Naseeha tv

Naseeha tv Naseeha tv পেইজে আপনাদের স্বাগতম।
(3)

জালেমের সহযোগিরাও হুবহু জালেম। এদের প্রতি সহমর্মীতা দেখানো লোকেরাও হুবহু জালেম। সাকিব বা মাশরাফির কেউই এখনো হাসিনার ...
17/05/2026

জালেমের সহযোগিরাও হুবহু জালেম। এদের প্রতি সহমর্মীতা দেখানো লোকেরাও হুবহু জালেম।

সাকিব বা মাশরাফির কেউই এখনো হাসিনার জুলুম নিয়ে কথা বলেনি, জুলাই অভ্যুত্থানের নৃশংসতা নিয়ে টু শব্দও করেনি। কিন্তু এ দেশের ধ্বজভঙ্গ কিছু গাঁজাখোর পোলাপাইন এই ফালতু ফটোকার্ড দেখেই কেন্দে প্যান ভিজিয়ে ফেলছে।

এদেরকে ধরে আবারও জুলাইয়ের সেই ভয়াবহ সময়গুলোতে পুলিশের ব*ন্দুদের সামনে দাঁড় করিয়ে এরপর জিজ্ঞাসা করা উচিত, এখন বল।

কথা: তানজিল আরেফিন আদনান

16/05/2026

সবাই শেয়ার করি
ইন শা আল্লাহ

কখনোই বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ইনবক্স করবে না। হোক সে আলেম। আপু, তোমার কিছু জানার দরকার পড়লে নারী আলেমদের কাছে যাও বা তোমার ...
20/04/2026

কখনোই বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ইনবক্স করবে না। হোক সে আলেম। আপু, তোমার কিছু জানার দরকার পড়লে নারী আলেমদের কাছে যাও বা তোমার মাহরাম পুরুষের মাধ্যমে কোনো আলেমের কাছ থেকে জেনে নাও।

বিপরীত লিঙ্গের কেউ মেসেজ করলে রিপ্লাই দেওয়া দূরের কথা, সিনও করবে না। সে যতো বড় আলেম, লেখক বা ফেইসবুক সেলিব্রেটিই হোক না কেন। ইসলামের ব্যাপারে বিপরীত লিঙ্গের কেউ কিছু জানতে চাইলেও একই কথা প্রযোজ্য।

দ্বীনি কোনো বিষয়ের উপর অনলাইন কোর্সে ভর্তি হলে অবশ্যই দেখে নিবে সেখানে নারী পুরুষের আলাদা ক্লাস হয় কি না। উস্তাদ বিবাহিত কি না। উস্তাদের স্বীকৃতি আছে কি না, অন্যান্য আলেম উলামারা তাকে চেনেন কি না। যদি না হয়- তাহলে ভর্তি হবার দরকার নেই। এসব কোর্সে ক্লাস করতে গিয়ে ‘হালাল প্রেম’, শুরু করা মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম না।

বাস্তবজীবনে চোখের হিফাযত করো, অনলাইনে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করো, আবার ইনবক্সে বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের সাথে দ্বীন চর্চা করো, কমেন্ট চালাচালি করো, পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দাও- এটা একধরনের ভণ্ডামি। আত্মমর্যাদাশীল কোনো মানুষের পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব না। আল্লাহর অবাধ্য হয়েই বিপরীত লিঙ্গের সাথে যোগাযোগ শুরু করতে হয়। আর আল্লাহ অবাধ্যতা করে কীসের দাওয়াহ? আল্লাহকে ভয় করো।

পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিলে, কমেন্ট করলে বা ইনবক্সে দ্বীনি মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করলে, এমন আর কী হয়- এ ধরনের প্রশ্ন কেউ কেউ করে বসে। দেখো এগুলো ছোট ছোট আগুনের স্ফূলিঙ্গ। এগুলোই ধীরে ধীরে বিশাল এক আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

বারসিসার ঘটনা জানো?

