12/09/2026
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ১০ নং মারুকা ইউনিয়নের আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন তালুকদার বলেছেন, “আমি চেয়ারম্যান হতে চাই না, আমি অত্র ইউনিয়নের জনগণের সেবক হতে চাই।” জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে তাদের পাশে থেকে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ইসমাইল হোসেন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে মারুকা ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় নানা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
বিশেষ করে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। মারুকা ইউনিয়নের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাদকবিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তার মতে, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট, কালভার্ট কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইসমাইল হোসেন তালুকদার বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা ছাড়া কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। আমি পদ-পদবির জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। জনগণ আমাকে যে দায়িত্বই দিক, আমি তাদের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, মারুকা ইউনিয়নের উন্নয়নে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। মাদক, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সামাজিকভাবে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করছেন বলেও জানা গেছে। জনগণের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নিয়ে এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
তার ভাষায়, “আমি নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নয় শুধু, বরং জনগণের একজন সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের কথা শোনা, তাদের সমস্যা জানা এবং সাধ্যের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করাই হবে আমার অঙ্গীকার।”
মারুকা ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, মাদকমুক্ত ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইসমাইল হোসেন তালুকদার বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। জনগণের সহযোগিতা পেলে দীর্ঘমেয়াদে ইউনিয়নের সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মারুকা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ইসমাইল হোসেন তালুকদারের সামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদকবিরোধী ভূমিকা এবং জনগণের সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা করছেন স্থানীয়রা।