11/11/2025
আইন পেশা:
কোর্ট কাচারির আনাচে কানাচে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো কোট, কালো জুতা, কালো অথবা লাল টাই পরা যে মানুষ গুলো ছুটে বেড়ায়, তারা হলেন বিচারক, আইনজীবী অথবা শিক্ষানবিশ। এখানে চরম সত্য হলো এই ৩ শ্রেনীর লোকেরাই একই যোগ্যতা সম্পন্ন। একই আইন পড়ে, একই ডিগ্রি লাভ করেছে।
একাডেমিক পড়া শেষ করে সবাই বিজেএস এক্সাম দেয়, যারা পাস করে তারা জজ হয়। বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট এক্সামে যারা পাস করে তারা এডভোকেট হয়, আর যারা এ উভয় পরীক্ষা দেয়নি অথবা পাস করেনি তারা শিক্ষানবিশ। মোদ্দাকথা হলো, জজ, আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ এই ৩ শ্রেনীর লোকই একাডেমিক ডিগ্রিতে সমযোগ্যতা সম্পন্ন। আসি বাস্তবতার আলোকে, আদালত পাড়ায় শিক্ষানবিশ দের দেখা হয় অত্যান্ত নিম্নমানের দৃষ্টিতে। চরম সত্য প্রতিটি শিক্ষানবিশ দেশের সর্ব্বোচ ডিগ্রি নিয়ে কোর্ট প্রিমিসিসে হাটে। এমন ও শিক্ষানবিশ আছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাবল মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন।
আইনে শর্টকাট নেই, কাজ শিখে আইন জেনেই উকালতি করতে হয়। আইনজীবী হয়েই সব কাজ শিখা যায়না, আস্তে আস্তে সিনিয়রদের কাছে শিখতে হয়। মজার বিষয় হলো, কাজ শিখতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কোন আইনজীবীই চাকরী করার ইচ্ছা নিয়ে সিনিয়রদের কাছে থাকেন না।
চাকরিই যদি করতেন, দুনিয়ায় বহু প্রতিষ্ঠান আছে।
প্রফেশনাল মর্যাদা সমুন্নত রাখতে, অনেক সিনিয়র জুনিয়রদের ক্লারিকেল কাজ করান না। আবার অনেক সিনিয়রের চাওয়া অসীম, জুনিয়র এডভোকেট দিয়ে নিম্নমানের কাজ করাতেই মানসিক প্রশান্তি পান। আইন পেশায় টিকে থাকতে হইলে ভালো সিনিয়র পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। জুনিয়রদের আইনের প্রতি প্রবল আকর্ষন থাকলে আর সিনিয়রদের সুদৃষ্টি থাকলে এ পেশায় ব্রাইট ফিউচার আছে। তবে মাইন্ড ইট, সম্মান, ইজ্জত, বিশ্বস্ততা নিয়ে এ পেশায় টিকে থাকতে হয়। কাজের পিছনে সময় দিন, সবকিছুই আপনার পিছনে ছুটবে.........
লেখক: এডভোকেট ওবায়দুল্লাহ
জেলা ও দায়রা জজ, নাটোর।
....