02/02/2026
চট্টগ্রামের “ও আর নিজাম রোড”
এই নামটা আমরা সবাই প্রায় প্রতিদিনই শুনি বা ব্যবহার করি।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন—এই রোডের নামটা কার নামে রাখা?
চলুন, একটু পেছনে ফিরে দেখি চট্টগ্রামের এক গর্বিত ইতিহাস।
ও আর নিজাম রোড নামকরণ করা হয়েছে ওবায়দুর রহমান নিজাম (১৯০২–১৯৭০) এর নামে, যিনি আমাদের কাছে পরিচিত ও. আর নিজাম নামে। তিনি প্রায় ১৫ বছর চট্টগ্রাম সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই নির্বাচিত পদটিকে বলা হতো চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান।
জাকির হোসেন রোড থেকে শুরু হয়ে পাঁচলাইশ থানায় গিয়ে শেষ হওয়া এই রাস্তাটি আজ দোকান, ক্লিনিক ও আবাসিক ভবনে পরিপূর্ণ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ মসজিদ ও বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়েই চলে গেছে এই ঐতিহাসিক সড়ক।
ও. আর নিজাম জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৩ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ গ্রামে। চট্টগ্রাম পৌর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জীবনের প্রয়োজনে পরিবারসহ চলে যান রেঙ্গুন (বর্তমান মায়ানমার), পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে।
নিজের কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণে তিনি মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে বোর্নিও কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সারাওয়াকের পক্ষে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ শেষে জাপান সারাওয়াক দখল করলে তিনি গ্রেফতার হন ও কারাবন্দি থাকেন। পরে মুক্তি দিয়ে জাপানিরা তাকে সারাওয়াকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেও তিনি অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজ দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৪৮ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামে গ্রাহাম ট্রেডিং কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকেই চট্টগ্রামের ব্যবসা ও উন্নয়নে তার অবদান হয়ে ওঠে অনস্বীকার্য। তিনি টার্নার গ্রাহামস ও রবিনসন ফুডসের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়ন কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম বাঙালি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যা আজকের পূবালী ব্যাংক। শুরুটা ছিল টেরীবাজার থেকে, পরে আগ্রাবাদ সাত্তার চেম্বারে স্থানান্তরিত হয় প্রধান কার্যালয়। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ব্যাংকটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নামকরণ করা হয় পূবালী ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে এটি আবার বেসরকারি খাতে ফিরে আসে। দীর্ঘ পথচলায় মানুষের আস্থা আর ঐতিহ্য বহন করে ১৯৫৯ থেকে ২০২৬—৬৭ বছর পূর্ণ করেছে পূবালী ব্যাংক।
তথ্য সূত্র: O.R. Nizam Memorial Trust
সংগৃহীত সৌজন্যে: Khaled's Vlog
চট্টগ্রামের ইতিহাসের এমন আরও জানা-অজানা গল্প জানতে ও জানাতে আমাদের পেজে যুক্ত থাকুন।