Mahmud bin Mazhar

Mahmud bin Mazhar হে আল্লাহ ক্ষমা করুন! চলার পথকে সহজ করুন! রিজিকে বরকত দান করুন! হায়াতে বরকত দান করুন! দ্বীন ইসলামের উপর অটল রাখুন!

19/06/2025

বনি-ইসরাইল বা ইয়াহুদিদের বংশবিস্তার ও ইতিহাস ঃ-

ইহুদী ধর্মের জাতির পিতা এবং ইসলাম ধর্মের জাতির পিতা একজন ই, হযরত ইবরাহীম(আঃ)।
ইবরাহীম(আঃ) এর দুই পুত্র, ইসহাক(আঃ) আর ইসমাইল(আঃ)।

হয়রত ইসহাক(আঃ) এর পুত্র ছিলেন হযরত ইয়াকুব(আঃ), উনার আরেক নাম ইস/রা/ইল। এই ইয়াকুব(আঃ) এর বংশকে আল্লাহ্ তা'আলা বনি-ই/সরা/ইল নামে সম্বোধন করেছেন।

হযরত ইয়াকুব(আঃ) এর ১২সন্তানের মধ্যে ১জনের নাম ছিলো ইয়াহুদা। এই ইয়াহুদা এর বংশই পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে।
তাই, বনি-ই/সরা/ইল এর আরেক নাম ই/হু/দী।

ই/হু/দী ধর্ম আর বংশ দুটো আলাদা।
সব ইহুদী বংশের লোক ইহুদী ধর্মের হলেও সব ইহুদী ধর্মের লোক ই ইয়াহুদার বংশ নয়।
এই ইয়াহুদা ই কিন্তু তার আপন ভাই ইউসুফ(আঃ) কে কূপে ফেলে হত্যা করতে চেয়েছিল!

৪ হাজার বছর আগে ইসহাক(আঃ) এর মৃত্যুর পর ইয়াকুব(আঃ) আল্লাহ্‌'র নির্দেশে শামনগরী (সিরিয়া) থেকে কেনানে হিজরত করেন। এই কেনান ই বর্তমানের ফিলিস্তিন।

এরপর কেনানে (ফিলিস্তিন) দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইয়াহুদা তার সব ভাই এর সাথে মিশরে চলে যায় এবং মিশরে বসবাস শুরু করে।

মিশরের তখনকার রাজা ছিলেন ইউসুফ(আঃ), যিনি ইয়াকুব(আঃ) এর ১২সন্তানের মধ্যে ১১তম। সেই কারণে ইয়াহুদা ও তার বংশ মিশরে অনেক দাপটের সাথে থাকতে শুরু করে।

তারপর কালের পরিক্রমায় ক্ষমতা যায় ফারাও রাজাদের হাতে। ফেরাউন এসে বনি-ই/সরা/ইলদের এত অত্যাচার শুরু করে যে এরা সারাদিন 'ইয়া নাফসী' 'ইয়া নফসী' করতো।
তখন আল্লাহ্ তাদের কাছে পাঠালেন মূসা(আঃ) আর তাওরাত কিতাব। মুসা(আঃ) ফেরাউনকে নীলনদে ডুবানোর মাধ্যমে বনি-ই/সরা/ইল মুক্তি পায়।

তারপর মূসা(আঃ) সবাইকে নিয়ে কেনানে (ফিলিস্তিন) ফিরে যান। পরে তারা সেখানে গিয়ে আল্লাহ্‌'র অশেষ রহমত পাওয়া সত্ত্বেও মুসা(আঃ) এর ওফাতের পর আবার আল্লাহ্‌ কে ভুলে যায়, গরুপূজা সহ নানা রকম অনাচার শুরু করে।

তারপর তাদের মধ্যে ক্ষমতার লোভে নিজেদের একতা ভেঙ্গে যায়, ভিনদেশীরা তাদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের আবার গোলাম বানিয়ে অত্যাচার করতে থাকে।
এর ১০০বছর পরে দাউদ(আঃ) আর উনার ছেলে সুলাইমান(আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আবারও এই অত্যাচার থেকে তাদেরকে মুক্তি দেন।

কিন্তু সুলাইমান(আঃ) এর মৃত্যুর পর ই/হু/দীরা আবার শয়তানের পূজা শুরু করে। তাদের ভিতরে থাকা ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাওরাত কিতাবের মধ্যে নিজেদের সুবিধামত সংযোজন-বিয়োজন করার মতন ধৃষ্টতা দেখায়।
তারা তাওরাতে সংযোজন করে যে, "আল্লাহ্ তায়ালা ইসহাক(আঃ) এর স্বপ্নে কেনানকে ইহুদীদের জন্য প্রমিজ ল্যান্ড হিসেবে দিয়েছেন, এটা তাদের জয় করে নিতে হবে।"
এটাকে তারা 'জেকব লেডার ড্রিম' বলে।

