শহীদুল ইসলাম অর্ক

শহীদুল ইসলাম অর্ক খসে পড়ার অদৃষ্ট নিয়ে ভাসছি এক নিঃসঙ্গ উল্কা!

🟢 একটি শিক্ষণীয় গল্প➡️একজন দরিদ্র লোক ও তার স্ত্রী পাহাড়ে বাস করত। বেশিরভাগ সময় তাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কখনো...
31/10/2025

🟢 একটি শিক্ষণীয় গল্প

➡️একজন দরিদ্র লোক ও তার স্ত্রী পাহাড়ে বাস করত। বেশিরভাগ সময় তাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কখনো কখনো না খেয়েই দিন কাটাতে হয় মোট কথা, বেঁচে থাকার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম।

একদিন লোকটি জীবিকার সন্ধানে পাহাড় ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
যাওয়ার আগে সে স্ত্রীকে বলল,
“আমি দীর্ঘদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি। তোমার প্রতি আমি সবসময় বিশ্বস্ত ছিলাম এবং থাকব। তুমি কি প্রতিজ্ঞা করতে পারো, আমার অনুপস্থিতিতেও আমার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে?”
স্ত্রী মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

অনেকদিন পাহাড় বেয়ে নেমে লোকটি এক দোকানে চাকরি নিল।
চাকরির শর্ত ছিল তার সব উপার্জন মালিকের কাছে জমা থাকবে, আর কাজ ছেড়ে যাওয়ার সময় পুরো টাকাই সে ফেরত পাবে।
মালিক রাজি হলেন।

এভাবেই কেটে গেল বিশ বছর।
একদিন লোকটি মালিকের কাছে গিয়ে বলল,
“এখন আমি আর কাজ করব না। দয়া করে আমার প্রাপ্য টাকাটা ফেরত দিন।”

মালিক বললেন,
“তুমি চাইলে টাকা নিতে পারো।
তবে চাও চাইলে আমি তোমাকে তিনটি উপদেশ দিতে পারি, টাকার পরিবর্তে।
তুমি স্বাধীন— হয় টাকা নাও, নয়তো আমার উপদেশগুলো গ্রহণ করো।”

দুদিন চিন্তা করে লোকটি বলল,
“আমি আপনার তিনটি উপদেশই চাই। টাকার দরকার নেই।”

মালিকের তিনটি উপদেশ

#উপদেশ_১:
“কখনো সংক্ষিপ্ত বা শর্টকাট রাস্তা বেছে নিও না।
আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, দীর্ঘ পথই অধিকতর নিরাপদ ও উপকারী।”

#উপদেশ_২:
“কোনো কিছুতে হুট করে আগ্রহ দেখিও না।
ধৈর্য ধরে উপসংহারে পৌঁছানোর চেষ্টা করো।”

#উপদেশ_৩:
“কারো সম্পর্কে ধারণা নেয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করো।”

এই বলে মালিক লোকটিকে তিনটা পাউরুটি দিলেন। দুটি পথে খাওয়ার জন্য, আর বড়টি স্ত্রীসহ বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার জন্য।

✅পথের শিক্ষা~

লোকটি যাত্রা শুরু করল। পথে এক ব্যক্তি বলল,
“এই রাস্তা খুব লম্বা। অন্য পথে গেলে অনেক দ্রুত পৌঁছাতে পারবে।”

স্ত্রীর কাছে দ্রুত পৌঁছানোর তাড়নায় লোকটি রাজি হয়েও হঠাৎ মনে করল মালিকের প্রথম উপদেশ।
তাই সে দীর্ঘ পথই বেছে নিল। পরে জানতে পারল, সংক্ষিপ্ত পথে একটি ভয়ংকর প্রাণী ছিল যা তার প্রাণ কেড়ে নিতে পারত।

এক রাতে সে এক উদার মানুষকে আশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করল। রাতের বেলা গোঙানির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলে দেখার ইচ্ছে হলেও মনে পড়ে যায় দ্বিতীয় উপদেশ
“হুট করে আগ্রহ দেখিও না।”

সকালে সে জানতে পারে, রাতে এক বাঘ বাড়িতে ঢুকেছিল। যদি দরজা খুলে দিত, বাঘটি হয়তো তাকে মেরে ফেলত।

✅বাড়ি ফেরা ও ভুল ধারণা

দীর্ঘ সফর শেষে, ক্লান্ত শরীরে লোকটি এক টুকরো পাউরুটি হাতে বাড়ি পৌঁছাল। ঘরে ঢোকার আগে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখে তার স্ত্রী আলিঙ্গনরত অবস্থায় এক পুরুষের গালে চুমু খাচ্ছে!

