সূরা ত্বহা-৮২]

রাসূল ﷺ বলেন—
হযরত উবাদা বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
গোনাহ থেকে তওবাকারী এমন, যেন সে গোনাহ করেইনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০]

হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
فَإِنَّ العَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ ثُمَّ تَابَ، تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ

বান্দা গোনাহ স্বীকার করে মাফ চাইলে আল্লাহ পাক তা কবুল করেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪১৪১]

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ
হযরত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে সে দৈনিক সত্তর বার গোনাহ করলেও সে যেন আসলে গোনাহই করেনি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫১৪]

☞ আল্লাহর দরবারে রোনাজারি ও ক্ষমাপ্রার্থনা নিজের ভাষায়ও করা যায়। তেমনি হাদীস শরীফে তাওবা-ইস্তিগফারের যে দু’আগুলো আছে সেগুলো পড়েও তওবা-ইস্তিগফার করা যায়।

❑ এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১) তওবা করা তারই দায়িত্ব, যে গোনাহ করেছে। নিজের গোনাহর জন্য নিজেকেই অনুতপ্ত হতে হবে এবং আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। যদিও আল্লাহর কোনো নেক বান্দার কাছ থেকে তওবা-ইস্তিগফারের নিয়ম জেনে নিয়ে তার বলে দেওয়া শব্দ উচ্চারণ করেও তওবা করা যায়, কিন্তু তওবার জন্য এটা জরুরি নয়। তওবার ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তগুলো পালন না করে শুধু কারও বলে দেওয়া তওবার বাক্যগুলো উচ্চারণ করলেই তওবা হয়ে যায় না। তওবা হল মুমিন-জীবনের সার্বক্ষণিক আমল।

নবী করীম (ﷺ) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দিনে ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন বলে হাদীসে এসেছে।

২) আরো বুঝা গেল যে, তওবার জন্য অযু অপরিহার্য নয়। তবে কেউ যদি সালাতুত তাওবা বা তওবার নামাজ আদায় করতে চায়, তাহলে অন্যান্য নামাযের মতোই তাকে অযু করতে হবে। এ প্রসঙ্গে নবী ﷺ ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ কোনো গুনাহ করে ফেলে অতপর পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করে নামাযে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফ চায় তাহলে আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দিবেন। অতপর নবী ﷺ কুরআন মজীদের আয়াত তিলাওয়াত করলেন, (তরজমা) ‘এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনো কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর কে আছে আল্লাহ ছাড়া, যে গোনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাঁদের কৃত-কর্মের উপর অবিচল থাকে না।’
— [সূরা আলইমরান : ১৩৫; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩০০৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৫২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৩৯৫]

❑ ইসলামিক পেইজ বলতে আসলে আমরা কি বুঝি?
আমাদের এই পেইজটা একবার হলেও ঘুরে আসুন এবং ফলো দিয়ে রাখুন। দুনিয়া ও আখেরাতের মহা-কল্যাণ সাধিত হবে ইংশাআল্লাহ্।

সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে বর্ণিত ব্যাবিলন শহরের সেই ঐতিহাসিক ও রহস্যময় ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে বিশ্ব...
06/06/2026

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে বর্ণিত ব্যাবিলন শহরের সেই ঐতিহাসিক ও রহস্যময় ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে বিশ্বাস ও পরীক্ষার এক অনন্য অধ্যায়। আপনার দেওয়া মূল কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে গল্পটি নিচে আকর্ষণীয় ও শিক্ষণীয় ফরম্যাটে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

# # ব্যাবিলনের আকাশ ও দুই ফেরেশতা: হারুত ও মারুতের পরীক্ষার গল্প ।

# # # ১. জাদুর অন্ধকার ও ব্যাবিলন শহর

বহু বছর আগের কথা। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বুক চিরে গড়ে ওঠা বিখ্যাত শহর 'ব্যাবিলন'। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত হলেও সেই শহরের মানুষগুলোর একাংশ এক ভয়ানক অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। বনী ইসরাঈলের কিছু লোক আল্লাহর কিতাব ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন কুফরী জাদুবিদ্যা এবং কালো জাদুর (Black Magic) প্রতি প্রচণ্ড আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল।

সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় ছিল, এই জাদুকরেরা সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে দাবি করত যে, এই অলৌকিক জাদুর জ্ঞান নাকি স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং এটিই প্রকৃত দ্বীন! জাদুর এই মায়াজালে পড়ে মানুষের ইমান ও আমল ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল।

# # # ২. আসমানী দুই প্রহরী ও পৃথিবীর বুকে আগমন

মানুষের এই চরম বিভ্রান্তির সময়ে, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য এক অলৌকিক আসমানী ফয়সালা হলো। মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাকুল থেকে দুজনকে নির্বাচন করলেন, যাঁদের নাম **'হারুত'** এবং **'মারুত'**।

আল্লাহ তাঁদেরকে মানবজাতির জন্য এক কঠিন 'পরীক্ষা' (Fitnah) হিসেবে মানুষের রূপ দিয়ে ব্যাবিলন শহরে পাঠালেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের মতোই ব্যাবিলনের বাজারে ও জনপদে বসবাস করতে লাগলেন। তবে তাঁদের উদ্দেশ্য কোনো রাজত্ব করা বা ক্ষমতা দেখানো ছিল না, বরং মানুষকে জাদুর আসল রূপ ও তার কুফল সম্পর্কে সচেতন করা ছিল তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।

# # # ৩. এক অভিনব পরীক্ষা ও সতর্কবার্তা

হারুত ও মারুত (আ.)-এর কাছে এমন এক বিশেষ জ্ঞান ছিল, যা দিয়ে জাদুর মারপ্যাঁচ এবং তার প্রতিষেধক দুটোই বোঝা যেত। ব্যাবিলনের মানুষ যখন তাঁদের এই অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা দেখল, তখন দলে দলে মানুষ তাঁদের কাছে সেই বিদ্যা শেখার জন্য ভিড় জমাতে লাগল।

কিন্তু আল্লাহর এই দুই ফেরেশতা ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীল ও সতর্ককারী। তাঁরা কাউকেই কোনো জ্ঞান বা জাদুবিদ্যার রহস্য শেখানোর আগে হাত জোড় করে স্পষ্ট ভাষায় এবং বারবার এই অমোঘ ঘোষণাটি দিতেন:

> **"হে মানুষ! ভালো করে শুনে রাখো—আমরা তো কেবল তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা (ফিতনা)! সুতরাং তোমরা এই জাদুর জ্ঞান অপব্যবহার করে নিজেদের ইমান হারিও না এবং কুফরি করো না।"**

তাঁরা মানুষকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিতেন যে, এই জ্ঞানটি শেখানো হচ্ছে কেবল জাদুর জট খোলার জন্য এবং শয়তানের চাল রুখে দেওয়ার জন্য, নিজের স্বার্থে অন্য মানুষের ক্ষতি করার জন্য নয়।

# # # ৪. সতর্কবার্তা উপেক্ষা ও শয়তানের জয়

আফসোস! ব্যাবিলনের অধিকাংশ মানুষ ফেরেশতাদের এই পবিত্র ও আন্তরিক সতর্কবার্তাটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করল। তারা জাদুর ভালো দিকটি গ্রহণ না করে, এর ক্ষতিকর ও জঘন্য দিকগুলো শিখতে শুরু করল।

তারা সেই জাদুর জ্ঞান অপব্যবহার করে সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে লাগল। বিশেষ করে, একটি সুখী পরিবারের মূল ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার জন্য—অর্থাৎ **স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করার মতো** মারাত্মক ক্ষতিকর কাজে তারা এই জাদুর ব্যবহার শুরু করল।

