20/07/2026
আজকে শেষ বাঁশিটা বাজল।
তারপর ক্যামেরা গিয়ে থামল মাঠের এক কোণে। মাঠের এক কোণে একা বসে ছিল রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটা। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব আলো, সব করতালি, সব প্রেশার যেন ধীরে ধীরে তার কাঁধ থেকে নেমে যাচ্ছে।
না, শুধু একটা মানুষ না…
সেখানে বসে ছিল আমাদের শৈশব, কৈশোর ,তারুণ্য।
আজ বুঝলাম, আমরা পুরো ম্যাচটা আসলে আর্জেন্টিনার জন্যও অপেক্ষা করিনি। আমরা অপেক্ষা করেছি একবার, শুধু আর একবার, মেসির পা থেকে অসম্ভব কিছু দেখব বলে। প্রতিবার বলটা তার কাছে গিয়েছে, বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠেছে। মনে হয়েছে, এই তো… এবার হয়তো সেই পুরোনো জাদুটা হবে। এই তো আবার সবাইকে ভুল প্রমাণ করবে।
সে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে, বয়সের ভার নিয়ে, তবুও একবারও হাল ছাড়েনি। কারণ সে জানত, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোটি কোটি মানুষ এখনও বিশ্বাস করে মেসির পায়ে বল মানেই অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু সব প্রার্থনার উত্তর জয় হয়ে আসে না। কিছু প্রার্থনা শেষ হয় একজন ক্লান্ত মানুষের নিঃশব্দে ঘাসের ওপর বসে থাকার দৃশ্যে।
আমাদের ছোটবেলায় এত কিছু ছিল না।
ফেসবুক ছিল না, ইউটিউব ছিল না, ফোন ভর্তি ছবি ছিল না। প্রথম আলো কিংবা অন্য কোনো পত্রিকায় মেসির ছবি বের হলে কী যত্ন করেই না কেটে রাখতাম। বইয়ের ভেতর, খাতার ভেতর, ড্রয়ারের এক কোণে লুকিয়ে রাখতাম। যেন কেউ নিয়ে না যায়।
তখন ভালোবাসা কী, আমরা জানতাম না।
শুধু জানতাম, এই মানুষটা গোল করলে আমাদেরও অকারণে মন খুশিতে ভরে ওঠে, এই মানুষটা হারলে সারাদিন মন খারাপ থাকে। কেন থাকে, সেটাও জানতাম না।
আজ বুঝি....
আজ মাঠে একা বসে থাকা মানুষটাকে দেখে মনে হচ্ছিল, সময়টা শুধু তার নয় আমাদেরও শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ কিছু মানুষকে দেখে আমরা নিজেদের একটা সময়কে বাঁচিয়ে রাখি। তারা বুড়ো হলে হঠাৎ বুঝতে পারি, আমরাও আর আগের মতো ছোট নেই।
কোন দল হারলো আর কোন দল জিতল, সেটাও একদিন সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু মাঠের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকা একজন মানুষ আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের একসাথে ভেঙে পড়া হৃদয়ের শব্দ ওগুলো কোনোদিন পুরোনো হবে না।
বিদায়, লিও। এখন তুমি রেস্ট নাও!
তুমি শুধু আর্জেন্টিনার নও।
তুমি আমাদের শৈশব, কৈশোর, তারুণ্যের সবচেয়ে সুন্দর এক অধ্যায়, আর সবচেয়ে প্রিয় অসম্ভব বিশ্বাস ছিলে।
Some people leave football. You became a part of our lives.
Adiós, Maestro. Adiós, Leo Messi ❤️🇦🇷
LM10❤️🇦🇷