রাগ, ক্ষোভ ও কষ্টে ভরে ওঠে তার মন।
চরম হতাশায় সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক তখনই মনে পড়ে যায় তৃতীয় উপদেশ
“কারো সম্পর্কে ধারণা নেয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করো।”

বাড়ি ছাড়ার আগে সে দরজায় কড়া নাড়ে।
স্ত্রী দরজা খুলে তাকে দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরতে যায়। কিন্তু লোকটি ঠান্ডা গলায় বলে,
“আমি শুধু জানতে চাই আমি যখন বিশ বছর তোমার কথা ভেবে কাটিয়েছি, তুমি কীভাবে আমার অনুপস্থিতিতে অন্য একজন পুরুষকে চুমু খেলে?”

স্ত্রী মৃদু হেসে বলল,
“ঘরে এসো, সব বলছি।”
লোকটি বলল, “না, আমি এখানেই উত্তর চাই।”

স্ত্রী বলল,
“তুমি যখন বাড়ি ছেড়ে গেলে, আমি সন্তানসম্ভবা ছিলাম। এখন আমাদের বিশ বছর বয়সী এক ছেলে আছে। তুমি আসার আগে ও পাহাড়ে কাজে যাচ্ছিল। বিদায় নেওয়ার সময় আমি তার গালে চুমু খেয়ে আশীর্বাদ করছিলাম।”

✅সত্যের পরিণতি

স্ত্রীর কথা শুনে লোকটির চোখে আনন্দাশ্রু আসে।
সে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে পাউরুটিটা বের করে ভাগ করে খেতে বসে। রুটি ছিঁড়তেই দেখে
তার মালিক রুটির ভেতরে বিশ বছরের উপার্জন লুকিয়ে রেখেছেন।

Post: Collected

#শিক্ষণীয় #জীবনের_গল্প

ছবির ব্যক্তির নাম কিং বিলি। তাসমানিয়া দ্বীপের শেষ আদিবাসী পুরুষ তিনি। পশ্চিমারা এই জাতি ও জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছ...
17/10/2025

ছবির ব্যক্তির নাম কিং বিলি। তাসমানিয়া দ্বীপের শেষ আদিবাসী পুরুষ তিনি। পশ্চিমারা এই জাতি ও জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।

কিং বিলি নামটি দেওয়া হয়েছিল বিদ্রূপ করে। তার প্রকৃত নাম ছিল উইলিয়াম ল্যানি। জন্ম আনুমানিক ১৮৩৫ সালে, তাসমানিয়া দ্বীপে। তখন দ্বীপের নাম ছিল ভ্যান ডিমেনস ল্যান্ড।

এই আদিবাসীরা ছিল শান্তিপ্রিয়। তারা যুদ্ধ বা অস্ত্র চিনত না। তাদের একমাত্র চাওয়া ছিল "আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও"।

কিন্তু যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা এল, তারা ঘোষণা দিল, এই দ্বীপে কেউ নেই! শুরু হলো ১৯ শতকে এক ভয়ংকর গ.ণ.হ.ত্যা, যা পরিচিত "কালো যুদ্ধ" নামে।

আদিবাসীদের জমি থেকে উৎখাত করা হলো। পুরুষদের হ.ত্যা. করা হলো ।
নারী ও শিশুদের বন্দি করে পাঠানো হলো কথিত সভ্যতা শিবিরে।
সেখানে তারা মারা গেল নির্যাতন, রোগ ও অপুষ্টিতে।

উইলিয়াম ল্যানি ছিলেন সেই অল্প কয়েকজন শিশুর একজন, যিনি এই গ.ণ.হ.ত্যা থেকে বেঁচে যান। তাকে পাঠানো হয় ফ্লিন্ডার্স দ্বীপে, যেখানে তাকে "সভ্যতা ও উন্নয়ন" কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়।

তিনি দেখলেন, তার জাতির সংখ্যা ১৫,০০০ থেকে কমে, মাত্র কয়েকজন হয়ে গেছে, শেষে শুধু তিনিই রইলেন।

পরে তিনি হোবার্ট শহরে চলে আসেন, সেখানে তিনি নাবিক হিসেবে কাজ করেন। ইউরোপীয়রা তাকে দেখতে লাগল এক "অন্যরকম" মানুষ হিসেবে- যাকে "নমুনা" হিসেবে সংরক্ষণ করার চিন্তা করল তারা।

তাকে দেওয়া হলো একটি ব্যঙ্গাত্মক উপাধি, কিং বিলি।

১৮৬৯ সালের ৩ মার্চ, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান। সম্ভবত যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ায়।

কিন্তু মৃত্যুর পরও তার প্রতি অবমাননা থামেনি। তার দেহ নিয়ে শুরু হয় লড়াই- হোবার্টের ব্রিটিশ রাজকীয় জাদুঘর এবং স্থানীয় মেডিকেল কলেজের মধ্যে।

কে পাবে তার দেহ?

পরে তার মাথা কে.টে. নেওয়া হয়। চুরি করা হয় তার খুলি ও যৌ.না.ঙ্গ। তথাকথিত "নৃবিজ্ঞান" গবেষণার নামে। যা ছিল বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্ব তত্ত্বের অংশ।

তাসমানিয়ার সরকার এখনও তাকে সম্মানের সাথে পুনঃসমাধিস্থ করার প্রচেষ্টা করছে ।

Post : Collected

মানুষ, তুমি কবে মানুষ হবে?হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সদ্যজাত কন্যাশিশুকে নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে এক মামা ও নানী। বাচ্চাটা তার...
29/09/2025

মানুষ, তুমি কবে মানুষ হবে?
হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সদ্যজাত কন্যাশিশুকে নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে এক মামা ও নানী। বাচ্চাটা তারস্বরে চিৎকার করছে, তাঁর অনেক ক্ষুধা লেগেছে। সে পৃথিবীতে এসেছে মাত্র কয়েক ঘন্টা, তাঁর মা সিজারিয়ান অপারেশনের ধাক্কায় প্রায় অচেতন, স্যালাইন চলছে; এইদিকে অন্তত সাতদিন বাচ্চাকে মায়ের দুধ খেতে হবে!
শিশুটি এত কাঁদছে যে তাঁর খিচুনি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। শিশুটির সাথে তাঁর মামা ও নানি কাঁদছে।

তাঁরা শিশুটিকে কোলে নিয়ে সদ্য মা হওয়া মায়েদের কাছে এক চামচ দুধ, দুই চামচ দুধ চাইতেছে। অথবা বাটিতে একটুখানি দুধ দেওয়ার জন্য মিনতি করতেছে যাতে বাচ্চাটার গলা ভিজে, একটুখানি খাদ্য পায়।
মামা ও নানি তাঁদের সর্বোচ্চ বিনয়ে, কাতর মিনতিতে সদ্য মা হওয়া কারো মন ভেজাতে পারছে না।

নানি বলছে, মা গো এর মায়ের বুকে দুধ নাই, সে অচেতন শুয়ে আছে। এর জান বাঁচানোর জন্য একটু দুধ দেন গো অথবা একটু খাইয়ে দেন।

এক মা বলছে, আমার বুকের দুধ আমার বাচ্চা খেয়ে শেষ করতে পারবে না কিন্তু একটা সমস্যা আছে।

নানি বলতেছে- কি সমস্যা?

মা বলতেছে- স্বামীর অনুমতি লাগবিনে, তাঁর অনুমতি ছাড়া দিতে পারছি না। মেয়ের স্বামী বাইরে আছে।

শিশুটির মামা বলতেছে, এইটা একটা শিশুর প্রাণ বাঁচানোর ব্যাপার, এতে কোন দোষ হওয়ার কথা না।

মা বলতেছে- কথা বাড়ায়েন না, আমি দেতে পারব না। আপনারা যান।

বাচ্চাটা আরও তীক্ষ্ণ চিৎকারে হসপিটাল প্রাঙ্গণ হাহাকারে ভরিয়ে তুলতেছে। সাততলা শিশু হাসপাতালের তিন তলা পর্যন্ত সবার কাছে চাওয়া শেষ, একটুখানি দুধ ভিক্ষা দিতে কেউ রাজি হয়নি। অনেক নারী করুণ চোখে তাকিয়েছে, ভেতর হয়তো আর্দ্র হয়েছে কিন্তু প্রথা, নিয়মের কারণে তাঁরা দিতে পারেনি, নিয়মটি হচ্ছে- স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য বাচ্চাকে দুধ দেওয়ার নিয়ম নেই। বলা বাহুল্য অধিকাংশ স্বামী অনুমতি দেয়নি। হিন্দু, মুসলিম সব নারী নির্বিশেষে এই ব্যাপারে একটাই অজুহাত দেখিয়েছে। কেউ কেউ দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

একখানে ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে, কেউ হয়তো রাজি হয়েছে কিন্তু অন্য নারীরা বাধ সেধেছে, কর্তৃপক্ষের মতো প্রশ্ন করেছে, স্বামীর অনুমতি নিছেন, না নিলে এটা আমরা করতে দিতে পারি না।

অবশেষে একজন রুগ্ন ও অভাবে পোড় খাওয়া নারী এগিয়ে এসেছেন, তিনিও বলেছেন, একটু জিজ্ঞেস করা লাগতো। একটু দ্বিধা ছিল, দোনোমোনো করতে করতেই তার রিকসাওয়ালা স্বামীটি খাবার নিয়ে আসছেন স্ত্রীর জন্য, তিনি সব শুনে বললেন, যেখানে জীবনের প্রয়োজন সেইখানে জীবন বাঁচানোই তো ধর্ম; দিয়া দে, যত লাগে, যতবার লাগে।

বাচ্চাটি তখন সেই মায়ের কোলে, দাঁতহীন মাড়ি দিয়ে কামড়ে ধরেছে করুণাধারা। শিশুটির মুখে প্রশান্তি নেমেছে। সেই মা যতবার শিশুটির দুধ প্রয়োজন হয়েছে ততবার তিনি প্রকৃতির উদারতায় শিশুটিকে দুধ দিয়েছেন। আর শিশুটির মামা ও নানি তখন আনন্দে কাঁদছে!

Post: Collected

Kardashev Scale regarding Universe
23/09/2025

Kardashev Scale regarding Universe

12/09/2025

হুমায়ূন আহমেদ এবং একজন অন্ধ সহপাঠী

হুমায়ূন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময়ের ঘটনাটি লিখেছেন হোটেল গ্রেভার ইন-এ। লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

আমি আমেরিকায় এসেছি পড়াশোনা করতে। নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রির মতো রসকষহীন একটি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে হবে। কত দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী কেটে যাবে। ল্যাবরেটরিতে, পাঠ্যবইয়ের গোলকধাঁধায়। মনে হলেই হূৎপিণ্ডের টিকটিক খানিকটা হলেও শ্লথ হয়ে যায়।

নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটির ক্লাসগুলো যেখানে হয়, তার নাম ডানবার হল। ডানবার হলের ৩৩ নম্বর কক্ষে ক্লাস শুরু হলো। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ক্লাস। কোর্স নম্বর ৫২৯। কোর্স নম্বরগুলো সম্পর্কে সামান্য ধারণা দিয়ে নিই। টু হানড্রেড লেভেলের কোর্স হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের নিচের দিকের ছাত্রদের জন্য। থ্রি হানড্রেড লেভেল হচ্ছে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের ওপরের দিকের ছাত্রদের জন্য। ফোর হানড্রেড এবং ফাইভ হানড্রেড লেভেল হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট লেভেল।

ফাইভ হানড্রেড লেভেলের যে কোর্সটি আমি নিলাম, সে সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প কিছু কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়েছি। একেবারে কিছুই যে জানি না, তাও নয়। তবে এই বিষয়ে আমার বিদ্যা খুবই ভাসাভাসা। জলের ওপর ওড়াউড়ি, জল স্পর্শ করা নয়। একাডেমিক বিষয়ে নিজের মেধা এবং বুদ্ধির ওপর আমার আস্থাও ছিল সীমাহীন। রসায়নের একটি বিষয় আমি পড়ে বুঝতে পারব না, তা হতেই পারে না।

আমাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটর আমাকে বললেন, ফাইভ হানড্রেড লেভেলের এই কোর্সটি যে তুমি নিচ্ছ, ভুল করছ না তো? পারবে?
আমি বললাম, ইয়েস।
তখনো ইয়েস এবং নো-র বাইরে তেমন কিছু বলা রপ্ত হয়নি। কোর্স কো-অর্ডিনেটর বললেন, এই কোর্সে ঢোকার আগে কিন্তু ফোর হানড্রেড লেভেলের কোর্স শেষ করোনি। ভালো করে ভেবে দেখ, পারবে?
: ইয়েস।
কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মুখ দেখে মনে হলো, তিনি আমার ইয়েস শুনেও বিশেষ ভরসা পাচ্ছেন না।
ক্লাস শুরু হলো। ছাত্রসংখ্যা পনেরো। বিদেশি বলতে আমি এবং ইন্ডিয়ান এক মেয়ে—কান্তা।

ছাত্রদের মধ্যে একজন অন্ধ ছাত্রকে দেখে চমকে উঠলাম! সে তার ব্রেইলি টাইপ রাইটার নিয়ে এসেছে। ক্লাসে ঢুকেই সে বিনীত ভঙ্গিতে বলল, আমি বক্তৃতা টাইপ করব। খটখট শব্দ হবে, এ জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি হতভম্ব। অন্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এটা আমি জানি। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু অন্ধ ছাত্রছাত্রী আছে, তবে তাদের বিষয় হচ্ছে সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা বা দর্শন। কিন্তু থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রি যে কেউ পড়তে আসে আমার জানা ছিল না।

