16/08/2026
“সুফিবাদীদের ঐক্য ও যুগোপযোগী চিন্তার বিকাশই সময়ের দাবি”—শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে চট্টগ্রামে ১৪তম দরসুল হাদিস মাহফিল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সুফিবাদের শান্তি, মানবপ্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির দর্শনকে সমকালীন বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সুফিবাদীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিসে শুরা সদস্য ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী।
তিনি বলেন, সুফিবাদের মূল আদর্শ ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই যুগের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিন্তা, গবেষণা ও কর্মপদ্ধতি বিকশিত করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মহানবী (ﷺ)-এর ভালোবাসা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা পৌঁছে দিতে আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “সুফিবাদীদের মধ্যে মত ও পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মহানবী (ﷺ)-এর প্রেম, মানবকল্যাণ, আত্মশুদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মৌলিক আদর্শে আমাদের ঐক্য অটুট থাকতে হবে। বিভাজন নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই বর্তমান সময়ের দাবি।”
একই সঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহর সমন্বিত চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামী শরিয়তের মূল ভিত্তি কুরআন ও সুন্নাহ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর জীবনাদর্শ ও নির্দেশিত পথকে বাদ দিয়ে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা অনুধাবন সম্ভব নয়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়, নৈতিকতা ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সেবাধর্মী সংস্থা আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাস বাংলাদেশ (একেএনবি)-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরস্থ এলজিইডি মিলনায়তনে শনিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত ১৪তম পবিত্র দরসুল হাদিস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্থার চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে উদ্বোধক ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নূরী এবং প্রধান মুফাসসির ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর।
আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেন, কুরআনের কোনো বিধানের ওপর যথাযথভাবে আমল করতে হলে হাদিসের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, ইসলামী জীবনবিধানে কুরআন মাজিদের পরই হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। মহানবী (ﷺ) কুরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কীভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, হাদিস তার বাস্তব দৃষ্টান্ত। কুরআন-হাদিসের যথার্থ চর্চা ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা গেলে জাতীয় জীবনে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক উদ্দীন সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন, আল্লামা গাজী শফিউল আলম নিজামী, আল্লামা এনামুল হক সিকদার, অধ্যক্ষ আল্লামা হাসান রেজা আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহীম আখতারী, শাহজাদা এ আর এম কামরুল ইসলাম, আল্লামা আশেকুর রহমান, আল্লামা মুফতি হেলাল উদ্দীন আল-কাদেরী ও আল্লামা মুফতি নিজাম উদ্দীন নোমানীসহ বিশিষ্ট আলেম ও ব্যক্তিবর্গ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাসের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) স ম হামেদ হোসাইন ও এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর। স্বাগত বক্তব্য দেন মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছালেহ।
মাওলানা কাজী শফিউল আজম ও মাওলানা মহিউদ্দিন তাহেরীর সঞ্চালনায় মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দীন তৈয়বী, মাওলানা আবদুন্নবী হক্কানী, মাওলানা মহিউদ্দিন নেছারী, অধ্যক্ষ মাওলানা জানে আলম নিজামী, মাওলানা জিয়াউল হক বিপ্লবী, অধ্যাপক ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, মাস্টার আনোয়ারুল আজিম, স ম শহিদুল হক ফারুকী, মাওলানা ইলিয়াছ সিকদার, অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেজামী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম তাহেরী, মাওলানা এ এম মঈনউদ্দীন চৌধুরী হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, স ম শওকত আজিজ ও আবদুল মালেক আশরাফীসহ অনেকে।
মাহফিলে বিপুলসংখ্যক আলেম, ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিতদের মধ্যে তাবরুক বিতরণের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।