তাদের এমন নির্লজ্জতা ও ধৃষ্টতার কারণে তারা বারবার আল্লাহ্‌'র শা/স্তির মুখে পড়েছে। যেমনঃ
কখনো গৃহহীন হয়ে যাযাবরের মতো ঘুরেছে,
ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্যের দ্বারা গণহ/ত্যার শিকার হয়েছে,
রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা সিরিয়া থেকে আরব দেশে বিতাড়িত হয়েছে।
মহানবী(সাঃ) এর সময় তারা আরব দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে যায় ইউরোপে।
আর উমার(রা:) ফিলিস্তিন ও আল-আকসা বিজয় করেন।
আজ ইস/রা/য়েলের এতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপও তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়নি।

বনি-ইস/রা/ইলের এমন পরিণতির কারণ আল্লাহ তায়ালা এর শা/স্তির পাশাপাশি তাদের ব্যবহার!
তখনকার লোকদের ভাষ্যমতে, তারা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ ছিল।
তাদেরকে যে জায়গায় আশ্রয় দেয়া হতো সেই জায়গাতেই তারা তাদের প্রতিবেশীর জমি দখল করতো!

ই/হু/দীরা বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ছিল আর তাদের ব্যবসা অন্যদের থেকে কৌশলগতভাবে আলাদা ছিলো, যার কারণে যাযাবরের মতো ঘুরলেও তাদের অর্থ-সম্পদ ভালোই ছিল। সেই অর্থ-সম্পদ এর দাপট দেখিয়ে তারা সেইসব এলাকার স্থানীয় লোকদের উপরই ছড়ি ঘুরাতো।
তাই তারা সেইসব এলাকার রাজা ও বাসিন্দাদের দ্বারা বার বার বিতাড়িত হতো।

বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করার পর তারা একসময় বুঝতে পারে যে, যেকোনো সমাজকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে শিক্ষা ও অর্থের বিকল্প নেই।
তাই তারা শিক্ষা অর্জন ও অর্থ উপার্জনের উপর গুরুত্ব দেয়।
তারা বিশ্বাস করে, কেনান তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমি।
তারা এটাও বিশ্বাস করে যে, একসময় তাদের একজন মসিয়াহ্‌(দাজ্জাল) এসে তাদের এই ভূমিকে উদ্ধার করে দিবে।

১৮ শতাব্দীতে ই/হু/দীরা তাদের ধর্ম-পরিচয় গোপন করে ইউরোপে বসবাস শুরু করে।
তখন থিওডোর হার্জেল নামে তাদেরই একজন ব্যবসায়ী ফিলিস্তিনকে নিজেদের দখলে আনার লক্ষ্যে ১৮৯৭ সালে জিওনিজম আন্দোলন শুরু করে ই/হু/দীদেরকে আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখানো শুরু করে।
এই আন্দোলনকে যারা সমর্থন করে, তাদেরকে জিওনিস্ট বলে।

যেহেতু ই/হু/দীরা অনেক শিক্ষা অর্জন আর অর্থ উপার্জন করেছিলো, তাই তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ইউরোপে ধর্ম গোপন করে থাকলেও কেউ কেউ মেধার জোরে ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করতে, বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
তখন তারা শুধুমাত্র পদ দখল করেই থেমে থাকেনি, সেই সাথে নিজেদের একটা রাষ্ট্র গঠনেও প্রচুর সমর্থন সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে থাকে।

তখন ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো, তাদেরকে আফ্রিকার উগান্ডায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
ঠিক এমন সময় শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে যুক্তরাজ্য নিজেদের অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য এক ধরনের গ্লিসারিন ইউজ করতো, যেটা আসতো জার্মানি থেকে।
কিন্তু যুদ্ধের সময় জার্মানি যুক্তরাজ্যের বিপক্ষে থাকায় গ্লিসারিন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

তখন যুক্তরাজ্যকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে চাইম ওয়াইজম্যান নামক একজন ই/হু/দী গবেষক ও ব্যবসায়ী। তিনি গ্লিসারিন এর বদলে এসিটোন দিয়ে অস্ত্র সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখিয়ে দেন এবং যুদ্ধে প্রচুর অর্থ সহায়তা দেন।
তার এমন অভুতপূর্ব অবদানের জন্য যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্য যখন তাকে পুরস্কৃত করতে চায়, তখন সে জানায় যে তার একমাত্র পুরস্কার হবে তাদের প্রমিজল্যান্ড মানে ফিলিস্তিনে তাদের বসবাসের সুযোগ করে দেয়া!
এখানে উল্লেখ্য, চাইম ছিলেন জিওনিজম আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

