Archive - সংগ্রহশালা

Archive - সংগ্রহশালা দাওয়াহ ও ইসলাহ্ (সংস্কার)।

23/11/2025

মুফতি হাজী শরীয়তুল্লাহ (রাহিঃ) এর মক্কার শিক্ষাজীবন ও সালাফি প্রভাব —
প্রেক্ষাপটঃ মুফতি হাজী শরীয়তুল্লাহ (রাহিঃ) (জন্মঃ আনুমানিক ১৭৮১ খ্রী. শরীয়তপুর) তরুণ বয়সে কলকাতায় কিছুদিন কাজ করে উপার্জিত অর্থে ১৮০৭ খ্রীষ্টাব্দে হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় পাড়ি জমান। তিনি সেখানে প্রায় ১৮ বছর অবস্থান করেন (১৮০৭–১৮২৫ খ্রী.) — এই সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ওই সময় আরব উপদ্বীপে শুরু হয় তাওহীদের পুনর্জাগরণ আন্দোলন, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মুজাদ্দিদ শায়েখ মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রাহিঃ) এর উত্তরসূরিগণ।

হিজাযে (আরব উপদ্বীপ) ইসলামি শিক্ষা অর্জন —
১৮শ শতকের শেষ থেকে ১৯শ শতকের শুরু পর্যন্ত হিজাযে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। মুজাদ্দিদ শায়েখ মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রাহিঃ) (মৃত্যু ১৭৯২ খ্রী.) এর তাওহীদ আন্দোলন তখন পবিত্র মক্কা ও মদিনার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে।
“মক্কায় অবস্থানকালে হাজী শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন ‘ওহাবি’ চিন্তাধারার (অর্থাৎ তাওহীদভিত্তিক সংস্কার আন্দোলনের) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা তখন হিজায অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছিল”।
(Dr. J.N. Sarkar, History of Bengal, Vol. II, p. 238).

“তিনি মক্কায় অবস্থানকালে ওহাবি আলেমদের (তাওহীদমুখী সংস্কারকদের) সংস্কার-উদ্দীপনা আত্মস্থ করেন এবং বঙ্গে ফিরে আসেন এই সংকল্প নিয়ে যে, ইসলামে সংযোজিত বিকৃতি ও বিদআতসমূহকে দূর করে একে পরিশুদ্ধ করবেন”।
[Abul Kasem, The Faraizi Movement in Bengal (1979), p. 14].

“নজদী সংস্কারকদের [অর্থাৎ শায়েখ মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রাহিঃ) এর অনুসারীদের] প্রভাব হাজী শরীয়তুল্লাহর চিন্তাধারায় যে বিদ্যমান ছিল — তা অস্বীকার করা যায় না”।
[Dr. Abdul Karim, Social History of the Muslims in Bengal (1973), p. 123].

“তাঁর সংস্কারধারা ছিল আরবের সংস্কারকদের মতো — তিনি তাওহীদের ওপর জোর দেন, ওলিপূজা ও বিদআত পরিত্যাগে আহ্বান জানান, এবং কোরআন ও সুন্নাহয় ফিরে যাওয়ার ডাক দেন”।
[Syed Mahmudul Hasan, Islamic Reformers in Bengal (1988)].

তাওহীদ ভিত্তিক সংস্কার আন্দোলনে প্রত্যাবর্তন —
মক্কা থেকে ফিরে এসে (১৮২৫ খ্রী.) তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যেঃ “ফরজ পালন করো, বিদআত বর্জন করো”। এ থেকেই “ফারায়েজি আন্দোলন” (Faraizi Movement) নামটি আসে — কারণ তাঁর দাওয়াহর মূল বিষয় ছিল ফরজ (আল্লাহর নির্ধারিত বিধান) প্রতিষ্ঠা ও শিরক/বিদআতের পরিত্যাগ। তিনি মসজিদে, হাটে, গ্রামের মজলিসে মানুষকে আহ্বান দিতেনঃ “আল্লাহর এবাদত করো, কবরে নয়; দোয়া করো আল্লাহর কাছে, পীরের কাছে নয়”।

