First NewsBD 24

First NewsBD 24 Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from First NewsBD 24, Media/News Company, Chittagong.

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এনডিপির গভীর শোক ও সংহতিঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি,...
29/08/2026

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এনডিপির গভীর শোক ও সংহতি

ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি, নিখোঁজ এবং বিস্তর ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি -এনডিপি। একইসঙ্গে এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে দলটি।
শনিবার এক শোকবার্তায় এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং বহু মানুষ নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সংবাদে তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। এই দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন তাঁরা। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এনডিপির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, “নেপালের এই দুঃসময়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি নেপালের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে রয়েছে। তাঁদের এই দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে আমরা গভীরভাবে সহমর্মী। আমরা আশা করি, নেপালের জনগণ ঐক্য ও সাহসের সঙ্গে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।”
তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান এই বন্ধন নেপালের যেকোনো সংকটে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়। ফলে নেপালের এই বিপর্যয় বাংলাদেশের জনগণের কাছেও গভীরভাবে বেদনাদায়ক।
শোকবার্তায় এনডিপির নেতৃবৃন্দ বলেন, নেপালের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ দেশটির পাশে রয়েছে। নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ মানবিক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এনডিপির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নেপালে চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সাহসী ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা দুর্গত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মানবিক প্রভাব সর্বজনীন। তাই নেপালের এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গত মানুষের জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
শোকবার্তায় এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। একইসঙ্গে নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান, আহতদের আশু সুস্থতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের এই কঠিন সময় মোকাবিলায় শক্তি ও সাহস কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। একইসঙ্গে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

21/08/2026

আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর সাভারের হেমায়েতপুরে আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মিলাদ, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) বাদ আসর জয়নাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, হেমায়েতপুর, ঢাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোছাঃ তাসকিয়া ইসলাম মুক্তা নেতৃত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদের মহাসচিব এম. এ. রশীদ, প্রাইম লাইফ ইনসুরেন্সের হেমায়েতপুর শাখার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম, কবি রাইছা আক্তার শিল্পীসহ আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী সোহাগী খাতুন, আখি আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য, প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মজীবনে সফলতা, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের সম্মানিত খতীব মাওলানা আব্দুল করিম।
দোয়া ও মুনাজাতের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বর্তমান সময়ে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টার স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, “আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক—দুই ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা অর্জনকারীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ ও সুবিধার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান করলেই হবে না; প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, বৈধ প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকে কর্মমুখী করে তোলা সম্ভব।
আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোছাঃ তাসকিয়া ইসলাম মুক্তা বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নারী যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন—এটাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাই প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী ও নারীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন আরও বাড়বে।
মিলাদ ও দোয়া শেষে দেশ, জাতি, প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

21/08/2026
21/08/2026

আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টার
মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত
আজ ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার বাদ আসর জয়নাবাড়ী মাদ্রাসা রোড,হেমায়েতপুর, ঢাকায় আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠান এর পরিচালক মোছাঃ তাসকিয়া ইসলাম মুক্তার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদ এর মহাসচিব এম এ রশীদ, প্রাইম লাইফ ইনসুরেন্সের হেমায়েতপুর শাখার ইনচার্জ মো.রফিকুল ইসলাম, কবি রাইছা আক্তার শিল্পী, প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষার্থী সোহাগী খাতুন,আখি আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস সহ প্রমুখ।

কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধাকিংবদন্তি সাংবাদিক, বিশিষ্ট জননেতা, সাবেক মন্ত...
13/08/2026

কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

কিংবদন্তি সাংবাদিক, বিশিষ্ট জননেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর—আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি।
আজ তিনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তাঁর কর্ম, আদর্শ, চিন্তা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংবাদিকতার সাহস এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আজও আমাদের পথ দেখায়। সময়ের ব্যবধান যতই দীর্ঘ হোক, কিছু মানুষকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। আনোয়ার জাহিদ তেমনই একজন বিরল ব্যক্তিত্ব।
আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক
আনোয়ার জাহিদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী কিংবা সাংবাদিকতার অঙ্গনের একজন পরিচিত মানুষের সম্পর্ক ছিল না। তিনি ছিলেন আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক।
তাঁর কাছ থেকে আমি শিখেছি কীভাবে মানুষের কথা বলতে হয়, কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের কল্যাণের একটি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হয়।
তিনি বুঝিয়েছেন—সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ লেখা নয়; সাংবাদিকতার সঙ্গে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
রাজনীতিও তাঁর কাছে ছিল কেবল পদ-পদবির বিষয় নয়। মানুষের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাই ছিল রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাংবাদিকতায় এক উজ্জ্বল অধ্যায়
আনোয়ার জাহিদ ছিলেন এমন একজন সাংবাদিক, যিনি সাংবাদিকতাকে জীবনের একটি মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর লেখনীতে ছিল সাহস, বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা এবং চিন্তায় ছিল সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করবে। তাই অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কখনোই আপসের রাজনীতি করেননি।
সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার-বঞ্চনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নানা সংকট তাঁর চিন্তা ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—একজন সাংবাদিকের কলম কেবল খবর প্রকাশ করবে না; মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।
জননেতা হিসেবে মানুষের পাশে
সাংবাদিকতার পাশাপাশি জনজীবনেও আনোয়ার জাহিদ তাঁর নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তিনি ছিলেন গণমানুষের রাজনীতিতে বিশ্বাসী একজন জননেতা। মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আন্তরিক ও হৃদয়গ্রাহী। সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাঁদের সমস্যা বোঝা এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে সেই সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই একজন প্রকৃত জননেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। আনোয়ার জাহিদের মধ্যে সেই শক্তি ছিল।
তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।
জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির ঐক্যে ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের ধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আনোয়ার জাহিদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য প্রয়োজন।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—নিজস্ব আদর্শে দৃঢ় থাকা, কিন্তু বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পথ খোলা রাখা।
এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে একজন দূরদর্শী রাজনীতিক হিসেবে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছিল।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়
আনোয়ার জাহিদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল—তিনি মানুষের মানুষ ছিলেন।
পদ, ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারতেন। তাঁর কাছে মানুষ ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সমস্ত কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ।
এই মানবিক দর্শনই তাঁর সাংবাদিকতা ও রাজনীতিকে এক সুতোয় গেঁথেছিল।

আমার জীবনে তাঁর প্রভাব
আমার ব্যক্তিগত জীবনে আনোয়ার জাহিদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
আমি যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতির পথচলায় নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, তখন তাঁর সান্নিধ্য আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তাঁর কথাবার্তা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সংবাদ ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি শুধু কথা বলে শিক্ষা দিতেন না; তাঁর জীবন ও কর্মই ছিল একটি জীবন্ত পাঠশালা।
তাঁর কাছ থেকে আমি উপলব্ধি করেছি—একজন মানুষকে বড় করে তাঁর পদ নয়, তাঁর আদর্শ, সততা, সাহস এবং মানুষের জন্য তাঁর অবদান।
আজ আমি যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করি, তখন বহু মুহূর্তে তাঁর শিক্ষা ও উপদেশ মনে পড়ে। মনে হয়, তিনি যেন দূর থেকে এখনও বলে যাচ্ছেন—মানুষের পক্ষে থাকো, সত্যের পক্ষে থাকো এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস করো না।

তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি
আনোয়ার জাহিদের চলে যাওয়া শুধু তাঁর পরিবার কিংবা ঘনিষ্ঠজনদের জন্য নয়; সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও দেশের গণমানুষের জন্যও ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ও মানুষের কাছের নেতা একসঙ্গে হারানো সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তাঁর অনুপস্থিতি আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করি। বিশেষ করে যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে সত্য, ন্যায়, মূল্যবোধ ও জনস্বার্থের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন তাঁর মতো মানুষের প্রয়োজন আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী হোক আদর্শের পুনর্জাগরণের দিন
মৃত্যুবার্ষিকী শুধু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও দিন।
আনোয়ার জাহিদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই নিবেদন করা সম্ভব, যখন আমরা তাঁর আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারব।
সত্যের পক্ষে কথা বলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখা এবং রাজনীতিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা—এসবই হতে পারে তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সময় বদলালেও সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার—এই মূল্যবোধগুলোর প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না।
স্মৃতিতে আপনি অমর
মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যায়, কিন্তু তাঁর কর্ম থেকে যায়। তাঁর আদর্শ থেকে যায়। তাঁর সৃষ্টি ও অবদান থেকে যায়। মানুষের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকেন।
আনোয়ার জাহিদও তেমনই একজন মানুষ।

তাঁর চলে যাওয়ার বহু বছর পরও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁকে স্মরণ করেন, সাংবাদিকতার মানুষ তাঁকে স্মরণ করেন, আর তাঁর মতো একজন অভিভাবক ও শিক্ষককে যারা কাছ থেকে পেয়েছেন, তারা তাঁকে স্মরণ করেন গভীর ভালোবাসায়।
আমার কাছে তিনি শুধু অতীতের একজন রাজনৈতিক নেতা বা সাংবাদিক নন; তিনি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক এবং একজন অনুপ্রেরণার উৎস।
শেষ শ্রদ্ধা
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি তাঁর কর্ম দিয়ে একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর সাংবাদিকতার সাহসকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর শিক্ষা ও আদর্শকে।
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদ, আপনার শারীরিক অনুপস্থিতি আমাদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। কিন্তু আপনার কর্ম, আদর্শ, শিক্ষা ও স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।
মহান আল্লাহ আপনার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করুন, আপনার ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অশেষ ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার আদর্শ আছে।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার শিক্ষা আছে।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার কর্ম আমাদের মাঝে বেঁচে আছে।
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদ—আপনার স্মৃতি ও আদর্শ আমাদের পথচলার অনন্ত প্রেরণা হয়ে থাকুক।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া।

জীবন্ত কিংবদন্তী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা: মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকিত মানুষমনিরুল ইসলাম মনিরচেয়ারম্যানআল ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশ...
13/08/2026

জীবন্ত কিংবদন্তী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা: মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকিত মানুষ

মনিরুল ইসলাম মনির
চেয়ারম্যান
আল ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন

কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় কেবল তাঁদের পদ-পদবি, পেশা কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে মানুষের জন্য তাঁদের ভালোবাসা, সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা, ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে নিরলস অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের কর্মময় জীবনের মধ্য দিয়ে। মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা তেমনই একজন মানুষ—যাঁকে আমি অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার, তাঁর সঙ্গে চলার এবং তাঁর কাছ থেকে শেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।
খুলনা জেলার খালিশপুরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মঞ্জুর হোসেন ঈসার জীবন যেন মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। ছোটবেলা থেকেই মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা আরও পরিণত হয়েছে।

আজ তিনি একাধারে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, সংগঠক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাঁকে মানুষের কাছে আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।

কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য
আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে দীর্ঘ একটি সময় ধরে এই মানুষটিকে কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছি এবং তাঁর চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি।
তাঁকে কাছ থেকে দেখলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো—তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টকে নিজের দুঃখ-কষ্ট হিসেবে অনুভব করেন। কোনো অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর কাছে সেই মানুষের পরিচয়, রাজনৈতিক মত কিংবা সামাজিক অবস্থান মুখ্য হয়ে ওঠে না; বরং তিনি প্রথমে দেখতে চান কীভাবে মানুষটির পাশে দাঁড়ানো যায়।

এই মানবিক গুণটিই তাঁকে আমার কাছে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।
মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন
মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মঞ্জুর হোসেন ঈসার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে হয় না; বরং সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারছে—তার ওপরই রাষ্ট্রের মানবিক সাফল্য নির্ভর করে।
এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বরকে সামনে নিয়ে আসা, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

সাংবাদিকতা ও সত্যের অনুসন্ধান
মঞ্জুর হোসেন ঈসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তাঁর সাংবাদিকসত্তা। সাংবাদিকতাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজের অনিয়ম, বৈষম্য ও মানুষের সমস্যাকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে, সেটি তাঁকে দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
তাঁর লেখনী ও বক্তব্যে প্রায়ই সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসে। সমাজের প্রান্তিক মানুষ, অসহায় পরিবার, অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তি কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

রাজনীতিতে মানুষের কথা
মঞ্জুর হোসেন ঈসা রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপির মহাসচিব হিসেবে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রাজনীতি যেন মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হয়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে কাজ করা।
তিনি মনে করেন, মতের পার্থক্য থাকতে পারে, রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ
মঞ্জুর হোসেন ঈসার যে গুণটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, সেটি হলো তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধ।
বাইরের পৃথিবীতে একজন মানুষ যত বড় সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মীই হোন না কেন, তাঁর প্রকৃত চরিত্রের অনেকটাই প্রকাশ পায় নিজের পরিবারের সঙ্গে তাঁর আচরণে। মঞ্জুর হোসেন ঈসার ক্ষেত্রে আমি দেখেছি—সহধর্মিণী ও সন্তানদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতা।
তিনি যেমন সমাজের মানুষের জন্য সময় দেন, তেমনি পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা ও নিরাপত্তাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।

একজন মানুষের জীবনে পরিবার হলো সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আর সেই পরিবারকে ভালোবাসা, সম্মান ও সময় দেওয়ার যে অসাধারণ ক্ষমতা মঞ্জুর হোসেন ঈসার মধ্যে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তাঁর সহধর্মিণী ও সন্তানদের হৃদয়ের গভীরে তিনি যে জায়গা করে নিয়েছেন, সেটি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে আমি মনে করি।

মানুষের বিপদে পাশে থাকা
মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তারা জানেন—মানুষের বিপদের সময় তাঁর ভূমিকা কতটা আন্তরিক হতে পারে।
কোনো মানুষ বিপদে পড়লে তাঁকে শুধু পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার পরিবর্তে তিনি অনেক সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস্তব সহযোগিতার চেষ্টা করেন। কখনো যোগাযোগ করেন, কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন, কখনো সামাজিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন, আবার কখনো প্রশাসনিক বা আইনগত সহায়তার পথ খুঁজে দেন।
এই কারণে অনেক অসহায় মানুষ তাঁকে একজন আশ্রয়দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শিক্ষা
একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর একদিনের কর্মকাণ্ড নয়, দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা দেখতে হয়। মঞ্জুর হোসেন ঈসার ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের সামাজিক, মানবিক, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়।
তাঁর কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো—মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে সবসময় বড় কোনো পদ বা বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন একটি মানবিক হৃদয়, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিক ইচ্ছা।

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা
বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে নানা ধরনের সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি নানা ধরনের বিভ্রান্তিও রয়েছে। এই সময়ে মঞ্জুর হোসেন ঈসার মতো মানুষের কর্মজীবন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
তিনি দেখিয়েছেন, সমাজের জন্য কাজ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য প্রয়োজন। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কথার চেয়ে কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হয়।
তাঁর জীবন থেকে তরুণরা শিখতে পারে—সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের নাম নয়; বরং অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি করাও সাফল্যের একটি বড় মাপকাঠি।
একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর বৈশিষ্ট্য
মঞ্জুর হোসেন ঈসার আরেকটি বড় গুণ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা। বিভিন্ন মানুষ, মত ও পেশার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা এবং তাদের একটি সামাজিক বা মানবিক উদ্দেশ্যে একত্রিত করার সক্ষমতা তাঁর মধ্যে রয়েছে।

একজন সংগঠকের জন্য শুধু বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষমতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের কথা শোনা, মতপার্থক্যকে সম্মান করা এবং সবার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা। তাঁর কর্মকাণ্ডে এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি—মানবিকতা
আমার কাছে মঞ্জুর হোসেন ঈসার সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো পদবি নয়—তিনি একজন মানবিক মানুষ।
মানুষের জন্য কাজ করার যে তাগিদ তাঁর মধ্যে রয়েছে, সেটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। সমাজে অনেকেই মানুষের কথা বলেন; কিন্তু মানুষের কষ্টকে অনুভব করে তার প্রতিকারের জন্য কাজ করা মানুষ তুলনামূলকভাবে কম।

মঞ্জুর হোসেন ঈসার দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তি এখানেই।
একজন মানুষ, একটি অনুপ্রেরণার নাম
জীবনে কিছু মানুষকে আমরা শুধু পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দেখি না; তাঁদের জীবন ও কর্ম আমাদের ভাবতে শেখায়, সাহস দেয় এবং ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আমার কাছে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা তেমনই একজন মানুষ।
তাঁর কাছ থেকে আমি শিখেছি—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হৃদয়ে মমতা থাকতে হয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য সাহস থাকতে হয়; আর দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও সততা।
তিনি হয়তো একজন মানুষ; কিন্তু তাঁর কর্মের পরিধি অনেক মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। সেই অর্থে তিনি আমাদের সমাজে মানবসেবা ও মানুষের অধিকারের পক্ষে কাজ করা একজন জীবন্ত কিংবদন্তী।

মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার জীবন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—মানুষের জন্য বেঁচে থাকাই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
পদ-পদবি একদিন থাকবে না, ক্ষমতা থাকবে না, সামাজিক পরিচয়ের অনেক কিছুই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। কিন্তু একজন মানুষ কতজন মানুষের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কতজনকে সাহস দিয়েছেন, কতজনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন—শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সেই কথাই মনে রাখবে।
আমি তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, পারিবারিক সুখ ও মানবকল্যাণে আরও দীর্ঘদিন কাজ করার সামর্থ্য কামনা করি।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা—একজন মানুষ, একজন সংগঠক, একজন মানবাধিকারকর্মী, একজন সাংবাদিক, একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং সর্বোপরি একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ।
তাঁর পথচলা আরও দীর্ঘ হোক।
মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা আরও বিস্তৃত হোক।
আর তাঁর কর্ম নতুন প্রজন্মকে মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিক।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা—জীবন্ত কিংবদন্তী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার প্রতি।
— মনিরুল ইসলাম মনির
চেয়ারম্যান
আল ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন

এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে ‘সুলতান শিশু উৎসব-২০২৬’শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও শিশু চিত্রকল...
11/08/2026

এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে ‘সুলতান শিশু উৎসব-২০২৬’
শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন

ঢাকা প্রতিনিধি:
বিশ্ববরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চারুকলা অনুষদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘সুলতান শিশু উৎসব-২০২৬’। শিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পভাবনা, সৃজনশীলতা ও শিশুদের মধ্যে চিত্রকলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
ক্যানভাস-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত উৎসবের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক আবদুল হাই সিকদার, সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক কাওসার হাসান টগর; বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম গোরা এবং বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ আবদুল হাই সিদ্দিকী। এছাড়া শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিশু-কিশোর ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে উৎসবের গুরুত্ব
‘সুলতান শিশু উৎসব-২০২৬’-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। নিজেদের কল্পনা, অনুভূতি ও চারপাশের জীবনকে রঙ-তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে তারা।
আয়োজকদের মতে, শিশুদের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিশ্ববরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতানের মতো একজন কিংবদন্তি শিল্পীর জীবন, দর্শন ও শিল্পকর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
এস এম সুলতান: বাংলার মাটি ও মানুষের শিল্পী
শিল্পী এস এম সুলতান বাংলাদেশের চিত্রকলার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। গ্রামীণ জনজীবন, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক তাঁর শিল্পকর্মে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর চিত্রে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম যেমন উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে শক্তি, সৌন্দর্য ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
শিল্পীর শিল্পদর্শন ও সৃষ্টিশীলতা বাংলাদেশের চিত্রকলাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পভাবনা ও জীবনদর্শন তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী
উৎসবের অংশ হিসেবে চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিশুদের রঙের ব্যবহার, কল্পনার বিস্তার এবং প্রকৃতি ও সমাজকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনীতে ফুটে ওঠে।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রকর্মগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। অভিভাবক ও শিল্পানুরাগীরা শিশুদের শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই নয়, ছবি আঁকা, সাহিত্য, সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের মননশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
তারা বলেন, শিল্পী এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে আয়োজিত এ উৎসব একই সঙ্গে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
পুরস্কার বিতরণ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও শিশুদের আঁকা ছবিতে যে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে, সেটিই হয়ে ওঠে আয়োজনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আয়োজক ক্যানভাস জানায়, ভবিষ্যতেও শিশু-কিশোরদের শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করতে এবং বাংলাদেশের গুণী শিল্পী ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুলতান শিশু উৎসব-২০২৬ তাই শুধু একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বা প্রদর্শনী নয়; বরং শিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকানং: ১৯.০০.০০০০.৬২৫.০৩.০০২.২৬/২৩৭প্রেস বিজ্ঞপ্তিঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২...
05/08/2026

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা
নং: ১৯.০০.০০০০.৬২৫.০৩.০০২.২৬/২৩৭
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে যে, পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন।
বাংলাদেশ সরকার দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার জন্য হতাশাজনক।
যে দিনে বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সে দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য—যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিরীহ বেসামরিক মানুষ, এমনকি শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত—তা অস্বীকার করার এই প্রচেষ্টা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের একটি ব্যর্থ উদ্যোগ মাত্র। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্প করেছে যে, দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কোনো পরাশক্তির অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা এবং তাঁর গড়ে তোলা অপরাধচক্রের বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিতে আর কোনো স্থান হবে না।
বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত অপরাধী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বারবার অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তাঁকে যে কোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

Address

Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when First NewsBD 24 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share