22/07/2026
🚨ম্যাচ শুরুর আগে লিওনেল মেসিকে বলতে শোনা যায় যে, "আমরা শান্ত থাকবো, এগুলো সব ভুলে যাই, মাঠে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি।" ঠিক সেই মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং এনজো ফার্নান্দেজকে ড্রেসিংরুমের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা যায়। আসলে কী হয়েছিল? নাকি সবই কাকতালীয়? এই ম্যাচে অনেক অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরু থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম—
১. আর্জেন্টিনার প্রত্যেকটি ম্যাচে বোর্ড প্রেসিডেন্ট তাপিয়া এবং কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজকে দেখা গেলেও ফাইনালে তাদের দেখা যায়নি। মেসির স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা বা আত্মীয়দেরও মাঠে দেখা যায়নি, যেখানে আগের ম্যাচগুলোতে তারা উপস্থিত ছিলেন।
২. লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হঠাৎ ইনজুরি। এমন দুই ডিফেন্ডার, যারা সাধারণত কঠিন পরিস্থিতিতেও মাঠ ছাড়তে চান না।
৩. ২৫টি ফাউল করে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৬টি হলুদ ও ১টি লাল কার্ড। অন্যদিকে স্পেন ২১টি ফাউল করেও কোনো কার্ড দেখেনি।
৪. পুরো ম্যাচজুড়ে অস্বাভাবিক পরিমাণ মিস পাস এবং সহজ ভুল।
৫. লো সেলসো আগের দিন ফকল্যান্ডসের ব্যানার ধরায় তাকে নামানো হয়নি বলে আলোচনা রয়েছে। একই দিনে লিসান্দ্রোকেও সেই ব্যানার হাতে দেখা গিয়েছিল।
৬. ক্যামেরায় অনেক স্প্যানিশ কিংবদন্তিকে দেখানো হলেও কোনো আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে দেখা যায়নি। অথচ আগের ম্যাচগুলোতে লাভেজ্জি, পাস্তোরে, আগুয়েরো ও তেভেজকে দেখা গিয়েছিল।
৭. এনজো ফার্নান্দেজের প্রথম হলুদ কার্ড আসে রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে, যদিও ফাউলের শিকার ছিলেন তিনিই।
৮. ইউরোপিয়ান রেফারির অধীনে ম্যাচ পরিচালিত হয়, যার অধীনে আর্জেন্টিনা আগে কখনো জেতেনি।
৯. ম্যাচ শেষে স্কালোনির এভাবে ভেঙে পড়া।
১০. এনজো ফার্নান্দেজের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, যেখানে তিনি লিখেছেন: "দিন যত যাবে, মানুষ আরও বুঝবে আমরা বিশ্বকাপ জেতার জন্য কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলাম।"
১১. স্কালোনির বাড়ি স্পেনে। তার পরিবারকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তাজনিত চাপ ছিল কি?
১২. স্কালোনি প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, ফাইনালের আগে যেসব ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলোর জন্য তিনি খুব হতাশ ছিলেন। তাহলে আসলে কী হয়েছিল?
১৩. পারেদেসের মারামারি এবং ওতামেন্দির রদ্রির ওপর ক্ষেপে যাওয়া।
১৪. লাউতারো মার্টিনেজকে ম্যাচ শেষে অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। এর আগে বেঞ্চেও তাকে খুব একটা দেখা যায়নি।
১৫. ম্যাচ শেষে কোনো খেলোয়াড় মিডিয়ার সামনে কথা বলেননি। শুধু স্কালোনিই প্রেস কনফারেন্স করেছেন।
১৬. স্কালোনি প্রেস কনফারেন্স শেষ না করেই আবেগপ্রবণ হয়ে বের হয়ে যান।
১৭. যে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোল করা দল ছিল, তারা ফাইনালে একটি অন-টার্গেট শটও নিতে পারেনি।
১৮. ম্যাচ শুরুর আগে বেটিং ওয়েবসাইটগুলোতে আর্জেন্টিনার অডস স্পেনের তুলনায় কম অনুকূলে ছিল, যদিও তারা ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন।
১৯. বাস থেকে নামার সময় সবাইকে স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী লাগলেও ড্রেসিংরুমে ঢোকার পর যেন পরিবেশ বদলে যায়।
২০. রোমেরো ও লিসান্দ্রো, যারা মাঠে জীবন দিয়ে লড়াই করেন, তারা কীভাবে নিজেরাই বদলি হতে রাজি হলেন?
২১. বিশ্বকাপ চলাকালে AFA বোর্ড প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার কোনো প্রভাব কি দলের ওপর পড়েছিল?
অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। যে আর্জেন্টিনা কাতারে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই দল ফাইনালে হঠাৎ এত ভিন্ন কেন ছিল? ড্রেসিংরুমে ঢোকার পর কি এমন কিছু ঘটেছিল, যা আজও অজানা?
বি:দ্র: এই ভিডিওটি ESPN-এর ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। FIFA-এর অফিসিয়াল লাইভ ফিডে এমন কোনো দৃশ্য দেখানো হয়নি কেন?