তাঁর কথায় সালাফি প্রভাব —
তাঁর রচিত ও প্রচারিত বক্তব্যে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায়ঃ আল্লাহর একত্বের ব্যাখ্যা তিন ভাগে (রুবুবিয়্যা, উলুহিয়্যা, আসমা ওয়াস সিফাত) — ঠিক যেমন শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) ও মুজাদ্দিদ শায়েখ মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রাহিঃ) ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, কবরে সেজদা দেওয়া, বা ওলিদের নামে মান্নত করা — এগুলো ইসলামবিরোধী” (সূত্রঃ “ফরায়েজ-ই-শরীয়ত”, “তাওহীদ আন্দোলনের ইতিহাস”, মওলানা আব্দুল হাই)। “বিদআত” শব্দটি তিনি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন, যা সেই সময়ের সুফি আলেমরা খুব একটা করতেন না। সমাজ সংস্কারের মূল মাধ্যম হিসেবে “ফরজ” ও “তাওহীদ” কে একত্রিত করেছেন, যা সালাফি দাওয়াহর বৈশিষ্ট্য।

মুফতি হাজী শরীয়তুল্লাহ (রাহিঃ) মক্কায় অবস্থানকালে তাওহীদ আন্দোলনের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হোন এবং তিনি বঙ্গে ফিরে এসে শিরক ও বিদআতবিরোধী, কিতাব-সুন্নাহনিষ্ঠ দাওয়াহ চালু করেন — যা মূলত “সালাফি তাওহীদ আন্দোলনেরই স্থানীয় রূপ”।

22/11/2025

“সচেতনতা” (Awareness/ إدراك / وعي) শব্দটির মূল অর্থ হলো — কোনো বিষয়কে স্পষ্টভাবে বোঝা, সেটা সম্পর্কে জাগ্রত হওয়া এবং সঠিক উপলব্ধি অর্জন করা। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে “সচেতনতা” একটি বড় ধারণা, যার ভিতরে জ্ঞান, বোধ, উপলব্ধি, চিন্তা, ঈমাণি জাগরণ — সবই অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামি পরিভাষায় সচেতনতা (Awareness) —
সচেতনতা = জ্ঞান + বোধ + সঠিক দৃষ্টি + জাগ্রত হৃদয়।
অর্থাৎঃ কী সঠিক, কী ভুল, কী হালাল, কী হারাম, কোন পথ আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়, কোন পথ গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়, এসব সম্পর্কে গভীর ও পরিষ্কার ধারণা অর্জন করা।

সচেতনতার উপাদান —
(০১) জ্ঞান (Knowledge):
পবিত্র কোরআন মাজীদ, সুন্নাহ, আকিদা, মানহায, শরীয়াহ্ — এসবের সঠিক তথ্য জানা।

(০২) উপলব্ধি (Understanding):
জানা বিষয়কে ঠিকমতো বুঝে নেওয়া ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য করে তোলা।

(০৩) সচেতন ভাবনা (conscious thought):
হক ও বাতিলকে আলাদা করতে পারা।
ফিতনা-মিডিয়া প্রচার থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

(০৪) হৃদয়ের জাগরণ (Spiritual Awakening):
ঈমাণ, ভয়, আশা, তাকওয়া, আল্লাহর প্রতি খাঁটি সম্পর্ক অনুভব করা।

সচেতনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ —
কারণ, অজ্ঞ মানুষ দাওয়াহ বুঝতে পারে না।
ভুল চিন্তা মানুষকে বিপথে নেয়। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ফিতনা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।পশ্চিমা সংস্কৃতি মুসলিম যুবকদের ধ্বংস করে। মিথ্যা ইতিহাস সমাজকে ভুল পরিচয় দেয়। তাই সচেতনতা হলো দাওয়াহ এর প্রথম ধাপ।

সচেতনতা হলো —
“সত্যকে জানার, বোঝার ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা জাগ্রত করা”।

“দাওয়াহ এর গুরুত্ব”।০১. দাওয়াহ নবীদের উত্তরাধিকার —সমস্ত নবী-রাসূলের মৌলিক দায়িত্ব ছিল মানুষকে আল্লাহর এবাদতের দিকে ডাকা...
17/11/2025

