20/10/2025
৩৫-৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে কেউ সরকার গঠন করে, তারপর সংবিধানকে নিজেদের খেলার মাঠ বানায়, এটা চলতে পারে না। ৪০ শতাংশ ভোটের সরকার হলে বাকি ৬০ শতাংশ ভোটের মূল্য কোথায়? ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন করেন।
তিনি আরো বলেন, চব্বিশের জুলাই আগস্ট অভ্যূত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম দেশ সঠিক পথে এগোবে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় সেই আকাঙ্খা পূরণ হচ্ছে না। আমরা পাঁচ দফা দাবির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেছি। ৩১টি দল ঐক্যমত্য কমিশনে অংশগ্রহণ করেছে, তার মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে মত দিয়েছে এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দাবি করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ঐক্যমত হওয়া ৮৪ টি বিষয়ে তালবাহানা না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
মুফতী ফয়জুল করীম আরো বলেন, আগামীতে পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ, খুনি ও জুলুমবাজদের ক্ষমতায় নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে দেশের মালিক আর জনগণকে তাদের দাস মনে করেছে। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বললেই খুন, গুম করেছে। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে জানিয়ে জনগণকে মিথ্যে গল্প শুনিয়েছে। অথচ দেশের কোনো ব্যাংকে টাকা নেই। সব টাকা তারা বিদেশে পাচার করে নিয়েছে। বৈদেশিক ঋণের চাপে দেশের অগ্রযাত্রা থমকে যাচ্ছে!
তিনি আরো বলেন, বিগত ১৬ বছরে যারা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর করে দিয়ে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে এবং সর্বত্র জুলুম নির্যাতনের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলো সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তিনি বলেন ৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও বিগত সরকারের আমলে আমরা স্বাধীন দেশে ছিলাম পরাধীন।
আজ ২০ অক্টোবর, সোমবার, বিকাল ৩ টায়, নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ চত্তরে (PR) পিআর আয়োজন সহ ৫দফা দাবীতে "সমাবেশ" অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা উত্তর এর সভাপতি মাও. নজীর আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ উদ্বোধন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ এর সভাপতি মাও. ইউসুফ ভুঁইয়া ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লোকমান হোসেন জাফরী বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে চায়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যাতে ১৮ কোটি মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে তা চূড়ন্ত রূপ নেওয়া পর্যন্ত সকলকে কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার মারুফ শেখ বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে প্রমাণিত হয় জুলুম করে, অত্যাচার করে, জনগণের কন্ঠরোধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য কেবল জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হয়নি। এই বিপ্লব রাষ্ট্রের সকল বৈষম্য দূর করার বিপ্লব, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লব।
জেলা সেক্রেটারি এইচ. এম কাউছার আহমাদ এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান, মাওলানা ফিরোজ আলম, মাও. আবু নাছের, মুদ্দাচ্ছির হোসাইন, নুরুদ্দিন আমানতপুরী, ইকবাল হোসাইন, দিদার হোসাইন, মু. ওলী উল্যাহ সহ জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ।