18/10/2025
"আপনার গায়রত থাকলে স্ত্রীকে চাকরি করাবেন না!"
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার গায়রত তখন কোথায় থাকে যখন আপনার স্ত্রীকে আপনার কাছে টাকা চাইতে হয় প্রতিদিন ভিক্ষুকের মত? আর আপনি খরচের টাকা নিয়ে এক হাজার প্রশ্নের ডালা সাজিয়ে বসেন?
আপনার গায়রত কোথায় থাকে যখন আপনার স্ত্রী তার বাবা মাকে কিছু দিতে চায় আর আপনি নিজের পরিবারের পিছনে টাকা খরচ করলেও শ্বশুরবাড়িকে দিতে অস্বীকার করেন?
আপনার গায়রত তখন কোথায় থাকে যখন বাইরে থেকে এসে স্ত্রীকে ঝাড়ি দিয়ে বলেন, "সারাদিন বাসায় বসে কি ঘোড়ার ডিম করছ?!"
আপনার গায়রত তখন কোথায় থাকে যখন বউ সংসার সামলে, আপনার সন্তানদের সামলে, ঘরের কাজ সামলে আসার পর বলেন, "তুমি কি বুঝবা? তোমরা মহিলা মানুষ কিছু বুঝো?"
আপনার গায়রত তখন কোথায় থাকে যখন স্ত্রী কোথাও বেড়াতে যেতে চায়, বান্ধবীর বাসায়, কিংবা কাছের কারো বাসায় যেতে চায়, তখন যেতে তো দেনই না, টাকাও দেন না? আজেবাজে যত ভাষা আছে, সব করেন? সাথে তো আপনার পারিবারিক ড্রামা ফ্রি!
খালি চাকরির বেলাতেই যত মুখের তর্ক। আর স্ত্রীকে সম্মান অধিকার দেয়ার বেলায় গায়রতের দরকার নাই? তখন কি থাকেন? নপুংসক?
আজকে যে এত এত মেয়ে চাকরি করতে চায়, এর দোষ পুরুষদেরই। এই মেয়েরা দেখে আসছে, তাদের মা-চাচীরা বাবা-চাচাদের কাছে চাকরি না করায় কি পরিমাণ অপমানিত হতো। অথচ তারা যে বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দিয়ে বরের হাজার হাজার টাকা বাঁচাতো, এর জন্য সম্মানটাও পায় নাই। তাই তাদের মনে এই চিন্তা ঢুকেছে। পুরুষের অসম্মানই আজকের বেশিরভাগ মেয়েকে বাইরে সামান্য কিছু টাকার জন্য যেতে বাধ্য করেছে।
হাত খরচ দেবে না!
সংসারে তার কন্ট্রিবিউশান স্বীকার করবে না!
বাচ্চা, আত্মীয়দের সামনে অপমান করবে!
ভালো রান্না হলে প্রশংসা করবে না!
কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত নেবে না!
তাদের দুঃখ কষ্টের কোনো দাম থাকবে না!
অথচ নিজেরা বাইরে দু'পয়সা কামাই করে ভাববে তার একার কারণে সংসার টিকে আছে। ঠিক সেই সংসারের স্ত্রী যখন মরে, তখন বুঝা যায় কার জন্য কি চলছিল। পুরুষরা তখনও দেরী না করে আরেকজন নারীকে নিয়ে আসে সংসার চালাতে।
স্ত্রীকে অসম্মান তারাই করে যাদের গায়রত নেই। আর যেসব পুরুষের গায়রত আছে, তাদের স্ত্রীরা চাকরি করতেও চায় না। হয়ত অনেকে করে তাদের ভালো লাগা থেকে, কেউ টাকার জন্য, কেউ কোনো কাজে এংগেজ থাকার জন্য।
কিন্তু এমন নারীদের সংখ্যা কম। আমি এমন অনেক নারীদের দেখেছি, তাদের স্বামীরা টাকা এবং সম্মান দেয় না বলে বছরের পর বছর সামান্য বেতনের চাকরিও ছাড়ে না। কারণ চাকরি ছাড়ার সাথে সাথে না তাকে তার স্বামী কিছু টাকা দেয়, না সম্মান।
যারা ফেসবুকে মেয়েদের চাকরি নিয়ে বেশি লাফায়, তাদের ঘর ঘাঁটলেই দেখা যাবে, তাদের নারীদের অসম্মানের সাথে দাবিয়ে রাখার জন্য এইসব বুলি!
রাসুলুল্লাহ সাঃ নারীদের শিক্ষার্জন, শিক্ষাদানে বাঁধা দেন নাই। নারীরা আগেও তালিম করতো, তাদের কাছে অনেকেই আসতেন হাদীস জানতে, মাসালা জানতে। অথচ আমাদের সমাজের এমন অবস্থা যে, মেয়েদের পড়ালেখার দরকার নাই, চাকরির তো নাইই!
অবশ্য আপনারা এসব বলবেনই। কারণ আপনি তো জানেন, আপনার স্ত্রীর যোগ্যতার তুলনায় আপনি একটা গন্ডমূর্খ। তাকে না দাবিয়ে রাখলে আপনার রাজত্ব কি টিকবে???
©️Abiar Maria