20/12/2025
নিহত দিপু চন্দ্র দাসের বোন চম্পা দাস বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ভাই বিএ পাস। সে সাধারণ বাটন মোবাইল ব্যবহার করত। ধর্ম নিয়ে তার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার মতো মানুষ সে নয়। উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল - এমন কথা শুনেছি। সেই কারণেই হয়তো তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে হ*ত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, কোম্পানির লোকজন চাইলে তাঁকে জনতার হাতে তুলে না দিয়ে পুলিশের কাছে দিতে পারতেন। তাহলে এমন নির্মম মৃ*ত্যু হতো না।
দীপু চন্দ্র দাস একটি পোশাক শিল্প কারখানায় চাকরি করতো। সম্প্রতি দীপু দাস তার যোগ্যতা বলে সুপার ভাইজার পদে প্রমোশন পেয়েছিলো।
জানা যায়, সুপারভাইজার পজিশনটির জন্য আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো যারা দীপু দাসের প্রমোশনটিকে ভালোভাবে নেয়নি। এর মধ্যেই পাওনা টাকার হিসেব নিকেশ নিয়ে অই তিনজনের সাথে বিরোধ হয় দীপু দাসের।
এর পরেই খুব সহজ কায়দায় দীপু দাসের নামে ইসলাম ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ এনে অই গার্মেন্টস কারখানার পাশেই মব সৃষ্টি করে দীপু দাসকে পি টিয়ে আধমরা করে জ্যান্ত অবস্থায় গলায় দড়ি বেঁধে গাছের সাথে ঝুলিয়ে তার আধমরা দেহটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এই দৃশ্য ভিডিও করার জন্য কয়েক শ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হাতে ধরা স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা অন করে, তাদের মধ্যে থেকে কারোরই মনে হয়নি এগিয়ে গিয়ে বলা, তোমরা এটা করো না। আমরা এত বড়াই করে বলি, ইসলাম শান্তির ধর্ম। তোমরা যা করছো, তাতে ইসলাম ধর্মের অপমান হচ্ছে।"
জানা গেছে, দীপু দাস স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতো না। সে সাধারণ একটা বাটন ফোন ইউজ করতো৷ উপস্থিত শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান দর্শকদের মধ্যে থেকে কেউ একজনও গিয়ে বললো না, " ছেলেটা যদি ধর্ম অবমাননা করে থাকে, তাকে আপনারা আইনের হাতে তুলে দিন। প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। "
কিন্তু না, কেউ এগিয়ে যায়নি। শুধুমাত্র 'দীপু দাশ' নামের ভুয়া আইডির পোস্ট দেখে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই সহকর্মী দীপু দাশকে প্রথমে নির্মম ভাবে পি 'টিয়ে অর্ধমৃত করে গ'লায় র'শি বেঁধে গাছে ঝু"লিয়ে আ*গুন দিয়ে একজন জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার আনন্দে' নারায়েতকবির ' শ্লোগান দিয়ে উল্লাস করলো উপস্থিত সকলে!
দীপু দাস যদি ফোনে ইসলাম বিরোধী কিছু লিখে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে থাকে, ইসলাম শান্তির ধর্ম জেনেও, ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জেনেও দীপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে আপনারা কি দীপু দাশের চেয়েও হাজার গুণ বেশী ইসলামের অবমাননা করলেন না?
এসব করে আপনারা ইসলাম ধর্মের কতটা সম্মান রক্ষা করলেন!
জানি না হাশরের ময়দানে আপনাদের কোনো বিচার হবে কিনা, তবে এটা জানি, আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর! আপনারাই তো বলেন, আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু ছাড়েন না!
দীপু দাসের অতৃপ্ত আত্মার কান্না, দীপু দাসের অসহায় পরিবারের চোখের জলের অভিশাপের ভার সইতে পারবেন তো?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ,
মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে,
কি অপরাধে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি অপরাধে সে নিহত হয়েছে।
ভাই, ধরেন আমি রাস্তা দিয়ে হেটে যাইতেসি, ২-৪ জন আমারে ঘেরাও করে চিল্লায়া বলতে লাগলো আমি ধর্ম অব'মান'নাকা"রী। সেখান থেকে আরো ১৫-২০ জন আসলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যাবে আমাকে মে*' রে শেষ করে দিসে! আমি কিছু বলারও সুযোগ পাবো না। এই হচ্ছে দেশের অবস্থা!!
দিপু চন্দ্র দাস আমার নবি কে নিয়ে কি কটুক্তি করলো সেটারি কোনো প্রমান পেলাম না আজো, অথচ তাকে অবমানের দায়ে মেরে ফেলা হলো,
পরিশেষে এখন জানতে পারলাম কি তাকে ফাসানো হয়েছে, পরে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হলো তার উপর,
রোজ হাশরের ময়দানে পৌঁছানোর আগে পৃথিবীর ময়দানেই না জানি সূর্য আপনাদের মাথার উপর এসে দাঁড়ায়! দীপু দাসের নিরীহ বাবা-মা, সদ্য বিধবা স্ত্রী আর পিতৃহারা অবুঝ সন্তানের আর্তনাদ কিন্তু ঠিক ঠিক আল্লাহর দরবারে পৌঁছে গেছে! আল্লাহ কখনোই আপনাদের ক্ষমা করবেন না।
সোর্স!সংগ্রহীত।