ফিলিস্তিন তখন ছিল উসমানী সালতানাতের দখলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর তুরস্কের ক্ষমতা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। সেই সুযোগে ধাপে ধাপে ই/হু/দীরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে থাকে।
প্রথমে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছে ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করে, তারপর বেশি দামের লোভ দেখিয়ে সেগুলো কিনতে থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজয়ের পর পুরো বিশ্বের ক্ষমতা ইউরোপের হাতে চলে যায়।
ই/হু/দীরা তখন স্থানীয় ফিলিস্তিনিদেরকে অত্যাচার-জোর-জবরদস্তি করা শুরু করলে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ করে।

তখনই ইউরোপ থেকে ঘোষণা আসে, পুরো ফিলিস্তিনের ৫৫ ভাগ থাকবে ফিলিস্তিনিদের দখলে আর বাকি ৪৫ ভাগ হবে ই/হু/দীদের।
৬লাখ ই/হু/দীর জন্য ৪৫% আর ১২কোটি ফিলিস্তিনির জন্য ৫৫% জায়গা!

জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ই/হু/দীরা ইজ/রা/য়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।নবগঠিত এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয় চাইম ওয়াইজম্যান।

ইজ/রায়ে/ল রাষ্ট্র গঠন হওয়ার ঠিক ৬ মিনিটের মধ্যে আমেরিকা তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়!

আর এভাবেই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে তারা ইয়াকুব(আঃ) এর সাথে কেনানে আসা যাযাবর থেকে আজকে গাজাকে ধ্বংসকারী দানবে পরিণত হয়েছে!

আর বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানেরা মুখে কুলুপ এঁটে চুপ করে বসে আছেন আর চোখে ঠুঁলি পরে সবকিছুকে না দেখার ভান করছেন!
(কপি পোষ্ট)

10/12/2024

বাংলাদেশে প্রচলিত বিদআত সমূহ"
==========================
বিদআতীদের পরিনতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
কারন, আল্লাহ বলেছেনঃ
"আপনি বলে দিন, আমি কি তোমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের সম্পর্কে জানিয়ে দিব? (দুনিয়াবী জীবনে) যাদের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে গেছে। অথচ তারা ভাবে যে, তারা সুন্দর আমলই করে যাচ্ছে।"
[সুরা কাহফঃ আয়াতঃ ১৮: ১০৩-১০৪]

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
"তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হতে বিরত থাক। নিঃশ্চয় প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদআত ও প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।"
[আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাতঃ ১৬৫]

"বিদআতীর উপর আল্লাহ এবং ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা‘নত বর্ষিত হয় এবং বিদআতীর কোন আমলই কবুল হয় না।"
[বুখারীঃ ৩১৮০]

"প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম।"
[নাসাঈঃ ১৫৭৮]

"বিদআতিরা হাউযে কাওছারের পানি পান করা হতে বঞ্চিত হবে।"
[মুসলিমঃ ৪২৪৩]

বাংলাদেশ তথা পাক-ভারত উপ-মহাদেশে যে সকল বিদআত প্রচলিত আছে তা নীচে সন্নিবেশ করা হলো।

১) ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী
২) বহুলভাবে প্রচলিত মিলাদ।
৩) শব-ই-বরাত উদযাপন।
৪) শব-ই-মিরাজ উদযাপন।
৫) কুরআনখানি-ফাতিহাখানি।
৬) মৃত ব্যক্তির জন্য- কুরআন পড়া, কুলখানি, চেহলাম, চল্লিশা, দু’আর অনুষ্ঠান আয়োজন, সওয়াব বখশে দেওয়ার অনুষ্ঠান বিদআত।
তবে, একাকী দূয়া এবং সাদাকা করা যাবে।
৭) জোরে জোরে চিল্লিয়ে জিকির করা।
৮) হালকায়ে জিকির।
৯) পীর - মুরীদি মানা ও ব্যবসা।
১০) মুখে উচ্চারন করে নিয়ত পড়া।
১১) ঢিলা কুলুখ নিয়ে ৪০ কদম হাঁটা, কাঁশি দেয়া, উঠা বসা করা বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতা।
১২) ইলিয়াস আলীর ৩, ৭, ১০, ২১, ৪০, ৪১, ১২০ দিনের চিল্লা দেওয়া।
১৩) ইলিয়াস আলীর বিশ্ব এজতেমায় টংগী যাওয়া।
১৪) নামাজের পর জামাতের সাথে হাত তুলে মুনাজাত করা।
১৫) কবরে হাত তুলে সম্মিলিত দূ’আ করা।
১৬) খতমে ইউনুস, তাহলীল, খতমে কালিমা, বানানো দরুদ পড়া।
১৭) কাট মুল্লাদের বানানো মনগড়া ১৩০ ফরজ মানা।
১৮) ইলমে তাসাউফ বা সুফীবাদ মানা।
১৯) জন্মদিন, মৃত্যু দিবস, বিবাহ বার্ষিকী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি বিজাতীয় সংস্কৃতি পালন করা।
২০) অজুতে ঘাড় মাসেহ করা।
২১) আল্লাহকে খোদা বলা।
২২) বাতেনী এলেম বা তাওয়াজ্জুহ মানা।
২৩) বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করে রাতভর ওয়াজ করা।
২৪) অন্ধভাবে মাজহাব মানা।
২৫) ওরস পালন করা।
২৬) এমন দু’য়া বা দুরুদ পাঠ করা যা হাদিসে নাই। যেমনঃ
দুরুদে হাজারী, দুরুদে লক্ষী, দুরুদে তাজ, দুরুদে মাহি ইত্যাদি দুরুদ, পাঞ্জেগানা ওজীফা।
২৭) মালাকুল মাউতকে (৩২:১১) আজরাঈল বলে ডাকা। কারন, আজরাঈল ইসরাইলীদের দেওয়া উপনাম।
২৮) মিথ্যা হাসির গল্প বলে মানুষকে হাসানো।
২৯) আস্তাগ ফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি জাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুয়াত্তা ইল্লা বিল্লাহি আলিইল আজিম। এটা বানানো ইসতেগফার।
৩০) ৭০ হাজার বার কালিমা খতম করা বা দল বেধে লক্ষ বার কালেমা খতম করা।
৩১) জানাজা দেয়ার সময় কালিমা শাহাদাত পাঠ করা।
৩২) মৃত ব্যাক্তির কাজা নামাজের কাফফারা দেয়া।
৩৩) কুরআনকে সব সময় চুমু খাওয়া।
৩৪) কুরআন নীচে পড়ে গেলে লবণ কাফফারা দেয়া, সালাম করা,কপালে লাগানো ইত্যাদি।
৩৫) জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ না করা। যে কোন সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ না করলে সালাত বাতিল হয়ে যায়।
৩৬) দলবেধে যিকর করা।
৩৭) আল্লাহু, আল্লাহু যিকর করা।
৩৮) চার মাজহাব অনুসরন।
৩৯) ১৯২৬ সালের ইলিয়াস আলীর স্বপ্নের তাবলীগ প্রচলন দ্বীনের মধ্যে ভয়ংকর বিদআত।
৪০) খাৎনার অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি

10/12/2024

🔘মেয়েদের জন্য ৭ টি হাদিস :-

১.দেবর মৃত্যু সমতুল্য। (মৃত্যু থেকে মানুষ যেভাবে পলায়ন বা সতর্কতা অবলম্বন করে এক্ষেত্রে তাই করতে হবে)
(বুখারী শরীফ ৫২৩২, মুসলিম শরীফ ২১৭২, তিরমিযী শরীফ ১১৭১)

২.কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হলে নিঃসন্দেহে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (তিরমিযী শরীফ ১১৭১)

৩.তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। (তিরমিযী শরীফ ১১৭২)

৪.কোন অবৈধ নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে মাথায় লোহার পেরেক পুঁতে যাওয়া ভালো।
(আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২২৬)

৫.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী যাদেরকে আমি দেখিনি। তারা ভবিষ্যতে আসবে। প্রথম শ্রেণী হবে একদল অত্যাচারী, যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক যার দ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সে নারীর দল, যারা কাপড় পরিধান করবে কিন্তু তবুও তারা উলঙ্গ অবস্থায় থাকবে, নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট এবং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে, যাদের মস্তক (খোঁপা বাধার কারণে) উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ বহু দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।”
(মুসলিম শরীফ ২১২৮)

৬.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের বাহিরে দেখতে পান যে, নারীরা রাস্তায় পুরুষের সাথে মিশে গেছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের বলেন, তোমরা অপেক্ষা কর, কারণ, তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝে হাটা উচিত নয়, তোমাদের জন্য হল রাস্তার পাশ। এ কথা শোনে নারী দেয়াল ঘেঁসে হাটা শুরু করে তখন দেখা গেল তাদের অনেকের কাপড় দেয়ালের সাথে মিশে যেত।
(আবু দাউদ শরীফ ৫২৭২)

৭.কোন মহিলা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে, তার নিকট যেন মাহরাম ছাড়া কোনো বেগানা পুরুষ প্রবেশ না করে, এ কথা শোনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সৈন্য দলে নাম লিখিয়েছি অথচ আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এখন আমি কি করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দিলেন তুমি তার সাথে বের হও। (বুখারী শরীফ ১৮৬২)

09/12/2024

দাবা খেলা।
দাবা খেলা আরেকটি হারাম কাজ। এতে করে জুয়ার প্রশস্ত পথ খুলে যায় এবং প্রচুর মূল্যবান সময় বিনষ্ট হয়।

আবূ মূসা আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ ؛ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُوْلَهُ.

