08/02/2026
"সাদা পালকের নীরব শাস্তি"
আমার কাছে ছিল একজোড়া সাদা কবুতর—একটি নর, একটি মাদি। কত শখ করে যে ওদের কিনেছিলাম, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। দু’জনকে একসঙ্গে দেখলেই মনটা ভরে যেত। ওদের সাদা পালক, পাশাপাশি বসে থাকার অভ্যাস—সব মিলিয়ে মনে হতো, যেন ওরা একে অপরের জন্যই জন্মেছে।
কিন্তু নর কবুতরটা ছিল অদ্ভুত রকমের রাগী। শুরুতে ভেবেছিলাম, নতুন জায়গা বলে হয়তো এমন করছে। সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সত্যিই একসময় মনে হলো, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ওরা ডিম দিল, বাচ্চাও হলো। তখন বিশ্বাস করতে শুরু করলাম—সব ঠিকই চলছে।
তবু মাঝে মাঝে চোখে পড়ত, নর কবুতরটা হঠাৎ করেই মাদিটাকে তাড়া করছে, ঠুকছে। আবার কিছুক্ষণ পর সব স্বাভাবিক। নিজেকে বুঝ দিতাম—হয়তো কবুতরের স্বভাবই এমন।
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই সব ভেঙে গেল। খেয়াল করলাম, মাদি কবুতরটার ঘাড়ের কাছে ক্ষত। তখন আর বোঝার বাকি রইল না—এই ক্ষতের কারণ ওই নর কবুতরটাই। ওকে আলাদা করে দেখলাম, কিন্তু তার শরীরেও কোনো খাবারের চিহ্ন নেই। যেন ভেতর থেকে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম—ওদের আলাদা করব। ভেবেছিলাম, এতে অন্তত মাদি কবুতরটা বাঁচবে। কিন্তু আলাদা করার পরও সে আর আগের মতো খেতে পারল না। উড়তে পারল না। সারাদিন রোদের মধ্যে চুপচাপ বসে থাকত, চোখে কোনো আগ্রহ নেই, কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই।
ওকে দেখে মনে হতো, শরীরটা বেঁচে আছে ঠিকই—কিন্তু মনটা অনেক আগেই মরে গেছে। হয়তো সে আর বাঁচতেই চায় না। এই ভাবনাগুলো আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত এমন এক সিদ্ধান্ত নিলাম, যেটা নেওয়া আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল। মাদি কবুতরটার যন্ত্রণার ইতি টানার সিদ্ধান্ত। আর নর কবুতরটাকে—আজীবনের জন্য একা, খাঁচার ভেতর বন্দি করে রাখার।
এটাই হবে তার শাস্তি—একাকিত্ব, নিঃশব্দতা, আর আজীবনের অনুশোচনা।
UH World