13/08/2026
জীবন্ত কিংবদন্তী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা: মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকিত মানুষ
মনিরুল ইসলাম মনির
চেয়ারম্যান
আল ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন
কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় কেবল তাঁদের পদ-পদবি, পেশা কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে মানুষের জন্য তাঁদের ভালোবাসা, সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা, ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে নিরলস অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের কর্মময় জীবনের মধ্য দিয়ে। মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা তেমনই একজন মানুষ—যাঁকে আমি অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার, তাঁর সঙ্গে চলার এবং তাঁর কাছ থেকে শেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।
খুলনা জেলার খালিশপুরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মঞ্জুর হোসেন ঈসার জীবন যেন মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। ছোটবেলা থেকেই মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা আরও পরিণত হয়েছে।
আজ তিনি একাধারে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, সংগঠক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাঁকে মানুষের কাছে আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।
কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য
আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে দীর্ঘ একটি সময় ধরে এই মানুষটিকে কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছি এবং তাঁর চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি।
তাঁকে কাছ থেকে দেখলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো—তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টকে নিজের দুঃখ-কষ্ট হিসেবে অনুভব করেন। কোনো অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর কাছে সেই মানুষের পরিচয়, রাজনৈতিক মত কিংবা সামাজিক অবস্থান মুখ্য হয়ে ওঠে না; বরং তিনি প্রথমে দেখতে চান কীভাবে মানুষটির পাশে দাঁড়ানো যায়।
এই মানবিক গুণটিই তাঁকে আমার কাছে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।
মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন
মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মঞ্জুর হোসেন ঈসার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে হয় না; বরং সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারছে—তার ওপরই রাষ্ট্রের মানবিক সাফল্য নির্ভর করে।
এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বরকে সামনে নিয়ে আসা, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
সাংবাদিকতা ও সত্যের অনুসন্ধান
মঞ্জুর হোসেন ঈসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তাঁর সাংবাদিকসত্তা। সাংবাদিকতাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজের অনিয়ম, বৈষম্য ও মানুষের সমস্যাকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে, সেটি তাঁকে দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
তাঁর লেখনী ও বক্তব্যে প্রায়ই সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসে। সমাজের প্রান্তিক মানুষ, অসহায় পরিবার, অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তি কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
রাজনীতিতে মানুষের কথা
মঞ্জুর হোসেন ঈসা রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপির মহাসচিব হিসেবে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রাজনীতি যেন মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হয়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে কাজ করা।
তিনি মনে করেন, মতের পার্থক্য থাকতে পারে, রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ
মঞ্জুর হোসেন ঈসার যে গুণটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, সেটি হলো তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধ।
বাইরের পৃথিবীতে একজন মানুষ যত বড় সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মীই হোন না কেন, তাঁর প্রকৃত চরিত্রের অনেকটাই প্রকাশ পায় নিজের পরিবারের সঙ্গে তাঁর আচরণে। মঞ্জুর হোসেন ঈসার ক্ষেত্রে আমি দেখেছি—সহধর্মিণী ও সন্তানদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতা।
তিনি যেমন সমাজের মানুষের জন্য সময় দেন, তেমনি পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা ও নিরাপত্তাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।
একজন মানুষের জীবনে পরিবার হলো সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আর সেই পরিবারকে ভালোবাসা, সম্মান ও সময় দেওয়ার যে অসাধারণ ক্ষমতা মঞ্জুর হোসেন ঈসার মধ্যে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তাঁর সহধর্মিণী ও সন্তানদের হৃদয়ের গভীরে তিনি যে জায়গা করে নিয়েছেন, সেটি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে আমি মনে করি।
মানুষের বিপদে পাশে থাকা
মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তারা জানেন—মানুষের বিপদের সময় তাঁর ভূমিকা কতটা আন্তরিক হতে পারে।
কোনো মানুষ বিপদে পড়লে তাঁকে শুধু পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার পরিবর্তে তিনি অনেক সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তব সহযোগিতার চেষ্টা করেন। কখনো যোগাযোগ করেন, কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন, কখনো সামাজিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন, আবার কখনো প্রশাসনিক বা আইনগত সহায়তার পথ খুঁজে দেন।
