24/10/2025
শিক্ষকের সাথে অভিভাবকদের ব্যবহার: সন্তানের ভবিষ্যতের ভিত্তি!
শিক্ষক হলেন আপনার সন্তানের দ্বিতীয় অভিভাবক, যিনি তার জ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করেন। শিক্ষকের প্রতি আমাদের আচরণ ও ব্যবহার কেমন হবে, তা সন্তানের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
আসুন, সন্তানের কল্যাণের জন্য শিক্ষকের সাথে অভিভাবক হিসেবে আমাদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত, তা জেনে নিই:
১. শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করুন:
শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানেই থাকুন না কেন, তিনি আপনার সন্তানের শিক্ষার জন্য সময় দিচ্ছেন। সব সময় তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করুন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানও আপনার আচরণ থেকে শিখছে। আপনি শিক্ষককে সম্মান দেখালে, সন্তানও তাঁকে সম্মান করতে শিখবে।
২. গঠনমূলক সম্পর্ক রাখুন:
শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই নয়, সন্তানের অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তবে সেটি যেন অযাচিত বা বিরক্তিকর না হয়। শিক্ষকের মূল্যবান সময়কে মূল্য দিন।
সন্তানের দুর্বলতা বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় নম্র ও বিনয়ী হোন।
শিক্ষকের কোনো সিদ্ধান্ত বা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সেটি একান্তে ও শালীনতার সাথে আলোচনা করুন। জনসমক্ষে বা অন্য অভিভাবকদের সামনে সমালোচনা করবেন না।
৩. শিক্ষকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করুন:
মাদরাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু নিয়মকানুন থাকে। শিক্ষকের নেওয়া যেকোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে তাঁকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করুন। বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকের সমালোচনা করলে সন্তানের মনে তাঁর প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মায়, যা শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।
৪. সমস্যা সমাধানের মনোভাব রাখুন:
যদি সন্তানের পক্ষ থেকে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অভিযোগ থাকে, তবে আগে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আবেগপ্রবণ না হয়ে, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য শিক্ষকের সাথে একযোগে কাজ করুন।
💡 মনে রাখবেন: শিক্ষকের সাথে আপনার সুসম্পর্ক আপনার সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে। আপনার বিনয় ও সহযোগিতা শিক্ষকের প্রচেষ্টাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
আসুন,
আমরা আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখি।
মোহাম্মদ রহিছ মিয়া
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান গণিত বিভাগ
কুমিল্লা সরকারি কলেজ , কুমিল্লা ।