18/01/2017
বৃষ্টি ভেজা ভালবাসা
___________________
মুষলধারে বৃষ্টি পরছে।বৃষ্টির মধ্যেই
পার্কের এক কোনে বসে আছে নীলা।বিমর্ষ
মনে একগ্রচিত্তে কি যেন ভাবছে সে।মনে
হচ্ছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা তার মনের
দুঃখ কষ্টগুলো ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ তার
মাথার উপরে আর বৃষ্টির পানি পরছে না।
বৃষ্টি থামল নাকি থামল না সেদিকে কোন
খেয়ালও নেই তার।একটি কন্ঠ শুনে চমকে
উঠল নীলা।
,,,
এভাবে বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগতে
পারে।
,
পেছনে ফিরে তাকাতেই নীলা দেখতে
পেল কে যেন একজন তার মাথার উপরে
ছাতা নিয়ে দাড়িয়ে আছে।
,
কে আপনি??? এভাবে ছাতা নিয়ে দাড়িয়ে
আছেন কেন???
,
আপাতত দৃষ্টিতে আমি একজন মানুষ।একজন
মানুষ হয়ে কিভাবে একজন মানুষকে বৃষ্টিতে
বিজতে দেই বলেন?
,,
এভাবে দুজনের মধ্যে অনেক্ষন কথা হলো।
আবির ছিল খুব মজার মানুষ।আবিরের কথা
শুনে নীলার বিমর্ষ মনে হাসির ফোয়ারা
দেখা দিল।
এতক্ষনে বৃষ্টিও থেমে গেছে।,,
,
বৃষ্টি থেমে গেছে।আমি চললাম।
এই বলে নীলা উঠে পরল।
,,
বিমর্ষ মন।কিছুইতো জানা হলো না।
নামটা জানা যাবে???
,
আমি নীলা।আপনি??
,
আমি আবির।একটি কোম্পানিতে জব করি।
এই নিন আমার কার্ড।মন চাইলে স্মরন
করবেন।
,,
এই বলে আবির আর নীলা দুজন দুদিকে চলে
গেল।
,,,
রাত ১২।আবিরের মোবাইল ফোনটি বেজে
উঠল।ফোনের ওপাশ থেকে মিষ্টি কন্ঠ
ভেসে আসল।
হ্যালো,,,, আমি নীলা,,
মনটা খুব খারাপ তাই এত রাতে আপনাকে
বিরক্ত করলাম।
,,,its ok....
কিছুক্ষণ কথা বলার পর,,,,
ও আচ্ছা,,, আপনার Love story কিন্তু এখনো
জানা হলো না।,,
খুব ভালবাসতাম ওকে।ও আমাকে এক বিন্দুও
ভালবাসে নি।ও আমাকে ধোকা দিয়েছে।
এভাবে অনর্গল নিজের প্রেমকাহিনী বলে
যাচ্ছে নীলা।
এক পর্যায়ে কেদে ফেলল সে।
sorry,,,,আপনাকে কাদিয়ে ফেললাম।
আবির নীলাকে শান্তনা দিল।কিছু
রসিকতা করে নীলাকে হাসতে বাধ্য করল
সে।
,
এভাবে দিনে দিনে তাদের মাঝে একটা
ভাল বন্ধুত্ব গরে উঠল।
প্রায়ই তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুড়তে যেত।
আপনি থেকে একে অপরকে তুমি করে
ডাকতে শুরু করল।
,,
একদিন রাতে নীলার ফোন।
আবির ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই
ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ।
কাদছ কেনো???
হঠাৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা।ঘুম ও আসতেছে
না।(কান্নারত অবস্থায়)কি যে করি??
,
সব ঠিক হয়ে যাবে।ঔষধপত্র কিছু কি
আছে????
,
নেই।
,,
খাবারের কিছু আছে???
