12/08/2026
⚠️ ভাস্কর্য কি তখনই হারাম, যখন সেটা বঙ্গবন্ধুর?
একটা প্রশ্নের উত্তর আজ জনগণ জানতে চায়।
একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে—
“ভাস্কর্য হারাম”, “মূর্তি হারাম”, “এগুলো ইসলামবিরোধী”।
তখন ধর্মের বিধান, শরিয়তের দলিল এবং ইসলামের কথা সামনে আনা হয়েছিল।
কিন্তু আজ যখন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মানুষের অবয়ব ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তখন সেই একই শরিয়তি প্রশ্ন কোথায় গেল?
জুলাই জাদুঘর যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে এবং সেখানে রিকশাচালক, টোকাইদের ঘিরে ভাস্কর্য রয়েছে—এ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে জাদুঘরের প্রদর্শনীতে শাপলা চত্বরের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন খুবই সরল—
👉 ভাস্কর্য যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম হয়, তাহলে সেটা বঙ্গবন্ধুর হোক, জুলাইয়ের কোনো ব্যক্তির হোক কিংবা শাপলা চত্বরের কোনো ব্যক্তির হোক—নীতিটা কি সবার জন্য একই হওয়া উচিত নয়?
নাকি ব্যক্তির পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচয় বদলালে শরিয়তের বিধানও বদলে যাবে?
ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়! ইসলামের বিধান কোনো সরকার, দল বা আন্দোলনের সুবিধা অনুযায়ী পরিবর্তন হয় না।
আজ যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এক পক্ষের ভাস্কর্যকে হারাম বলেছেন, তাদের কাছেই বিনীত প্রশ্ন—
📌 আজকের ভাস্কর্যগুলো সম্পর্কে আপনাদের শরয়ি অবস্থান কী?
যদি হারাম হয়—স্পষ্টভাবে বলুন, দলিলসহ বলুন।
আর যদি হালাল হয়—তাহলেও কুরআন-হাদিস ও ফিকহের দলিল দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
কিন্তু একই কাজের ক্ষেত্রে এক সময় এক কথা, আর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর পর আরেক কথা—এটা সাধারণ মুসলমানের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
আমরা কোনো মৃত মানুষকে অসম্মান করতে চাই না।কোনো আন্দোলনে নিহত সাধারণ মানুষের পরিবারকেও কষ্ট দিতে চাই না।
আমাদের প্রশ্ন মানুষের প্রতি নয়—
**নীতির সামঞ্জস্যের প্রতি।**
যে বিষয়কে ধর্মের নামে হারাম বলা হয়েছিল, সেটাই যদি রাজনৈতিক পরিচয় বদলানোর পর গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করবেই—
**এটা কি দ্বীনের অবস্থান, নাকি রাজনৈতিক সুবিধার অবস্থান?**
মনে রাখা দরকার—দ্বীনের বিধান আবেগে নয়, দলিলে নির্ধারিত হয়। আর আল্লাহর দ্বীনকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তাই আসুন—বঙ্গবন্ধু, জুলাই, শাপলা চত্বর—কোনো নামের ভিত্তিতে নয়; **একই মানদণ্ডে, একই নীতিতে এবং শরিয়তের দলিলের ভিত্তিতে কথা বলি।**
কারণ সত্যিকারের দ্বীনদারি হলো—
নিজের পছন্দের পক্ষের জন্য এক বিধান আর অপছন্দের পক্ষের জন্য আরেক বিধান নয়।
#ভাস্কর্য_নিয়ে_দ্বৈতনীতি
#দলিল_চাই
#ইসলাম_রাজনীতির_হাতিয়ার_নয়
#সত্যের_পক্ষে #কপিপোস্ট