07/11/2023
ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস স্টার্ডিস পাশ করে গ্রামে ফিরেছে। বাবা-মা বেজায় খুশি। অল্পকাল পরে ফিরে গিয়েই সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগদান করবে। ছেলে গ্রামে ফিরে দেখলো তার বাবার ফাস্টফুডের দোকানটি বেশ জমজমাট। প্রতিদিন শত শত লোক দূর দূরান্ত থেকে তার বাবার দোকানে চা, সিঙ্গাড়া, সমুচা, খেতে আসে। ছেলে এই উপচে পড়া ভিড় দেখে একদিন তার বাবাকে ডেকে বলল,
- বাবা তুমি কি জানো যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন খুব খারাপ?
বাবা বললেন- না আমি তো এ ব্যপারে তেমন কিছুই জানি না। আমি মূর্খ সুর্খ লোক। আমি এগুলো জানব কী করে?
ছেলে আরেকধাপ সরেশ হয়ে বলল, বৈশ্বিক পরিস্থিতি খারাপ আর অভ্যন্তরীণ অবস্থা অনেক বেশি নাজুক। যে কোন সময় অর্থনৈতিক ধ্বস নামতে পারে। আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে অনাগত দুর্দিনের জন্য। এই বলে ছেলে, পুনরায় ঢাকার পথে রওনা দিলো।
বাবা ছিলেন অশিক্ষিত, ফলে তিনি পত্রিকা পড়তে জানতেন না। তিনি ঠিকঠাক কানেও শুনতেন না বলে, নিয়মিত রেডিও শোনাও হতো না। বাবা ভাবলেন ছেলে যেহেতু প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়েছে, নিশ্চয় সে সঠিক জিনিসই শিখেছে। তার কথা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এরপর তিনি ধীরে ধীরে তার দোকানের কর্মচারী ছাটাই করতে শুরু করলেন। কারন, বিপদ আসার আগেই কিছু টাকা সেইভ করে ফেলতে হবে। দোকানের কর্মচারী ছাটাই করার কারনে সিঙ্গাড়া উৎপাদন কমে গেলো। অনেক কাস্টমার এসে সিঙ্গাড়া না পেয়ে ফিরে গেলো। এভাবে কয়েকদিন চলার পরে কাস্টমার আসা কমে গেলো। বাবা লক্ষ্য করে দেখলেন যে হঠাৎ তার কাস্টমার কমে গেছে এবং বিক্রিও কমে গেছে। বাবা মনে মনে ছেলেকে ধন্যবাদ দিলেন, ভাগ্যিস যথাসময় তার ছেলে তাকে সতর্ক করেছিলো। এরপর আরও কাস্টমার কমে গেলে, তিনি দোকানের সাইনবোর্ডটা খুলে রাখলো যাতে অতিরিক্ত ইলেক্টিসিটি খরচ না হয়। এরপর দোকানের সাইনবোর্ড দেখতে না পেয়ে কাস্টমারেরা আসাই বন্ধ করে দিলো তার দোকানে।
এদিকে ছেলে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগ দিয়ে কাজ করতে লাগল। বছর ঘুরে একদিন সেই কোম্পানির সিইও এর হাতে কর্মীদের এনাওল রিপোর্ট আসলো। ঘটনা ক্রমে সিইও জানতে পারলেন যে, তার এই কর্মী ভয়ংকর বিচক্ষণতার মাধ্যমে তার বাবার চলমান বিজনেসকে কিভাবে শার্ট ডাউন করে দিয়েছেন। সিইও আর এক মূহুর্ত অপেক্ষা না করে তার কোম্পানি থেকে ছেলেটিকে স্যাক করে দিলেন।
এরপর ছেলেটি আরও অনেক যায়গায় চাকুরীর জন্য চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে, অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এলো। ফিরে বাবাকে বলল,
- বাবা, চাকুরী আর ভাল্লাগে না। চাকুরী করব না। চলো আমরা নিজেদের ব্যবসাটাই চালাই।
বাবা উত্তর দিলেন- তুমি ঠিকই বলেছিলে বাবা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না। দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা আরও খারাপ। আমি তোমার কথা শুনেছিলাম বলেই কোন লসে পরবার আগেই ফাস্টফুডের দোকানটা বন্ধ করে দিতে পেরেছি। এখন আর আমাদের নিজেদের ব্যবসা বলে কিছু নেই। তুমি ঢাকা গিয়ে পুনরায় চাকুরির চেষ্টা করো....
এই গল্পের নীতিশিক্ষা ৪ টি:
১. একাডেমিক শিক্ষা সবসময় আপনাকে বিচক্ষণতা নাও শেখাতে পারে।
২. নেগেটিভ এটিটিউড বা ভাইবের কাউকে ফাইন্ড আউট করতে পারলে দ্রুতই তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করুন।
৩. অক্সফোর্ডের শিক্ষা থেকে অভিজ্ঞতার দাম নিতান্তই কম নয়। সুতরাং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিন।
৪. পরশ্রীকাতর চাকুরীজীবী না হয়ে, নিজের পৈতৃক ব্যবসায় হাত লাগান কারন অর্থনৈতিক বিচারে বাবার স্থাপিত ব্যবসা সন্তানের জন্য অধিকতর নিরাপদ আর্থিক যোগান।