20/06/2020
করজে হাসানা কেন প্রাতিষ্ঠানিভাবে প্রজেক্ট হিসেবে এগিয়ে নেওয়া দরকার
ইসলামে কর্জে হাসানার কনসেপ্ট আসলে ব্যক্তিকেন্দ্রীক, সামষ্টিকভাবে নয়। ব্যক্তিগতভাবেই কর্জে হাসানা দেওয়ার অনুশীলন আছে। আমরা তাহলে কেন সামষ্টিক কর্জে হাসানার ফান্ড তৈরি করার কথা বলছি? ব্যক্তি উদ্যোগ ছাপিয়ে কেন কয়েকজন মিলে সামষ্টিকভাবে কর্জে হাসানা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে?
এই ব্যাপারে আমি আজ কিছু বলব।
প্রথমত,
ব্যক্তি উদ্যোগে কর্জে হাসানা দেওয়ার কিছু সমস্যা সামনে এসেছে। একটা কথা পরিস্কার হওয়া ভালো— কর্জে হাসানা কোনো দান-সাদাকা নয়; জাস্ট কিছু দিনের জন্য কর্জ দেওয়া। কর্জ দাতা নির্দিষ্ট সময় পরে টাকা ফেরত নিয়ে নিজের যেকোনো প্রয়োজনে তা খরচ করতে পারবেন। দান ফেরতযোগ্য নয়; কর্জে হাসানা অবশ্যই ফেরতযোগ্য। দান-সাদাকায় ব্যক্তি অধিকার থাকে না, কর্জে হাসানাতে ব্যক্তি অধিকার বলবত থাকে।
মুশকিল হলো, ব্যক্তি উদ্যোগে কর্জে হাসানা প্রদান করলে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্কের কারণে কর্জ দাতা ফেরত চাইতেও লজ্জা অনুভব করেন। ব্যক্তি উদ্যোগে খুব বেশি প্রেসার তৈরি করাও যায় না। অব্যাহতভাবে কর্জ ফেরতের নেগেটিভ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হওয়ায় একটা সময়ে কর্জে হাসানা নিয়ে নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি হচ্ছে।
এ কারণেই আমরা সামষ্টিক কর্জে হাসানাকে উৎসাহিত করছি। সামষ্ঠিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কর্জ দিলে তা ফেরত নেওয়া তুলনামূলক সহজ।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্জ দেওয়ার সময় দুজন স্বাক্ষী ও জামিনদার রাখা হয়। নির্দিষ্টভাবে আবেদন করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে কর্জ ফেরত দেওয়ার তাগাদা দিতে হেজিটেশন অনুভব হয় না। কারণ, তাগাদা ব্যক্তির পক্ষ থেকে নয়; প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সাক্ষাৎ করে যোগাযোগ করা হয়।
দ্বিতীয়ত,
ব্যক্তি উদ্যোগে গুটি কয়েকবার কর্জ দেওয়া যায়। সামষ্ঠিকভাবে কর্জের ফান্ড করলে শত শত মানুষকে কর্জ দেওয়া যায়। ব্যক্তি উদ্যোগের চেয়ে সামষ্টিক উদ্যোগ সমাজে অনেক বেশি ইম্প্যাক্টফুল। সদুযুক্ত সমাজে ইম্প্যাক্টফুল চেঞ্জ আনতে হলে আপনাকে সম্মিলিত প্রয়াসে বৃহৎ পরিসরে কর্জে হাসানাকে এড্রেস করতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে খুব বেশি কিছু সম্ভব নয়। একটা ঝাঁকুনি দিতে হলে অবশ্যই টিম হয়ে মুভ করতে হবে।
তৃতীয়ত,
কর্জে হাসানার একটা বৃহত্তর স্পেস ওপেন রাখতে হবে। সুদ পাওয়ার প্রতিষ্ঠান আছে। সুদের বিপরীতে কর্জ পাওয়ারও প্রতিষ্ঠান এভেইলএভবল থাকতে হবে। কারও কর্জ প্রয়োজন হলে যেন কমফোর্টলি কর্জ দাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার স্পেস পায়; নইলে সুদী প্রতিষ্ঠানের দিকেই ঝুঁকবে।
সর্বোপরি, কর্জে হাসানাকে একটা সামাজিক আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। কমিউনিটি বেইজ ফান্ড করতে হবে। তাহলে একটা সামাজিক পরিবর্তন আসবে, সুদের বিরুদ্ধে লড়াই শক্তিশালী হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে এই লড়াই এগিয়ে নেওয়া একটু কঠিন।
চতুর্থত,
ব্যক্তিকেন্দ্রিক আমলকে কেন আমরা সামাজিক ভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বলছি, চাচ্ছি এর অন্যতম কারন হচ্ছে আমাদের মাঝে সুদ ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে এবং তা ব্যক্তি পর্যায়ে এমন ভাবে ছড়িয়ে গেছে যে এর থেকে মুক্ত হওয়া টাফ এজন্যে কর্জে হাসানাকে সামাজিক ভাবেই প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে, সুদ থেকে বাচতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে এটা দাড় করানোর চিন্তা করতে হচ্ছে, একটা সময় ছিলো ইসলামে পুঁজিবাদ অনুপ্রবেশ করেনি তখনো, কিন্তু মানুষের ন্যায় নীতি ঠিক ছিলো কিন্তু এখন এই জায়গাটাও ভাববার মত বিষয়।
করজে হাসানা ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ থেকে কপি কৃত