আমাদের কোর্স টিচারের নাম মার্ক গর্ডন। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মস্তান লোক। থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রির লোকজন তাঁর নাম শুনলে চোখ কপালে তুলে ফেলে। তাঁর খ্যাতি প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। লোকটি অসম্ভব রোগা এবং তালগাছের মতো লম্বা। মুখভর্তি প্রকাণ্ড গোঁফ। ইউনিভার্সিটিতে আসেন ভালুকের মতো বড় একটা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি যখন ক্লাসে যান, কুকুরটা তাঁর চেয়ারে পা তুলে বসে থাকে।
মার্ক গর্ডন ক্লাসে ঢুকলেন একটা টি-শার্ট গায়ে দিয়ে। সেই টি-শার্টে যা লেখা, তার বঙ্গানুবাদ হলো, সুন্দরী মেয়েরা আমাকে ভালোবাসা দাও! ক্লাসে ঢুকেই সবার নামধাম জিজ্ঞেস করলেন। সবাই বসে বসে উত্তর দিল। একমাত্র আমি দাঁড়িয়ে জবাব দিলাম। মার্ক গর্ডন বিস্মিত হয়ে বললেন, তুমি দাঁড়িয়ে কথা বলছ কেন? বসে কথা বলতে কি তোমার অসুবিধা হয়? আমি জবাব দেওয়ার আগেই কান্তা বলল, এটা হচ্ছে ভারতীয় ভদ্রতা।
মার্ক গর্ডন বললেন, হুমায়ূন তুমি কি ভারতীয়?
: না। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
: ও আচ্ছা, আচ্ছা। বাংলাদেশ। বসো। এরপর থেকে বসে বসে কথা বলবে।
আমি বসলাম। মানুষটাকে ভালো লাগল এই কারণে যে সে শুদ্ধভাবে আমার নাম উচ্চারণ করেছে। অধিকাংশ আমেরিকান যা পারে না কিংবা শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা করে না। আমাকে যেসব নামে ডাকা হয় তার কয়েকটি হচ্ছে: হামায়ান, হিউমেন, হেমিন।

মার্ক গর্ডন লেকচার শুরু করলেন। ক্লাসের ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেল। বক্তৃতার শেষে তিনি বললেন, সহজ ব্যাপারগুলো নিয়ে আজ কথা বললাম, প্রথম ক্লাস তো তাই। আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। কিচ্ছু বুঝতে পারিনি। তিনি ব্যবহার করছেন গ্রুপ থিওরি, যে গ্রুপ থিওরির আমি কিছুই জানি না। আমি আমার পাশে বসে থাকা আমেরিকান ছাত্রটিকে বললাম, তুমি কি কিছু বুঝতে পারলে?
সে বিস্মিত হয়ে বলল, কেন বুঝব না, এসব তো খুবই এলিমেন্টারি ব্যাপার।

এক সপ্তাহ চলে গেল। ক্লাসে যাই, মার্ক গর্ডনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। কিচ্ছু বুঝতে পারি না। নিজের মেধা ও বুদ্ধির ওপর যে আস্থা ছিল তা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রচুর বই জোগাড় করলাম। রাতদিন পড়ি। কোনো লাভ হয় না। এই জিনিস বোঝার জন্য ক্যালকুলাসের যে জ্ঞান দরকার তা আমার নেই। আমার ইনসমনিয়ার মতো হয়ে গেল। ঘুমুতে পারি না।
গ্রেভার ইনের লবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি। মনে মনে বলি—কী সর্বনাশ! দেখতে দেখতে মিড-টার্ম পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার পর পর যে লজ্জার সম্মুখীন হতে হবে তা ভেবে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাওয়ার জোগাড় হলো। মার্ক গর্ডন যখন দেখবে বাংলাদেশের এই ছেলে পরীক্ষার খাতায় কিছুই লেখেনি, তখন তিনি কী ভাববেন? ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানই বা কী ভাববেন? এই চেয়ারম্যানকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আলি নওয়াব আমার প্রসঙ্গে একটি চিঠিতে লিখেছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ যে অল্পসংখ্যক অসাধারণ মেধাবী ছাত্র তৈরি করেছে, হুমায়ূন আহমেদ তাদের অন্যতম। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রটি যখন শূন্য পাবে, তখন কী হবে? রাতে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।

মিড-টার্ম পরীক্ষায় বসলাম। সব মিলিয়ে ১০টি প্রশ্ন। এক ঘণ্টা সময়ে প্রতিটির উত্তর করতে হবে। আমি দেখলাম, একটি প্রশ্নের অংশবিশেষের উত্তর আমি জানি, আর কিছুই জানি না। অংশবিশেষের উত্তর লেখার কোনো মানে হয় না। আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম। এক ঘণ্টা পর সাদা খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে এলাম।