বারসিসা ছিল খুব ইবাদাতগুজার লোক। যুদ্ধে যাবার আগে তিন ভাই তাদের একমাত্র বোনকে বারসিসার যিম্মায় রেখে যেতে চাইলো। প্রথমে না করলেও, ভাইদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বারসিসা রাজি হলো। ঠিক হলো বারসিসা থাকবে তার নিজের বাসায়। আর মেয়েটি থাকবে অন্য এক বাসায়। রোজ খাবার তৈরি করে মেয়েটির ঘরের দরজায় রেখে আসতো বারসিসা। কথা বলতো না।

কিছুদিন কেটে গেল এভাবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বারসিসা শয়তানের ফাঁদে পা দিলো।
শয়তান তাকে বোঝালো- এভাবে খাবার দিয়ে চলে আসা তো অভদ্রতা, তাকে ডেকে খাবার দিয়ে আসো। বারসিসা তাই করতে শুরু করলো। তারপর শয়তান বললো, তার সাথে দুই-একটা কথা বলো, কথা বললে আর কী হবে? বারসিসা তাই করলো। তারপর শয়তান বললো- ঘরের মধ্যে বসে একটু কথা বললে আর কী হবে- মেয়েটা সারাদিন একা একা থাকে। বারসিসা শয়তানের কুমন্ত্রণায় সাড়া দিলো।

এভাবে একটু করলে কী হয়… থেকে শুরু করে এক পর্যায়ে বারসিসা সেই মেয়ের সাথে যিনা করলো। মেয়েটা গর্ভবতী হয়ে সন্তান জন্ম দিলো।

ততদিনে ভাইদের ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে। বারসিসা প্রচণ্ড ভয় পেলো। শয়তান এবার বুদ্ধি দিলো- ভাইয়েরা যদি এসে এই অবস্থা দেখে, তাহলে তোমাকে কঠিন শাস্তি দেবে। তুমি বরং ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো! শয়তানের পরামর্শে বারসিসা সেই মেয়ে ও তার সন্তানকে খুন করে কবর দিলো। ভাইয়েরা ফিরলে কান্নাকাটি করে বললো- তোমাদের বোন অসুখে মারা গেছে। ঐখানে কবর দিয়েছি। ভাইয়েরা কান্নাকাটি করে চলে গেল।

কিন্তু রাতে শয়তান গিয়ে স্বপ্নের মাধ্যমে তিন ভাইকে সত্যটা জানিয়ে দিলো। পরদিন তিন ভাই মিলে বারসিসার কাছে আসলো। মেয়েটির কবরে তার সন্তানের লাশও দেখতে পেলো। নিশ্চিত হলো, বারসিসাই তাদের বোনকে হত্যা করেছে। তারা বারসিসাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলো। তারা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন শয়তান এসে বারসিসাকে বললো, তুমি যদি আমাকে সিজদাহ করো তাহলে আমি তোমাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করবো, বারসিসা তাই করলো। তারপর? তারপর শয়তান বারসিসাকে ত্যাগ করলো।

এভাবে, একটু কথা বললে কী হয়, একটু তাকালে কী হয়… এই একটু একটুর ফাঁদে পড়ে বারসিসা যিনা করলো, খুন করলো, শিরক করলো, তারপর তাকে সেই অবস্থায় মরতে হলো।

আমাদের সমাজেও এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সদ্য দ্বীনে ফেরা বোনেরা দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, আবেগের কারণে খুব সহজেই অনলাইনের ফাঁদে পড়ে যায়। ফেইসবুকে কেউ ইসলাম নিয়ে একটু ভালো লিখলেই, দাড়ি-টুপিওয়ালা কেউ সুন্দর করে দুটো কথা বললেই, নাশীদ গাইলেই, বই লিখলেই তাকে নিয়ে ফ্যান্টাসি শুরু হয়ে যায়। দ্বীন শেখা কিংবা দাওয়াহর ফাঁদে পড়ে দিল দিয়ে বসে থাকে। গোপনে বিয়ে করে। দ্বীনি মুখোশধারী ছেলেপেলে বিয়ে করে কয়দিন ভোগ করে ছেড়ে দেয়। ব্ল্যাকমেইল করে। মনে রেখো, শরীয়াহ দ্বীনি ভাই-দ্বীনি বোনদের জন্য আলাদা না। সেলিব্রেটিদের জন্য আলাদা না। আলিমদের জন্য আলাদা না। শরীয়াহর বিধান সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।

