17/05/2026
কারিনা কায়সার লিভার নষ্ট হওয়ায় মারা গেছে। লিভারের ৮০% ই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তার। লাখ লাখ টাকা খরচ করে, বিদেশের উন্নত চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি তাকে।
শুধু কারিনা কায়সারই না ,এদেশের ৫ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত। হ্যাঁ ৫ কোটি মানুষ! আর ১ কোটি মানুষ লিভার সিরোসিসের ঝুঁকিতে আছে। তারাও শীঘ্রই আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
এত কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ,মারা যাচ্ছে শুধুমাত্র ভেজাল খাদ্যের কারণে। কারণ এদেশের প্রতিটা পদে পদে ভেজাল।
সকাল বেলা যেই পাউরুটি খেয়ে দিনটা শুরু করতেন সেটাতে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া গেছে, দুপুরে মাছ মাংস খাবেন সেগুলোতেও কেমিক্যাল দেয়া, ইনজেকশন দেয়া।
আদরের বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্যে যে দুধ কিনবেন সে দুধে বিষাক্ত কেমিক্যাল। শাকসবজিতে মরণব্যাধি ক্যান্সারের কীটনাশক আর চানাচুর চিপসে উচ্চমাত্রার লবণ দিয়ে ভরা।
বছরে ১ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে এসব খাবার খেয়ে।
একটু ভালো থাকার আশায় ফলমূল কিনে খাবেন কিন্তু তাতেও ভালো থাকতে পারবেন না কারণ এদেশে ফলমূলে আরও বেশি ফরমালিন মেশানো হয় যাতে একটুখানি সতেজ দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যায়।
রাস্তার ধারের ফুচকা, চটপতি খেতে যাবেন সেগুলোতে পায়খানার নোংরা ব্যাকটেরিয়া থাকে। খেলেই শত শত রোগ শরীরে বাসা বাঁধবে।
রাস্তার ধারের দোকানকে অস্বাস্থ্যকর ভেবে পশ কোন রেস্টুরেন্টে গিয়েও রেহাই পাবেন না। কারণ- কাচ্চি ভাই ,সুলতান ডাইনসের মতো বড় বড় রেস্টুরেন্টের মালিকরাই কাচ্চিতে কাপড়ের রং ব্যবহার করে যাতে খাবারটা আরেকটু উজ্জ্বল দেখায়।
অথচ কাপড়ের এই দুই নাম্বার রংই আপনি আয়েস করে খাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ চুইগোস্ত সহ শত শত রেস্টুরেন্ট দুই নাম্বার খাবার এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে যাতে আরেকটু বেশি লাভ করা যায়।
আপনার শরীরে অসুখ বাঁধিয়ে দুই পয়সা বেশি লাভ করতে পারলেই খুশি ওরা। কারণ আপনার লা*শের চেয়েও ওদের লাভের মূল্যটা বেশি।
এতসব রোগ নিয়ে সবশেষে হাসপাতালে যাবেন কিন্তু চিকিৎসা পাবেন না। কারণ এদেশে যথেষ্ট পরিমাণ ডাক্তার নাই ,থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি নাই।
আজকে যদি আপনার ক্যান্সার হয় তাহলে সে ক্যান্সারের চিকিৎসা আপনি পাবেন ৫ বছর পর। কারণ ক্যামেথেরাপি দেয়ার পরিমিত যন্ত্রপাতি নেই।
এমনকি হাসপাতালের দালাল না ধরলে একটা সিট পর্যন্ত পাবেন না। ওদেরকে ২০০ টাকা বকশিস না দিলে অক্সিজেন মাস্ক খুলে আপনাকে মেরে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করবে না ওরা।
এ দেশ বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয় নাই। শত শত রোগী মারা যায় শুধুমাত্র ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণে।
কারিনার বাবা পর্যন্ত আফসোস করে বলেছে- ঢাকার ডাক্তাররা তার মেয়েকে ভুল চিকিৎসা দিয়েছিল। অতিরিক্ত ওষুধ, ঘুমের বড়ি এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার কারণে কারিনার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গিয়েছিল।
এজন্যেই এদেশের এমপি, মন্ত্রী, নেতারা একটু অসুস্থ হলেই দেশের বাইরে চলে যায়। কারণ এদেশের চিকিৎসার উপর ভরসা করতে পারে না ওরা।
অথচ দেশের খাদ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থার এই জঘন্য পরিস্থিতির জন্যে ওরাই দায়ী।
রেস্টুরেন্টের মালিকরা, হাসপাতালের মালিকরা লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের মুখ বন্ধ করে রাখে, নেতাদের মুখ বন্ধ করে রাখে। মাঝখান থেকে নির্মমভাবে মারা যায় এদেশের গরিব, অসহায় জনগণরা।
কারিনার বাবা লাখপতি। জমি বিক্রির টাকা দিয়ে, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ধার করে মেয়েকে বিদেশে চিকিৎসা করিয়েছে।
এদেশের এমপি, মন্ত্রী, নেতারাও লাখপতি। ওদের কোন অসুখ হলে ওরাও বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারবে কোন সমস্যা হবে না।
কিন্তু আপনার বাবা হয়তো লাখপতি না। বিদেশে নিয়ে কোটি টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যটাও হয়তো নেই।
তাই হাবিজাবি ভেজাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যারা খাদ্যে ভেজাল মিশায় তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ গড়ে তুলুন।
কারণ এভাবে চুপ করে থাকলে আজকে কারিনা মরেছে, কালকে আপনি মরবেন, পরশু আপনার বাবা মরবে। এভাবে দিনদিন লা*শের সিরিয়াল শুধু বাড়তেই থাকবে।
তাই কারিনার মলিন চেহারার দিকে তাকানোর আগে আরেকবার ভাবুন পরের সিরিয়ালটা আপনার নাতো?