,
না নেই।মেসে থাকি।এত রাতে খাবার
পাব কোথায়।
,
আচ্ছা ফোন রাখ। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।
তুমিও ঘুমিয়ে যাও।
এই বলে আবির ফোন কেটে দিল।
নীলার অসুস্থতার খবর শুনেও আবির ফোনটা
কেটে দিল।
তাই আবিবের প্রতি কিছুটা বিরক্ত সে।
মাথা ব্যথার করনে ঘুম আসছে না তার।
কখনো বিছানার এপাশ ওপাশ কখনো
দাড়িয়ে থাকা এভাবেই রাত কেটে যাচ্ছে
তার।
হঠাৎ আবিরের ফোন।
হ্যালো,,,
তোমার চোখে ত অনেক ঘুম।ঘুম নষ্ট করে
আমাকে ফোন দেওয়ার কি দরকার ছিল।
,,
বেশি কথা না বলে জানালাটা খোল।
নীলা জানালা খোলে অবাক হয়ে গেল।
আবির নীলার জন্য ব্রেড ও ঔষধ নিয়ে নীচে
দাড়িয়ে আছে।
আগে ব্রেডটা খাবে।তারপর ঔষধ খেয়ে
ঘুমিয়ে পরবে।
এই বলে আবির চলে গেল।ঔষধ খাওয়ার পর
নীলার মাথা ব্যথাও সেরে গেছে।
দিন যতই যাচ্ছে আবির ততই নীলার প্রতি
দূর্বল হয়ে পরছে।মনে মনে তাকে পছন্দ
করলেও ভয়ে প্রকাশ করতে পারছে না।
আজ শুক্রবার।সকালে নীলার ফোন।,,
হ্যালো,,, আজ তো তোমার অফিস নেই।
আমার কিছু কেনাকাটা আছে।তোমার কি
একটু সময় হবে আমার সাথে যাওয়ার???
আবির কোনো সংকোচ না করেই রাজি
হয়ে।
বিকেলের দিকে নীলা আবিরকে নিয়ে
শপিংয়ে যায়।কেনা কাটা শেষ।শপিং
থেকে বের হবার সময় নীলার আরেকটা
ড্রেস পছন্দ হয়।কিন্তু তখন তার কাছে আর
কোনো টাকা ছিল না।আবিরের কাছে ধার
চাইলে আবির টাকা নাই বলে দেয়।
জলদি চলো আমার কাজ আছে।এই বলে
আবির নীলকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়।পরে
নীলার পছন্দকরা ড্রেসটা নিজের টাকায়
কিনে আনে সে।
পরের দিন খুব সকালে আবিরের ফোন।
একটু পার্কের দিকে আসতে পারবে???
,,,
এত সকালে পার্কে কেনো???
,,,
আরে কথা না বাড়িয়ে জলধি আসো তো,,
,
পার্কে গিয়ে নীলা চমকে গেল।
,,কেক গিফট এগোলার মানে কি??/
Happy Birthday To you বলতে লাগল আবির।
আবিরের কান্ড দেখে নীলা আর্শ্চর্য হয়ে
গেল।মনে মনে অনেক খুশি হলো সে। আচ্ছা
তুমি আমার জন্ম তারিখ জানলে
কিভাবে???
তোমার Facebook থেকে।
আবির নীলাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে
অফিসে চলে গেল।
রাতে নীলা আবিরের গিফটা খুলে দেখল
যে,, যে ড্রেসটা নীলা টাকার জন্য কিনতে
পারে নি সেই ড্রেসটাই আবির নীলার
জন্মদিনে উপহার দিল।
,,,,
আবির মনস্থির করল,, যে করেই হোক
নীলাকে তার মনের কথা বলতেই হবে।
বিকালে নীলাকে পার্কে দেখা করার জন্য
ফোন দেয় সে।একটা লাল গোলাপ নিয়ে
একটু আগেই এসে আবির।কিছুক্ষন অপেক্ষার
পর নীলা চলে আসে।আবির আজ
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।যে করেই হোক তার মনের কথা
নীলাকে বলতেই হবে।নীলা আসার পর
আবির নীলাকে গোলাপটি দেয়।তাদের
মাঝে কুশল বিনিময় হয়।আবির কিছু একটা
বলতে চাচ্ছে।তার আগেই নীলা কিছু
বলতেছে।
তোমাকে একটা important কথা বলা হয়নি,,
গতকাল বাড়ি থেকে আব্বুর ফোন আসছিল।
ওনি খুব অসুস্থ।হার্টের রোগী।আমার জন্য
পাত্রও নাকি ঠিক করে ফেলেছেন।সে
অনেক আগে থেকেই নাকি ওনার পছন্দ।
আমি আজ জানলাম।এদিকে আমার
পড়াশুনাও complete হয় নি।আবার রাজি না
হলে আব্বু আরো অসুস্থ হয়ে যাবেন।আমি
এখন কি করব আবির???