অনলাইনের জগৎটা বাস্তব দুনিয়া থেকে পুরোই আলাদা। এখানে খুব সহজেই ভান ধরা যায়। অনলাইনে কাউকে ভালো ভাবার দরকার নাই। আবার খারাপ ভাবারও দরকার নেই। কিছুই মনে করার দরকার নেই। বাস্তবজীবনে ইন্টার‍্যাকশ্যান হয়নি, চেনো না এমন ভাই বা বোনদের খুব বেশি আপন ভাবার দরকার নেই। ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার দরকার নেই। ছবি শেয়ার বা ভিডিও কলে যাবার তো প্রশ্নই ওঠে না। যাকে একেবারেই চেনো না, তার সাথে জরুরি কথা ছাড়া কোনো কথাই বলবে না। পার্সোনাল কোনো তথ্য জানাবে না।

বোনরা মনে রেখো, আজকাল অনেক ছেলেই মেয়ে সেজে আইডি চালায়। তাই অনলাইনে নতুন কোনো বোনের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হলে তার সম্পর্কে যতটুকু পারো খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করবে। ভয়েস মেসেজ ও ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কোনো বোন যদি বারবার তোমার ভয়েস মেসেজ বা ছবি চায় তাহলে তাকে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। শুধু অনলাইনের সম্পর্কগুলো শক্তিশালী হয় না। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে থাকে এখানে। ছবি শেয়ারের প্রসঙ্গ যখন আসলো তখন অনেকবার বলে আসা কথাটা আর একবার মনে করিয়ে দেই। কখনোই তোমার খোলামেলা ছবি তুলবে না, ভিডিও করবে না। স্বামীর জন্যেও না। স্বামীকেও তুলতে দিবে না। এটা জায়েজ নেই। মেসেঞ্জারে, ওয়াটসঅ্যাপে ছবি আদানপ্রদান করবে না। ভিডিও কলে অশালীন পোশাক পরবে না। হতে পারে তার ফোন হারিয়ে গেল, হতে পারে আইডি হ্যাক হলো, হতে পারে তার সাথে তোমার ডিভোর্স হয়ে গেল। বারবার বলার পরও এই ভুলটা বারবার হচ্ছে এবং ভয়ংকর মাশুল গুনতে হচ্ছে।

মূল কথা হলো, রাসূল (ﷺ) -এর কথা মেনে বাস্তব দুনিয়ার তুমি যেমন বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে শরীয়াহসম্মত কারণ ছাড়া কথাবার্তা বলবে না, নির্জনে (মানে তোমরা ছাড়া আর কেউ নেই) কথাবার্তা বলবে না, আলাপ আলোচনা করবে না, তেমনি অনলাইনেও ইনবক্সের নির্জনতায় করবে না।

বই: আকাশের ওপারে আকাশ

দেখতে দেখতে রজব মাসের দিনগুলো শেষ হয়ে আকাশে উদিত হয়েছে শাবানের চাঁদ। পবিত্র রমাদানুল মুবারকের আর মাত্র এক মাস বাকি। রমাদ...
21/01/2026

দেখতে দেখতে রজব মাসের দিনগুলো শেষ হয়ে আকাশে উদিত হয়েছে শাবানের চাঁদ। পবিত্র রমাদানুল মুবারকের আর মাত্র এক মাস বাকি। রমাদান আসে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে—প্রবৃত্তির হাতছানি ও দুনিয়ার লোভ-লালসাকে পরিহার করে মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে।
শাবান মাসে যদি আমরা ইলমি ও আমলি দিক থেকে নিজেদের রমাদানের জন্য প্রস্তুত না করি, তবে হাজারো রমাদানও আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারবে না। তাই আসুন, জানি—রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর শাবান মাস কেমন ছিল।

🔹 শাবান মাসে রাসুল ﷺ–এর সিয়াম
রাসুলুল্লাহ ﷺ রমাদান ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবান মাসের মতো এত বেশি সিয়াম রাখতেন না।
হযরত আয়িশা রা. বলেন—
فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ.
“আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ–কে রমাদান ছাড়া অন্য কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি। আর রমাদান ব্যতীত শাবান মাসের তুলনায় তাঁকে আর কোনো মাসে বেশি রোযা রাখতে দেখিনি।”
📚 সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৯৬৯
আরেক হাদীসে আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত—
كَانَ أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانَ.
“রোযা রাখার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে সর্বাধিক প্রিয় মাস ছিল শাবান।”
📚 মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২৫৫৪৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৪৩১
অর্থাৎ, শাবান মাসের সিয়াম ছিল রাসুল ﷺ–এর সবচেয়ে প্রিয় আমলগুলোর একটি।