“দাওয়াহ এর গুরুত্ব”।

০১. দাওয়াহ নবীদের উত্তরাধিকার —
সমস্ত নবী-রাসূলের মৌলিক দায়িত্ব ছিল মানুষকে আল্লাহর এবাদতের দিকে ডাকা। তাদের মিশনের ধারাবাহিকতা আজ বহন করছে মুসলিম উম্মাহ। সুতরাং, দাওয়াহ কোনো সাধারণ কাজ নয়; বরং নবুয়তের এক বিশুদ্ধ ও মহৎ উত্তরাধিকার।

০২. তাওহীদের প্রতিষ্ঠা দাওয়াহ ছাড়া অসম্ভব —
ইসলামি সমাজ, রাষ্ট্র বা শরীয়াহ্'র শাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ। আর তাওহীদের বোধ, ঈমাণের সংশোধন, আকিদার বিশুদ্ধতা—এসব মানুষের অন্তরে পৌঁছায় দাওয়াহর মাধ্যমেই।
যে সমাজে দাওয়াহ নেই, সেখানে কাজের বাহুল্য থাকে—কিন্তু আকিদার বিশুদ্ধতা থাকে না।

০৩. দাওয়াহ মানুষের হেদায়াতের মাধ্যম —
মানুষ কখনও জ্ঞানের অভাবে, কখনও পরিবেশের প্রভাবে ভুল পথে চলে যায়। দাওয়াহ সেই ভুলকে সংশোধন করে, মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগায়, হারানো ফিতরাহকে পুনর্জীবিত করে। মহান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেনঃ “যাকে আল্লাহ হেদায়াত দেন, তাকেই কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না”।
আর হেদায়াত লাভের এই দরজা খুলে দেয় দাওয়াহ।

০৪. দাওয়াহ সমাজে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনে —
ইসলামের দাওয়াহ কেবল আকিদার শিক্ষা নয়; এটি পুরো সমাজকে নৈতিকভাবে পরিবর্তন করে।অন্যায়-যুলুম কমে যায়, মাদকের প্রবণতা হ্রাস পায়, পরিবারে শান্তি আসে, দুর্নীতি, সুদ ও ফাহাশা হ্রাস পায়, শিক্ষা ও চিন্তাচেতনা আলোকিত হয়। একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজকে বদলানোর সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হলো ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত দাওয়াহ।

০৫. দাওয়াহ না থাকলে উম্মাহ দুর্বল হয়ে পরে —
যে উম্মাহ দাওয়াহ ছাড়ে, তারা ধীরে ধীরে— আকিদায় দুর্বল হয়, বিদআতে ডুবে যায়, চরিত্রে অধঃপতিত হয়, দ্বীনিভাবে অবক্ষয়িত হয়, শত্রুরা তখন সহজেই তাদের প্রভাবিত করতে পারে। দাওয়াহ উম্মাহকে সচেতন করে, জাগ্রত রাখে, এবং ভুল মতবাদ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে।

০৬. দাওয়াহর মাধ্যমে নেকি ও পুরস্কার অবিরামভাবে প্রবাহিত হয় —
রাসূলিল্লাহ ﷺ বলেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষের হেদায়াতের কারণ হয়, তাকে সেই আমলের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে—কিন্তু তাদের সওয়াব একটুও কমানো হবে না” (সহিহ মুসলিম)।

অর্থাৎ, একজন মানুষ যদি দাওয়াহর মাধ্যমে কাউকে তাওহীদ, সালাত বা কোনো সৎকাজে নিয়ে আসে—সামনের জীবনে সে যত আমল করবে, দাঈ সেইসব আমলের অংশীদার হবে।
এটাই দাওয়াহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য।

06/11/2025

মুতাযিলা (الْمُعْتَزِلَة) হলো এমন এক দল যারা আকিদায় “যুক্তি (العقل)” কে ওহির (الشرع) ওপরে স্থান দেয়। তারা নিজেদেরকে “আহলে-আদল ওয়াত-তাওহীদ” (ন্যায় ও একত্ববাদী দল) বলে পরিচয় দিত, কিন্তু বাস্তবে তারা আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারী (مُعَطِّلَة)।

তাদের সিফাত বিষয়ক মানহায (পদ্ধতি):