পরদিন রেজাল্ট হলো। এ তো আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় যে ১৫টি খাতা দেখতে ১৫ মাস লাগবে। তিনজন এ পেয়েছে। ছয়জন বি। বাকি সব সি। বাংলাদেশের হুমায়ূন আহমেদ পেয়েছে শূন্য। সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে অন্ধ ছাত্রটি। (এ ছেলেটির নাম আমার মনে পড়ছে না। তার নামটা মনে রাখা উচিত ছিল।)

মার্ক গর্ডন আমাকে ডেকে পাঠালেন। বিস্মিত গলায় বললেন, ব্যাপারটা কী বলো তো?
আমি বললাম, কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আমার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। এই হায়ার লেভেলের কোর্স আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
: বুঝতে পারছ না তাহলে ছেড়ে দিচ্ছ না কেন? ঝুলে থাকার মানে কী?
: আমি ছাড়তে চাই না।
: তুমি বোকামি করছ। তোমার গ্রেড যদি খারাপ হয়, যদি গড় গ্রেড সি চলে আসে, তাহলে তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে
চলে যেতে হবে। গ্র্যাজুয়েট কোর্সের এই নিয়ম।
: এই নিয়ম আমি জানি।
: জেনেও তুমি এই কোর্সটা চালিয়ে যাবে?
: হ্যাঁ।
: তুমি খুবই নির্বোধের মতো কথা বলছ।
: হয়তো বলছি। কিন্তু আমি কোর্সটা ছাড়ব না।
: কারণটা বলো।
: একজন অন্ধ ছাত্র যদি এই কোর্সে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেতে পারে, আমি পারব না কেন? আমার তো চোখ আছে।
তুমি আবারও নির্বোধের মতো কথা বলছ। সে অন্ধ হতে পারে, কিন্তু তার এই বিষয়ে চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। সে আগের কোর্স সবগুলো করেছে। তুমি করোনি। তুমি আমার উপদেশ শোনো। এই কোর্স ছেড়ে দাও।
: না।

আমি ছাড়লাম না। নিজে নিজে অঙ্ক শিখলাম। গ্রুপ থিওরি শিখলাম, অপারেটর অ্যালজেব্রা শিখলাম। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই এই প্রবাদটি সম্ভবত ভুল নয়। একসময় অবাক হয়ে লক্ষ করলাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স বুঝতে শুরু করেছি।
ফাইনাল পরীক্ষায় যখন বসলাম, তখন আমি জানি আমাকে আটকানোর কোনো পথ নেই। পরীক্ষা হয়ে গেল। পরদিন মার্ক গর্ডন একটি চিঠি লিখে আমার মেইল বক্সে রেখে দিলেন। টাইপ করা একটা সংক্ষিপ্ত চিঠি, যার বিষয়বস্তু হচ্ছে:
—তুমি যদি আমার সঙ্গে থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে কাজ করো তাহলে আমি আনন্দিত হব এবং তোমার জন্য আমি একটি ফেলোশিপ ব্যবস্থা করে দেব। তোমাকে আর কষ্ট করে টিচিং অ্যাসিসটেন্টশিপ করতে হবে না।
একটি পরীক্ষা দিয়েই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হয়ে গেলাম।
পরীক্ষায় কত পেয়েছিলাম তা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। পাঠক-পাঠিকারা আমার এই লোভ ক্ষমার চোখে দেখবেন
বলে আশা করি। আমি পেয়েছিলাম ১০০ তে ১০০।

বর্তমানে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি পড়াই। ক্লাসের শুরুতে ছাত্রদের এই গল্পটি বলি। শ্রদ্ধা নিবেদন করি ওই অন্ধ ছাত্রটির প্রতি, যার কারণে আমার পক্ষে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিল।

#হুমায়ূনআহমেদ

09/09/2025

রাশিয়ায় অধ্যয়নরত এক ছাত্র লিখেছেঃ

রাশিয়ায় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর দেয়া হয় ৫ আর কেউ কোন উত্তর না লিখে সাদা খাতা জমা দিলে তাকে দেয়া হয় ২।
মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটিতে আমি পরীক্ষার এই নম্বর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতাম না। জেনে অবাক হয়ে ড থিওদর মেদ্রায়েভকে জিজ্ঞেস করি,একজন ছাত্র কিছুই না লিখে ২ পাবে এটা কী যৌক্তিক! তার তো শূন্য পাওয়াটাই সঠিক।

ড মেদ্রায়েভ উত্তর দেন, একজন মানুষ এতো শীতের মধ্যে সকাল সাতটার ক্লাসগুলো ধরতে আরো আগে ঘুম থেকে উঠেছে, গণপরিবহনে চড়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লাসরুমে পৌছেছে; প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চেষ্টা করেছে, তাকে কী করে শূন্য দিই!
যে তার রাতগুলোতে পড়ালেখা করেছে, কলম-নোটবুক-কম্পিউটার কিনেছে পড়ালেখার জন্য; জীবন-ধারায় এতো ত্যাগ সাধন করেছে পড়ালেখার জন্য তাকে কী করে শূন্য দিই!