এই কারণে অনেক অসহায় মানুষ তাঁকে একজন আশ্রয়দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের শিক্ষা
একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর একদিনের কর্মকাণ্ড নয়, দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা দেখতে হয়। মঞ্জুর হোসেন ঈসার ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের সামাজিক, মানবিক, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়।
তাঁর কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো—মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে সবসময় বড় কোনো পদ বা বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন একটি মানবিক হৃদয়, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিক ইচ্ছা।
তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা
বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে নানা ধরনের সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি নানা ধরনের বিভ্রান্তিও রয়েছে। এই সময়ে মঞ্জুর হোসেন ঈসার মতো মানুষের কর্মজীবন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
তিনি দেখিয়েছেন, সমাজের জন্য কাজ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য প্রয়োজন। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কথার চেয়ে কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হয়।
তাঁর জীবন থেকে তরুণরা শিখতে পারে—সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের নাম নয়; বরং অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি করাও সাফল্যের একটি বড় মাপকাঠি।
একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর বৈশিষ্ট্য
মঞ্জুর হোসেন ঈসার আরেকটি বড় গুণ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা। বিভিন্ন মানুষ, মত ও পেশার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা এবং তাদের একটি সামাজিক বা মানবিক উদ্দেশ্যে একত্রিত করার সক্ষমতা তাঁর মধ্যে রয়েছে।
একজন সংগঠকের জন্য শুধু বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষমতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের কথা শোনা, মতপার্থক্যকে সম্মান করা এবং সবার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা। তাঁর কর্মকাণ্ডে এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি—মানবিকতা
আমার কাছে মঞ্জুর হোসেন ঈসার সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো পদবি নয়—তিনি একজন মানবিক মানুষ।
মানুষের জন্য কাজ করার যে তাগিদ তাঁর মধ্যে রয়েছে, সেটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। সমাজে অনেকেই মানুষের কথা বলেন; কিন্তু মানুষের কষ্টকে অনুভব করে তার প্রতিকারের জন্য কাজ করা মানুষ তুলনামূলকভাবে কম।
মঞ্জুর হোসেন ঈসার দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তি এখানেই।
একজন মানুষ, একটি অনুপ্রেরণার নাম
জীবনে কিছু মানুষকে আমরা শুধু পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দেখি না; তাঁদের জীবন ও কর্ম আমাদের ভাবতে শেখায়, সাহস দেয় এবং ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আমার কাছে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা তেমনই একজন মানুষ।
তাঁর কাছ থেকে আমি শিখেছি—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হৃদয়ে মমতা থাকতে হয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য সাহস থাকতে হয়; আর দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও সততা।
তিনি হয়তো একজন মানুষ; কিন্তু তাঁর কর্মের পরিধি অনেক মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। সেই অর্থে তিনি আমাদের সমাজে মানবসেবা ও মানুষের অধিকারের পক্ষে কাজ করা একজন জীবন্ত কিংবদন্তী।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার জীবন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—মানুষের জন্য বেঁচে থাকাই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
পদ-পদবি একদিন থাকবে না, ক্ষমতা থাকবে না, সামাজিক পরিচয়ের অনেক কিছুই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। কিন্তু একজন মানুষ কতজন মানুষের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কতজনকে সাহস দিয়েছেন, কতজনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন—শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সেই কথাই মনে রাখবে।
আমি তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, পারিবারিক সুখ ও মানবকল্যাণে আরও দীর্ঘদিন কাজ করার সামর্থ্য কামনা করি।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা—একজন মানুষ, একজন সংগঠক, একজন মানবাধিকারকর্মী, একজন সাংবাদিক, একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং সর্বোপরি একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ।
তাঁর পথচলা আরও দীর্ঘ হোক।
মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা আরও বিস্তৃত হোক।
আর তাঁর কর্ম নতুন প্রজন্মকে মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিক।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা—জীবন্ত কিংবদন্তী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার প্রতি।
— মনিরুল ইসলাম মনির
চেয়ারম্যান
আল ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন