30/05/2026
বৃটিশরা ভারতবর্ষ ছাড়ার আগে ভারতকে নিয়ে কী করা হবে, সেটা নিয়ে নানাধরণের প্রস্তাবনা, খসড়া তৈরী হয়।
১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যানে ভারতকে অবিভক্ত রাখতে একটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করে বৃটিশরা।
সেখানে প্রস্তাব গুলো ছিল এরকম-
১. ভারত একটি দেশ হিসেবেই থাকবে। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতা হবে খুবই সীমিত। কেন্দ্র শুধু প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো দেখবে।
২. প্রদেশগুলো ৩টি বড় গ্রুপে ভাগ হবে এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন পাবে। তারা নিজেদের আলাদা আইনসভা ও নির্বাহী কাঠামো গঠন করতে পারবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ইসলামিক ব্যক্তিগত আইনসহ অনেক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলাদা নীতি বানাতে পারবে।
ভারত অবিভক্ত থাকবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন পাবে।
ফলে জিন্নাহ এই প্রস্তাবটি শুরুতে মেনে নেন।
কারণ এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো একসাথে থাকবে।
বাংলা ও পাঞ্জাব ভাঙতে হবে না, এগুলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে গ্রুপ B এবং C তে থাকবে।
কেন্দ্র দূর্বল থাকায় কংগ্রেস পুরো ভারত নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
এবং ভবিষ্যতে আলাদা রাষ্ট্র করার সম্ভবনা সবচেয়ে ভালো।
এটিকে 'Pakistan in substance' হিসেবেই দেখছিলেন।
ইতিহাসবিদগণ এটিকে 'Pakistan without partition' বলেও আখ্যা করেন।
কিন্তু জওহরলাল নেহেরু ঘোষণা দেন- কংগ্রেস ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা কাঠামো পরিবর্তন করতে পারবে এবং প্রদেশগুলো বাধ্যতামূলক গ্রুপিং মানতে বাধ্য নয়।
ফলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই প্রস্তাবটি নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান।
দেশ ভাগ হলে জিন্নাহর পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পত্তি ভারতে রেখে চলে যেতে হবে। কারণ জিন্নাহর বেশীরভাগ সম্পত্তি মুম্বাই এবং গুজরাটে।
ভাগ না হলে ভারত হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মুসলমানদের দেশ।
নানা বিষয় নিয়ে জিন্নাহ চিন্তিত ছিলেন।
প্রচলিত আছে, একটা ঘটনা জিন্নাহকে নাড়িয়ে দেয়-
ঈদের দিন দুপুরে জিন্নাহ তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে পেছনে দুই হাত রেখে হাঁটাহাঁটি করে চিন্তা করছিলেন।
সে সময় খবর এলো, ঈদগাহ ময়দানে মুসলমানদের ঈদের নামাজ চলাকালীন সময়, হিন্দুদের কয়েকটি গ্রুপ বিভিন্ন জায়গায় এক যোগে শুকর জবাই করে নামাজ রত মুসল্লীদের গায়ে ছুঁড়ে মারে।
ঈদের জামায়াত চলাকালীন কাটা শুকর রক্ত সহ মুসল্লীদের উপর মারা হয়।
খবর শোনার সাথে সাথেই জিন্নাহ বলেন, এভাবে কি একসাথে থাকা সম্ভব?
এই ঘটনার পরই জিন্নাহ সিদ্ধান্ত নেন- মুসলমানদের আলাদা দেশ লাগবে।
তারপর এই সিদ্ধান্ত থেকে জিন্নাহকে আর টলানো যায়নি।
এমনকি মহাত্মা গান্ধীর পক্ষ থেকে জিন্নাহকে অবিভক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী করার কথাও বলা হয়।
কিন্তু কোনো কিছুই জিন্নাহকে মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে নড়াতে পারেনি।
এমনকি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত জিন্নাহ উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও যাননি, কারণ জিন্নাহর আশংকা ছিল- তার ক্যান্সারের খবর প্রকাশ হয়ে গেলে বৃটিশরা পার্টিশন প্ল্যান পিছিয়ে দেবে। মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ আর হবে না।
জিন্নাহর চিন্তা যে সঠিক ছিল, সেটা লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের কথাতেই পরে প্রমাণিত হয়।
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন বলেছিনে যে, যদি তিনি আগে জানতেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ গুরুতর যক্ষ্মা (TB) ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং খুব বেশি দিন বাঁচবেন না, তাহলে তিনি ভারত বিভাগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করতেন।
ক্যান্সারের তথ্য গোপন রাখতে জিন্নাহ উন্নত চিকিৎসার চেষ্টাও করেননি। নিজের বাড়ীঘর, সম্পত্তি সব ছেড়ে জিন্নাহ নতুন দেশ পাকিস্তানে চলে যান। এবং এক বছর পর সেখানেই মারা যান।
Courtesy ....Tahmidul Islam...