08/06/2026
আমি একজন মাকে চিনি। যেই মা তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে বিয়ে করিয়ে, ছেলের বউকে শুধুমাত্র বাসার মেইড হিসেবে ট্রিট করতো।
নববিবাহিত দম্পতি মানে ছেলে এবং ছেলের বউ একসাথে হলেই,সে মুখ কালো করে ফেলতো এবং মাঝে মধ্যে বুকফাটা চিৎকার আর আহাজারি করতো যে, তার ছেলে পর হয়ে গেছে গা।
নিজের মেয়ের ঘরের সন্তানদের আদর কমে যাবে বলে, ছেলের প্রথম সন্তানের ভ্রুণ হত্যার মতো মহা পাপ করতেও তার বুক কাঁপে নাই। ছেলে ছেলের বউকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোর্স করে বউকে এবরশন করাতে বাধ্য করে।
কাজের লোক না রেখে ছেলের নতুন বউকেই বাধ্য করতো গৃহস্থালি ঘরের সব কাজ করতে।
এর আড়াই বছর পর ছেলের বউয়ের সন্তান জন্ম হলে, সন্তানসহ তাকে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আলাদা থাকতে বলে।
এবং ওই মহিলা তার মেয়ের কাছে থাকতে শুরু করে, এবং মেয়ের সংসার দেখভালের দায়িত্বে থাকে। তার নিজের স্বামীর সাথেও সম্পর্ক শেষ করে দেয় শুধুমাত্র নিজের জেদের বশবর্তী হয়ে।
তো এরপর,এর অনেক কাল পর যখন মেয়ের সাথেও তার বনিবনা হয় না এবং ছেলের সাথে থাকতে আসে, তখন ছেলের বউ প্রথমে কিছুটা সহ্য করে নিলেও,পরের দিকে অতিষ্ঠ হয়ে যায় তার কথার অত্যাচারে।
মানে অবস্থা এমন পর্যায়ে যায় যে, ছেলের বউকে বাচ্চাসহ বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়।
এরপর আবার ছেলে তার বউকে ফিরিয়ে আনে এবং সংসার শুরু করে।ওই মা আবার তার মেয়ের সাথে থাকতে শুরু করে। ওই সংসারেও কিছু দিন পর পরই সে একটা করে অশান্তি সৃষ্টি করে।
তখন কেউ তার দায়িত্ব নিতে চায় না। অন্যদিকে " মা" নামের এক মহান আবেগের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই দ্বিধা দ্বন্দ্বে আত্মগ্লানিতে ভুগে। মহিলার মেয়ে বড় চাকরি করে এবং তার বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে হবে বলেই, মেয়ে তার কাছে মাকে রাখে।
কিন্তু সেখানেও সে রোজ মেয়ে আর মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার উপাদান তৈরি করে।
অদ্ভুত বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে তারা কেউই ঐ মাকে মানসিক রোগী হিসেবে অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে বরং গোপন করে গেছে। এতে করে ওই নারী তার রাগ ক্রোধ ইচ্ছে মতো প্রকাশ করতো সবার উপরে।
এই যে ঘটনা, ধরেন এরপর,এর অনেক গুলো বছর পরও,ওই মহিলা যদি সে না শোধরায়, কোনো রকম অপরাধবোধে আক্রান্ত না হয় বরং নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করে, এবং সবাই তার দিক থেকে মুখ সরিয়ে নেয়, কেউ তার সাথে থাকতে না চায়,এবং মহিলাটি যদি একা হয়ে যায়, তাহলে আসলে দোষটা কার?
একা ঘরে যদি সে যদি মরে পরেও থাকে, তাহলে কার উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া যায়, বলুন তো?
(সমস্ত ঘটনা কাল্পনিক নয়)
©