22/11/2025
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরাছোয়ার বাইরে জাল সনদ ও নিয়োগ জালিয়াতি অভিযোগে শিক্ষক তোয়াহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু
নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী
জাল সনদ ব্যবহার, নিয়োগে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন, প্রশ্নফাঁস চক্রে সম্পৃক্ততা—এমন একাধিক অভিযোগের মুখে মহেশখালীর জে.এম. ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ( বাংলা) মোহাম্মদ তোহার উদ্দিনুএর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। জরিপে ভিন্ন কর্মস্থানের তথ্য সরকারি ব্যানবেইচ জরিপের নথিতে দেখা যায়—২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তোহার উদ্দিন চকরিয়া গ্রামার স্কুলে কর্মরত ছিলেন।
কিন্তু তার নিয়োগপত্রে উল্লেখ আছে, তিনি ২০১৫ সাল থেকে জে.এম. ঘাট বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দুই তথ্যের অসঙ্গতি তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রশ্নফাঁস চক্রের অভিযোগে তোহার উদ্দিন চকরিয়ার এ প্লাস কোচিং সেন্টারের শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য—এমন অভিযোগও উঠেছে। যদিও বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্তাধীন রয়েছে।
আগে বিভিন্ন স্কুল থেকে বহিষ্কার, স্থানীয় সূত্রের দাবি, তোহার উদ্দিন অনিয়ম ও অসদাচরণের কারণে বিভিন্ন স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন।
পরবর্তী সময়ে তিনি জে.এম. ঘাট বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান, যেখানে তাঁর নিয়োগপত্রেও জাল সনদের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা জাল সনদ ও নিয়োগ জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মামলা করার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং: ১৭, তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ধারা: ৪২০/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১ দণ্ডবিধি মামলা আদালতে গৃহীত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
নিয়োগ কমিটি:
‘আমরা সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম না’ বিদ্যালয়ের তৎকালীন নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিনি। বেশিরভাগ কাজ সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ করেছেন।
সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন—
“২০১৫ সাল থেকে আমি তাকে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছি।”
কিন্তু ব্যানবেইচ জরিপে তোহার উদ্দিন ২০১৩–২০২২ পর্যন্ত চকরিয়া গ্রামার স্কুলে কর্মরত ছিলেন—
যা প্রমাণ করে নিয়োগটি ছিল সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও জাল তথ্যের ভিত্তিতে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন—
“জাল সনদের দায়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তদন্তে তার নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতে অসংখ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র আমাদের না দেখিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল।” কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, “তদন্তে যে অনিয়ম উঠে এসেছে, তা আমাদের অজানা ছিল। একজন প্রতারকের কারণে বিদ্যালয়ের নানামুখী বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।”
সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ ও সভাপতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ:
তৎকালীন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে তোহার উদ্দিনকে নিয়োগ দেন। সাবেক সভাপতি ফরিদুল আলমও নিশ্চিত করেছেন যে নিয়োগপত্র প্রধান শিক্ষক তাঁর একক সিদ্ধান্তে ইস্যু করেছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিদ্যালয়ে অস্থিরতা—শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ:
বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষকুকর্মচারীরা জানান, তোহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। স্থানীয়রা বলছেন, “যে শিক্ষক নিজেই জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত, সে শিক্ষার্থীদের কী শেখাবে?”
বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” বর্তমান অবস্থা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
নিয়োগ-সংক্রান্ত নথির পুনঃতদন্ত চলছে:
সাবেক প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ ও সভাপতির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষাপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজর সহযোগীতা কামনা করেছেন স্কুলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।