তবে পবিত্র কুরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই ধূর্ত জাদুকরেরা সমাজে যতই চক্রান্ত করুক না কেন— **"আল্লাহর অনুমতি (ইচ্ছা) ছাড়া কোনো জাদুই দুনিয়ার কারও বিন্দুমাত্র ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।"** যারা এই অপবিদ্যায় মেতে রইল, তারা মূলত আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে দুনিয়ার এক নিকৃষ্ট ও ক্ষতিকর জিনিস কেনাবেচা করল।

# # # ৫. ব্যাবিলনের শূন্যতা ও অমর শিক্ষা

পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর হারুত ও মারুত (আ.) আবার আসমানে ফিরে গেলেন। কিন্তু ব্যাবিলনের বুকে রেখে গেলেন এক চিরন্তন ও ঐতিহাসিক শিক্ষা, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

# # # **গল্পের অমূল্য শিক্ষা:**

জ্ঞান একটি আমানত: জ্ঞান নিজে ভালো বা মন্দ নয়; বরং মানুষ তা কীভাবে ব্যবহার করছে—তার ওপরই মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের পরিণতি নির্ধারিত হয়। (যেমন পারমাণবিক শক্তি দিয়ে আলোও জ্বালানো যায়, আবার শহরও ধ্বংস করা যায়)।
দুনিয়া একটি পরীক্ষাগার: এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহ আমাদের যা কিছু দিয়েছেন—ধন-সম্পদ, রূপ-যৌবন বা বিশেষ কোনো যোগ্যতা—সবকিছুই মূলত এক একটি পরীক্ষা।
শয়তানের ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়: শয়তান সবসময় মানুষকে ক্ষণস্থায়ী বস্তুগত লাভের লোভ দেখিয়ে ঈমান ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু প্রকৃত মুমিন সবসময় আল্লাহর নির্দেশ ও সীমানার ভেতর থেকে জীবন পরিচালনা করে।

একবার হযরত হাতেম আসম (রহ.)-এর মনে হজ্জে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগলো। কিন্তু তাঁর কাছে সফরের কোনো অর্থ ছিল না এবং বাড়িতে সন্...
06/06/2026

একবার হযরত হাতেম আসম (রহ.)-এর মনে হজ্জে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগলো। কিন্তু তাঁর কাছে সফরের কোনো অর্থ ছিল না এবং বাড়িতে সন্তানদের জন্য রেখে যাওয়ার মতো কোনো খাবারও ছিল না।

তিনি যখন সন্তানদের কাছে হজ্জে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন, তারা খাবারের চিন্তায় অসম্মতি জানালো। কিন্তু তাঁর ছোট মেয়েটি ছিল অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী।

সে সবাইকে বুঝিয়ে বললো, "বাবাকে যেতে দাও। তিনি তো কেবল রিযিক খাওয়ার মাধ্যম, রিযিকদাতা নন। আর রিযিকদাতা আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন।"

পিতার প্রস্থানের পর কয়েকদিন যেতেই ঘরে খাবার শেষ হয়ে গেলো। পরিবারের সবাই ক্ষুধার জ্বালায় ওই মেয়েটিকে দোষারোপ করতে লাগলো।

মেয়েটি তখন লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে কেঁদে দোয়া করলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমার সম্মান রক্ষা করো।"

ঠিক তখনই তৎকালীন বাদশাহ সেই পথে শিকার করতে যাচ্ছিলেন। তিনি খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে তাঁর লোকজন হাতেম আসমের ঘর থেকে পানি সংগ্রহ করে।

হাতেম আসম রহ. এর মেয়ে একটি নতুন পাত্রে পরিষ্কার পানি বাদশাহর কাছে পাঠালো। পানি পান করে বাদশাহ খুব তৃপ্ত হলেন এবং প্রতিদান স্বরূপ তাঁর মূল্যবান স্বর্ণখচিত কোমরবন্ধটি ওই ঘরে ছুড়ে দিলেন। তাঁর দেখাদেখি অন্য আমীররাও বিপুল সম্পদ সেখানে দান করলেন।

অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘর ধন-সম্পদে ভরে গেলো। পরিবারের সবাই যখন আনন্দ করছিল, তখন সেই ছোট মেয়েটি কাঁদছিল। মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "এখন কাঁদছো কেন? আমাদের তো আর অভাব নেই।"

মেয়েটি উত্তর দিল,

"মা! একজন মাখলুক (সৃষ্টি) আমাদের দিকে দয়ার নজরে তাকানোর কারণে যদি আমাদের অভাব এভাবে দূর হয়ে যায়, তবে খালিক (স্রষ্টা) যদি আমাদের দিকে একবার রহমতের নজরে তাকান, তবে আমাদের আখেরাত কতটা সুন্দর হবে!"

রিযিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ; মানুষ কেবল মাধ্যম মাত্র। বিপদে ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করলে সাহায্য অবশ্যই আসে। দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে আল্লাহর রহমত ও আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করাই মুমিনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সূত্র: ওয়াকিয়াত পাড়িয়ে অর ইবরাত লিজিয়ে

খান জাহান আলি নিজে এলাকার পুকুরে একজোড়া কুমির ছাড়ার মাধ্যমে এই জায়গায় কুমির পালার ট্র‍্যাডিশন শুরু করেন। এরপর বহুদিন ধরে...
04/06/2026

খান জাহান আলি নিজে এলাকার পুকুরে একজোড়া কুমির ছাড়ার মাধ্যমে এই জায়গায় কুমির পালার ট্র‍্যাডিশন শুরু করেন। এরপর বহুদিন ধরে তার মাজারের খাদেমরা এই কুমির জোড়ার বংশধরদের লালল পালন চালিয়ে যায়। পুকুরে এরা একজোড়া করে কুমির রাখতো, ছেলেটার নাম দিতো কালাপাহাড়, মেয়েটার ধলাপাহাড়। বাকি বাচ্চাগুলোকে কী করত জানি না, কিন্তু কালাপাহাড় ধলাপাহাড়কে পারে ডেকে এনে মাংসের সাথে আফিম খাইয়ে ঘুম পারিয়ে টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের সাথে ছবি তুলতে দিতো৷ ১৭ সালে আমি নিজেও শখের বসে এরকম ছবি তুলেছিলাম - আফিমের কাহিনী স্থানীয়দের থেকে ছবি তোলার পরে শুনি।

পরে এই দুইটা কুমিরই মারা যায়, বাচ্চা না দিয়েই সম্ভবত। খাদেমরা তখন অন্য জায়গা থেকে কুমির কিনে এনে মাজারে ছেড়ে দেয়। ঝামেলা হচ্ছে, পুকুর কুমির পালার জায়গা না, এইভাব ওপেনলি কুমির পাললে বিপদ আপদ হওয়াই স্বাভাবিক। তার উপর কুমিরকে আফিম খাইয়ে ঘুম পারিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা করা প্রাণিদের ওপর নিষ্ঠুরতা। মাজার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বহুদিন ধরে এসব অপকর্ম চলছিলোই, যেটার বলি হিসেবে কিছুদিন আগে কুকুর আর এরপর মানুষের বাচ্চা মারা গেলো।

স্বপ্ন পূরণের ৫টি সহজ আমল ও নিয়মস্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে বা যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জনে আপনি নিচের আমলগুলো নিয়মিত করত...
04/06/2026

স্বপ্ন পূরণের ৫টি সহজ আমল ও নিয়ম

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে বা যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জনে আপনি নিচের আমলগুলো নিয়মিত করতে পারেন:

১. ইস্তেগফার (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ)

* তাসবিহ: "আস্তাগফিরুল্লাহ” (আস্তাগফিরুল্লাহু রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি — পূর্ণ রূপ)

* কতবার: প্রতিদিন ১০০ বার (সকাল-সন্ধ্যা যেকোনো সময়, একসাথে বা ভাগ করে)।

* উপকারিতা: পাপ মোচন হয়, দোয়া কবুলের পথ খোলে, রিজিক বাড়ে, অপ্রত্যাশিত সুযোগ আসে। মনের বাধা দূর হয়।