০১.“তাওহীদের ভুল ব্যাখ্যা”।
তারা বলেঃ “যদি আল্লাহর অনেক সিফাত থাকে (যেমনঃ জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, শ্রবণ, দৃষ্টি, কথা),
তাহলে আল্লাহর মধ্যে একাধিক সত্তা হয়ে যাবে — যা শিরক”।
অর্থাৎ তারা মনে করেঃ
“সিফাত” আল্লাহর সত্তা থেকে আলাদা কিছু হলে সেটা বহু-দেবতার ধারণা তৈরি করবে।
তাই তারা বলেছেঃ “আল্লাহর কোনো আলাদা সিফাত নেই; বরং তিনি নিজেই ‘জ্ঞান’, নিজেই ‘শক্তি’, নিজেই ‘ইচ্ছা’ ”।
এভাবে তারা সিফাতকে অস্বীকার করেছে, যদিও শব্দে তারা “তাওহীদ” রক্ষা করতে চেয়েছিল।
০২. “সিফাত মানে নামের পুনরাবৃত্তি”।
মুতাযিলারা বলেঃ “আল্লাহ ‘আলিম’ (জ্ঞানী) – মানে, আল্লাহ জানেন। কিন্তু আল্লাহর ‘জ্ঞান’ (علم) নামে কোনো আলাদা সিফাত নেই”।
অর্থাৎ “আলিম” নাম আছে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত গুণ নেই। এটি ভাষাগতভাবে একটি ফাঁকি।
ইমাম আবু বকর ইবনে কাইয়ুম আল-জাওযি (রাহিঃ) বলেনঃ “মুতাযিলারা নাম রেখেছে, কিন্তু নামের অর্থ অস্বীকার করেছে”।
— الصواعق المرسلة، খণ্ডঃ ০২, পৃঃ ৫১৪
০৩. “সিফাতের সব প্রকার অস্বীকার”।
তারা সিফাতকে তিন ভাগে ভাগ করে সবই অস্বীকার করেছে—
সিফাতে যাত (صفات الذات) যেমনঃ জীবন, জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি বাস্তব, আল্লাহর চিরন্তন গুণ না, এগুলো আলাদা গুণ নয়; বরং আল্লাহ নিজেই সেটা।
সিফাতে ফিল (صفات الفعل) যেমনঃ সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটে এগুলো “হাদিস” (নতুন ঘটনার) চিহ্ন, তাই আল্লাহর সাথে যুক্ত করা যাবে না।
সিফাতে খবরিয়া (صفات الخبرية) যেমনঃ হাত, মুখ, আরশে ইস্তাওয়া আক্ষরিক অর্থে বিশ্বাস দেহবাদের ইঙ্গিত তাই তাওয়ীল বা অস্বীকার করতে হবে।
ফলে তারা আল্লাহরঃ “হাত” = “ক্ষমতা”।
“আরশে ইস্তাওয়া” = “শাসন প্রতিষ্ঠা”।
“দৃষ্টি” = “জ্ঞান”।
এভাবে অর্থ বিকৃত করেছে।
০৪. “কোরআনের কালাম” সম্পর্কে তাদের অবস্থান।
তাদের অন্যতম বিখ্যাত মতবাদঃ
“আল্লাহর কালাম মাখলুক” (সৃষ্টি)।
কারণ তারা বলেঃ
কথা (speech) হচ্ছে আওয়াজ ও শব্দ, আওয়াজ ও শব্দ সৃষ্টি ছাড়া সম্ভব নয়,
সুতরাং আল্লাহর কালামও সৃষ্টি।
এই মতবাদের জন্য তারা ইমাম আল আহলে-সুন্নাহ আহমেদ ইবন হাম্বল (রহঃ) এর যুগে “মিহনা” (অত্যাচার) চালায়।
ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) আল্লাহর কালামকে “গায়রে মাখলুক” বলে দৃঢ় অবস্থান নেন।

⚠️ তাদের যুক্তির দুর্বলতা—
মু‘তাযিলারা যুক্তির মাধ্যমে আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করতে চেয়েছিলো, কিন্তু তাদের যুক্তিতেই বিরোধ দেখা দেয়।
উদাহরণঃ তারা বলে— “যদি আল্লাহর জ্ঞান আল্লাহ থেকে পৃথক কোনো সত্তা হয়, তাহলে সেটা আল্লাহর শরিক”।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— “আল্লাহ জানেন” — এই জ্ঞানের অস্তিত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?
যদি বলেন “তিনি নিজেই জ্ঞান”, তাহলে আল্লাহর সত্তায় পরিবর্তন আসবে।
শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেনঃ “তারা তাওহীদ রক্ষা করতে গিয়ে শিরক নয়, বরং তানফি (অস্বীকার) করেছে”।
— মাজমু আল-ফতোয়া, ০৩/২৭

