30/05/2026
প্রকৃতির এই নিয়মটি বড্ড নিখুঁত। আপনি আজ অন্যের জন্য যে গর্তটি খুঁড়ছেন, কাল সময়ের ফেরাতে সেই গর্তেই আপনাকে নিজেকে পড়তে হবে। এটাই চিরন্তন সত্য।
আমরা অনেকেই ভাবি, আড়ালে আবডালে অন্যের ক্ষতি করলে বোধহয় কেউ তা জানতে পারবে না। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের পথ কাটলে, কাউকে টেনে নিচে নামালে কিংবা অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে হয়তো আমরা জিতে যাব। কিন্তু সত্যি বলতে, মহাবিশ্বের একটা নিজস্ব বিচারব্যবস্থা আছে, যাকে আমরা বলি ‘কর্মফল’।
কেন কর্মফল থেকে পালানো অসম্ভব?
যা দেবেন, তাই ফেরত পাবেন: আপনি বাতাসে একটা বল ছুড়ে মারলে সেটা যেমন আপনার দিকেই ফিরে আসে, মানুষের কর্মও ঠিক তেমনই। কাউকে দেওয়া মানসিক কষ্ট, ধোঁকা বা অন্যায়—সবকিছুই সুদে-আসলে একদিন নিজের কাছেই ফিরে আসে।
অন্যের ক্ষতি কখনো নিজের উন্নতি আনে না: কাউকে নিচে নামিয়ে নিজে ওপরে ওঠার চেষ্টা করাটা সাময়িক আনন্দের হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা কেবল পতনেরই কারণ হয়।
সময় সব হিসাব চুকিয়ে দেয়: আজ হয়তো আপনার সময় ভালো যাচ্ছে, তাই মনে হচ্ছে পার পেয়ে গেলেন। কিন্তু মনে রাখবেন, সময় সবার এক যায় না। নিয়তি যখন হিসাব মেলাতে বসে, তখন পালানোর কোনো পথ থাকে না।
"অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে, তাতে নিজেকেই পড়তে হয়।"
— এই পুরোনো প্রবাদটি কেবল কথার কথা নয়, এটি হাজার বছরের চেনা এক বাস্তবতার দলিল।
তাই আসুন, হিংসা আর প্রতিহিংসার পথ পরিহার করি। কাউকে সাহায্য করতে না পারি, অন্তত কারো ক্ষতির কারণ না হই। কারণ দিনশেষে আমাদের করা প্রতিটি কর্মের হিসাব আমাদেরকেই বুঝিয়ে দিতে হবে।
আজকের বপন করা বীজই নির্ধারণ করবে আগামীকালের ফসল। তাই ভালো কিছু করুন, ভালো কিছু ছড়ান। প্রকৃতি আপনাকে কখনো হতাশ করবে না।