"তোমরা * রেফারেন্স: কুরআন (৭১:১০-১২) তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও... তিনি তোমাদের রিজিক বৃদ্ধি করবেন..."।

২. দরূদ শরীফ / সালাত (রাসূল-এর উপর দরূদ)

* তাসবিহ: "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ” (অথবা দরূদে ইব্রাহিম)

কতবার: প্রতিদিন ১০০ বার।* রেফারেন্স: হাদিস "যে আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাজিল করেন” (সহীহ মুসলিম)।

৩. ইয়া ফাত্তাহু ইয়া রাজ্জাকু (দরজা খোলার ও রিজিকদাতার তাসবিহ)

* তাসবিহ: "ইয়া ফাত্তাহু ইয়া রাজ্জাকু” (অর্থ: হে দরজা খোলার মালিক, হে রিজিকদাতা)

* কতবার: প্রতিদিন ৪০ বার (ফজরের নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম)।

* উপকারিতা: নতুন সুযোগ আসে, আর্থিক স্থিতি ও রিজিকে বরকত হয়।

৪. সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাস

তাসবিহ:

সূরা ফাতিহা – ৭ বার

সূরা ইখলাস (কুল হুয়াল্লাহু আহাদ) ১১ বার

* কখন: যেকোনো সময়, তবে নামাজের পর বা রাতে ভালো।

উপকারিতা: ঈমান মজবুত হয়, আল্লাহর সাহায্যআসে, মনের ইচ্ছা পূরণের পথ সহজ হয়।

৫. হযরত মূসা (আ.)-এর দোয়া (খুব শক্তিশালী)

* তাসবিহ: "রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর" (অর্থ: হে আমার রব, তুমি যে কোনো কল্যাণ আমার প্রতি নাজিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী)

* কতবার: প্রতিদিন ১০০ বার।

* উপকারিতা: চাকরি, বিয়ে, রিজিক, সফলতা সব ধরনের খাইরের দরজা খোলে। (কুরআন ২৮:২৪)

অতিরিক্ত শক্তিশালী আমল (তাসবিহের সাথে যোগ করুন)

সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের ২ রাকাত নামাজ):

ক) উত্তম অজু করে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ুন (যেকোনো সময়, তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে সবচেয়ে উত্তম)।

খ) নামাজের পর উপরের তাসবিহগুলো পড়ুন।

গ) শেষে এই দোয়া পড়ুন:

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারীম। সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজীম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আসআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিকা ওয়া আযায়িমা মাগফিরাতিকা ওয়াল গানীমাতা মিন কুল্লিবিররিন ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসমিন। লা তাদা' লী যাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়া লা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়া লা হাজাতান হিয়া লাকা রিদান ইল্লা কাদাইতাহা ইয়া আরহামার রাহিমীন।"

(অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দাও...)

কীভাবে করবেন জন্য) বিস্তারিত নিয়ম (সেরা ফলের

* প্রতিদিন একই সময়ে করুন (যেমন ফজর বা ইশার পর)।

* অজু অবস্থায়, কিবলামুখী হয়ে, চোখ বন্ধ করে অন্তর থেকে চাইন।

* তাসবিহের পর ইস্তেগফার + দরূদ পড়ুন।

* রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করুন (সবচেয়ে কবুলের সময়)।

* হালাল উপায়ে চেষ্টা করুন – শুধু তাসবিহ নয়, কাজও করুন।

* ধৈর্য ধরুন - ফল ৭-৪০ দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে, কখনো আরও সময় লাগে।

সবসময় বলুন: "ইনশাআল্লাহ”।যদি নিয়মিত করেন, আল্লাহর রহমতে আপনার স্বপ্নগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবে রূপ নেবে। আমীন।

আল্লাহ সবার সব নেক স্বপ্ন পূরণ করুন!

পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন এবং ফলো করে সাথে থাকুন।

03/06/2026

আব্বা আমার টাকা লাগবে! কত টাকা ৫০০০ টাকা ৫০০০ টাকা দিয়ে কি করবি? ঈদের শপিং করব

ইতিহাসের পাতায় ইমানের অবিচলতা এবং চরম ত্যাগের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অথচ গৌরবময় অধ্যায় হলো ফেরাউন-পত্নী হযরত আছিয়া (আ.)-এর কা...
03/06/2026

ইতিহাসের পাতায় ইমানের অবিচলতা এবং চরম ত্যাগের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অথচ গৌরবময় অধ্যায় হলো ফেরাউন-পত্নী হযরত আছিয়া (আ.)-এর কাহিনী। তিনি ছিলেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের রানী, যাঁর পায়ের নিচে দাস-দাসীরা লুটিয়ে থাকত। কিন্তু আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে তিনি রাজপ্রাসাদের সমস্ত বিলাসিতা ত্যাগ করে বরণ করে নিয়েছিলেন এক নির্মম শাহাদাত।

আপনার দেওয়া বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সেই হৃদয়স্পর্শী ও ঈমান উদ্দীপক সম্পূর্ণ গল্পটি নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

✅✅✅ফুটন্ত তেল ও রানীর অবিচল ইমান: হযরত আছিয়া (আ.)-এর শাহাদাতের গল্প

১. রাজপ্রাসাদের আড়ালে এক গোপন মুমিন

মিশরের অধিপতি ফেরাউন নিজেকে খোদায়ী বা ঈশ্বর বলে দাবি করত। পুরো মিশরের মানুষ ভয়ে তাকে সেজদা করত। কিন্তু তারই রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে বাস করতেন এক মহীয়সী নারী—রানী আছিয়া। তিনি ছিলেন হযরত মুসা (আ.)-এর পালক মাতা। মুসা (আ.) যখন আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত নিয়ে এলেন, তখন রানী আছিয়া সবার অলক্ষ্যে গোপনে এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনলেন। তিনি রাজপ্রাসাদের ভেতরের সমস্ত মূর্তিপূজা বর্জন করে গভীর রাতে একাকী আল্লাহর ইবাদত করতেন।

২. গোপন রহস্য ফাঁস ও ফেরাউনের ক্রোধ

হযরত আছিয়ার ইমান আনার বিষয়টি বেশ কিছুদিন গোপন ছিল। কিন্তু একদিন রাজপ্রাসাদের চুল বিন্যাসকারী দাসী (মাশিতা)-এর মাধ্যমে এই গোপন ইমানের কথা ফেরাউনের কানে পৌঁছে গেল।

নিজের ঘরের রানী স্বয়ং তাকে খোদা বলে মানে না—এই খবর শুনে অহংকারী ফেরাউন ক্রোধে ফেটে পড়ল। সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রানী আছিয়াকে দরবারে তলব করল। ফেরাউন রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আছিয়া! আমি শুনলাম তুমি নাকি মুসার রবের ওপর ইমান এনেছ? তুমি কি জানো না মিশরের একমাত্র খোদা আমি?"

রানী আছিয়া ভয় পেলেন না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও শান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন:

"হে ফেরাউন! তুমি মিশরের রাজা হতে পারো, কিন্তু খোদা নও। আমার প্রতিপালক এবং তোমার প্রতিপালক হলেন তিনি—যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।"

৩. নির্মম নির্যাতন ও ফুটন্ত তেলের কুণ্ডলী

স্ত্রীর মুখে এমন সত্য ও স্পষ্ট কথা শুনে ফেরাউন চরম অপমানিত বোধ করল। সে আছিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করল, লোভ দেখাল, কিন্তু আছিয়ার ইমান ছিল পাহাড়ের মতো অটল।