🔹 কেন শাবান মাসে এত বেশি সিয়াম?
হযরত উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন—
আমি একবার নবী ﷺ–কে জিজ্ঞেস করলাম,
وَلَمْ أَرَكَ تَصُومُ مِنْ شَهْرٍ مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ؟
“আমি আপনাকে অন্য কোনো মাসে এত বেশি রোযা রাখতে দেখিনি, যতটা শাবান মাসে রাখেন—এর কারণ কী?”
রাসুলুল্লাহ ﷺ উত্তরে বলেন—
ذَاكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ.
“এটি রজব ও রমাদানের মধ্যবর্তী মাস—মানুষ এ মাস সম্পর্কে গাফেল থাকে। এই মাসেই বান্দার আমল রব্বুল আলামিনের কাছে পেশ করা হয়। আর আমি পছন্দ করি—রোযাদার অবস্থায় আমার আমল পেশ হোক।”
📚 মুসনাদে আহমাদ: ২১৭৫৩; সুনানে নাসায়ী: ২৩৫৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯৮৫৮
অতএব, শাবান মাসে বেশি বেশি সিয়াম রাখা সুন্নাহ ও অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ।

🔹 অর্ধ-শাবানের রাত (লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান)
এ মাসের ১৫ তারিখের রাতে আল্লাহ ﷻ বিশেষভাবে বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
يَطَّلِعُ اللهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ.
“আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং সকলকে ক্ষমা করে দেন—শুধু শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া।”
📚 সহীহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫; শুআবুল ঈমান, বাইহাকী: ৩/৩৮২
অথচ দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এই রাতকে কেন্দ্র করে অনেক সময় শিরক ও বিদ‘আতের চর্চা দেখা যায়। আল্লাহ ﷻ আমাদের সবাইকে এসব থেকে হিফাযত করুন।

🔹 আমাদের করণীয়
• ঈমানকে শিরক ও বিদ্বেষ থেকে পরিশুদ্ধ করা
• সুন্নাতে নববীর আলোকে জীবন গঠন করা
• রমাদানের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হওয়া
• বেশি বেশি সিয়াম, কিয়ামুল লাইল
• কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দুআ
• সদাকাহ ও নেক আমল অব্যাহত রাখা

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শাবান মাসের যথাযথ কদর করার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

21/12/2025

আজ শুরু হয়েছে রজব মাস। এটি হিজরী ক্যালেন্ডারের সপ্তম মাস এবং কুরআনে উল্লেখিত পবিত্র চারটি মাসের মধ্যে একটি।

তাছাড়া রজব মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রামাদান প্রায় দোরগোড়ায় এবং আমাদের সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে- আত্মিক, মানসিক এবং শারীরিকভাবে।

এজন্যই ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর চাচা ইমাম আবু বকর আল-ওয়াররাক আল-বালখি (রহঃ) বলেছেন:

'রজব মাস হলো রোপণের মাস, শাবান মাস সেচ দেওয়ার মাস এবং রামাদান হলো ফসল কাটার মাস।'

তাহলে কিভাবে আমরা এই মাসটিকে রমজানের প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করতে পারি? চলুন দেখে নেই।

🌱 আত্ম-শুদ্ধি

কিছু সময় একা কাটান এবং কীভাবে আপনি নিজের ঈমানের উন্নতি করতে পারেন তা চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন-

'আমি আজ মারা গেলে আল্লাহ ও তাঁর রসূল কি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন?'
'আমি কি ইবাদাত সহ আমার সকল কথা ও কাজে আন্তরিক?'
'আমি কি পরকালের প্রস্তুতির জন্য আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি?'

