08/06/2026
এক পরহেজগার দরিদ্র যুবক এক মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল।
মেয়ের বাবা প্রস্তাবটি পাওয়া মাত্রই নাকচ করে দিয়ে অবজ্ঞার সুরে বললেন, "তুমি তো দিন এনে দিন খাওয়া এক গরিব ছেলে!
আমার মেয়ে রাজকপালে জন্মেছে, অভাব আর দারিদ্র্যের কষ্ট সহ্য করার মতো ক্ষমতা তার নেই। তাই তোমার মতো গরিব ছেলের কাছে আমি মেয়ে বিয়ে দিতে পারব না।"
কিছুদিন পর, ঠিক সেই মেয়ের জন্যই শহরের এক নামকরা, অহংকারী এবং দুশ্চরিত্র ধনী যুবকের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলো।
এবার মেয়ের বাবা খুশিতে গদগদ হয়ে, কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই সানন্দে বিয়েতে রাজি হয়ে গেলেন!
মেয়ের বাবার এমন দ্বিচারিতা দেখে প্রতিবেশীরা যখন তাকে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা ভাই, ছেলেটার চরিত্র তো মোটেও ভালো না, নানা রকম অনৈতিক কাজে সে জড়িত। জেনেবুঝেও এমন ছেলের হাতে মেয়ে তুলে দিচ্ছেন?"
তখন মেয়ের বাবা অত্যন্ত ধার্মিকতার ভাব নিয়ে বললেন, "আরেহ! চিন্তার কী আছে? আল্লাহ চাইলে তাকে হেদায়েত দিয়ে দেবেন, বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।"
বাবার মুখে এই অদ্ভুত যুক্তি শুনে ঘরের কোণ থেকে মেয়েটি আর চুপ থাকতে পারল না। সে দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বলল,
"বাবা! যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তুমি ভাবছ—তিনি একটা দুশ্চরিত্র মানুষকে 'হেদায়েত' দিয়ে দেবেন; সেই একই আল্লাহর ওপর ভরসা করে তুমি কেন এটা বিশ্বাস করতে পারলে না যে, তিনি একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষকে পর্যাপ্ত 'রিজিক' দিতে পারেন?
নাকি তোমার দৃষ্টিতে হেদায়েত দেওয়ার মালিক আর রিজিক দেওয়ার মালিক আলাদা?!"
মেয়ের এই প্রশ্নের সামনে বাবার মুখটি সেদিন অপমানে আর লজ্জায় চুন হয়ে গিয়েছিল।
আমাদের সমাজে আজ এই 'দ্বিমুখী নীতি' এক মরণব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। আমরা মানুষের চরিত্রের অভাব মেনে নিতে রাজি, কিন্তু টাকার অভাব কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না!
আমরা ভাবি, পয়সা থাকলে চরিত্র এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, যা আমাদের এক চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ টাকা কোনোদিন গ্যারান্টি দিতে পারে না যে, সে একটা মানুষকে ভালো মানুষ বানাবে।
আমরা ভুলে যাই, যিনি 'আল-হাদী' (হেদায়েতকারী), তিনিই 'আর-রাজ্জাক' (রিজিকদাতা)।
টাকার অভাব হয়তো মেহনত করে দূর করা যায়, কিন্তু যার ভেতরে আল্লাহর ভয় আর উত্তম চরিত্র নেই, সে কোটি টাকার প্রাসাদে রেখেও আপনার সন্তানকে কোনোদিন সুখে রাখতে পারবে না।
-- সবক আমুয ওয়াকিয়াত