,,
নীলার কথা শুনে আবিরের চোখে মুখে
হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তার এত দিনের
লালিত স্বপ্ন যেন নিমিষেই শেষ হয়ে
যাচ্ছে।
যেহেতো তোমার বাবা অসুস্থ তাহলে
রাজি হয়ে যাও।
আমিও সেটা ভাবছি।আচ্ছা তুমি ফুল দেবার
সময় কিছু বলতে চাচ্ছিলে।বল কি বলতে
চাও??
,,
কিছু না।আজ উঠি অন্য একদিন কথা হবে।
নীলাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আবির
বিমর্ষ মনে বাসায় চলে গেল।পরের দিন
নীলা বাড়ি যাওয়ার পূর্বে আবিরের ফোন
বন্ধ পায়।তাই তার সাথে দেখা করতে সে
তার বাসায় যায়।বাসায় আবির ছিল না।
তবে তার ডেস্কের উপর একটা ডায়রি পায়
সে।ডায়রি পড়ে নীলা বুঝতে পারে যে
আবির তাকে অনেক ভালবাসে।ডায়রি পড়ে
আবেগে আপ্লুত হয়ে যায় সে। আবিরের সকল
স্মৃতি নীলার এক নিমিষেই মনে পরে যায়।
বাড়িতে ফোন করে আবির সম্পর্কে সব কিছু
তার বাবা মাকে বলে।তার বাবা নীলার
কথায় রাজি হয়।নীলার মনেও ছিল
আবিরের জন্য অনেক ভালবাসা।বাড়িতে
কথা বলার পর সোজা সে চলে যায়
আবিরের অফিসে।সেখানে গিয়ে জানতে
পারে যে সে কিছুক্ষন আগে ছুটি নিয়ে
বাসায় চলে গেছে।এদিকে তার ফোনটাও
ছিল অফফ। আবার আবিরের বাসায় যায় সে।
কিন্তু এবারো তাকে বাসায় পাওয়া যায়
নি।এদিকে বাহিরে অঝোরে বৃষ্টি পরছিল।
নীলা আবার রিক্সা নিয়ে বের হয়ে গেল
আবিরকে খুজতে।
,,
মুষলধারে বৃষ্টি পরছে।বৃষ্টির মধ্যেই
পার্কের এক কোনে বসে আছে আবির।"
বিমর্ষ মনে একগ্রচিত্তে কি যেন ভাবছে
সে।মনে হচ্ছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা তার
মনের দুঃখ কষ্টগুলো ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ তার মাথার উপরে আর বৃষ্টির পানি
পরছে না।বৃষ্টি থামল নাকি থামল না
সেদিকে কোন খেয়ালও নেই তার।একটি
কন্ঠ শুনে চমকে উঠল আবির।
,,,
এভাবে বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগতে
পারে।
শুনে মনে হচ্ছে যেন তার বলা কোন এক
কথার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
,
পেছনে ফিরে তাকাতেই আবির দেখতে
পেল নীলাকে।তার মাথার উপরে
ছাতা নিয়ে দাড়িয়ে আছে সে।
এভাবে কেউ ফুল নিয়ে কেউ বৃষ্টিতে বসে
থাকে??
আবির পেছনে ফিরে নিলাকে দেখতে পেল।
আজ আর কোন ইতস্থ না করে নিলা সরাসরি
বলে ফেলল।
,,Will you marry me??
আবির সাধরে নীলার প্রস্তাব মেনে নিয়ে নীলাকে জরিয়ে দরল।
এটাই ছিল আবির আর নীলার কাছে আসার
গল্প।