12/09/2026
বন্ধুর কাছে পাওনা ছিল তিন লাখ টাকা। সেই টাকা চাইতে গিয়েছিলেন শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি। কিন্তু পাওনা টাকা নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁর। তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হলো তাঁর লা//শ।
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটে ঘটেছে ভয়ংকর এই ঘটনা। পুলিশ বলছে, ওয়াসিমের বন্ধু মাসুমের কাছে তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ওয়াসিম।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ওয়াসিম। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডি করার সময়ও মাসুম থানায় এসেছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর যে মানুষটিকে খুঁজতে পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল, সেই খোঁজের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত সামনে আসে ভ/য়ং//ক/র সত্য।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম হ*/ত্যা*//র কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, পাওনা তিন লাখ টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওয়াসিমকে মাথায় আঘাত করে ফেলে দেওয়া হয়। পরে শ্বা//সরো//ধে হ**//ত্যা করা হয় তাঁকে।
এরপর হাত-পা বেঁধে, মুখে টেপ ও পলিথিন পেঁচিয়ে লা**//শ গুম করার চেষ্টা করা হয়। ভবনের পাশের মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়া হয় ম*//রদে**/হ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার ভোরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় ওয়াসিমের ম//রদে//হ। তখন তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল, মুখে পলিথিন মোড়ানো ছিল। ম*/রদে**/হে পচনও ধরেছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, যাঁর কাছে টাকা পাওনা ছিল, সেই বন্ধুই নাকি পরে লা//শ খুঁজে বের করার সময় পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোঁজেও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অথচ পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত সন্দেহের কেন্দ্রে চলে আসেন তিনিই।
মাত্র তিন লাখ টাকা। একটি পাওনা টাকা। আর সেই টাকাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেল, একটি পরিবার হারাল তাদের আপনজন।
টাকার লেনদেন নিয়ে বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধের বদলে যদি বন্ধুর জীবনই কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের নয়, আমাদের সম্পর্কগুলোর ভেতরে লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠছে, সেই প্রশ্নও।
(কালেক্টেড পোস্ট)