24/04/2026
যে কারণে ভে"ঙে যায় শমী কায়সার ও রিংগোর সংসার 💔
কিছু প্রেম শুরু হয় হঠাৎ, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই—একটা বিকেল, একটুখানি কৌতূহল, আর অচেনা কারও দিকে অকারণ টান। শমী আর রিংগোর গল্পটা ঠিক তেমনই।
১৯৯৯ সালের সেই সময়টা—গাজীপুরের পূবাইল, বাধুন গ্রামের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুটিং চলছিল আমজাদ হোসেনের ধারাবাহিক আগুন লাগা সন্ধ্যা। শমী ছিলেন সেখানে, নিজের মতো করে কাজ করছিলেন। তার ভেতরে তখন এক ধরনের নিঃশব্দ ক্লান্তি ছিল—যেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু কাছাকাছি গেলে টের পাওয়া যায়।
ঠিক পাশেই আরেকটা শুটিং—একটা মিউজিক ভিডিও। ক্যামেরার পেছনে ছিলেন রিংগো। দ্রুত, মনোযোগী, নিজের কাজে ডুবে থাকা একজন মানুষ। শমী প্রথম দেখাতেই থমকে যান। কেন জানি না, কিন্তু চোখ সরাতে পারেন না। সেই অচেনা মানুষটার মধ্যে কিছু একটা ছিল—যা তাকে টেনে নেয়।
তারপর শুরু হয় খোঁজ নেওয়া। ইউনিটের লোকজনের কাছে জানতে চান—কে এই রিংগো?
উত্তর আসে, ভারত থেকে আসা পরিচালক, কাজে নাকি ভীষণ আন্তরিক। এই ছোট্ট পরিচয়টাই শমীর মনে বড় হয়ে ওঠে। তিনি এগিয়ে যান, কথা বলেন, প্রশংসা করেন। ধীরে ধীরে একটা দূরত্ব কমে আসে—দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য সেতু।
শুটিং শেষে ফেরার পথে রিংগোর গাড়িতে লিফট নেওয়া, রাত বাড়তে থাকলে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটা—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই যেন তাদের সম্পর্ককে অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। কথা কম, অনুভূতি বেশি। সেই অনুভূতির ভেতরেই শমী ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকেন। শুটিং সেটের সেই নির্লিপ্ত মেয়েটা হয়ে ওঠেন প্রাণোচ্ছল, হাসিখুশি।
চারপাশে তখন গুঞ্জন। সবাই জানে, এই সম্পর্ক সহজ না।
রিংগোর অতীত ছিল, একটা ভাঙা সংসার ছিল, একটা সন্তানও ছিল।
তবুও শমী পিছু হটেন না। বরং যত বাধা আসে, ততই তার টানটা গভীর হয়। পরিবার আপত্তি জানায়, ভাই বোঝানোর চেষ্টা করেন—কিন্তু প্রেম তখন নিজের নিয়মে চলতে শুরু করেছে।
শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ সালের ৩১ মে—সবকিছুর বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। মনে হয়েছিল, এটাই বুঝি তাদের গল্পের পূর্ণতা। কিন্তু, পূর্ণতা মানেই কি স্থায়িত্ব?
বিয়ের পরই ধীরে ধীরে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। শমীর একটা স্বাভাবিক চাওয়া ছিল—স্বামীর পরিবার তাকে গ্রহণ করুক।
কিন্তু রিংগো সেটা পারছিলেন না। তার বাবা-মা প্রথম স্ত্রীর প্রতি বেশি অনুরক্ত ছিলেন, শমীকে সহজে মেনে নিতে পারেননি।
রিংগো মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই দিক সামলাতে চাইতেন—একদিকে স্ত্রী, অন্যদিকে পরিবার। কিন্তু সব সম্পর্ক একসাথে টিকিয়ে রাখা সবসময় সম্ভব হয় না।
এরপর আসে ২০০১ সাল। গাজী রাকায়েতের একটি নাটকের শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রিংগো।
তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। শরীরে স্থায়ী ক্ষত—একটা পা ছোট হয়ে যায়। জীবনের এই কঠিন সময়েই ঘটে আরেকটা ভাঙন। দিল্লিতে অসুস্থ স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে আসেন শমী।
হয়তো তারও কিছু না বলা অভিমান ছিল, হয়তো ক্লান্তি—যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
রিংগোর বাবা-মা তখন সেই দৃশ্য দেখেই বলেছিলেন—‘যার জন্য তুমি সব ছেড়েছিলে, সে-ই তোমার দু:সময়ে পাশে থাকল না।’ এই কথাটা হয়তো রিংগোর ভেতরে কোথাও গভীর দাগ কে"টে যায়।
আর ততদিনে তিনি জেনে গিয়েছিলেন রিংগো তার আগের স্ত্রীকে তখনো ডি"ভোর্স দেয় নি।
তারপর আর সময় নেয়নি। ২০০২ সালের শুরুতেই শমী ডিভোর্স লেটার পাঠান। একটা গল্প, যা এত আবেগ নিয়ে শুরু হয়েছিল, শেষ হয়ে যায় নি:শব্দে।
পরে দুজনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে গেছেন। রিংগো তার স্বাভাবিক জীবনে ছন্দ শুরু করে দিয়েছিল আর শমী—তার জীবনেও এসেছে নতুন অধ্যায়।
হয়তো সব প্রেম টিকে থাকার জন্য জন্মায় না। কিছু প্রেম আসে, আমাদের বদলে দিয়ে যায়, তারপর সময়ের মতোই নীরবে সরে যায়। শমী আর রিংগোর গল্পটা তেমনই—অপূর্ণ, কিন্তু ভীষণ সত্য।
#শমিকায়সার