04/09/2026
সন্দ্বীপে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জোরালো
পাকিস্তান আমলেই হরিশপুরে ৩১ একর জমি অধিগ্রহণের দাবি | এমপির সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎ | দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
শামসুদ্দীন শামস।
“বিদ্যুৎ হয়েছে, ফেরি হয়েছে—বিমানবন্দরও হবে”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সন্দ্বীপে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার মূল স্রোতের সঙ্গে সন্দ্বীপকে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকায় ‘সন্দ্বীপ বিমানবন্দর বাস্তবায়ন দাবি পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সন্দ্বীপের উন্নয়নের সঙ্গে আধুনিক ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একসময় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ফেরি চলাচল ছিল সন্দ্বীপবাসীর কাছে স্বপ্নের মতো। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘যে স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে, বিমানবন্দরও হবে’
সভায় বক্তারা বলেন, “যে বিদ্যুৎ একসময় স্বপ্ন ছিল, তা আজ বাস্তব হয়েছে; যে ফেরি একসময় স্বপ্ন ছিল, সেটিও আজ বাস্তব। তাহলে সন্দ্বীপে বিমানবন্দর নির্মাণের স্বপ্ন কেন বাস্তবায়ন হবে না?”
তাদের মতে, বর্তমান সময়ে একটি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যাতায়াতের সুবিধাই নয়—একটি অঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
পাকিস্তান আমলেই হরিশপুরে ৩১ একর জমি অধিগ্রহণের দাবি
সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে বক্তারা দাবি করেন, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সন্দ্বীপের হরিশপুর এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্দেশ্যে ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। ওই জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
নৌপথের পাশাপাশি চাই দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ
বক্তারা বলেন, বর্তমানে সন্দ্বীপের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা, নৌযান সংকট কিংবা ঘাটকেন্দ্রিক নানা সমস্যার কারণে অনেক সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং প্রবাসীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দ্রুত যোগাযোগের অভাব বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।
সভায় বক্তারা বলেন, “একজন সন্তান যেন শুধু যোগাযোগের সমস্যার কারণে অসুস্থ মা-বাবার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে না পারার কষ্টে না ভোগেন—সেই বাস্তবতাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।”
সম্ভাব্যতা যাচাই ও সরকারি উদ্যোগের দাবি
সভা থেকে সন্দ্বীপে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ভূমি ও সরকারি নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা মনে করেন, বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব হলে সন্দ্বীপের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।
দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান
সভায় বিমানবন্দর বাস্তবায়নের দাবিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর দাবি হিসেবে না দেখে সন্দ্বীপের সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকল সন্দ্বীপবাসী, বিশেষ করে প্রবাসীদের এ দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা বলেন, দল-মত-পথের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সন্দ্বীপের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে একটি অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এমপির সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎ
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য আলহাজ মোস্তফা কামাল পাশার সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাক্ষাতে সন্দ্বীপে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি, সম্ভাব্য স্থান, ভূমি অধিগ্রহণের ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
সভায় উপস্থিতরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দাবি উপস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় উপস্থিত ছিলেন—ইঞ্জিনিয়ার তামজিদুর রহমান, মোহাম্মদ আলমগীর, শাহাদাৎ হোসেন আশরাফ, রুহুল আমিন, ফিরোজ চাষী, আ. স. ম. মনজুর এলাহী, মো. ইব্রাহীম খলিল, মো. হুমায়ূন কবির, মো. এনায়েত উল্যা এনাম, মোহাম্মদ আলী এনাম, মু. হুমায়ুন কবির ছিদ্দিকী, মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মো. হেলাল উদ্দীন দোলন, মো. নজরুল ইসলাম শাহীন, মো. নুরুলহুদা, মো. শাহাব উদ্দিন আজাদ, মো. সালাউদ্দিন, মো. আনওয়ারুল আলম মনজু ও শামসুদ্দীন শামস।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, শক্তিশালী জনমত এবং সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্দ্বীপ বিমানবন্দর বাস্তবায়নের স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে, ইনশাআল্লাহ।
সন্দ্বীপকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়—আধুনিক, সমৃদ্ধ ও দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগে যুক্ত একটি সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আজকের স্বপ্নই হোক আগামী দিনের বাস্তবতা।
সন্দ্বীপ এগিয়ে যাবে—ইনশাআল্লাহ।
#সন্দ্বীপ #সন্দ্বীপবিমানবন্দর #বিমানবন্দরচাই #সন্দ্বীপবিমানবন্দরবাস্তবায়ন #সন্দ্বীপেরউন্নয়ন #সন্দ্বীপবাসী #প্রবাসীসন্দ্বীপবাসী #আধুনিকযোগাযোগ #সন্দ্বীপএগিয়েযাবে