🌱 ক্ষমা প্রার্থনা এবং দুআ

আমরা সকলেই ভুল করি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার এটাই সঠিক সময়। তিনি পরম ক্ষমাশীল ও করুণাময়। একই সাথে অন্য যাদের সাথে আপনি অন্যায় করেছেন তাদেরকেও ক্ষমা করতে বলুন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সকল আদম সন্তানই ক্রমাগত ভুল করে, তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যারা অবিরত অনুতপ্ত হয়।" (তিরমিযী)

দুয়ার লিস্ট রামাদান আসার আগেই তৈরি করা জরুরি। রজব থেকে শুরু করলে খুব ধীরে সুস্থে সুন্দর একটি লিস্ট করে ফেলা সম্ভব।

আর আল্লাহর কাছে রামাদান পাওয়ার এবং পেয়ে তা কাজে লাগানোর তৌফিক চাইতে হবে।

🌱 বাড়তি সিয়াম

নিজেকে রামাদানের রুটিনে পরিণত করতে, বেশি বেশি সিয়াম রাখা শুরু করুন। গত রামাদান আপনার মিস করা সিয়ামগুলো পূরণ করুন।

এছাড়াও সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সুন্নাহ মোতাবেক সিয়াম রাখুন।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সবচেয়ে বেশি সিয়াম রাখতেন সোমবার ও বৃহস্পতিবার। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে মানুষের আমল পেশ করা হয়। আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে ক্ষমা করে দেন যারা একে অপরকে পরিত্যাগ করে তাদের ছাড়া।" (হাসান)

🌱 বাড়তি সালাত ও যিকর

ফরজ সালাত এর পাশাপাশি সুন্নাহ ও নফল সালাত গুলোতে আমরা আরো যত্নশীল হতে পারি।

তাহাজ্জুদ এ উঠার জন্য চেষ্টা করতে পারি, সেজন্য কাজ গুছিয়ে জলদি ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। অন্তত ঘুমের আগে কিছুটা নফল সালাত পড়ে নিতে পারি। সম্ভব হলে দুপুরে দুহার সালাত পড়ে নেয়া উচিত।

সালাত শেষে জিকিরের অভ্যাস করা উচিত। এর অনেক ফযীলত রয়েছে। তাছাড়া ঘরের কাজ করতে করতে, চলতে ফিরতে জিকির করা যায়।

🌱 সাদাকাহ

আমরা যদি একে অপরকে সাহায্য করি তবেই এই পৃথিবী একটি ভাল জায়গা হতে পারে। বিনিময়ে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন।

রাসূল মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
"আল্লাহ তার বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ তার সাহায্যকারী অন্যের সাহায্যে থাকে।" (মুসলিম)

আল্লাহ বলেছেন:
"কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, অতঃপর তিনি তা তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহৎ পুরস্কার?" (কুরআন ৫৭:৩১)

🌱 প্রতিদিন কুরআন পড়া

অনেকে রামাদান এ পুরো কুরআন পড়ার নিয়ত করেন। তারা যদি রজব থেকে শুরু করেন তাহলে খুব সহজেই তিন মাসে পুরো অর্থ সহ কুরআন পড়ে ফেলতে পারবেন।

শুদ্ধ ভাবে কুরআন তিলাওয়াত চর্চা ও নতুন কিছু সূরা মুখস্ত করতে পারি আমরা।

🌱 আরো যত সুন্নাহ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আরও জানুন এবং তাঁকে অনুসরণ করুন।

“বলুন, [হে মুহাম্মদ], যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, [তাহলে] আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।" (কুরআন ৩:৩৩)

নিয়মিত করার মত আরো হাজার সুন্নাহ রয়েছে, যেমন, অযুর সময় মিসওয়াক করা, ফজরের পর জেগে থাকা, রাতে দুআ পড়ে শোয়া, খেজুর খাওয়া, বেশি বেশি সালাম দেয়া, আত্মীয়দের খবর নেয়া, দাওয়াহ দেয়া ইত্যাদি।

মনে রাখতে হবে, বড় বড় আমলের এর পাশপাশি ছোট ছোট ভালো কাজ গুলোও গুরুত্তপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে, ছোট্ট একটা হাসি কিংবা একটি ভালো পোস্ট শেয়ার করাও আমলনামায় যোগ করতে পারে অনেক সাওয়াব, যদি তিনি চান।

12/12/2025

আপনি যদি মুসলিম হোন,
আপনাকে শারিআহ চাইতেই হবে।
゚viral ゚

27/11/2025

গুরুত্বপূর্ণ একটি দুআ:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَجْأَةِ الْخَيْرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فَجْأَةِ الشَّرِّ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আস'আলুকা মিন ফাজ'আতিল খায়রি ওয়া আয়ূযুবিকা মিন ফাজ'আতিশ শাররি।

