13/10/2025
হুজুর গাউছুল আজম হজরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) এঁর পরবর্তী মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রধান প্রাণপুরুষ হুজুর গাউছুল আজম হজরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান (ক.)।
জগতজুড়ে তিনি সমধিক পরিচিত 'বাবা ভাণ্ডারী' নামে।
ধরাধামে তাঁর পবিত্র শুভাগমনের পর তাঁকে হজরত কেবলার কাছে নিয়ে যাওয়া হলে হজরত কেবলা বাবা ভাণ্ডারী কেবলার নাম মুবারক রাখেন এবং কালাম করেন, "এ আমার বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুল। হজরত ইউসুফ (আ.) এঁর চেহারা এর কাছে এসেছে। একে হেফাজতে রেখো।"
যত দিন অতিবাহিত হয়েছে, আশেকগণ ততই এই কালামের মাধুর্য উপলব্ধি করতে থাকে। তাঁর অপরূপ রূপ সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে অভিহিত করা হয় 'ইউসুফে সানী' হিসেবেও।
দুনিয়াতে তাঁর আগমনের পূর্বেই হজরত কেবলা তাঁর আম্মাজানকে 'পীরানে পীর সাহেবের মাতা' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর মাহাত্ম্য সকলের কাছে তুলে ধরেছেন। একজন মহান অলি আল্লাহ হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েও তিনি নামাজ-রোজাসহ শরীয়তের যাবতীয় বিধিবিধানের প্রতি কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, সাথে রাব্বুল আলামীনের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে পালন করেছেন দীর্ঘ ১২ বছর নির্জনতা এবং ২৩ বছর নিরবতা।
সূরা বাকারায় রাব্বুল আলামীনের গুণে গুণান্বিত হবার নির্দেশমূলক যে আয়াত এসেছে, তারই আলোকে হুজুর গাউছুল আজম হজরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) নিজের জীবনকে সুসজ্জিত করেছেন, কালাম করেছেন, "আমি আল্লাহর গুণে গুণান্বিত, প্রকৃতির মত উদার ও নিরব।"
আজ পুরো পৃথিবী যেখানে একে অন্যের উদার আচরণের অভাবে হানাহানি-বিভেদে লিপ্ত, সেখানে বাবা ভাণ্ডারী কেবলার উদারতার শিক্ষা সকলের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। তাঁর কাছে এসে কোন শ্রেণির মানুষ কখনো খালি হাতে ফিরে যায় নি, মানুষ তো বটেই, পশুপাখি পর্যন্ত তাঁর দয়া লাভে হয়েছে ধন্য।
আগামীকাল ২৯ আশ্বিন, ১৪ ই অক্টোবর, এই মহান জাতে পাকের পবিত্র খোশরোজ শরীফ।
এই মহান দিবসে হুজুর গাউছুল আজম হজরত বাবা ভাণ্ডারী কেবলার পবিত্র ফয়েজ, রহমত আমরা কামনা করি।
অন্তরে আদব ও ইশক ধারণের পাশাপাশি সকল ধরনের ফেতনা-ফাসাদ হতে নিজেকে দূরে রেখে আল্লাহর প্রিয় অলিগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করবার, মানুষের কল্যাণ করবার যে শিক্ষা মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ আমাদের প্রদান করে, আমরা যেন তার চর্চা করে যেতে পারি, রব্বুল আলামীনের দরবারে এই খাস ফরিয়াদ রইলো।
✍️ সৈয়দ মিফতাহুন নূর মাইজভান্ডারী (ম.)