12/07/2026
"চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি এবং আমাদের 'নিরব' গণমাধ্যম: একটি অবুঝ মনের যৌক্তিক প্রশ্ন"
চট্টগ্রামে যখন লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী, ঘরবাড়ি হারা, আর ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে—তখন দেশের মূলধারার বেশ কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা দেখে সত্যি বুকটা ফেটে যায়। আমার এই সাধারণ, অবুঝ মন আজ কিছু কঠিন কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছে।
১. সংকটের গভীরতা বনাম প্রচারণার উদাসীনতা:
চট্টগ্রামের বন্যা কোনো সাধারণ জলাবদ্ধতা নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। অথচ জাতীয় গণমাধ্যমগুলোর স্ক্রল বা হেডলাইনে এই দুর্ভোগের চিত্র যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল, তার সামান্যতমও দেখা যাচ্ছে না। যখন একটি অঞ্চলের মানুষের জীবন-মরণ প্রশ্ন, তখন সংবাদমাধ্যমগুলোর এই উদাসীনতা কেন?
২. 'হলুদ সাংবাদিকতা' ও ক্ষমতার তোষামোদি:
জনগণের ট্যাক্সের টাকায়, জনগণের ভালোবাসায় যে মিডিয়া হাউজগুলো টিকে থাকে, সংকটের দিনে তারা জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? সত্যকে আড়াল করে, জনদুর্ভোগকে পাশ কাটিয়ে চটকদার বা কম গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে মেতে থাকাই কি তথাকথিত 'মূলধারার সাংবাদিকতা'? একে যদি 'হলুদ সাংবাদিকতা' বা 'দালালি' না বলা হয়, তবে এর সঠিক সংজ্ঞা কী?
৩. আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রতিফলন:
রাজধানী বা নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ছোটখাটো ঘটনাও যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইভ কাভারেজ পায়, সেখানে চট্টগ্রামের এত বড় বিপর্যয় কেন মিডিয়ার কাছে অবহেলিত? এই নীরবতা কি তবে আঞ্চলিক বৈষম্যেরই আরেকটা নগ্ন রূপ?
আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা:
সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাদের কাজ ক্ষমতার তোষামোদি করা নয়, বরং দুর্গত মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া। আমরা চাই—
চট্টগ্রামের প্রকৃত বন্যা পরিস্থিতি এবং মানুষের দুর্ভোগের চিত্র অবিলম্বে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করা হোক।
ত্রাণ বণ্টন ও উদ্ধারকাজের খবরাখবর প্রতিনিয়ত স্ক্রিনে দেখানো হোক।
এই অবহেলার দেয়াল ভেঙে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হোক।
এখন আর চুপ থাকার সময় নয়। আসুন, মূলধারার মিডিয়া যদি মুখ ফিরিয়েও নেয়, আমরা আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াকেই চট্টগ্রামের মানুষের কণ্ঠস্বর বানাই।