হে আল্লাহ! 'হঠাৎ করে' আসা সুসংবাদগুলো চেয়ে নিচ্ছি তোমার কাছে। আর আশ্রয় ও পানাহ চাচ্ছি 'হুটকরে' চলে আসা দুঃসংবাদগুলো থেকে।

21/11/2025

ভেবে দেখেছেন কি? আজ ভূমিকম্পের তীব্রতা আরো ভয়াবহ হলে খুব কম সংখ্যক মানুষের শেষ আমল হতো ফজরের নামাজ। সেই লিস্টে আপনি থাকতেন তো? উত্তর 'না' হলে, শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখনো। এই কম্পনে টের না পেলেও, চূড়ান্ত কম্পন কিন্তু ঠিকই টের পাইয়ে দিবে। তাই আসুন, সময় থাকতে নিজেদের শুধরে নিই।

''তোমরা কি নিশ্চিত হয়ে গেছো যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকেসহ এ জমিনকে ধ্বসিয়ে দেবেন না, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে?'' [সূরা আল-মুলক : ১৬]

10/11/2025

একটু সচেতন হলেই আল্লাহ চায়তো জাদু থেকে বাচা সম্ভব। কি কি করতে হবে?

১. ফরজ আমল করতে হবে। সালাত, পর্দা ইত্যাদি হল ফরজ আমল।

২. মাসনুন আমল করতে হবে। এটা পিরিয়ড হলেও মাফ নেই। সারাজীবন করবেন। দরকার হলে ঘুম থেকে উঠে করে আবার ঘুমাবেন।

৩. গুনাহ থেকে যথাসম্ভব বেচে থাকবেন।

৪. ভন্ড কবিরাজ/হুজুর/রাক্বি থেকে দূরে থাকবেন। অনেক কেস আছে সুস্থ মানুষ কবিরাজের কাছে গিয়েছিল, তাকে জাদু করে অবর্ণনীয় হয়রানি করেছে।

৫. ব্যবহার করা জিনিস যেন চুরি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। কাজের লোকদের দিয়ে অনেকে চুরি করায়। চুল, নখ, হায়েজের কাপড় ইত্যাদি সতর্কতার সাথে ডাম্প (বা নষ্ট) করবেন।

৬. ব্যবহার করা জিনিস কাউকে না দেয়াই সাবধানতা। ব্যবহার করা জিনিস বলতে চুল, রুমাল, জামা, গহনা ইত্যাদি। দরকার হলে নতুন কিনে উপহার দিন। (পুরনো কাপড় চোপড় দান করার আগে ভাল ভাবে ধুয়ে শুকিয়ে দেয়াই সতর্কতা।)

৭. বাইরে কাপড় শুকাতে দিলে পাহারা দিয়ে রাখবেন যেন কেউ কেটে নিয়ে যেতে না পারে। প্রসঙ্গত মেয়েদের কাপড় বাইরে না মেলানোই নিরাপদ।

৮. মায়ের নাম বলবেন না। যথাসম্ভব এভয়েড করার চেষ্টা করবেন।

৯. খাবারে কাউকে সন্দেহজনক কিছু মিশাতে দেখলে ভুলেও সেটা খাবেন না। এতে যত অশান্তিই হোক না কেন।

১০. ঘরে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে সাথে সাথে নিয়ম অনুযায়ী নষ্ট করবেন। ঘরে কাউকে সন্দেহজনক কাজ করতে দেখলে ভাল করে খুজে দেখবেন কিছু রেখে গেল কিনা। জাদুর জিনিস বা তাবিজ নষ্ট করার নিয়ম (কমেন্টে)।

১১. কাউকে আপনাদের উঠোনে/ঘরের প্রবেশদ্বারে/রাস্তা কোনো কিছু ছিটাতে দেখলে তাকে পর্যায়ক্রমে দাওয়াহ, সতর্কবার্তা, ধমকি দিবেন। ওই যায়গায় দোয়া-কালাম পড়া পানি ছিটাবেন।

১২. চলাচলের রাস্তায় বা দরজার কাছে কাউকে কিছু পুতে রাখতে দেখলেও একই কথা। সেখান থেকে খুঁজে বের করে নষ্ট করবেন, আর ওই লোককে সতর্ক করবেন।

সর্বপরি, আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখবেন। একমাত্র আল্লাহই পারেন আপনাকে হেফাজত করতে।

Address

Cumilla
3500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Naseeha tv posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category