আহলে-সুন্নাহর অবস্থানঃ
আহলে-সুন্নাহ বলেঃ আল্লাহর সিফাতগুলো বাস্তব (حقيقية), সেগুলো আল্লাহর সত্তা থেকে পৃথক নয়, তবে আল্লাহর সত্তাও নয়।
মহান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,
“আল্লাহর সদৃশ কোন কিছুই নেই” (সূরাঃ শূরা, অধ্যায়- ৪২, আয়াতঃ ১১)।
অর্থাৎ, আল্লাহর সিফাত আছে, কিন্তু সৃষ্টির মতো নয়।

31/10/2025

❝বিয়ের আগে প্রেম ও অবৈধ সম্পর্ক — ধ্বংসের পথে সমাজ!❞/ ❝প্রেম নয়, পাপের সূচনা — মন ও নফসের এক সূক্ষ্ম প্রতারণা!❞।

❖ আজকের সমাজে ❝প্রেম❞ শব্দটি এক মায়াবী জালে পরিণত হয়েছে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা ভাবে— ❝ভালোবাসা তো খারাপ কিছু নয়!❞ কিন্তু তারা ভুলে যায়, শয়তানের সবচেয়ে সূক্ষ্ম অস্ত্র হলো ❝পবিত্রতার মুখোশে পাপকে সুন্দর করে তোলা❞। আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রেমের নামে যেই জগতে ডুবে আছে, সেটা আসলে জাহান্নামের দিকে টেনে নেওয়া একটি সুসজ্জিত দড়ি! শয়তান এখন সরাসরি ব্যভিচার শেখায় না— সে শেখায় ❝হালকা সম্পর্ক❞, ❝চ্যাটে কথা বলা❞, ❝বন্ধুত্ব❞, ❝ভালো লাগা❞...
আর ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় পতন।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা বলেন—
❝তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না; নিশ্চয়ই এটা এক অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ❞। (সূরাঃ বনি-ইসরাইল, অধ্যায়- ১৭, আয়াতঃ ৩২)।
অর্থাৎ ব্যভিচার শুরু হয় অনেক আগেই — এক দৃষ্টিতে, এক বার্তায়, এক অনুমতিহীন সান্নিধ্যে।
প্রেম, যখন আল্লাহর সীমার বাইরে গড়ে ওঠে, তখন সেটা হয় নফসের বন্দিত্ব।

❖ প্রেমের আসক্তি একধরনের মানসিক নেশা।
মানুষ যখন আল্লাহভীতি হারায়, তখন ❝ভালো লাগা❞ কেই ❝ভালোবাসা❞ ভাবে।
অধিকারহীন সম্পর্কে মন ক্রমে ❝অধিকার❞ খোঁজে, এবং প্রত্যাখ্যাত হলে ❝আঘাত❞ হয়ে ওঠে বিষণ্নতা, অবসাদ ও আত্মবিধ্বংস। যখন দৃষ্টি হারাম হয়, মন হারাম হয়, আর মন হারাম হলে শরীর পাপের দিকে গড়ায়। এভাবেই ❝ভালোবাসা❞ নামের মুখোশ খুলে যায় — দেখা দেয় ❝যিনা❞ নামক ভয়ংকর পাপ।
যে সম্পর্ক আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শুরু হয়,
সেটা কখনও শান্তি আনে না— বরং আসক্তি, অবসাদ, অপরাধবোধ আর পাপের ঘূর্ণিতে ফেলে দেয়।
তুমি যত বেশি হারাম সম্পর্কে জড়াও,
তত বেশি তোমার আত্মা মরে যায়।

মনোবিজ্ঞান বলে —
❝যে ভালোবাসা সীমাহীন স্বাধীনতায় গড়ে ওঠে,
তা আত্মনিয়ন্ত্রণ ভেঙে আত্মধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়❞।

❖ মানবজীবনের প্রতিটি আকর্ষণ দুই রকম—
একটি আল্লাহর দিকে টানে, আরেকটি আল্লাহ থেকে সরায়। বিয়ের আগে প্রেম সেই দ্বিতীয় দিকের প্রতিচ্ছবি। এটি স্বাধীনতা নয়— এটি আত্মার বিভ্রম।যেখানে নৈতিকতা হারায়, আত্মমর্যাদা ভেঙ্গে পরে, আর ভালোবাসা হয়ে যায় কেবল শরীরের দাবিতে সীমিত।আজকার প্রেমিক যুগলরা একে অপরের সামনে ❝ভালোবাসা❞র নাটক করছে, কিন্তু আল্লাহর সামনে তারা ❝গুনাহে জড়ানো পাপী❞ ছাড়া কিছুই নয়।

ইমাম আবু বকর ইবনে কাইয়ুম আল-জাওযি (রাহিঃ) বলেন—
❝যে ভালোবাসা আল্লাহর জন্য নয়, তা একসময় অপমানের কারণ হয়❞।

রাসূলিল্লাহ ﷺ বলেছেন—
❝যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে একান্তে থাকে, তখন তৃতীয়জন হয় শয়তান❞ [তিরমিযি, ১১৭১]।

আর আল্লাহ বলেন—
❝ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ—উভয়কে একশ বেত্রাঘাত করো❞ (সূরাঃ আন-নূর, অধ্যায়- ২৪, আয়াতঃ ০২)।
এই আয়াত শুধু আইন নয়, এক নৈতিক ঘোষণা —
যে সমাজ শালীনতা হারায়, সেখানে ন্যায় হারায়, শান্তি হারায়, আর আত্মার পরিশুদ্ধি নিঃশেষ হয়।
এটা কোনো সামান্য বুলি না— এটা আল্লাহর আইন, যে আইন অমান্য করলে দুনিয়া ও আখিরাত— দুইই ধ্বংস।

❖ বিবাহ বহির্ভূত প্রেম সমাজের ক্ষয় — আত্মার ক্ষয়। প্রেম-নির্ভর সংস্কৃতি যে ফল দেয় তা আমরা প্রতিদিন দেখিঃ
▪️ আত্মমর্যাদা ও পবিত্রতার ক্ষয়।
▪️ পরিবারে অবিশ্বাস, দাম্পত্যে অশান্তি।
▪️ নৈতিক অবক্ষয়, অকাল মাতৃত্ব ও মানসিক বিপর্যয়।
▪️ আল্লাহর রহমত থেকে দূরত্ব।

❖ সমাধান — নফসকে নিয়ন্ত্রণ, সমাজকে পরিশুদ্ধ করা।
০১. তাকওয়া অর্জন করা — আল্লাহকে ভয় করা, কারণ ভয়ই ভালোবাসাকে শুদ্ধ করে।
০২. দৃষ্টি ও অন্তর সংযম করা — চোখের যিনাকে বন্ধ করা, তবেই হৃদয় মুক্ত হবে।
০৩. বিয়েকে সহজ করা — পবিত্র সম্পর্কের পথ বন্ধ করলে পাপের পথ খুলে যায়।
০৪. পরিবার ও মসজিদকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব তৈরি করা — যেন তরুণরা নৈতিক আশ্রয় পায়।
০৫. দাওয়াহ ও ইসলাহ্ (সংস্কার) আন্দোলন — সমাজে পবিত্রতার পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে।

❖ তাকওয়াই মুক্তির আলো—
মহান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন—
❝যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য বের হওয়ার রাস্তা করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না❞ (সূরাঃ আত-ত্বালাক, অধ্যায়- ৬৫, আয়াতঃ ২-৩)।
তাকওয়াই প্রেমকে পবিত্র করে, আর পবিত্র প্রেমই বিয়ের সৌন্দর্য। আমরা চাই — এমন এক সমাজ, যেখানে তরুণরা শরীর নয়, আত্মাকে ভালোবাসবে;
যেখানে ভালোবাসা শুরু হবে নিকাহ থেকে, শেষ হবে জান্নাতে।

Address

Chittagong

Telephone

+8801622403057

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Archive - সংগ্রহশালা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Archive - সংগ্রহশালা:

Share