10/06/2026
সুস্মিতা আল্লাহর ইচ্ছা দুই রকম। এই দুইটা না বুঝলে তুমি কোনোদিন ইসলাম বুঝবে না। আজ পুরোটা ভেঙে দিচ্ছি।
প্রথম ইচ্ছা, আল্লাহ যা চান তা হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। আরবিতে বলে ইরাদাহ কাওনিয়া এটা আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা। এটা কারো ক্ষমতা নেই থামানোর।
উদাহরণ
মৃত্যু। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। সুরা আলে ইমরান ৩:১৮৫। তুমি যত বড় ডাক্তার হও, যত টাকা থাকুক, মৃত্যু আসবেই। এটা আল্লাহ চান, তাই হয়।
দিন রাত, সূর্য চাঁদ। আল্লাহ বলেন, সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে চলে, চাঁদের জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করেছি। সুরা ইয়াসিন ৩৬:৩৮-৩৯। তুমি চাইলেও সূর্যকে থামাতে পারবে না।
কিয়ামত। এটা হবেই কেউ থামাতে পারবেনা। সুরা হজ ২২:৭।
এগুলো আল্লাহর প্রথম ইচ্ছা। এখানে মানুষের কোনো স্বাধীনতা নেই এগুলো কেউ থামাতে পারবে না।
এরপরে আল্লাহর দ্বিতীয় ইচ্ছা
আল্লাহ যা পছন্দ করেন না কিন্তু হতে দেন। আরবিতে বলে ইরাদাহ শরইয়া
এটা আল্লাহর বিধানগত ইচ্ছা। এখানে আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন। কারণ দুনিয়া পরীক্ষার হল।
আল্লাহ বলেন, যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন কে কর্মে উত্তম। সুরা মুলক ৬৭:২
আল্লাহ বলেন, আমি মানুষকে পথ দেখিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে না হয় অকৃতজ্ঞ। সুরা ইনসান ৭৬:৩
উদাহরণ
১. চুরি। আল্লাহ চুরি হতে দেন, কিন্তু তিনি চুরি পছন্দ করেন না। তিনি বলেন চোরের হাত কাটো। সুরা মায়িদা ৫:৩৮। যদি তিনি পছন্দ করতেন তাহলে শাস্তি দিতেন না।
২. ধর্ষণ ও ব্যভিচার। আল্লাহ এটা হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন ব্যভিচারের কাছেও যেও না। সুরা ইসরা ১৭:৩২। নবীজি ﷺ ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তিরমিজি ১৪৫৪।
৩. খুন। আল্লাহ খুন হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন একজনকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। সুরা মায়িদা ৫:৩২।
৪. শিরক মূর্তিপূজা। আল্লাহ এটা হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম। সুরা লুকমান ৩১:১৩।
মূর্তি পূজা হচ্ছে স্রষ্টার সাথে অংশীদার বানানো শিরিক বলে ভয়ানক পাপ।
৫. মিথ্যা বলা, ঘুষ খাওয়া, জুলুম করা। সব আল্লাহ হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না। সুরা আলে ইমরান ৩:৫৭।
তাহলে আল্লাহ কেন থামান না
কারণ যদি আল্লাহ দ্বিতীয় প্রকারের সব খারাপ কাজ সাথে সাথে থামিয়ে দিতেন তাহলে পরীক্ষা থাকতো না।
চিন্তা করো, যদি কেউ চুরি করতে হাত বাড়ালেই আল্লাহ হাত অবশ করে দিতেন, কেউ ধর্ষণ করতে গেলেই আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দিতেন, কেউ মিথ্যা বললেই মুখ বন্ধ হয়ে যেত, তাহলে সবাই ফেরেশতা হয়ে যেত। তাহলে জান্নাত জাহান্নাম, বিচার দিবস, পুরস্কার শাস্তির কোনো মানে থাকতো না।
আল্লাহ বলেন, যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে সাথে সাথে পাকড়াও করতেন তাহলে পৃথিবীতে কোনো প্রাণী বাকি থাকতো না, কিন্তু তিনি তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। সুরা নাহল ১৬:৬১
আল্লাহ সময় দেন যাতে চোর তওবা করে, ধর্ষক ফিরে আসে, খুনি অনুতপ্ত হয়। এটা আল্লাহর দয়া।
বাস্তব উদাহরণ
সরকার তোমাকে বিদ্যুৎ দেয়। তুমি সেই বিদ্যুৎ দিয়ে হাসপাতালে জীবন বাঁচাও, আবার সেই বিদ্যুৎ দিয়ে কাউকে শক দিয়ে মারো। সরকার বিদ্যুৎ দিয়েছে বলে খুনের দায় সরকারের না।
বাবা তোমাকে টাকা দিয়েছে বই কেনার জন্য। তুমি সেই টাকা দিয়ে মদ কিনেছো। দোষ বাবার না, তোমার।
আল্লাহ তোমাকে হাত, চোখ, শক্তি, ইচ্ছা দিয়েছেন। তুমি সেই শক্তি দিয়ে আল্লাহর এবাদত করতে পারো আবার সেই শক্তি দিয়ে চুরি করতে পারো। আল্লাহ ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তিনি দায়ী না, তুমি দায়ী।
শেষ কথা
প্রথম ইচ্ছায় যা হয় তা তুমি আটকাতে পারবে না, মৃত্যু, জন্ম, রিজিক, কিয়ামত। এগুলো আল্লাহর হুকুম।
দ্বিতীয় ইচ্ছায় যা হয় তা তুমি করো, আল্লাহ শুধু হতে দেন মানে আল্লাহর ইচ্ছায় হয় কিন্তু তিনি পছন্দ করেন না। চুরি, ধর্ষণ, খুন, শিরক। এগুলো আল্লাহ ঘৃণা করেন, নিষেধ করেছেন, কঠিন শাস্তি রেখেছেন।
আল্লাহ বলেন, তোমাদের উপর যে বিপদ আসে তা তোমাদের হাতের কামাই। সুরা শুরা ৪২:৩০
আল্লাহ বলেন, আল্লাহ মানুষের উপর জুলুম করেন না, মানুষ নিজেরাই জুলুম করে। সুরা ইউনুস ১০:৪৪
সুস্মিতা, তুমি বলেছো উত্তর পেলে মুসলিম হবে। এখন তুমি জানো আল্লাহর ইচ্ছা দুই রকম। তিনি মৃত্যু দেন, এটা তার হুকুম। তিনি চুরি হতে দেন, এটা তার পরীক্ষা। দোষ আল্লাহর না, দোষ মানুষের।
ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এই পার্থক্য এত পরিষ্কার।
আশাকরি এখন সত্য গ্রহণ করবেন, ইনশাআল্লাহ, 🌿
©️