04/09/2026
US-Bangla Airlines নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ট্রমাটিক ছিলো😪 আপনাদের কি অবস্থা?
যাত্রীদের ভোগান্তির দায় কে নেবে? DATE:- 2026-01-08
US-Bangla Airlines-এর সঙ্গে আমার সাম্প্রতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। পুরো যাত্রাটাই ছিল দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা, সময়ের অপচয় এবং অতিরিক্ত খরচে ভরা।
🇧🇩 বাংলাদেশ যাওয়ার সময় যা ঘটেছে
📅 প্রথম নির্ধারিত ফ্লাইট: ৫ জানুয়ারি
আমাদের ফ্লাইট প্রথমে ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল। পরে সেই ফ্লাইট বাতিল করে নতুন তারিখ দেওয়া হয় ৮ জানুয়ারি।
📅 নতুন ফ্লাইট: ৮ জানুয়ারি
🕙 নির্ধারিত ছাড়ার সময়: রাত ১০:১০ মিনিট
🕓 বাস্তবে বিমান ছাড়ে: ভোর প্রায় ৪:০০টার দিকে
অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে বিমান ছাড়ে।
এর ফলে আমরা চট্টগ্রামে পৌঁছাই ৯ জানুয়ারি।
এরপর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গিয়ে আরও একটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
🧳 আমাদের ২টি কার্টুন আসেনি। শুধু একটি লাগেজ পেয়েছিলাম। আশপাশের অনেক যাত্রীরও একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল।
📅 প্রায় ২ থেকে ৩ দিন পর আবার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যেতে হয় আমাদের কার্টুনগুলো সংগ্রহ করার জন্য।
এর ফলে আবারও গাড়িভাড়া, সময় এবং অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। একটি স্বাভাবিক যাত্রা যেখানে স্বস্তির হওয়ার কথা, সেখানে পুরো বিষয়টি আমাদের জন্য মানসিকভাবে বেশ চাপের ছিল।
🔴 ফেরার সময়ও একই ধরনের অনিশ্চয়তা
📅 ফেরার নির্ধারিত তারিখ: ২০ এপ্রিল
📍 আবুধাবি বিমানবন্দর
কিন্তু ২০ এপ্রিলের আবুধাবি ফ্লাইটটিও বাতিল হয়ে যায়।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ২০ এপ্রিল একই দিনে আমার চাচা Air Arabia দিয়ে আবুধাবি বিমানবন্দরে আসতে পেরেছেন।
অন্যদিকে US-Bangla Airlines-এর পক্ষ থেকে আবুধাবি থেকে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অনেক দূরের তারিখ দেওয়া হচ্ছিল। আবার পরবর্তী ফ্লাইটটি নিশ্চিতভাবে হবে কি না, সেটারও কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছিলাম না।
তাই বাধ্য হয়ে কাছের একটি বিকল্প নিতে হয়।
📅 বিকল্প যাত্রার তারিখ: ২৫ এপ্রিল
📍 রুট: দুবাই হয়ে
অর্থাৎ ২০ এপ্রিলের আবুধাবি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর, বাধ্য হয়ে ২৫ এপ্রিল দুবাই হয়ে যাত্রা করতে হয়।
আমার প্রশ্ন হলো, একজন যাত্রী এভাবে বারবার অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন পড়বে?
একবার ফ্লাইট বাতিল, এরপর ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে ফ্লাইট ছাড়ার ঘটনা, গন্তব্যে পৌঁছে ২টি কার্টুন না পাওয়া, পরে সেগুলো আনতে আবার বিমানবন্দরে যাওয়া এবং ফেরার সময়ও ২০ এপ্রিলের ফ্লাইট বাতিল হয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হওয়া।
এভাবে একটি যাত্রার পর আরেকটি যাত্রায় যদি যাত্রীদের ভোগান্তি চলতেই থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, এয়ারলাইনগুলোর জবাবদিহিতা কোথায়?
বিশেষ করে বর্তমানে ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও ভ্রমণ অনিশ্চয়তার সময় এয়ারলাইন নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
আমি কাউকে কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইন ব্যবহার না করার জন্য বলছি না। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যাতে অন্য যাত্রীরা আগে থেকেই বিষয়গুলো জেনে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
একটি এয়ারলাইন থেকে একজন যাত্রী অন্তত তিনটি বিষয় আশা করেন:
সময়মতো ফ্লাইট
সঠিক ও পরিষ্কার যোগাযোগ
যাত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতা
আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং ভবিষ্যতে যাত্রীদের এমন ভোগান্তি কমবে।
NOTE:- তাদের আবুধাবিতে কাস্টমার সার্ভিস যথেষ্ট হেল্প করেছিলো।