‘‘যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে আল্লাহ্ তা‘আলা ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবাধ্য হলো’’। (আবূ দাউদ ৪৯৩৮; ইব্নু মাজাহ্ ৩৮৩০)

বুরাইদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيْرِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ، وَفِيْ رِوَايَةٍ: غَمَسَ يَدَهُ فِيْ لَـحْمِ خِنْزِيْرٍ وَدَمِهِ.

‘‘যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে যেন তার হাত খানা শুকরের গোস্ত ও রক্তে রঞ্জিত করলো অথবা তাতে ডুবিয়ে দিলো’’। (মুসলিম ২৬৬০; আবূ দাউদ ৪৯৩৯; ইব্নু মাজাহ্ ৩৮৩১)

23/11/2024

প্রশ্ন: ইবাদত শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা কি? ব্যবসা, চাকুরী, সাংসারিক কাজ-কারবার ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজে কি সওয়াব পাওয়া যায়?
▬▬▬◄✪✪► ▬▬▬
উত্তর:
ইবাদত العبادة শব্দের অর্থ: গোলামী বা দাসত্ব করা, আনুগত্য করা, বিনয় প্রকাশ করা ইত্যাদি।

আর পারিভাষিক ব্যাপক অর্থে ইবাদত হল, সকল প্রকার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ঐ সকল কথা ও কাজ যেগুলো মহান আল্লাহ ভালবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন। [শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.]
তাহলে দেখা যাচ্ছে, ইবাদত তিনটি ক্ষেত্রে বিভক্ত। যথা: অন্তর, মুখের ভাষা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
🌀 উদাহরণ:
▪অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, আল্লাহর প্রতি ভয়, ভরসা, ভালবাসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ, সৎ নিয়ত, আল্লাহকে মনে মনে স্মরণ করা, সৃষ্টি জীব নিয়ে ভাবা ইত্যাদি।
▪ মুখের ভাষা ও অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, তাসবিহ, (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ইত্যাদি দুআ ও জিকির পাঠ করা, আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি।
▪ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তর দ্বারা ইবাদত: যেমন, সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ, জিহাদ ইত্যাদি ।
এছাড়া আরও অনেক ধরণের ইবাদত রয়েছে যেগুলো আদায়ের মাধ্যম হল, অন্তর, ভাষা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

🌀 ইবাদত এমন একটি বিষয়, যাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা’আলা সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِي، مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِي، إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
“একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই আমি জিন ও মানব জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমার আহার্য যোগাবে। আল্লাহ্‌ তা’আলাই তো জীবিকা দাতা, মহাশক্তির আধার ও পরাক্রান্ত।” [সূরা যারিয়াত: ৫৬-৫৮]

🌀 দুনিয়াবি কাজকর্মে কি নেকি পাওয়া যায়?

মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগি করে যেমন সওয়াব অর্জন করে তেমনি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন- ঘুমানো, পানাহার, বেচাকেনা, জীবিকার অনুসন্ধান, বিবাহ-শাদি ইত্যাদি- এগুলোর মাধ্যমেও সওয়াব অর্জন করবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় যে, এ সকল বৈধ কাজ-কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের কাজে শক্তি অর্জন করবে অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমে সুস্থ ও ভালো থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করবে।

এই সৎ নিয়তের কারণে মানুষ দুনিয়াবি কাজকর্মের মাধ্যমেও সওয়াব অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ।

▪ এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ، كَانَ لَهُ أَجْرٌ”
"আর তোমাদের নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও সদকা। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ যখন যৌন আকাঙ্ক্ষা সহকারে স্ত্রীর সাথে সম্ভোগ করে, তাতেও কি সওয়াব হবে?

তিনি বলেন, "তোমরা জানো না যে, যখন কেউ হারাম পদ্ধতিতে যৌন সম্ভোগ করে তখন সে গুনাহগার হয়!?

সুতরাং অনুরূপভাবে যখন সে ঐ কাজটি হালাল পন্থায় সম্পন্ন করে তখন সে তার সওয়াব পায়।” [মুসলিম: ১০০৬]
সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত হবে, দুনিয়াবি সব ধরণের কাজ-কারবার-যেমন, খাওয়া-দাওয়াহ,বিবাহ-শাদি, লেখাপড়া, কৃষিকাজ, চাকুরী, ব্যবসা ইত্যাদি দুনিয়াবি কাজকর্মে সৎ নিয়ত পোষণ করা। তাহলে এ সব দুনিয়াবি কাজ করেও সে অর্জন করবে অবারিত সওয়াব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬◄✪✪► ▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)

04/08/2024

‘আর অত্যাচারীরা অচিরেই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়?’
(সুরা আশ-শুআরা : আয়াত ২২৭)