অবশেষে ফেরাউন তার জল্লাদদের এক ভয়ানক নির্দেশ দিল। রাজদরবারের মাঝখানে একটি বিশাল তামার পাত্র আনা হলো। তার ভেতর ঢালা হলো প্রচুর তেল। নিচে জ্বালানো হলো দাউদাউ আগুন। দেখতে দেখতে সেই তেল ফুটতে শুরু করল এবং তা থেকে ভয়ানক ধোঁয়া ও বুদবুদ উঠতে লাগল। উত্তাপ এতটাই তীব্র ছিল যে, আশেপাশে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ফেরাউন আছিয়াকে লোহার শিকল দিয়ে বাঁধল। এরপর জঘন্য নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়ে প্রথমে আছিয়ার চোখের সামনে তাঁর প্রিয় সন্তানদের (মতান্তরে তাঁর অনুসারী দাসীদের) একে একে সেই ফুটন্ত তেলের ভেতর নিক্ষেপ করতে লাগল। চোখের পলকে ফুটন্ত তেলে মাংস গলে হাড় আলাদা হয়ে ভেসে উঠল। ফেরাউন অট্টহাসি দিয়ে বলল, "আছিয়া! এখনও সময় আছে, মুসার খোদাকে অস্বীকার করো এবং আমাকে সেজদা করো! তা না হলে তোমার পরিণতিও এর চেয়েও ভয়ংকর হবে।"

৪. আসমানী জান্নাত ও হাসিমুখে আত্মত্যাগ

সন্তানদের এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে মা হিসেবে আছিয়ার বুক ফেটে যাচ্ছিল, কিন্তু তাঁর ইমান এক চুলও নড়ল না। তিনি আসমানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, "হে ফেরাউন! তুমি বড়জোর আমার এই নশ্বর শরীরটাকে ধ্বংস করতে পারো, কিন্তু আমার ইমানকে স্পর্শ করার ক্ষমতা তোমার নেই।"

জল্লাদরা যখন আছিয়াকে সেই ফুটন্ত তেলের কুণ্ডলীতে নিক্ষেপ করার জন্য উঁচিয়ে ধরল, তখন রানী আছিয়া দুনিয়ার সব আশা ছেড়ে দিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে এক ঐতিহাসিক ও অমর দোয়া চাইলেন, যা পবিত্র কুরআনের সূরা তাহরিমের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নিজেই উল্লেখ করেছেন:

"রাব্বিবনি লী ইনদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়া নাজজিনী মিন ফিরআউনা ওয়া আমালিহী..."
(অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আপনার সান্নিধ্যে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে রক্ষা করুন।)

আল্লাহ তাআলা তাঁর এই প্রিয় বান্দীর আকুল প্রার্থনা সাথে সাথে কবুল করে নিলেন। আছিয়াকে ফুটন্ত তেলে ফেলার ঠিক এক মুহূর্ত আগে আল্লাহ তাঁর চোখের সামনে থেকে দুনিয়ার পর্দা সরিয়ে দিলেন এবং জান্নাতে তাঁর জন্য তৈরি করা আলিশান প্রাসাদটি দেখালেন।

জান্নাতের সেই অপরূপ দৃশ্য দেখে আছিয়া (আ.)-এর পবিত্র মুখে এক স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠল। বর্ণিত আছে, তেলের ভেতর পড়ার আগেই আল্লাহ তাঁর রূহ মোবারক আসমানে তুলে নেন, ফলে ফুটন্ত তেলের কোনো কষ্ট বা পুড়ুনি তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি হাসিমুখে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করলেন।

গল্পের অমূল্য শিক্ষা:

ইমানের পরীক্ষায় অটলতা:** হযরত আছিয়া (আ.) আমাদের শিখিয়েছেন যে, পৃথিবীর কোনো ক্ষমতা, রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা বা মৃত্যুর ভয়ও একজন প্রকৃত মুমিনকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।
দোয়ার শক্তি: চরম বিপদের মুহূর্তেও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে নিজের আখেরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করাই হলো বিশ্বাসীদের লক্ষণ।
জান্নাতী নারীদের নেত্রী: এই অসীম ত্যাগের কারণেই দয়াল নবীজি ﷺ হযরত আছিয়া (আ.)-কে জান্নাতের চার শ্রেষ্ঠ নারীর অন্যতম একজন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

