31/12/2015
আয়ারল্যান্ড:
আয়ারল্যান্ডের অবিবাহিত মেয়েরা নবর্ষের আগের রাতে তাদের বালিশের নিচে মিস্টলটো নামক লতানো গাছের পাতা রেখে দেয়। তারা বিশ্বাস করে এই পাতা বালিশের নিচে রাখলে তারা ভালো বর পাবে এবং দুর্ভাগ্যের কবল থেকে রেহাই পাবে।
ডেনমার্ক:
ড্যানিশরা নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রতিবেশীদের বাড়ির সামনে বাসনকোসন ছোড়ে। তাদের বিশ্বাস, যার বাড়ির সামনে সবচেয়ে বেশি বাসন থাকবে, সে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান কারণ তার সবচেয়ে বেশি ভালো বন্ধু আছে।
চিলি
মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপনের রীতি রয়েছে চিলিতে। ১৯৯৫ সালে দেশটির টালকা নামক এক ছোট শহরে একটি কবরস্থানের বেড়ার উপর দিয়ে লাফিয়ে বাবার সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করতে ভেতরে ঢুকেছিল একটি পরিবার। এরপর থেকে প্রতিবছর এই শহরের মানুষেরা মাঝরাতে কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে শুরু করে নতুন বছরটি।
জাপান :
শুভদিন হিসেবে অন্তত সূর্যাস্ত পর্যন্ত নববর্ষে হাস্যমুখর থাকে জাপানিরা। লোকাচার অনুযায়ী মন্দভাগ্য এড়াতে অনেকে বাড়ির সামনে টাঙিয়ে রাখে বিশেষভাবে তৈরি রশি। খারাপ আত্মাকে দূরে রাখার জন্য এ সময় বাড়ির বাইরে দড়ি দিয়ে খড়ের টুকরো ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এটাকে তারা সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখে। প্রার্থনা, ঘন্টা বাজানো ও টস করার মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করেন জাপানিরা।
আর্জেন্টিনা :
আর্জেন্টিনায় নববর্ষের আগের দিন রাত্রে পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করেন। নববর্ষের প্রথম দিন নদী বা পুকুরে সাঁতার কেটে তারা নববর্ষ উদযাপন করেন।
ব্রাজিল :
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো সমুদ্রসৈকতে নববর্ষের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানটি হয়। এর অন্যতম আকর্ষণ চোখ ধাঁধানো পোশাক পরিধান করা। সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুড়ে দিলে বছরটি খুব ভালো কাটবে বলে তারা মনে করেন।
স্পেন :
স্পেনে রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ১২টা করে আঙুর খেয়ে নিউ ইয়ারকে স্বাগত জানায়। কারণ তারা মনে করে এই আঙুর তাদের সৌভাগ্যের প্রতীক।
থাইল্যান্ড :
থাইল্যান্ডে নববর্ষের নাম ‘সংক্রান’। এই উৎসব এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৌদ্ধ নববর্ষ উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়। তারা রাস্তায় পানির পিচকারি বা বালতিতে বরফ নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়।
ভিয়েতনাম :
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে নববর্ষ উদযাপিত হয় ৩১ ডিসেম্বর। তাদের অনুষ্ঠানে রাস্তাঘাটকে পুষ্প ও আলোকসজ্জিত করা হয়। ভিয়েতনামে নববর্ষকে সংক্ষেপে ‘টেট’ শব্দে অভিহিত করা হয়। ভিয়েতনামিদের বিশ্বাস, ঈশ্বর ঘরে ঘরে বাস করেন। নববর্ষে বেড়াতে যান স্বর্গে। সেখানে বসে মর্ত্যরে লোক কী করছে, তা খতিয়ে দেখেন। বলা হয়, কার্প মাছের পিঠে চড়ে ঈশ্বর ভ্রমণেও বের হন। এ বিশ্বাসে অনেকে নদী বা পুকুরে কার্প মাছ ছাড়েন।
কোরিয়া :
কোরিয়াতে নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। এ সময় ঘুমালে নাকি চোখের ভ্রু সাদা হয়ে যায়! রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে টিভিতে ৩৩ বার ঘন্টা বাজানো হয়। কোরিয়ার ৩৩ বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি করা হয়। কোরিয়াতে প্রায় সবাই সূর্যোদয় দেখে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সময় একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানায়।
মেক্সিকো :
মেক্সিকোতে ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ১২ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে একটি করে আঙ্গুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে, এ সময় যা কামনা করা হয়, তাই পূরণ হয়।
যুক্তরাজ্য :
যুক্তরাজ্যে নতুন বছরে মধ্যরাতের পর যে পুরুষ প্রথম বাড়িতে পা দেয়, বলা হয় সে বাড়িতে সৌভাগ্য নিয়ে আসে। এ সময় পুরুষরা নিজেদের বাড়িতে টাকা, রুটি, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী উপহার হিসেবে নিয়ে আসে, যাতে করে সারা বছর পরিবারের সদস্যদের এসব জিনিসের কমতি না হয়। মধ্যরাতের পর বাড়িতে পা দেয়া প্রথম মানুষটি অবশ্যই সোনালি বা লাল চুলওয়ালা এবং মহিলা হতে পারবে না। বলা হয়, এতে করে বাড়িতে দুর্ভাগ্য আসে।
হাঙ্গেরি :
হাঙ্গেরিতে নববর্ষের দিন কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এই কুশপুত্তলিকাকে ‘জ্যাক স্ট্র’ বলা হয়। আগের বছরে ঘটে যাওয়া সব দুর্ঘটনা এবং খারাপ কাজের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দুর্ভাগ্যকে ছুড়ে ফেলা হয়। বছরের শেষ দিন হাঙ্গেরিবাসী হাঁস, মুরগি বা কোন ধরনের পাখির মাংস খান না? তাদের মতে, এ দিন উড়তে পারে, এমন পাখির মাংস খেলে নতুন বছরে জীবন থেকে সকল সৌভাগ্য উড়ে যাবে!
জার্মানি :
এখানে মানুষ ঠান্ডা পানির মধ্যে তরল সিসার টুকরা ঠেলে দেয়। সিসার টুকরা যে রকম আকার বানায় তা দেখে ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা হয়। নববর্ষের আগে খাওয়া খাবারের কিছু অংশ মধ্যরাতের জন্য রেখে দেয়া হয়, যাতে করে নতুন বছর ঘরে পর্যাপ্ত খাবার থাকে।
সুইডেন :
সুইডেনে নববর্ষে রাইস পুডিং তৈরি করা হয়। এর ভেতরে একটি কাঠবাদাম লুকানো থাকে। সুইডিশরা বিশ্বাস করে, খাওয়ার সময় যে কাঠবাদামটি পাবে, সে নতুন বছরে সৌভাগ্যের মুখ দেখবে।
বুলগেরিয়া :
বুলগেরিয়ার বর্ষবরণ রীতি অন্য ধরনের। আমা