12/06/2024

★★★( ২য়) কোরবানির ২য় ও আধুনিক ইতিহাস →
বিস্তারিত বর্ণনা
*** মহান আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ইরাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করছিলেন। তৎকালীন অত্যাচারী বাদশাহ নমরুদ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। সে বিভিন্নরকম অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল। এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর স্ত্রী হযরত সারাকে সাথে নিয়ে শাম দেশে হিজরত করলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানকার বাদশাহ ছিলো জালিম ও ভীষণ বদলোক। বাদশাহর লোকেরা হজরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর সুন্দরী স্ত্রী হযরত সারার আগমনের সংবাদ বাদশাহর দরবারে পৌঁছে দিলে বাদশাহ তাদেরকে ধরে নিয়ে আসতে বলে। বাদশাহর লোকেরা হজরত ইব্রাহীম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী সারাকে বাদশাহর দরবারে হাজির করে।
বাদশাহ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কাছে জানতে চায়, তার সাথে স্ত্রী লোকটি কে? ইব্রাহীম (আঃ) চিন্তা করলেন, স্ত্রী বললে হয়তো বা তাঁকে মেরে ফেলতে পারে, তাই তিনি বলেন, সে আমার দ্বীনি বোন। বাদশাহ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে বন্দী করে, আর হযরত সারাকে বাদশাহর বদস্বভাব চরিতার্থ করার জন্যে রেখে দেয়। বাদশাহর কু-প্রস্তাবে হজরত সারা রাজি নাহলে, বাদশাহ তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়।
অতঃপর হযরত সারা দু’রাকা’আত সালাত আদায় করার অনুমতি চাইলে বাদশাহ তাঁকে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা করতে দেয়। হজরত সারা সালাত শেষে আল্লাহ দরবারে ফরিয়াদ করেন যেন আল্লাহ তায়ালা তাঁর সতীত্ব রক্ষা করেন।

*** হজরত সারা ও হজরত ইব্রাহীম (আঃ) তাদের বিয়ের দীর্ঘ সময় পার হলেও, তখন ও হযরত সারা মা হতে পারেননি। শেষ বয়সে এসে হযরত ইব্রাহিম (আ:) আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করলে হজরত ইব্রাহীম (আঃ) কে নেক সন্তান দান করেন। সে প্রার্থণা কবুল হল, তবে সন্তান জন্ম হল হজরত হাজেরার গর্ভে ( উল্লেখ্য হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর দুই জন সহধর্মীনি ছিলো সারা এবং হজেরা) । হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর নাম রাখলেন, ইসমাইল(আঃ) যিনি আল্লাহ’র রহমতে নিজে ও একজন নবী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
হযরত ইসমাইল (আঃ) এর জন্মের পর, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর স্ত্রী হযরত হাজেরা ও একমাত্র ছেলেকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে আরবের মক্কায় কাবা ঘরের নিকটবর্তী সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে নির্জন স্থানে সামান্য খেজুর ও এক মসক পানিসহ রেখে আসেন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যখন তাঁদের এ অবস্থায় রেখে স্থান ত্যাগ করছিলেন, তখন হযরত হাজেরা প্রশ্ন করছিলেন, আপনি আমাদের এ নির্জন স্থানে রেখে চলে যাচ্ছেন ? হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষীণকন্ঠে জবাব দিয়েছিলেন, হ্যাঁ। আবারো হযরত হাজেরা প্রশ্ন করলেন এটা কি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ? হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আবারও জবাব দিয়েছিলেন, হ্যাঁ। হযরত হাজেরা আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করে তাঁর শিশু সন্তানকে নিয়ে সেখানে অবস্থান করলেন।
হযরত হাজেরা ও তাঁর সন্তানের খাদ্য ও পানীয় যখন শেষ হয়ে গেল, তখন তিনি খাদ্য ও পানির সন্ধানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলেন। যখন নিরাশ হয়ে ফিরছিলেন, এভাবে ৭বার পানির জন্য ছুটাছুটি করেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন তাঁর শিশু পুত্র ইসমাইল (আঃ) পায়ের গোড়ালি দ্বারা জমিনে আঘাত করলে মাটির নিচ থেকে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হতে লাগল। এ সেই ফোয়ারা বা কূপ যা বর্তমানে ‘জমজম’ নামে বিশ্ব মুসলিমের কাছে পরিচিত। সুপেয় পানীয় হিসেবে এই বিখ্যাত কূপের পানি পান করে পরিতৃপ্ত হন মুসলমানরা। এটা কাবাকে কেন্দ্র করে ও হযরত ইসমাইল (আঃ) এর উছিলায় আল্লাহ তায়ালার করুণায় সৃষ্টি হয়েছিল।
মা হাজেরা তাঁর পানির পাত্র পূর্ণ করে নিলেন আর নিজেও তৃপ্তির সাথে পানি পান করলেন। এতে হজরত হাজেরার ক্ষুধা নিবারণ হল ও তাঁর শিশু পুত্রের জন্যে প্রয়োজনীয় দুধেরও ব্যবস্থা হলো। হজরত হাজেরার সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ক্রমাগত ৭ বার দৌড়াদৌড়ি করার কারণে সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালা হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্যে সাফা মারওয়া পাহাড়ে ৭ বার দৌড়াদৌড়ি করার বিধান জারি করেছেন।

