23/08/2026
নিখোঁজের ৬ দিন পর জাহিদ উদ্ধার, অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ
বসুরহাট থেকে মদনপুর, গাউছিয়া হয়ে গাবতলী—৬ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন জাহিদ
নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন জাহিদ। ফিরে এসে তিনি দাবি করেছেন, গাউছিয়া এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
জাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট বুধবার দুপুর ২টার দিকে বসুরহাট থেকে ড্রিমলাইন পরিবহনে করে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার দিকে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে ফরহাদ নামে এক ব্যক্তি তাকে গাউছিয়া যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় আরও একজনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয় তাকে।
গাউছিয়ায় পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের না পেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেন জাহিদ। তার দাবি, এরপর হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। গাড়ি থেকে দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি নেমে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়।
জাহিদের দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছুই নেই। এরপর তাকে মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহিদের ভাষ্য, কয়েক দিন তাকে অল্প খাবার হিসেবে বনরুটি দেওয়া হয়। প্রায় ছয় দিন এভাবে থাকার পর ১৯ আগস্ট রাতে তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর আবারও তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে দেখতে পান বলে জানান জাহিদ।
সেখানে এক হোটেল ব্যবসায়ী তার পরিচয় জানতে পেরে রাত ১টা ৪৩ মিনিটে জাহিদের বড় ভাই শাহেদকে ফোন করেন। পরে ওই দোকানদারের সহযোগিতায় শাহেদ তার ভাইকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফেরার পরও জাহিদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। তিনি খাবার খেতে পারছেন না এবং খাবার খাওয়ার পর তা বের হয়ে যাচ্ছে।
তবে জাহিদকে কারা, কেন এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়েছিল—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ছবি: নিখোঁজের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসা জাহিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার সময়ের ছবি।
বিশেষ প্রতিবেদন