04/06/2026
কয়েকদিন ধরে একটা মজার জিনিস খেয়াল করছি।
আগে শুনতাম, আমি নাকি কয়েক হাজার মানুষের টাকা মেরে দিয়ে ঢাকায় বাড়ী কিনে ফেলছি🤑। যদিও সেই বাড়িতে নিজে একরাত থাকা তো দূর কি বাত, বাড়িটা নিজের চক্ষেও দেখি নাই 🤣।
বিগত কয়েকদিনে দেখলাম, টাকা মেরে দেওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে নামতে নামতে সেটা আপাতত কয়েক'শ তে ঠেকেছে 🤪। আর বাড়ির কথা তো এখন ভূলেও বলে না😆।
এভাবে চলতে থাকলে তো কয়েকদিন পরে আমি নিষ্পাপ পীর-আউলিয়ার কাতারে চলে যাবো🤪🤪🤪😆😆😆
আমি এটা হলফ করে বলতে পারি আমার কোন ক্লায়েন্ট এটা বিশ্বাস করে না, আমি শাহজালাল অযৌক্তিক এবং অনৈতিকভাবে কারো এক টাকাও মেরে খাবো😎।
কিন্তু কিছু যৌক্তিক কারনেই আমরা যারা ব্যবসা করি তাদের কিছু ক্ষেত্রে টাকা কাটাকাটি করতেই হয়, সবক্ষেত্রে অবশ্যই না। দয়া করে এখানে কেউ সুরমা লাগাতে আসবেন না। আমি যেহেতু দালালুল মাখলুকাত, অতএব বাকিদের খবরও কম বেশি জানি। তবে অনেকের মত নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে কারো চরিত্র হনন করা আমার উদ্দেশ্য নয়।😉
রোমানিয়ার জেনুইন পারমিট আসার পরেও আমি টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি, ইন্টার্ভিউ তে উল্টা-পাল্টা উত্তর দিয়ে ভিসা না হওয়ার কারনে ইন্ডিয়ান ভিসার টাকার ক্ষতিপূরনও দিয়েছি(যদিও তারা এখন এগুলো স্বীকার করবে না, কারন স্বীকার করলে আমার নামে কুৎসা রটাতে তাদের সমস্যা হবে অথবা তারা এতটাই ব্যস্ত যে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার মত নূন্যতম সময় তাদের নেই).
অন্যদিকে এমনও হয়েছে একজন সন্মানিত শিক্ষক যার ভাই আবার বিসিএস ক্যাডার সে আমার টাকা মেরে দিয়ে কৌশলে ইতালি চলে গেছে। পোস্ট করার পরে কয়েকটা অমানুষের জন্মের কুলাঙ্গার কমেন্ট বলেছে, ওই বাটপার মাস্টার নাকি ঠিক কাজ করেছে। অথচ ওই ৬ লাখ টাকা পেলে আমি আরও ৪/৫ মানুষের রিফান্ড তখনি করে ফেলতে পারতাম। এটা তো আর কারো মেরে দেওয়া টাকা ছিলো না, এটা আমার নির্ঘুম রাত, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঝুকি এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য ছিল।
বর্তমান চলমান একটা প্রসঙ্গ দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি, আমাদের সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়ার বেশ অনেকগুলো এ্পুভাল এসেছে, সামনে আরো আসবে। ইনশাআল্লাহ এই বছরটাকে স্বরনীয় করে রাখতে পারবো।
সমস্যা হলো এপ্রুভালের পরে ৫০% পেমেন্টও আমি কথা মত পাই নি, একেক জনের একেক সমস্যা। কিন্তু সবাই যার যারটা চিন্তা করে, অথচ এটা কেউ একবারও ভাবে না যে তারপরেও আমার আরো অনেক ক্লায়েন্ট অপেক্ষায় আছে, তাদের কাজগুলোও আমার সম্পন্ন করতে হবে। তাদের আজকের নয়-ছয়ের কারনে পরবর্তী যাত্রীরা অবশ্যই ঝামেলায় পড়বে। কয়েকটা হারামীর বাচ্চা তো আরো এক ধাপ এগিয়ে, তারা নিজেরা তো পেমেন্টে ঝামেলা করবেই, বাকিদেরও উল্টা-পাল্টা বুঝানোর ধান্ধায় থাকে। যদিও তারা এটা যানে না তাদের প্রতিটা কথা আমার কাছে ইতোমধ্যে চলে এসেছে।
যাই হউক দিনশেষে আপনারা যাত্রিরা সবসময়ই সঠিক। আমরা দালালরা সবসময়ই খারাপ। কোন কাজ কেন দেরী হলে, এর পিছনে সবচেয়ে বেশি দোষ কার কেউ সেটা চিন্তাও করবেন না, জানতে চাইবেন না। এটা বাস্তব।
দালাল শ্লারা খ্রাপ।
হারিয়ে যেতে আসিনি, হারানোর হলে আরো বছর তিনেক আগেই কোটি দুয়েক নিয়ে হারিয়ে যেতাম।