*** হযরত ইসমাইল (আঃ) এর যখন হাঁটা-চলা ও খেলাধুলা করার বয়স হল, তখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে স্বপ্নে আদেশ করা হল।
যিলহজ্জ মাসের ৮,৯, ১০ রাত্রে তিনি স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্ন দেখার পর ঐ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি চিন্তায় বিভোর যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন, অতঃপর ৯ম রাতে তিনি ঐ একই স্বপ্ন দেখেন তখন তিনি বুঝতে পারেন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সত্যিকার স্বপ্ন। তার পর ১০ম রাত্রে আবার ঐ একই স্বপ্ন । তাই ঐ দিনে তিনি কুরবানী করতে উদ্যত হন পরপর ৩ রাত স্বপ্ন দেখার পর তার মনে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তারই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ৩টি দিন বিশেষ নামে বিশেষিত হয়েছে-
* যিল হজ্জের ৮ম দিনের নাম “ইয়াওমুত তারবিয়াহ” চিন্তাভাবনার দিন।
* ৯ম “ইয়াওমুল আরাফাহ” জানার দিন।
* ১০ম “ইয়াওমুন নাহর” কুরবানীর দিন।

★★★ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তাকে (হজরত ইব্রাহীম আ. কে) একজন ধৈর্যশীল পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দান করলাম। সে যখন পিতার সাথে হাঁটা-চলার উপযোগী হল, তিনি (ইব্রাহীম আঃ) বললেন, হে আমার পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে কোরবানি করছি। সুতরাং তোমার মতামত কি? সে (হজরত ইসমাইল আঃ) বললেন, হে আমার পিতা! আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করুন। আপনি আমাকে আল্লাহর মেহেরবানিতে ধৈর্যশীলদের একজন পাবেন। অতঃপর যখন তাঁরা দু‘জন একমত হলো আর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পণ করল এবং ইব্রাহীম (আ.) ইসমাইল (আ.) কে জবাই করার জন্যে কাত করে শুইয়ে দিলো; তখন আমি ইব্রাহীমকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইব্রাহীম, তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যে রূপ দিয়েছো। নিশ্চয়ই এটা ছিল ইব্রাহীম ও ইসমাইলের জন্যে একটা পরীক্ষা। অতঃপর আমি ইব্রাহীমকে দান করলাম একটি মহা কোরবানির পশু। অনাগত মানুষের জন্যে এ (কোরবানির) বিধান চালু রেখে, তাঁর স্মরণ আমি অব্যাহত রেখে দিলাম। শান্তি বর্ষিত হোক ইব্রাহীমের ওপর। আমি এভাবেই সৎপরায়ণ ব্যক্তিদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।(সূরা আস সফফাত ১০১-১০৯)

*** পুত্রকে কুরবানী করানো আল্লাহ তায়ালার মূল উদ্দেশ্য ছিলনা উদ্দেশ্য ছিল মুলত পিতা-পুত্রের পরীক্ষা নেওয়া এই স্বপ্ন দেখার পর ইব্রাহীম (আঃ) পুত্রকে কোরবানী করার জন্যে তার স্ত্রী বিবি হাজেরাকে বললেন ছেলে টাকে ভাল পোশাক পরিয়ে প্রস্তুুত করে দাও তাকে একটি কাজে নিয়ে যাব। এদিকে শয়তান বিবি হাজেরাকে ধোকা দিতে শুরু করে। এবং ছেলে ইসমাইল (আঃ) কেও ধোকা দিতে শুরু করে ঐতিহাসিকদের বর্ননা মতে শয়তান তিন বার হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তুু প্রতি বারে তিনি ৭টি কঙ্কর মেরে শয়তান কে বিতাড়িত করেন। তার স্মৃতি আজও প্রতি বছর হজের সময় পালন করা হয়। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তার ছেলেকে বললেন হেবৎস আমি স্বপ্ন দেখতেছি যে, আমি যেন তোমাকে যবেহ/কুরবানী করছি। সুতারাং তোমার অভিমত কি ? সে বলল হে আমার পিতা আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন অবশ্যই আমাকে ধৈর্য্যশীলদের অর্ন্তভুক্ত পাবেন। (সুরা সাফফাত ১০২) এভাবে পিতা-পুত্রের সাওয়াল যওয়াবের পরে ছেলে যখন রাজি হয়ে গেল তখন মহান আল্লাহর সামনে নিজ কলিজার টুকরাকে ছিড়ে রেখে দিলেন।
পিতা এবং পুত্র উভয় যখন এক মত হলেন তখন পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) পুত্রকে কাত করে শুয়ালেন তখন পুত্র পিতাকে বললেন যে আপনি আমাকে চোখ দেখা অবস্থায় যবেহ করতে পারবেন না। কারন আপনার হয়তো ছেলের মায়া উথলে উঠতে পারে ফলে আপনার ছুরি নাও চলতে পারে আমি হয়ত অধৈর্য্য হয়ে ছটফট করব আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আমাকে আপনি শক্ত করে বেধে নেন এবং আমাকে উপুড় করে শুইয়ে দিন। এবার ছেলেটির গলায় ছুরি চালাবার পালা। আল্লাহর হুকুমের কাছে আত্ম সমার্পনের মূর্ত প্রতীক ইব্রাহীমের হাতে যখন ছেলেটির ঘাড়ে ছুরি চালিয়ে দিল বিশ্ব জাহান তখন কেপে উঠল। সে কি এক অভিনব দৃশ্য। পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে পিতার হাতে পুত্রকে কুরবানী , আল্লাহু আকবার।

