14/08/2026
আমি প্রায় আমার ক্যাম্পাসের প্রিয় এই বারান্দাটাই দাঁড়িয়ে থাকি, বহুদূর পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা, গাড়ি যাওয়া-আসা ইত্যাদি স্পষ্ট দেখা যায়। কেউ দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে, কেউ ধীরে। কারো কারো চোখ ফোনের পর্দায়, কেউ বাসের পিছে ছুটছে,কেউ পাশে থাকা মানুষটির সঙ্গে হাসতে হাসতে হাঁটছে।কেউ আবার কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দৌড়ে হাটছে হয়তো টিউশন কিংবা চাকরির তাগিদে।
অদ্ভুত ব্যাপার একই রাস্তা,একই সময় অথচ প্রত্যেক মানুষের আলাদা গল্প, আলাদা গন্তব্য।
আমি ভাবতে লাগলাম, আমরা প্রতিদিন মানুষ দেখি কিন্তু কতটুকু মানুষকে দেখি??
একজন মানুষ আমাদের পাশ দিয়ে হাসতে হাসতে হেঁটে যায়,আমরা তার শরীরটা দেখি
কিন্তু তার হাসির পেছনের গল্পটা, ব্যস্ততার মাঝে তার দায়িত্ববোধ,নীরবতার ভিড়ে তার জমানো হাজারটা কথা সেগুলো কি দেখি?না,দেখি না।
চারপাশে কত মানুষ,কেউ কারো পরিচিত নয় তবু মনে হয়, প্রত্যেকে প্রতিনিয়ত কোন না কোনভাবে অন্যের গল্পের অংশ হয়ে যাচ্ছে। আমি যখন সিটের অভাবে বাসে দাঁড়িয়ে যাই,তখনই কেউ না কেউ নিজের সিটটা ছেড়ে আমাকে জায়গা করে দেয়। এভাবেই অপরিচিত হয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত অন্য আরেকজনকে সাহায্য করে যাচ্ছে।তখন মনে হলো আসলেই মানুষের সম্পর্ক গুলো শুধু কোন নাম, পরিচয়,বংশ কিংবা রক্তের বন্ধনে তৈরি হয় না।
কখনো কখনো অপরিচিত কোন মানুষের পাঁচ সেকেন্ডের সহানুভূতি ও আমাদের বছরের পর বছর মনে থাকে। আবার কখনো কখনো বহু বছরের পরিচিত মানুষও মুহূর্তে অপরিচিত হয়ে যায়।
কি অদ্ভুত তাই না?
কেউ জানে না পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষটির মনে কি চলছে,কি উদ্দেশ্য? কোথায় তার গন্তব্য?
তবুও আমরা পাশাপাশি হাটি,কয়েক মুহূর্তের জন্য একই রাস্তা ভাগ করে নি।তারপর যে যার গন্তব্যের পথে হারিয়ে যাই।
হয়তো এটাই জীবন।
শহর থেকে যায়, মানুষ থাকেনা;হয়তো আমিও থাকবো না।তবে এই পথ, এই পথের মানুষের আনাগোনা আজীবন থাকবে, হয়তো একদিন আমার জায়গায় অন্য কেউ দাঁড়িয়ে আমার মতই এই ব্যস্ত পথের দিকে তাকিয়ে নিজের ভাবনায় নতুন কিছু আবিষ্কার করবে🙂
( সাবরিনা নিধী)
১৪/০৮/২০২৬
বিকাল-৪.১৪