একজন ছাত্র উত্তর লিখতে পারেনি জন্যই তাকে আমরা শূন্য দিতে পারিনা বাবা। আমরা মানুষ হিসেবে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই; তার মেধা আছে, সে কমপক্ষে চেষ্টা করেছে। যে ফলাফল আমরা দিই এটা শুধু উত্তরপত্রে লেখা উত্তরের ওপর ভিত্তি করে হতে পারেনা। এই ফলাফল দেয়া হয় তার প্রশংসা করতে আর সে যেহেতু মানুষ সে ন্যুনতম একটা নম্বর পাবার যোগ্য।

এটা শুনে আমি কেঁদেছি; বুঝতে পারিনি কী বলবো। কিন্তু ঐদিন আমি মানুষের গুরুত্ব বুঝতে পারি।

শূন্য নম্বর ছাত্রদের মোটিভেশন কমায়, তাদেরকে শেষ করে দেয়, তারা আর লেখাপড়াকে পছন্দ করতে পারে না।

গ্রেড বুকে শূন্য নম্বর লেখা হলে, ছাত্ররা ঐ বিষয়ের প্রতি আর আগ্রহ বোধ করে না। এই গল্পটা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলা; তারা যেন নিজ নিজ দেশের শূন্য দেবার বাতিল-জবুথবু শিক্ষা-ব্যবস্থাটাকে বদলাতে চেষ্টা করে।

সংগৃহীত পোস্ট।

08/09/2025

খেয়ার পাড়/ শহীদুল ইসলাম অর্ক

একজন কাশেম আলীর জীবন~আলেয়াকে বিয়ে করার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় আমি রওনা হই বাহরাইনের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পরই...
03/09/2025

একজন কাশেম আলীর জীবন~
আলেয়াকে বিয়ে করার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় আমি রওনা হই বাহরাইনের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পরই শুনতে পেলাম, আলেয়া তার আগের প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছে।

আলেয়াকে আমার মা-বাবা নিজেরাই পছন্দ করেছিলেন। বিয়েটা হয়েছিল পুরোপুরি পারিবারিকভাবে। কিন্তু আমি তাকে সত্যিকার অর্থেই মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। জীবনে প্রথম কোনো নারীকে ভালোবাসা—আর সে-ই ছিল আমার আলেয়া। তাই তার চলে যাওয়া আমাকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছিল। সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে দীর্ঘ ২২ বছর আর দেশে ফিরে যাইনি।

কিন্তু একসময় মেডিক্যালে ‘আনফিট’ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হয়। দেশে ফিরে দেখি, আমার দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অর্জিত প্রতিটি টাকাই মা-বোন-ভাইয়েরা শেষ করে ফেলেছে। চার মাস বাড়িতে ছিলাম, কিন্তু তাদের ব্যবহার ও ভেতরের কষ্ট আমাকে রাগান্বিত করে তোলে। একদিন মাত্র একটি কাপড় পরে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই।
আজ সাড়ে পাঁচ বছর হয়ে গেল সেই ঘর ছাড়ার। তারপর থেকে মাজারেই কাটছে আমার জীবন। শুধু দুই বেলা ভাতের আশায় মাজারে থাকি। এখন যাচ্ছি চট্টগ্রামের আমানত শাহ মাজারে। শুনেছি, সেখানে নাকি খাবারের ব্যবস্থা হয়।

চাঁদপুর হাজীগঞ্জ থেকে হেঁটে হেঁটে ২১ দিনে পৌঁছেছি কুমিল্লা স্টেশনে। সেখান থেকে যাত্রা চট্টগ্রামের পথে। জীবনের কাছে আর কোনো চাওয়া নেই আমার—শুধু দুই বেলা ভাত খেতে পারলেই আমি সুখী।

সংগৃহীত

নায়করাজ রাজ্জাকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনসের লোগোতে ল্যাম্পপোস্টের নিচে একজন মানুষ ও একটি ডাস্টবিনের প্...
02/09/2025

নায়করাজ রাজ্জাকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনসের লোগোতে ল্যাম্পপোস্টের নিচে একজন মানুষ ও একটি ডাস্টবিনের প্রতীক অনেকের মনেই কৌতূহল জাগায়।