***ঐতিহাসিক মিনা প্রান্তরে এ ঘটনা ঘটে। ইমাম সুদ্দী (রাঃ) বলেন একদিকে আল্লাহ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে হুকুম দিয়েছেন নিজ হাতে তুমি তোমার প্রিয় পাত্র নিজ ছেলেকে কুরবানী কর বা যবেহ কর অন্য দিকে তিনি ছুরিকে নির্দেশ দিয়েছেন তুমি মোটেই কেটোনা ফলে ছুড়ি ও তার ঘাড়ের মাঝখানে আল্লাহর কুদরতে একটি পিতলের পাত আর সৃষ্টি করে। সে জন্য ইব্রাহিম (আঃ) বাব বাব ছুরি চালালেও কোন কাজ হচ্ছিলনা।
এ পরিস্তিতিতে বিশ্ব জগতের সবাই যখন হতভম্ভ এবং হতবাক ও শ্বাসরুদ্ধ তখন মহান আল্লাহ তার রহস্য ফাস করে দিয়ে জান্নাত থেকে জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন এবং ইসমাইলকে বাচিয়ে নিয়ে ইব্রাহিমের অজান্তে সে দুম্বাটি তার দ্বারা যবেহ করিয়ে দিয়ে ঘোষনা করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইব্রাহীম তুমি স্বপ্নকে সত্য প্রমান করে দেখালে। আমি এই রূপেই খাটি বান্দাদের কে পুরস্কার দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল একটি সু ¯পষ্ট পরীক্ষা। আর আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান যবেহের বিনিময়। (সুরা সফফাত ১০৪-১০৭)

*** হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) সহ অনেক মুফাসসিরীনদের এর মতে ইব্রাহীমের কাছে যে দুম্বাটি পাঠানো হয়েছিল সেটি জান্নাতে ৪০ বছর ধরে লালন পালন করা হয়েছিল। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন ইসমাইল কে যবেহ করেছিলেন। তখন জিব্রাইল (আঃ) বলেছিলেন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। অত:পর ইব্রাহিম (আঃ) বলেন আল্লাহু আকবার। ওয়ালিল্লাহেল হামদ। তার পর থেকে এ তাকবীরটি চিরস্থায়ী সুন্নাতে পরিনত হয়। আর আল্লাহ বলেন আমি তার জন্য এ বিষয়টি ভবিষ্যৎ বংশধরদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত রাখলাম। সালাম বর্ষিত হোক ইব্রাহীমের উপর (সাফফাত-১০৮-১০৯)আল্লাহর ঘোষনা মোতাবেক তখন থেকে চলে আসছে এ ইব্রাহীম (আঃ) এর আদর্শের বাস্তবায়ন। তাই আজ পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আল্লাহর হুকুমের প্রতি পালানের সাথে সাথে প্রতি বছর ইব্রাহিমের স্মৃতি পালন করে পাপ মোচন করছে। এবং ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ কে কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী করে দিয়েছেন। যা বিশ্বের তাওহীদ বাদীদের হৃদয় বিজয়ী।
এই সুমহান ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এবং আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে নিজের কুপ্রবৃত্তিকে বিসর্জন দেয়ার নিমিত্তে কোরবানি করাকে সামর্থবানদের জন্য ওয়াজিব করা হয়। যদিও কোরবানির মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সুফল আরো ব্যাপক ও বিশদ।
দুনিয়ায় মানব বসতির শুরুতেই কোরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে। হযরত আদম আঃ থেকে কুরবানী শুরু হয়।

20/05/2024

আমাদের দেশে চোরেরা কি তা বুঝেনা?

19/05/2024

হাদিসে জিবরাঈল( আ:) ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ব্যাখা!

18/05/2024

আল্লাহ জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম চায় বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম।
অধ্যাপক গোলাম আযম ( রাহ:)

Address

Cumilla

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mahmud bin Mazhar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share