এক বড়লোক ধনীর বাড়ির পাশেই বাস করত এক অভাবী ফকির। একদিন ধনীর ছোট ছেলেটি খেলতে খেলতে হুট করেই সেই ফকিরের ঘরে ঢুকে পড়ল।সেখা...
03/06/2026

এক বড়লোক ধনীর বাড়ির পাশেই বাস করত এক অভাবী ফকির। একদিন ধনীর ছোট ছেলেটি খেলতে খেলতে হুট করেই সেই ফকিরের ঘরে ঢুকে পড়ল।

সেখানে গিয়ে সে দেখল, ফকির তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বেশ তৃপ্তি সহকারে খাবার খাচ্ছে। খাবার দেখে ধনীর ছেলের খুব লোভ হলো এবং সেও তা খাওয়ার বায়না ধরল।

কিন্তু ফকিরটি ধনীর ছেলেটির প্রতি কোনো মনোযোগই দিল না এবং তাকে এক লোকমা খাবারও খেতে দিল না।

ধনীর ছেলেটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এলো। তার বাবা তাকে হরেক রকমের দামি ও সুস্বাদু খাবার এনে দিলেন, কিন্তু ছেলে নাছোড়বান্দা!

সে জেদ ধরে বলল, "আমি ওসব কিছুই খাব না; ফকির যে খাবার খাচ্ছে, আমাকে ঠিক সেটাই এনে দিতে হবে।"

ছেলের এমন কান্নাকাটি দেখে ধনী ব্যক্তিটি নিরুপায় হয়ে ফকিরের ঘরে এলেন এবং পুরো ঘটনাটি খুলে বললেন।

তিনি জানতে চাইলেন, কেন তাঁর ছেলেকে একটু খাবার দেওয়া হলো না।

সব শুনে দরবেশ ফকির এক ভয়ঙ্কর সত্য প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন:

"হে ধনী ব্যক্তি! আমি আপনার ছেলেকে খাবার না দিতে বাধ্য ছিলাম। কারণ, আমরা যে খাবারটি খাচ্ছিলাম তা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ 'হালাল' হলেও আপনার সন্তানের জন্য ছিল সম্পূর্ণ 'হারাম'।

আমরা গত তিন দিন ধরে তীব্র অনাহারে ছিলাম।
তাই ক্ষুধা মেটাতে আমি কিছু ময়লাযুক্ত খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম, যা আপনার প্রাচুর্যে ভরা সন্তানের জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত ছিল না।"

ফকিরের এই কথাটি তীরের মতো এসে ধনীর বুকে বিঁধল। তিনি তীব্র অনুশোচনায় ফেটে পড়লেন।

তিনি বুঝতে পারলেন, নিজের প্রাচুর্যের আড়ালে তিনি কতটা অন্ধ ছিলেন যে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী তিন দিন ধরে না খেয়ে আছে, অথচ তিনি তার কোনো খবরই রাখেননি!

ধনী ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ ঘরে ফিরে গেলেন এবং তাঁর কাছে থাকা নগদ ধন-সম্পদের ঠিক অর্ধেক অংশ এনে সেই ফকিরের হাতে তুলে দিলেন।

তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন:
"হায়! কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ যদি আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন, 'তোর প্রতিবেশী যখন অনাহারে মরছিল, তুই কেন তার খবর রাখিসনি?' তবে আমি আল্লাহর দরবারে কী জবাব দেব!"

নিজের ঘরে হাজারো নেয়ামত থাকা আর পাশের ঘরের মানুষটি অনাহারে দিন কাটানো একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি পরকালের মুক্তির অন্যতম মাধ্যম।

আল্লাহ কাউকে সম্পদ দিলে তার ভেতর দরিদ্র ও বঞ্চিতদের অধিকার মিশে থাকে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সাথে সাথে তা সংশোধন করা এবং সম্পদ অন্যকে দান করাই হলো খাঁটি মানুষের পরিচয়।

--- সবক আমুয ওয়াকিয়াত

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RafsanAh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share