রাজ্জাকের সুযোগ্য দুই সন্তান বাপ্পারাজ ও সম্রাট সম্প্রতি এই লোগোর পেছনের গল্পটি জানালেন।

১৯৬৪ সালে ঢাকায় এসে পরিচিত কেউ না থাকায় এবং কপর্দকহীন অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে স্টেডিয়ামের একটি ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে রাত কাটিয়েছিলেন রাজ্জাক।

সেখান থেকেই তাঁর নতুন জীবনের শুরু। লোগোটি সেই সংগ্রামী জীবনেরই প্রতীক।

রাজ্জাকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ দত্ত এই লোগোর নকশা করেছিলেন। তাঁর সব প্রতিষ্ঠানে এই লোগোটি ব্যবহার করা হয়েছে।

Collected

ফ্রান্ৎস কাফকা কখনো বিয়ে করেননি এবং তাঁর কোনো সন্তানাদিও ছিল না। তাঁর বয়স যখন ৪০, তখন একদিন তিনি বার্লিনের একটা  পার্কে ...
01/09/2025

ফ্রান্ৎস কাফকা কখনো বিয়ে করেননি এবং তাঁর কোনো সন্তানাদিও ছিল না। তাঁর বয়স যখন ৪০, তখন একদিন তিনি বার্লিনের একটা পার্কে হাঁটছিলেন। এমন সময় তিনি একটি ছোট্ট মেয়েকে দেখলেন যে তার প্রিয় পুতুলটি হারিয়ে কাঁদছিল। সেই মেয়েটি এবং কাফকা, দু’জনে মিলে খুব খুঁজলেন হারিয়ে যাওয়া পুতুলটিকে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তা।
কাফকা মেয়েটিকে পরের দিন আবার সেখানে আসতে বললেন। উদ্দেশ্য, আবার তাঁরা দু’জনে মিলে হারিয়ে যাওয়া পুতুলটি খুঁজবেন সেখানে।
কিন্তু পরের দিনও পুতুলটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তখন কাফকা ছোট্ট মেয়েটিকে একটি চিঠি দিলেন। আর বললেন, ‘এই চিঠিটি তোমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’। সে চিঠিতে লেখা ছিল, ‘দয়া করে তুমি কেঁদো না। আমি পৃথিবী দেখতে বেরিয়েছি। আমি আমার রোমাঞ্চকর ভ্রমণকাহিনী তোমাকে নিয়মিত লিখে জানাব।’
এভাবেই শুরু হয়েছিল একটি গল্পের, যা চলেছিল কাফকার মৃত্যু পর্যন্ত।
ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে কাফকার নিয়মিত দেখা হতো। আর যখনই দেখা হতো তখনই কাফকা একটি চিঠি দিতেন মেয়েটিকে, বলতেন সেই একই কথা, ‘চিঠিটি তার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’, এবং পড়ে শোনাতেন তার প্রিয় পুতুলের বিশ্ব-ভ্রমণের রোমাঞ্চকর সব বর্ণনা খুব যত্নের সাথে, যে বর্ণনাগুলো মেয়েটিকে ভীষণ আনন্দ দিত।
এর কিছুদিন পর একদিন কাফকা একটি পুতুল কিনলেন এবং মেয়েটিকে দিলেন। বললেন, ‘এই নাও, তোমার হারিয়ে যাওয়া সেই পুতুল।’
মেয়েটি বললো, ‘এই পুতুলটি মোটেও আমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের মতো দেখতে নয়।’
কাফকা তখন মেয়েটিকে আরও একটা চিঠি দিলেন যেটাতে তার প্রিয় পুতুলটি তাকে লিখেছে, ‘ভ্রমণ করতে করতে আমি অনেক পাল্টে গিয়েছি।’
ছোট্ট মেয়েটি তখন নতুন পুতুলটিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল এবং অপার আনন্দে ভাসল।
এর এক বছর বাদে কাফকা মারা যান।
বহু বছর বাদে, সেই ছোট্ট মেয়েটি যখন অনেক বড় হয়ে গেছে, তখন সে সেই পুতুলটির ভিতরে একটি ছোট্ট চিঠি পায়। কাফকার সই করা ছোট্ট সে চিঠিটিতে লেখা ছিল, ‘Everything you love will probably be lost, but in the end, love will return in another way.

(সংগৃহীত)

অনিন্দিতা, তোমার জন্য ৫
01/09/2025

অনিন্দিতা, তোমার জন্য ৫

হস্তরেখা অপহৃত খুরের জন্য এলিজি
26/08/2025

হস্তরেখা
অপহৃত খুরের জন্য এলিজি

Address

Chittagong
4202

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শহীদুল ইসলাম অর্ক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share