09/08/2026
উম্মুল মাদারিস দারুল উলূম হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর শুভাগমন
উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়; পুনরায় সফরের আগ্রহ ব্যক্ত
=====================
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র, ‘উম্মুল মাদারিস’ আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীতে শুভাগমন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
আজ (৯ আগস্ট) রোববার বিকেলে জামিয়ার নতুন মসজিদ গেটে গাড়ি থেকে নামলে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান জামিয়ার মহাপরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.), মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা শফিউল আলমসহ জামিয়ার ঊর্ধ্বতন শিক্ষকবৃন্দ।
এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জামিয়ার বায়তুল আতিক জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত মাকবারায়ে জামিয়ায় গিয়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর কবর যিয়ারত করেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সহ সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
কবর যিয়ারত শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জামিয়ার শিক্ষাভবনের পাশ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রতি সালাম ও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে তিনি জামিয়ার দারুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় মহাপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে জামিয়ার মহাপরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (হাফি.), শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.), শায়খে সানী হযরত আল্লামা শোয়াইব জমিরী, শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মুহাদ্দিস হযরত আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.), হযরত আল্লামা কবীর আহমদ (দা.বা.), হযরত আল্লামা আশরাফ আলী নিজামপুরী (দা.বা.)সহ উপস্থিত মুহাদ্দিস, মুফতি ও উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় হাটহাজারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার আমন্ত্রিত মুহতামিমগণও উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত উলামায়ে কেরামের সঙ্গে একে একে সালাম বিনিময় ও মুসাফাহা করেন।
সাক্ষাৎকালে সময়স্বল্পতা ও পরবর্তী কর্মসূচির কারণে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় জামিয়ার মহাপরিচালকসহ উপস্থিত উলামায়ে কেরামের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পুনরায় দারুল উলূম হাটহাজারী সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জামিয়ার মহাপরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জামিয়ার পক্ষ থেকে একটি মানপত্র প্রদান করেন। পাশাপাশি তাঁকে জায়নামায, তাসবীহ, টুপি ও আতর হাদিয়া দেওয়া হয়।
মানপত্র প্রদানকালে জামিয়ার মহাপরিচালক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দারুল উলূম হাটহাজারী সফর কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও দেশের প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নৈতিক, শিক্ষাগত ও জাতীয় কল্যাণে সমন্বিত উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলামের আদর্শ, মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় দেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহ ও উলামায়ে কেরামের গৌরবময় অবদান জাতীয় জীবনে আরও ব্যাপক স্বীকৃতি ও প্রাপ্য মর্যাদা লাভ করবে।
এ সময় আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.) বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে দ্বীন, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে আলেম সমাজ ও কওমী মাদ্রাসাসমূহের সঙ্গে আপনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ, সহযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করি, কওমী মাদ্রাসা ও আলেম-উলামাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অপপ্রচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষ এবং হয়রানিমূলক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে তাঁরা দেশ ও জাতির পাশাপাশি ইসলামের খিদমতে আরও নির্বিঘ্নে তাঁদের গৌরবময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”
সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জামিয়ার মাঠের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে শাহীগেটের দিকে যাত্রা করেন। এ সময় তিনি মাঠ ও বিভিন্ন ভবনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সালাম ও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সঙ্গে তাঁকে অভিবাদন জানায়। বিদায়কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় দারুল উলূম হাটহাজারী সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ শাহীগেট পর্যন্ত গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই শুভাগমন দারুল উলূম হাটহাজারীর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ফারেগীন ও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আনন্দিত ও আশাবাদী করেছে। জামিয়া কর্তৃপক্ষ আশা করে, এই ঐতিহাসিক সফর কওমি মাদ্রাসা, দ্বীন-ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।