20/09/2024
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
লোকেশন : স্ট্রেইটস অফ জীবড়ালটার
টপিক : Blame Culture/ ব্লেম কালচার বাই A.Arafat
২০২৪ সালে এসে জীবন সংগ্রামেবেঁচে থাকা অনেকটা কঠিন হয়ে গেছে, মানুষ এই জীবন সংগ্রামে নিজের অস্থিত্ত টিকিয়ে রাখতে “হোয়াটেভার ইট টেকস ” পলিসিতে চলে গেছে, আর তাতে করে কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক, কোনটা অন্য মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে বা অন্যের ক্ষতি হচ্ছে, কোনটা সত্য বা মিথ্যা, সেটা দেখার আমাদের সময় নেই বা ইচ্ছা নেই। তার একান্তই কারণ জীবন সংগ্রামে আমার মিথ্যা বলে হোক, অন্যকে আমাদের নিজের দোষে ফাঁসিয়ে দিয়ে হোক বা অন্যের ক্ষতি করে হলেও আমাদের জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকতে হবে।
আমাদের একটা বাজে অভ্যাস আছে, আমরা সবচেয়ে বেশি দোষ দেই আমাদের আপনজন দের।জীবনের কোনো শমীকরণ না মিললে বা ব্যর্থতায় ভারাক্রান্ত হয়ে আমরা নিজেদের দোষ না দিয়ে আমরা অন্যদের দোষ দেই, এতে করে হয়তোবা আমাদের মনের কিছুটা কষ্ট কমে যায়, হয়তোবা হৃদয়ের কোনো একটি জায়গায় শান্তি মেলে এই ভেবে যে আজ আমি ব্যার্থ আমার নিজের দোষে নয় বরং অন্য কারো জন্য।আমার কাছে মনে হয় মানুষ মিথ্যাকে ভালোবাসে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজের ব্যর্থতাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চায়, নিজেকে বার বার বলতে বলতে মিথ্যাটাকে আমাদের ব্রেইন সত্য বলেই রায় দেয়, আর এতে করে আমরা চিন্তা করার শক্তি আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলি।
ছেলে মেয়েরা ছোট থাকতেই আদরের থাকে, কেনো এই কথাটা মানুষ বলে?
আমাদের বাবা মায়েরা আমাদের জন্য যা করেছে এর ১০% আমাদের দাদা দাদীরা ওনাদের জন্য করেন নাই, কিন্তু দেখি না কোনোদিন আক্ষেপ নিয়ে ওনাদের নিয়ে কিছু বলতে, বা ওনাদের কোনো দোষ দিতে।অথচো আজকাল আমরা সংসার জীবনে অশান্তির জন্য, অথবা ভালো চাকরি না পাওয়ার পিছনে, অথবা দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যর্থতার জন্য আমরা আমাদের বাবা মা দের দায়ী করি, কারণ আমরা ওই যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বা নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য ব্লেম কালচার এর আশ্রয় নেই।
আমার বাসায় পার্ট টাইম কাজ করে একটা মেয়ে, হাসব্যান্ড ওয়াইফ মিলে হয়তোবা ইনকাম ২০ হাজারের মতো, সেই মেয়ে তার ছেলে কে ভালো স্কুলে পড়ায়, বেতন প্রাই ২৫০০ টাকা, বাচ্চাকে ভালো স্যারের কাছে কোচিং এ পাঠায় ২০০০ টাকা দিয়ে, যখন যা চায় কিনে দেয়, স্কুল থেকে আসার সময় চিপস চকলেট ইত্যাদি আরো আবদার তো থাকেই। চিন্তা করে দেখলাম হাসব্যান্ড ওয়াইফের ২০ হাজার টাকার উপার্জনের অর্ধেকটাই চলে যায় বাচ্চার পিছনে, বাচ্চাকে একটা ভালো ফিউচার দেয়ার আশায়, সর্ব চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজেদের সুখ শান্তি বা আরেকটু ভালো থাকার বা খাওয়ার ইচ্ছা কে বিসর্জন দিয়ে, এরি নাম বাবা মা। আর আমরা কি না একটু বড়ো হয়ে মুখে মুখে তর্ক করি, অর্ডার দেয়া শুরু করি বাবা মা দেরকে, বুড়ো হয়ে গেলে তো বোঝাই মনে করি, আর কিছু একটা হলে তো এটা বলতে একটুও দ্বিধা বোধ করি না যে “ছোট বেলায় কি শিখাইসো, অথবা এই ভাবে বাচ্চা কাচ্চা বড়ো করে নাকি, অথবা আজকে তোমাদের জন্যই আমার এই অবস্থা” , ইত্যাদি.
উপরে জাস্ট একটা ব্লেম কালচার এর উদাহরণ দিলাম, এ ছাড়াও আমাদের জীবনে প্রতি টা সেক্টরেই সিরিয়াস ব্লেম কালচার আছে, এগুলা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, নিজের উপরে ব্লেম দেয়া বা নেয়া শিখতে হবে.
আজ হয়তোবা অন্য কাউকে নিজের দোষ চাপিয়ে দিয়ে বেঁচে যাবেন কিন্তু কাল যে আপনার সাথে ঐটার ১০ গুন বেশি হবে না এটার গ্যারান্টি দিতে পারবেন তো?
A.Arafat